পরিপাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে জীব দেহের বিপাকক্রিয়ার ব্যবহারযোগ্য সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

পৌষ্টিক তন্ত্র[সম্পাদনা]

যে তন্ত্রের মাধ্যমে পরিপাক ও শোষণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে পৌষ্টিক তন্ত্র বলে। মানব দেহের পৌষ্টিক তন্ত্র পৌষ্টিকনালী ও সংশ্লিষ্ট পৌষ্টিক গ্রন্থিগুলো নিয়ে গঠিত।

পৌষ্টিক নালী[সম্পাদনা]

মানুষের পৌষ্টিকনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত ৮-১০ মিটার লম্বা। এটি নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত।

  • মুখ
  • মুখবিবর
  • গলবিল
  • অন্ননালী
  • পাকস্থলী
  • ক্ষুদ্রান্ত্র
  • বৃহদান্ত্র
  • মলাশয়
  • পায়ু

পৌষ্টিক গ্রন্থি[সম্পাদনা]

যেসব গ্রন্থির ক্ষরণ খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে, সে সব গ্রন্থিকে পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে। মানবদেহের কয়েকটি পৌষ্টিকগ্রন্থি সুস্পষ্ট গঠন ও অবস্থান নিয়ে থাকলেও কিছু গ্রন্থি পৌষ্টিকনালীর বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত থাকে। নির্দিষ্ট গঠন ও অবস্থানের পৌষ্টিকগ্রন্থি নিম্নরূপ।

  • লালাগ্রন্থি
  • অগ্নাশয়
  • যকৃৎ

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের পরিপাক[সম্পাদনা]

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে যেসব এনজাইম অংশ নেয়, তা নিম্নরূপ।

  • টায়ালিন
  • মল্টেজ
  • অ্যামাইলেজ
  • সুক্রেজ
  • ল্যাকটেজ
  • আইসোমলটেজ

এসব এনজাইমের ক্রিয়ায় কার্বোহাইড্রেট ভেঙে সরল গ্লুকোজে পরিণত হয়।


প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক[সম্পাদনা]

প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে যেসব এনজাইম অংশ নেয়, তা নিম্নরূপ।

  • পেপসিনোজেন (হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সংস্পর্শে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়)
  • ট্রিপসিন
  • কার্বক্সিপেপটাইডেজ
  • ইলাস্টেজ
  • কোলাজিনেজ
  • অ্যামিনোপেপটাইডেজ
  • ট্রাইপেপটাইডেজ
  • প্রোলিডেজ

এসব এনজাইমের ক্রিয়ায় প্রোটিন ভেঙে সরল অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়।

লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক[সম্পাদনা]

লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে যেসব এনজাইম অংশ নেয়, তা নিম্নরূপ।

  • লাইপেজ
  • ফসফোলাইপেজ
  • কোলেস্টেরল এস্টারেজ
  • লেসিথিনেজ
  • মনোগ্লিসারিডেজ

এসব এনজাইমের ক্রিয়ায় লিপিড ভেঙে সরল ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।