লীলা নাগ
| লীলা রায় | |
|---|---|
| জন্ম | অক্টোবর ২১, ১৯০০ গোয়ালপাড়া, আসাম, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | জুন ১১, ১৯৭০ (৬৯ বছর)[১] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| অন্য নাম | লীলাবতী রায় |
| প্রতিষ্ঠান | দীপালি সংঘ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক |
| রাজনৈতিক আন্দোলন | ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন |
| ধর্ম | হিন্দুধর্ম |
| দাম্পত্য সঙ্গী | অনিলচন্দ্র রায় |
লীলা নাগ (জন্ম: অক্টোবর ২১, ১৯০০ - মৃত্যু:জুন ১১ ১৯৭০[২] ) (বিবাহের পরে নাম হয় লীলা রায়) বাঙালি সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন।[৩][৪] তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
পরিচ্ছেদসমূহ |
জন্ম ও পারিবারিক জীবন [সম্পাদনা]
লীলা নাগ আসামের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ অবসর প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার পিতৃ-পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ বিয়ে করেন বিপ্লবী অমিত রায়কে।[৪]
শিক্ষা [সম্পাদনা]
তাঁর ছাত্র জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। [৫] তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্খা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ডঃ হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।
শিক্ষা বিস্তার [সম্পাদনা]
লীলা নাগ ঢাকা কলেজে পড়তেন। তার একক্লাস উপরের ছাত্র ছিলেন সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন। লীলা নাগ সম্পর্কে তিনি তার স্মৃতিকথা নামক প্রবন্ধ সংকলনে লেখেন, এঁর মত সমাজ-সেবিকা ও মর্যাদাময়ী নারী আর দেখি নাই। এঁর থিওরী হল, নারীদেরও উপার্জনশীলা হতে হবে, নইলে কখনো তারা পুরুষের কাছে মর্যাদা পাবে না। তাই তিনি মেয়েদের রুমাল, টেবলক্লথ প্রভৃতির উপর সুন্দর নক্সা এঁকে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই সব বিক্রিকরে তিনি মেয়েদের একটা উপার্জনের পন্থা উন্মুক্ত করে দেন।" [৬]
বাঙালি নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় (তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির) প্রতিষ্ঠা করেন। বিয়ের পর তার নাম হয় শ্রীমতি লীলাবতী রায়। ভারত বিভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
রাজনীতি [সম্পাদনা]
লীলা রায় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী ছিলেন । এজন্য কয়েকবার তাঁকে কারা বরণ করতে হয়। তিনি মহিলা সমাজে মুখপাত্র হিসেবে “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। লীলা রায় ছবি আঁকতেন এবং গান ও সেতার বাজাতে জানতেন।
মৃত্যু [সম্পাদনা]
১৯৭০ সালের ১১জুন ভারতে এই মহিয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।
সূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ শতকন্ঠ-১৯৯৮-৯৯, শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়
- ↑ বাংলাপিডিয়া
- ↑ দৈনিক আমারদেশ, জুন ৩০ ২০০৭
- ↑ ৪.০ ৪.১ লীলা নাগ, সোনিয়া আমিন, বাংলাপিডিয়া, সংস্করণ 2.0.0 (সিডি সংস্করণ), বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত।
- ↑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর; রফিকুল ইসলাম
- ↑ স্মৃতিকথা - কাজী মোতাহার হোসেন; পৃষ্টা ৫৮