দশরথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দশরথের নিকট কৈকেয়ীর বরপ্রার্থনা

সূর্যবংশীয় রাজা দিলীপের পুত্র রঘু, রঘুর পুত্র অজ ও অজের পুত্র দশরথ । ইনি অযোধ্যার রাজা এবং রাম লক্ষ্মণাদির পিতা । কৌশল্যা, কৈকেয়ীসুমিত্রা নামে এঁর তিনটি প্রধান মহিষী ছিলেন । বহু বৎসর এঁর কোন পুত্র হয় নি । শান্তা নামে এঁর এক কন্যাও ছিল । দশরথ এই কন্যাকে পরম মিত্র অঙ্গদেশের রাজা রোমপাদের কাছে পৌষ্যপুত্রী রূপে দান করেন । রোম্পাদ শান্তাকে বিভাণ্ডক মুনির পুত্র ঋষ্যশৃঙ্গের সাথে বিবাহ দেন ।

অন্ধমুনির অভিশাপ[সম্পাদনা]

যৌবনে একবার দশরথ মৃগয়াকালে গভীররাত্রে কলসে জল পূর্ণরত এক মুনিকুমারকে জলপানরত হস্তী ভ্রমে শব্দভেদী বাণের সাহায্যে হত্যা করেন । দশরথ যখন মুনিকুমারকে তাঁর অন্ধ পিতার কাছে নিয়ে যান তখন তিনি এই বলে অভিশাপ দেন :

পুত্রব্যসনজং দুঃখং যদেতন্মম সাংপ্রতম ।
এবং ত্বং পুত্রশোকেন রাজন্ কালং করিষ্যসি ।।
—দশরথের প্রতি অন্ধঋষি

অর্থাৎ হে রাজা তুমি যেভাবে আমাকে পুত্রের বিরহ দুঃখ দিয়েছ একই ভাবে তুমিও পুত্রশোকে প্রাণ হারাবে । এই বলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী দেহত্যাগ করেন ।

পুত্রেষ্টিযজ্ঞ[সম্পাদনা]

অপুত্রক দশরথ পুত্রকামনায় পুত্রেষ্টিযজ্ঞ করেন ও সেই যজ্ঞের পায়স কৌশল্যা ও কৈকেয়ীকে পুত্রলাভার্থে আহার করতে দেন । কৌশল্যা ও কৈকেয়ী এই পায়সের অংশ অন্য সপত্নী সুমিত্রাকে আহার করতে দেন । এর ফলে কৌশল্যার গর্ভে রাম, কৈকেয়ীর গর্ভে ভরত এবং সুমিত্রার দুই ভাগ পায়স ভক্ষণের ফলে লক্ষ্মণশত্রুঘ্ন নামে দুই যমজ সন্তানের জন্ম হয় ।

কৈকেয়ীকে বরদান ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

একবার দেবাসুর যুদ্ধে শম্বরাসুরকে বধ করতে গিয়ে দশরথ ভীষণ ভাবে আহত হন । এসময় দশরথ তাঁকে একই সময়ে দুটি বর দেবার প্রতিশ্রুতি করেন । রামের রাজ্যাভিষেকে কৈকেয়ী দাসী মন্থরার প্ররোচনায় এই বর চান যেন রামের বদলে ভরত রাজা হয় এবং রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসী হয় । দশরথ নিতান্ত অনিচ্ছায় এই বর দেন এবং রাম এর বনবাসের ষষ্ঠ দিন ইনি দেহত্যাগ করেন ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]