সিফিলিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সিফিলিস
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স

Electron micrograph of Treponema pallidum
আইসিডি-১০ A50.-A53.
আইসিডি- 090-097
রোগ ডাটাবেস 29054
মেডলাইনপ্লাস 000861
ইঔষধ med/2224 emerg/563 derm/413
মেএসএইচ D013587

সিফিলিস (ইংরেজি: Syphilis) রোগ ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব কোনো রোগ নয়। এটা ফিরিঙ্গিদের দ্বারা এই দেশে আসে ষোড়শ শতকের আয়ুর্বেদ ঋষি ভাবমিশ্র তার গ্রন্থ ভাবপ্রকাশে এ রোগকে ফিরঙ্গ নামে অতিবাহিত করেছেন। সে সময় ফিরঙ্গ বা পর্তুগীজে এ রোগ ব্যাপক আকার বিস্তার লাভ করে। কেউ কেউ আবার একে গরমি পিঁপড়াও বলে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কলাম্বাস যখন ১৫ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রে অভিযান করেন, তখন তার নাবিকেরা ১৪৯৩ সালে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের হাইতি দ্বীপের প্যাসিওলা হলে ফিরঙ্গ রোগে সক্রামিত হয়ে ফিরঙ্গ রোগের জীবাণু নিয়ে আসে। ফরাসী সম্রাট অষ্টম চার্লস ১৪৯৫ সালে ইতালী আক্রমণ করেন তখন ইতালীতে ইহা মহামারী আকার ধারণ করে। ঐ একই সময়ে লেপেলস এ ফিরঙ্গ রোগ দারুনভাবে দেখা দেয়। ফরাসী সৈন্য এবং তাদের সহযাত্রীরা জার্মান, সুইডেন, ফ্লেমিশগণ এই রোগের জীবাণু সমস্ত ইউরোপে ছড়িয়ে দেন। তবে ইহা সর্ব প্রথম নৌবন্দরে বিস্তার লাভ করে।

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

ফিরঙ্গ একটি সংক্রামক রোগ। “Treponema Pellidum” এর জীবাণুর নাম। সাধারণত ইহা যৌনসঙ্গমের মাধ্যনে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ইহার বৈশিষ্ট্য হল- ১ম ধাপে Chancre হবে, ২য় ধাপে চর্মে লালচে দাগ হবে, সুপ্তাবস্থায় কোন লক্ষ্ণ দেখা যাবে না এবং ৩য় ধাপে প্রধান প্রধান অঙ্গ যেমন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এবং কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে সক্রামন ঘটায়।

যৌনব্যাধিজনিত ক্ষতর বৈশিষ্ট্য হল, আঘাত ছাড়াই একটি অনেক বেশী লাল ব্যথাহীন ক্ষত হয়; অনির্ধারিত তল, কিনারা বিশিষ্ট এবং জলীয় পদার্থ নির্গত হয়; সাধারণত একাকী ভাল হয়ে যায়। তবে ২য়বার সংক্রামিত হলে সেখানে ব্যথা হবে এবং পুঁজ নিঃসৃত হবে। ফিরঙ্গ সাধারণত বিশ্ব ব্যাপী হয়ে থাকে। বাংলাদেশে শহর গুলোতে ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করে আছে। প্রতিনিধি হচ্ছে “Treponema Pellidum”; বাহক হচ্ছে সাধারণ যুবক পুরুষ ও মহিলাদের মাধ্যমে ছড়ায় মূলত যারা যৌনসংগমে উপযুক্ত। তবে যারা সমমৈথুন ও স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের সাথে মৈথুন করে তাদের মাধ্যমে ৫০% রোগ ছড়ায়।

আত্মপ্রকাশ[সম্পাদনা]

এই রোগ দুই ভাবে আত্মপ্রকাশ করে থাকে- বিস্তীর্ণ প্রদাহ এবং স্থানীয় প্রদাহ। বিস্তীর্ণ প্রদাহতে সাধারণত নিম্নলিখিত অংগসমূহ আক্রান্ত হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রদাহতে ধরনের প্রদাহে সুস্পষ্ট ভাবে রেখায়িত ক্ষত সৃষ্টি হয়। যা হলদে এবং রাবারের মত শক্ত হয়। এক রকম খাঁজ কাটা ক্ষত সৃষ্টি হয় যার মাঝে এক, এক ধরনের চামড়ার মত দেখায়। যকৃৎ, শুক্রাশয়, টিবিয়া, আলনা, দাঁতের চোয়ালের হাড়ে সাধারণত আক্রান্ত হয়ে থাকে। রোগের উৎস হচ্ছে, ক্ষত বা কাটা চর্ম এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লী, লালা, বীর্য, Cervacal এবং যোনীর ক্ষরণ, এবং রক্ত।

রোগের ব্যাপ্তিকাল[সম্পাদনা]

সাধারণত ১৪-২৮ দিন কিন্তু ইহা ৯-৯০ দিন পর্যন্ত সম্য লাগে ।

রোগের কারণ ও বিস্তার[সম্পাদনা]

“Treponema Pellidum” এ রোগের জীবাণু, ইহা যৌনসংগমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যৌনসংগমের দরুন যৌন অঙ্গের চামড়ায় সামান্য ক্ষত হলে ঐ স্থানে জীবাণু কর্তৃক আক্রান্ত হতে পারে। কারো কারো বংশে থাকলে তার সন্তানের হতে পারে।শরীরের যে কোন স্থানের ক্ষত জায়গা দিয়েও এই জীবাণু ঢুকে রোগ সৃষ্টি করে। চুম্বনের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। যে সকল পতিতার বা মহিলার মধ্যে এ জীবাণু আছে তাদের সাথে মুক্তভাবে সহবাস করলে এ রোগ হয়। সেবিকা, দাই, দন্ত চিকিৎসকের হাতের আঙ্গুলের দ্বারাও এ রোগ হয়ে থাকে। রক্ত আদান প্রদানের মাধ্যমে এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রান্ত মায়ের গর্ভের শিশুর ও এ রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণ[সম্পাদনা]

এ রোগ সাধারণত তিন অবস্থায় দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থা জীবাণুযুক্ত যোনিতে সহবাসের ফলে লিঙ্গের মাথায় বা উহার গায়ে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠে এবং ঘায়ের সৃষ্টি হয়। স্ত্রী লোকের বেলায় এ ঘা Valva, Labia MInora, Cervix এ আবির্ভূত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় যে ক্ষতটি হয় তা শক্ত থাকে। চুম্বনের মাধ্যমে মুখে ও ঠোঁটে ঘা হয় । ক্ষত ২/৩ দিন নরম থাকে ও পুঁজ নির্গত হয়। ঘা টির তলদেশে শক্ত ও কুঁচকিতে বেদনাহীন স্ফীত হয়। কখনো একাধিক ঘা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় এ ঘা দেখা যায় না। ১০/১৫ দিন পর রোগীর বর্গীর চামড়া পাতলা হয়ে পেকে ওঠে। যেখানে যেখানে দেখা যায়ঃ- সাধারণত জননাঙ্গে দেখা যায়- লিঙ্গ মুন্ড(Gland Panis), যোনিমুখ(Vulva), জরায়ুমুখ(Cervix) ইত্যাদি। জননাঙ্গের বাইরে- ঠোঁট ও তালু, মুখ, স্তন এবং আঙ্গুল।

২য় অবস্থা, প্রাথমিক ক্ষত প্রকাশের ২/৩ বা ৪ মাসের পর ২য় অবস্থা শুরু হয়। দুর্বল রোগীর ক্ষেত্রে অল্প দিনে এবং বলবান রোগীর ক্ষেত্রে দেরীতে প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় রোগীদের নানা রকম রোগ হয়। চর্ম শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, চক্ষু, স্নায়ুমন্ডলী এবং দেহের অন্যান্য অংশে এ রোগের জীবাণু সঞ্চিত হয়। এ সময় রোগীর সামান্য জ্বর, গলায় ব্যথা, নিস্তেজ ভাব, হাত ও পায়ে বেদনা, রক্তসল্পতা, শিরঃপীড়া ও ওজন হ্রাস পায়। চর্মে যে সমস্ত পিড়কা হয় তাতে কোন চুলকানী হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তা তামাটে বর্ণের হয়। মাস খানেক পর এ পিড়কা আপনা আপনি মিলে যায়। তখন এই পিড়কা হাত ও পায়ের তালুতে দেখা যায়। মুখের কিনারায়, মলদ্বারের কিনারায় এবং দেহের অন্যান্য ভিজাস্থানে আঁচলি জাতীয় দানা উৎপন্ন হয়। উহার নাম Condyloma। এভাবে ১ ½ বছর হতে ২ বছর কাল চলে। পরে আর তেমন কষ্ট হয় না। মহিলাদের ক্ষেত্রে লজ্জা বশত এ রোগ পুষে রাখলে যোনির মুখ বড় ও বিকৃত পিণ্ডাকৃতি হয়। অভ্যন্তর ভাগ হতে দুর্গন্ধময় ক্লেদ রস নির্গত হয়।

৩য় অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর ও সাংঘাতিক। এ অবস্থা ২য় অবস্থার সঙ্গে চলতে থাকে। কখনো ২য় অবস্থার পর শূরু হয়। এ অবস্থার চর্মে, চর্মের নিম্ন ভাগে, মাংসে, অস্থি, মস্তিষ্ক, মুখ, পাকস্থলী, অন্ত্র, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি আক্রান্ত হয় এবং সিফিলিস এর গামা দেখা যায়। চামড়ায় আক্রান্ত হলে তা ক্ষত হয়ে ক্লেদ বের হয়। ক্ষত বৃদ্ধি পেতে থাকলে রোগীর মুখের তালুতে আক্রান্ত হয় । নাসারন্ধ্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মস্তিষ্কে আক্রান্ত হলে শিরঃপীড়া, স্মৃতিলোপ, আর্ধাঙ্গিক রোগ দেখা যায়। যকৃৎ বড় হয়ে পেটে শোথ হয়। হাড়ে, অস্থি, সন্ধিতে সিফিলিস এর গামা দেখা যায়। অণ্ডকোষে গামা উৎপন্ন করে এবং উহাকে বেদনাহীন ভাবে স্ফীত করে তোলে।

আধুনিক মতে, প্রাথমিক অবস্থা জীবাণু প্রবেশের ৭-৯০ দিনের মধ্যে Chancre উৎপন্ন হয়। Chancre এর বৈশিষ্ট্য হল, অনেক বেশি লাল, ব্যথাহীন, একটি ক্ষত হবে। অনির্ধারিত তল কিনারা বিশিষ্ট জলীয় পদার্থ নির্গত হয়। সাধারণত একাকি ভাল হয় তবে সেখানে গৌণ সংক্রমণহলে ব্যথা উৎপন্ন হয়।

২য় অবস্থা সাধারণত প্রাথমিক Chancre এর ৬-৮ সপ্তাহ পর শুরু হয়। সেক্ষেত্রে সাধারণ রোগ সমূহ যেমন-মাথাব্যথা সঙ্গে সামান্য জ্বর থাকে এবং অসস্তি বোধ হয়। সাধারণত ৪টি মৌলিক চিহ্ন দেখা যায়- Syphilistic Rash, সমস্ত শরীর হাত ও পায়ের তালু। এটা সাধারণত ফুসকুড়ির মত হয়। অনেক সময় ফুসকুড়িতে জল হয়। Condylomata Lata, আর্দ্র জায়গায় ফুসকুড়ি ওঠে। সাধারণত মলদ্বারের পাশে। Generalized Lymphadenopathy, সাধারণত লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাবে। Mucous Patches, মুখ, গলা ও যৌনাঙ্গের শ্লেষ্মা ঝিল্লীতে জেব্রার ন্যায় দাগ হয়।

৩য় অবস্থায় উপনিত হতে মূলত ১০ বছর/ তারো অধিক সময় লাগে। সেক্ষেত্রে নিম্নের লক্ষণ প্রকাশ পায়, চামড়া ও চামড়ার নিচের টিস্যু্‌, শ্লেষ্মা ঝিল্লী, হাড়, এক ধরনের বিকৃতিকর অবস্থা পরিলক্ষিত হয়ে তাকে Gumma বলে। প্রধান অঙ্গসমূহ আক্রান্ত হয় মূলত CNS (নিউরো সিফিলিস), CVS (কার্ডিওভাসকুলার সিফিলিস)।

সুপ্ত সিফিলিস[সম্পাদনা]

মূলত লক্ষণহীন অবস্থা, এটা টানা ১-৪০ বছর বা তারও বেশী সময় সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে।

বংশগত সিফিলিস[সম্পাদনা]

এ ক্ষেত্রে শিশু জন্মের সময় আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে অর্জন করে থাকে Transplacental Transmission বলে। এর লক্ষণ ও চিহ্ন হল বংশগত বিকৃতি, ঠোঁটে ক্ষত ঘা, দেহের যে কোনো অংশে রক্ত ক্ষরণ জনিত ক্ষত, চর্মের বিকৃতি, মানসিক বিকৃতি এবং বংশগত ভাবে পেরিকন্ড্রিয়াম, অস্থি ও তরুণাস্থিতে প্রদাহ।

বংশগত ফিরঙ্গের জটিলতা হচ্ছে আক্রান্ত মায়ের শিশুর অল্প ওজন হয় এবং জন্মের সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করতে পারে এবং আক্রান্ত মায়ের অকাল প্রসব অথবা গর্ভপাত হতে পারে।

অনুসন্ধানী পরীক্ষা[সম্পাদনা]

পরীক্ষায় পজিটিভ হলে রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তার ফিরঙ্গ হয়েছে। ক্ষত স্থানের রস নিয়ে Dark Ground Illumination করে দেখলে এ রোগের জীবাণু দেখা যায়। রোগ আক্রমণের দুই সপ্তাহ পর রক্ত পরীক্ষা করলে এ রোগের জীবাণু পাওয়া যায়। তার পূর্বে রক্ত পরীক্ষা করলে কোন জীবাণু পাওয়া যাবে না।

চিকিৎসা সূত্র[সম্পাদনা]

বমন, বিরেচন, রক্ত মোক্ষণ, রক্তশোধন, ব্রণরোপন কর্ম করতে হবে। পরে রোগীর অবস্থা বুঝে বৃংহণ ও রসায়ণ কর্ম করাতে হবে। রস কর্পূর সেবন হিতকর।

প্রতিরোধক মূলক চিকিৎসার[সম্পাদনা]

প্রতিরোধক মূলক চিকিৎসার হ্মেত্রে, যৌনবাহিত রোগের প্রতি আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যৌন সঙ্গী বাছাই করতে হবে যাদের যৌন রোগ নেই। যাদের যৌন রোগ আছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে। যার স্বামী বা স্ত্রী নিজেরা ছাড়াও অন্য লোকের সাথে যৌন সঙ্গম করে তাদের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে হবে। যারা গর্ভবতী , যে সব মহিলা বার বার স্বামী থেকে পৃথক হয়, পতিতা, রক্তদাতা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, সেনাবাহিনী, পুলিশ, যাযাবর, রেস্টুরেন্ট, হোটেল কর্মকর্তা, কর্মচারী এ সকল শ্রেণীর লোকজনদের নিয়মিত VDRL Test করতে হবে। যৌনসংগমের পূর্বে Condom, যোনীর মধ্যবর্তী Jellies & Cream ব্যবহার করতে হবে ও সঙ্গমের পর যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করতে হবে। লোকজনদের অবশ্যই সিফিলিসের মহামারী ও মারাত্মকতা সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে হবে। পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে উপদেশ দিতে হবে। ব্যাশ্যাপনা বন্ধ করা অথবা এর উপর কঠোর আইন প্রণয়ন করা অথবা শিক্ষার মাধ্যমে, চাকরির দ্বারা উচ্ছেদ করতে হবে। যৌন উত্তেজনা মূলক সাহিত্য, অশ্লীল ছবি, বই ইত্যাদি বিক্রি নিষেধ করতে হবে। বিবাহ বন্ধন ও বিবাহের পূর্বে পরীক্ষা করতে হবে। স্বামী স্ত্রী অথবা যৌন সঙ্গীদের VD Clinic এ যাওয়া এবং শিক্ষা লাভ করা উচিত। রোগের চিকিৎসা ও দেখাশোনা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

বংশগত সিফিলিসের প্রতিরোধ হ্মেত্রে, গর্ভের প্রথম তিন মাসের সকল গর্ভবতী মহিলার পরীক্ষা ও W.R Test (Wassermann Reaction)করতে হবে সিফিলিস নির্ণয়ের জন্য। যদি কোন মহিলার সিফিলিস ধরা পড়ে তাহলে তার তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা করতে হবে। জন্মের পর নবজাতক কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরীক্ষা করতে হবে এবং রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা করতে হবে। এ রোগের মারাত্মকতা সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে।

প্রতিকার মূলক চিকিৎসা[সম্পাদনা]

প্রতিকার মূলক চিকিৎসা হ্মেত্রে, ভেষজের মাধ্যমে চিকিৎসা যেমন, শুকনো নিম পাতা চূর্ণ ১০ গ্রাঃ, অড়হর পাতা চূর্ণ ১০ গ্রাঃ, হলদি বাটা ৫ গ্রাঃ একত্রে মিশিয়ে ১-২ চা চামচ জল সহ সকালে খালি পেটে সেব্য। ত্রিফলার ক্বাথ দিয়ে সকাল বিকাল লিঙ্গ ও যোনি দ্বারে উৎপন্ন ব্রণ বা ক্ষত পরিষ্কার করতে হবে। নিম সিদ্ধ জল দ্বারা আক্রান্ত স্থানে ধৌত করতে হবে।

উপকারী ভেষজসমূহ হল, তোপচিনি, অনন্তমূল, শ্যামালতা, বট, অশ্বথ, হলুদ এবং নিম ইত্যাদি। যৌগিক ভেষজসমূহ হল, রস কর্পূর – ১ মাত্রা মধু ও তোপচিনি চূর্ণ সহ সকাল বিকাল সেব্য। স্বর্ণ বঙ্গ – ২৫০ মিঃ গ্রাঃ মধু ও কাচা হলুদের রস সহ সকাল বিকাল সেব্য। ফিরঙ্গ রজ কেশরী – ৫০০ মিঃ গ্রাঃ মধু ও তোপচিনি চূর্ণ সহ সকাল বিকাল সেব্য। পঞ্চতিক্ত ঘৃত গুগগুল – ১-২ চা চামচ এক কাপ গরম দুধ সহ সেব্য।রস মানিক্য – ২৫০ মিঃ গ্রাঃ মধু ১০ ফোঁটা ও ঘি ৪ ফোঁটা সহ সেব্য। মানিক্য রস - ২৫০ মিঃ গ্রাঃ ৫-৬ চামচ কাঁচা হলুদের রস ও ১ চামচ মধু সহ সকাল বিকাল সেব্য। অনন্তাদ্য ঘৃত – ১-২ তোলা, ১২-২৪ উষ্ণ জল/দুধ সহ সেব্য। বহরের ননী – ক্ষত স্থানে ২-৩ বার ঠাণ্ডা অবস্থায় প্রলেপ দিতে হবে। সারিবাদ্যরিষ্ট – ২০-৩০ মিলি ও সম পরিমাণ জল সহ সেব্য। মঞ্জিষ্ঠাসব – ২০-৩০ মিলি ও সম পরিমাণ জল সহ সেব্য। খাবারঃ দুধ ভাত, করলা, নিম পাতা, আলু, পটোল ইত্যাদি রোগীর জন্য সুপথ্য। সীমাবদ্ধতাসমূহ সকল প্রকার অম্ল দ্রব্য, দধি, কাঁচা লবণ; ঝাল, রুক্ষ, চর্বি জাতীয় খাদ্য ও ঠাণ্ডা ও পিচ্ছিল জাতীয় খাদ্য।

এ হ্মেত্রে যা যা করনীয় তা হচ্ছে, এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সাথে মুক্তভাবে যৌন সঙ্গম না করা। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে যৌন সঙ্গম না করা। সম্পূর্ণ রোগ আরোগ্য না করা পর্যন্ত যৌন সঙ্গম করা যাবে না। পতিতালয়ে গমন করা বা পতিতার সঙ্গে যৌন সঙ্গম না করা। চুম্বন না করা। এক ব্লেড দ্বারা একাধিক লোক সেভ না করা। অন্যের ব্যবহৃত জিনিস- তাওয়াল, ব্রাশ ব্যবহার না করা। পরীক্ষা না করে রক্ত না নেয়া। এক সিরিঞ্জ একাধিক জনে ব্যবহার না করা। সম মৈথুন না করা। যৌন সঙ্গমের সময় যৌনাঙ্গ ধুয়ে পরিষ্কার না করা।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Parascandola, John. Sex, Sin, and Science: A History of Syphilis in America (Praeger, 2008) 195 pp. ISBN 978-0-275-99430-3 excerpt and text search
  • Shmaefsky, Brian, Hilary Babcock and David L. Heymann. Syphilis (Deadly Diseases & Epidemics) (2009)
  • Stein, Claudia. Negotiating the French Pox in Early Modern Germany (2009)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

সিফিলিস সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে হলে উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন:

Wiktionary-logo-en.svg সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
Wikibooks-logo.svg পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
Wikiquote-logo.svg উক্তি, উইকিউক্তি হতে
Wikisource-logo.svg রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
Commons-logo.svg ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
Wikivoyage-Logo-v3-icon.svg ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
Wikinews-logo.png সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে

টেমপ্লেট:Diseases of the skin and appendages by morphology টেমপ্লেট:STD/STI টেমপ্লেট:Gram-negative non-proteobacterial bacterial diseases টেমপ্লেট:Diseases of maternal transmission