এইচআইভি
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এইচ.আই.ভি. (ইংরেজি: HIV) পুরো কথাটি হল হিউম্যান ইমিউনো ডেফিশেন্সি ভাইরাস (Human Immunodeficiency Virus)। এই ভাইরাসের সঙ্ক্রমন এইডস (AIDS) রোগের কারণ। মূলত এইডস একটি রোগ নয়, এটি অনাক্রম্যতার অভাব ঘটিত নানা রোগের সমাহার। এইচ.আই.ভি ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (অনাক্রম্যতা) নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ বা কয়েক রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর অনাক্রম্যতা কমতে কমতে এইডস ঘটাবার মত অবস্থায় পৌছতে অনেক বছর লাগে। তবে শরীরে এই ভাইরাস একবার সংক্রমিত হলে তা কমানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ দূর করে এখনো সম্ভব নয় তাই শেষপর্ষন্ত সেই রোগীর এইডস হওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের খুব অল্প সংখক কিছু অঞ্চলের কিছু লোকেদের শরীরে কয়েকটি জীনে খুঁত থাকে যার ফলে এইডস ভাইরাস তাদের শরীরে সফল ভাবে সংক্রমণ করতে পারেনা। তাদের এইচআইভির বিরুদ্ধে জন্মগত অনাক্রম্যতা আছে বলা যায়।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] ভাইরাসের গঠন
এইচআইভি ভাইরাসের কণা গোলাকার। গোলকটির ব্যাস ১০০ ন্যানোমিটার (Nanometer) এবং লিপিড নির্মিত দ্বিস্তরী ঝিল্লি (lipid bilayer) দ্বারা আবৃত। ঝিল্লির উপরে দুই প্রকার গ্লাইকোপ্রোটিন (জিপি-১২০ এবং জিপি-৪১) বের হয়ে থাকে। নিউক্লিয়ক্যাপসিড (Nucleocapsid)এর আকার প্রায় কোনাকার এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। কোনকাকৃতির নিউক্লিয়ক্যাপসিডের প্রসস্থ প্রান্ত ৪০-৬০ ন্যানোমিটার চওড়া ও সরু প্রান্ত ২০ ন্যানোমিটার চওড়া। সরু প্রান্ত এক প্রকার প্রোটিন জাতীয় উপাদান দিয়ে লিপিডের ঝিল্লীর সাথে যুক্ত থাকে। এই সংযোগকে বলা হয় কোর-ঝিল্লি-সংযোগ। নিউক্লিয়ক্যাপসিডের প্রোটিনগুলো দৃঢ় ভাবে আরএনএ জিনোমের সাথে যুক্ত থাকে। ঝিল্লি ও নিউক্লিয়ক্যাপসিডের মধ্যবর্তি অঞ্চলকে বলা হয় প্যারানিউক্লিয়েড (Paranucleoid) অঞ্চল। এই অঞ্চলে প্রোটিন দ্বারা গঠিত মাট্রিক্স বিদ্যমান। ম্যাট্রিক্সের প্রোটিনকে ম্যাট্রিক্স প্রোটিন বলা হয়। ম্যাট্রিক্সের পরেই ক্যাপসিড স্তরের অবস্থান। ক্যাপসিড স্তর গঠিত হয় “ক্যাপসিড প্রোটিন” দ্বারা। ক্যাপসিড নির্মিত গোলাকার গঠনের ভিতরেই থাকে নিউক্লিয়ক্যাপসিড।
[সম্পাদনা] জিনোম
- মূল নিবন্ধ : এইচআইভি জিনোম
ভিরিয়নের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাসের দুইটি ধনাত্বক এক সুত্রক আরএনএ (RNA) থাকে। দুইটি আরএনএ একটি অপরটির কপি। দুটি আরএনএ-এর ৫` প্রান্ত একে অপরের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন (hydrogen bond) অথবা ছোট অ্যান্টি-প্যারেলাল সয্যায় লেগে থাকে। প্রতি আরএনএ এর ৫` প্রান্তে একটি টি-আরএনএ (t-RNA) বিদ্যমান। এগুলো এইচআইভি ভাইরাসেরক্ষেত্রে ঋনাত্বক আরএনএ সংশ্লেষণের সময় প্রাইমার হিসেবে কাজ করে।
[সম্পাদনা] এনজাইম
- মূল নিবন্ধ : এইচআইভি এনজাইম
এইচআইভি ভাইরাসের ভিরিয়নে কয়েক প্রকার এনজাইম পাওয়া যায়। এদের মধ্যে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ (Reverse Transcriptase), ইন্ট্রিগ্রেজ (Integrase), ভিপি-আর (Vpr)। রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম রাইবোনিউক্লিয়েজ (ribonuclease) ক্রিয়া ছাড়াও আরএনএজ-এইচ (RNaseH) ক্রিয়া প্রদর্শন করে। ইন্ট্রিগ্রেজ এনজাইম পোষক কোষের (Host cell) ভিতরে ভাইরাসের সংশ্লেষিত ডিএনএকে পোষকের ক্রোমজোমে যুক্ত হতে সাহায্য করে। ভিপি-আর (Vpr) একটি প্রোটিয়েজ ক্রিয়া প্রদর্শন কারী এনজাইম।
[সম্পাদনা] সংক্রমন
এইচআইভি ভাইরাস মোটামুটি তিন প্রকারের ছড়াতে সক্ষম।