হিসাব বিজ্ঞান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হিসাব শাস্ত্র বা হিসাব বিজ্ঞান বা একাউন্টিং হল একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতীক বিবৃতী তৈরী করার বিজ্ঞান।[১][২] হিসাববিজ্ঞানী বা একাউন্টেন্টরা মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, আয়-ব্যয়, দেনা এবং নগদ প্রবাহের বিবরনি অর্থমূল্যে প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। হিসাববিজ্ঞানের মূলনিতীগুলো সাধারনত হিসাব সংরক্ষন এবং হিসাব নিরীক্ষনে প্রয়োগ করা হয়।[৩]

পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, মজুদকরন হিসাব নিকাশ মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহ ব্যাবসার অন্যান্য হিসাব সংরক্ষনের জটিল এবং ক্লান্তিকর কাজগুলো আজকাল কম্পিউটার সফটওয়্যারের সাহায্যে অনেক দ্রুততার সাথে করা যায়। এই সফটওয়্যারগুলো সচরাচর প্রত্তেকটি প্রধান কার্যক্রমের সাথে অন্তর্নিহিত ভাবে সংযুক্ত থাকে, এতে করে একটি তথ্য প্রবেশ করালে তা সমস্ত হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। এই সফটওয়্যারগুলো দিয়ে একজন কর্মী প্রায় ২০০ মানুষের কাজ একাই করে ফেলতে পারে। এই ধরনের একাউন্টিং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাজ অনেক সহজ করে দেয় এবং এতে করে পন্য এবং সেবার গুনগত মান বৃদ্ধি এবং অর্থ সাশ্রয় হয়।

হিসাববিজ্ঞান প্রায় হাজার বছর ধরে চর্চা হয়ে আসা একটি বিজ্ঞান। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় উৎপাদিত ফসল এবং মন্দিরে সংগ্রিহীত শষ্যের হিসাব রাখার জন্য হিসাববিজ্ঞানের প্রাচীনতম পন্থাগুলো ব্যাবহৃত হত।

হিসাব বিজ্ঞান এর উৎপত্তি[সম্পাদনা]

হিসাব বিজ্ঞান এর উৎপত্তি হয়েছিল লুকা প্যাসিওলি এর কাজ থেকে যিনি ছিলেন একজন ইটালিয়ান রেনেসাঁস গণিতজ্ঞলুকা প্যাসিওলি ছিলেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’র একজন নিকটতম বন্ধু ও গৃহশিক্ষক এবং ইতালীয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস এর সমসাময়িক। লুকা প্যাসিওলি’র ১৪৯৪ সালের মূলপাঠ (ট্রেক্সট্) সুম্মা ডি এরিথিমেটিকা, জিওমেট্রিকা, প্রপোরসোনিয়েট, প্রোপোরসনালিটই তে প্যাসিওলি বর্ণনা করেছিলেন একটি পদ্ধতি যেটা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক তথ্য রেকর্ড করা হয় দক্ষতার সাথে এবং যথাযথভাবে। লুকা প্যাসিওলি’র স্বর্ণসূত্র দ্বারা খুব সহজেই সম্পদ, দায়, আয়, ব্যয় এর ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় করা যায় । [৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ও বিভিন্ন প্রকারে তা সংরক্ষণের পদ্ধতি বেড় করে । দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রাচীন গুহা থেকে উদ্ধারকৃত কিছু লিপি থেকে বোঝা যায় যে প্রায় ৭৬,০০০ বছর আগেও মানুষ হিসাব সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল হিসাব বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন।

হিসাব বিজ্ঞানের অন্যতব গুরুত্বপূর্ন নিদর্শনগুলি পাওয়া যায় ব্যাবিলনিয়, এশিরীয় ও সুমেরীয় সভ্যতায়। এই সভ্যতাগুলো প্রায় ৭,০০০ বছর পূর্বে মেসোপটেমিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠে এবং বিকাশ লাভ করে। উক্ত সভ্যতার লোকেরা শুধুমাত্র কৃষি উৎপাদন পরিমাপ করতেই হিসাবের আদিম পদ্ধতিগুলো ব্যাবহার করত। সেই আদিম পদ্ধতিগুলো ব্যাবহার করে ফসল গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে না বেশি হয়েছে তা নির্নয় করা যেত। উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ মন্দিরে দান করতে হত। আর কে কতটুকু দান করল মন্দির কতৃপক্ষ তা দেওয়ালে চিহ্নের মাধ্যমে লিখে রাখত। এই প্রাচীন দেওয়াল খোদাইগুলোকেও হিসাব বিজ্ঞানের প্রচীন প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Singh Wahla, Ramnik। AICPA committee on Terminology. Accounting Terminology Bulletin No. 1 Review and Résumé 
  2. Lo and Fisher: Intermediate Accounting, 2nd edition, Pearson, Toronto 2014, ISBN 978-0-13-296588-0, p. 2, [১]
  3. Goodyear, Lloyd Earnest: Principles of Accountancy, Goodyear-Marshall Publishing Co., Cedar Rapids, Iowa, 1913, p.7 Archive.org
  4. Accounting Principles ninth Edition, Page No:5; Author- Viz: Weygandt, Kimmel, Kieso; Publisher- John Wiley & Sons, Inc

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]