ইদ্রিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হযরত ইদ্রিস (আঃ)
রাজত্বকাল ৩৬৫ বছর

ইদ্রিস যিনি মুসলমানদের নিকট হযরত ইদ্রিস (আঃ) নামে পরিচিত, ইসলামী ইতিহাস অনুসারে মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রেরিত দ্বিতীয় নবী। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুসারে তিনি ইসলামের প্রথম নবী আদম -এর পর স্রষ্টার নিকট হতে নবীত্ব লাভ করেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে তিনি ইরাকের বাবেলে জন্মগ্রহণ করেন। আবার কারো মতে তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, বাইবেলে উল্লেখিত 'ইনোখ' (Enoch) ব্যক্তিটি তিনিই।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ইসলামী ভাষ্য মতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ মিরাজের রাতে চতুর্থ আসমানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ধারণা করা হয়[কে?]


, তিনিই সর্বপ্রথম কলম এবং কাপড় সেলাই করার বিদ্যা আবিস্কার করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বলা হয়[কে?]


, জ্যোতির্বিজ্ঞান,অংকশাস্ত্র এবং অস্ত্রের ব্যবহারও তিনিই সর্বপ্রথম আবিস্কার করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

নাম ও বংশপরিচিতি[সম্পাদনা]

ইদ্রীস এর নাম ও বংশ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে বিরাট মতভেদ আছে। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে ইসহাকের মতে, তিনি হলেন ইসলামের নবী নূহ এর দাদা। তাঁর আসল নাম হলো আখনূখ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ইদ্রীস তাঁর উপাধি। কিংবা আরবি ভাষায় তাঁর নাম ইদ্রীস আর হিব্রু ও সুরইয়ানী ভাষায় তাঁর নাম হলো আখনূখ। ইবনে ইসহাক তাঁর বংশধারা বর্ণনা করেনঃ আখনূখ (ইদ্রীস) ইবনে ইয়ারুদ ইবনে মাহলাইল। এভাবে তাঁর বংশধারা আদম এর পুত্র শীষ এর সাথে মিলিত হয়। আরেকদল ঐতিহাসিকের মতে, ইদ্রীস ইসরাইল বংশীয় নবী। আর ইদ্রীস ও ইলয়াস একই ব্যক্তির নাম ও উপাধি।

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

তাঁর জীবন সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায়, তা হলো- ছোটবয়সে তিনি শীষএর ছাত্র ছিলেন। বড় হওয়ার পর আল্লাহ তাকেঁ নুবুওয়্যত দান করেন। তখন তিনি আদম এর ওপরে অবতীর্ণ শরীয়ত ত্যাগ করতে মন্দলোকদের নিষেধ করেন। অল্পকিছু লোক তাঁর আহ্বানে সাড়া সৎপথে ফিরে আসলো। আর অধিকাংশ মানুষই তাঁর বিরোধিতা করলো। তাই তিনি তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যেতে মনস্থ করলেন। কিন্তু তাঁর অনুসারীরা মাতৃভূমি ছাড়তে গড়িমসি করে বললো, বাবেলের মতো দেশ ছেড়ে গেলে এমন দেশ আর কোথায় পাব? উত্তরে তিনি বললেন, যদি আমরা আল্লহর জন্য হিজরত করি তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে এরচে' উত্তম প্রতিদান দেবেন। এরপর তিনি নিজের অনুসারীদেরসহ দেশ ছেড়ে রওয়ানা হলেন এবং একসময় মিশরের নীলনদের তীরে এসে পৌঁছলেন। এ জায়গা দেখে তারা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং এখানেই বসবাস করতে লাগলেন। তিনি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধে ব্রতি হন। কথিত আছে, তাঁর যুগে ৭২টি ভাষা ছিল এবং এর সবকটি ভাষাই পারতেন।

কুরআনে ইদ্রীস এর আলোচনা[সম্পাদনা]

কুরআনে শুধু দুই জায়গাতে ইদ্রীস এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা মারইয়াম এবং সূরা আম্বিয়াতে। এ সকল জায়গায় তাঁর সম্পর্কে কুরআনের ভাষ্য হলোঃ

আর এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী।আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম। (সূরা মারইয়ামঃ৫৬-৫৭)
এবং ইসমাঈল, ইদ্রীস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী। আমি তাঁদেরকে আমার রহমাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করেছিলাম। তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ।(সূরা আম্বিয়াঃ৮৫-৮৬)

হাদিসে ইদ্রীস এর আলোচনা[সম্পাদনা]

বুখারী ও মুসলিম শরিফের মেরাজের হাদিসে ইদ্রীস সম্পর্কে শুধু এতটুকু বলা হয়েছে যে, তিনি একজন নবী ছিলেন এবং মেরাজের রাতে মুহাম্মাদ (সঃ)এর সাথে চতুর্থ আসমানে তাঁর সাক্ষাত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ইদ্রীস এর বয়স সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইদ্রীস ৩৬৫ বছর জীবিত থাকেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তবে আরেক বর্ণনানুযায়ী তিনি ৮২ বছর জীবিত থাকেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তাঁর মৃত্যুবরণ করা সম্পর্কেও মতভিন্নতা রয়েছে। কারো কারো মতে তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। বরং আল্লাহ তাকে চতুর্থ আসমানে তুলে নিয়েছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] তবে বেহেস্তে থেকে যাওয়ার কাহিনী গুলো ইসরাঈলী বর্ণণা।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • কাছাছুল কোরআন। মাওলানা হিফজুর রহমান রচিত, মাওলানা নুরুর রহমান অনুবাদিত এবং এমদাদিয়া লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত। প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৭৮-৮৯।
  • উইকিপিডিয়া (আরবি, উর্দূ ও ইংরেজি সংস্করণ)