কমিউনিস্ট পার্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পৃথিবীর সব দেশেই কমিউনিস্ট দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। কমিউনিস্ট দল মুলত কমিউনিজম ভাবধারার একটি রাজনৈতিক দল। কমিউনিস্ট দল বা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীরা কমিউনিজমসমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। যার মূল ভিত্তি হলো মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। কমিউনিস্ট পার্টিকে বলা হয় শ্রমিক শ্রেণির অগ্রবাহিনী, তার সংগঠক ও পরিচালক। শ্রমিক আন্দোলন কেবল সেক্ষেত্রেই জয়লাভ করে যখন তা সমাজতন্ত্রের তত্ত্বের সংগে, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সংগে মিলিত হয়। আর এ মিলন ঘটায় কমিউনিস্ট পার্টি।[১]

চীনের কমিউনিস্ট পার্টি হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল[২] যেটি দাবি করে যে ২০০৯ সালের শেষে তাদের সদস্যসংখ্যা হচ্ছে ৭৮ মিলিয়ন[৩] এবং এই সদস্যসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫.৬ ভাগ।

এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রোমানিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টি অবৈধ।[৪][৫]

কমিউনিস্ট পার্টির সতর্কতা[সম্পাদনা]

কমিউনিস্ট পার্টিকে শ্রমিক শ্রেণির পার্টি হয়েই থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের সাম্যবাদী সমাজে উত্তরণ না ঘটে। এই পার্টিকে পরিচালিত হতে হবে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাবাদের ভিত্তিতে। বাস্তব কমিউনিজমে উত্তরণ ঘটার পূর্ব পর্যন্ত প্রলেতারীয় একনায়কত্ব কার্যকর রাখতে হবে। পার্টিকে সতর্ক থাকতে হবে যেন পার্টি বা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় কোনো পুঁজিবাদী পথগামী বা সুবিধাবাদী ঢুকতে না পারে। পার্টিকে সতর্ক থাকতে হবে যেন বুর্জুয়া শ্রেণির তথা সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল পার্টিতে, সরকারে, জনমিলিশিয়া, জাতীয়রক্ষী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গোপনে ঢুকে পড়তে না পারে। পার্টিকে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ভাবেই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সংশোধনবাদের অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে। পার্টিকে তথা কমিউনিস্টদেরকে সর্বদায় স্মরণে রাখতে হবে যে, প্রলেতারীয় একনায়কত্ব শ্রেণিহীন সাম্যবাদে উত্তরণ পর্যন্ত প্রসারিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশেএকাধিক কমিউনিস্ট দল রয়েছে। এর ভিতরে অন্যতম হলঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠিত: ৩১জানুয়ারী ২০০৯)। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট ইউনিয়ন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ জনমুক্তি পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি/আনোয়ার কবির), পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (এমইউজি), পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(বিআরএম), সিপিএমএলএম-বাংলাদেশ, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, জাতীয় গণফ্রন্ট, এনডিএফ, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (আ স ম রব), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-বড়ুয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-গঠন প্রক্রিয়া ইত্যাদি রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

এদের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বাসদ-সিপিবি বামবিকল্পের শক্তি গড়ে তুলেছে এবং বামজোটের আহ্বান দিয়েছে। গণসংহতি আন্দোলন বাম মোর্চার নেতৃত্বে রয়েছে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল অপরাপর ৩টি সংগঠন নিয়ে জোটবদ্ধ আন্দোলন করছে। তাছাড়া জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. এম আর চৌধুরী; আবশ্যকীয় শব্দ পরিচয়; ঢাকা, এপ্রিল, ২০১২; পৃষ্ঠা- ৪৯।
  2. The Communist Party of China
  3. China's communist party members near 78 mln
  4. Domeinnaam niet ingeschakeld
  5. http://www.pvda.be/nieuws/artikel/twintig-jaar-na-de-val-van-de-muur-4-letse-kandidaat-president-voor-europese-unie-heeft-vuile-h/print.html

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


টেমপ্লেট:Communism