আইসোটোপ
আইসোটোপ হল একই মৌলিক পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু যাদের পারমাণবিক সংখ্যা একই তবে নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন। আইসোটপসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন। প্রোটনের সংখ্যা একই থাকায় আইসোটোপসমূহের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মে অনেক সাদৃশ্য বিদ্যমান। যেমন- কার্বন-১২, কার্বন-১৩, কার্বন-১৪ তিনটি আইসোটোপ যারা একই পদার্থ কার্বন হতে উৎপন্ন, এদের ভর সংখ্যা যথাক্রমে ১২, ১৩ ও ১৪।কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬, তাই এসকল আইসোটোপে নিউট্রনের সংখ্যা হল যথাক্রমে ১২-৬=৬, ১৩-৬=৭ এবং ১৪-৬=৮। সংক্ষেপে, আইসোটোপসমূহ ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যা বিশিষ্ট একই পদার্থের পরমাণু। এদের প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা একই।
প্রোটন ও নিউট্রনের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস সম্বলিত নিউক্লিয়াসকে বলা হয় নিউক্লাইড। নিউক্লাইডের ধারণা রাসায়নিক বৈশিষ্টের চেয়ে নিউক্লিয়ার বৈশিষ্টকে বেশি গুরুত্ত্ব আরোপ করে, পক্ষান্তরে আইসোটোপ করে তার উল্টোটি। নিউট্রনের সংখ্যা পরমাণুর নিউক্লিয়ার বৈশিষ্টকে অনেক বেশি প্রভাবিত করলেও তা রাসায়নিক বৈশিষ্টকে অতটা প্রভাবিত করে না। যেহেতু আইসোটোপ ঐতিহাসিকভাবে সুপরিচিত, তাই যে ক্ষেত্রে যেখানে নিউক্লাইড ব্যবহার করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত কোন কোন সময় সেসব জায়গায় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়, যেমন- নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিতে।
কোন আইসোটোপের সংকেত প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌলের নামের পরে একটি হাইফেন চিহ্নের পর ভর সংখ্যা উল্লেখ করতে হয় (যেমন- হিলিয়াম-৩, কার্বন-১২, আয়োডিন-১৩১, ইউরেনিয়াম-২৩৮)। কোন মৌলকে প্রকাশের ক্ষেত্রে ঐ মৌলের সংকেতের বামে উপরে ভর সংখ্যা, বাম পাশে নিচে পারমাণবিক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়।
কিছু আইসোটোপ তেজস্ক্রিও, এদেরকে বলে রেডিও আইসোটোপ বা রেডিও নিউক্লাইড। আবার কিছু আইসোটোপ তেজস্ক্রিও ক্ষয় প্রদর্শন করে না, এদেরকে বলে স্থায়ী আইসোটোপ। যেমন- 14
6C একটি কার্বনের তেজস্ক্রিও আইসোটোপ আবার 12
6C এবং 13
6C কার্বনের স্থায়ী আইসোটোপ। প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন আইসোটোপের সংখ্যা ৩৩৯,[১] এদের মধ্যে ২৮ টি হল প্রাইমর্ডিয়াল বা আদিম এবং ২৫৯ টি স্থায়ী আইসোটোপ।[১] প্রাইমর্ডিয়াল আইসোটোপ হল সেসব আইসোটোপ যেগুলো পৃথিবী সৃষ্টির পূর্ব হতে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত একই রূপে অক্ষত রয়েছে। ধারণা করা হয় যে কিছু কিছু স্থায়ী আইসোটোপও তেজস্ক্রিও যাদের অর্ধায়ু অত্যন্ত দীর্ঘ। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট মোট আইসোটোপের সংখ্যা হল ৩১০০ টি।[২]
পরিচ্ছেদসমূহ |
আইসোটোপের বৈশিষ্টসমূহের বিভিন্নতা [সম্পাদনা]
রাসায়নিক ও পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য [সম্পাদনা]
একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে সমসংখ্যক ইলেকট্রন এবং প্রোটন থাকে। তাই, কোন মৌলের সকল আইসোটপে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে, এমনকি এদের ইলেকট্রন বিন্যাসও একই , কারণ একটি পরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এর ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর নির্ভরশীল। একারণে একই মৌলের আইসোটোপসমূহ প্রায় অভিন্ন রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। আইসোটোপসমূহের ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকলেও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন থাকে।তাই এদের ভরসংখ্যাও ভিন্ন হয়। যেমনঃ- ওজোন ও অক্সিজেন।
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
- নিউক্লিওনিকা নিউক্লিয়ার সায়েন্স পোর্টাল
- নিউক্লিওনিকা নিউক্লিয়ার সায়েন্স উইকি
- য়ান্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা
- সকল আইসোটোপের পারমাণবিক ভর
- Atomgewichte, Zerfallsenergien und Halbwertszeiten aller Isotope
- নিউক্লাইডসমূহের চার্ট $২৫
- বর্তমান আইসোটোপ বিষয়ক গবেষণা এবং তথ্য
- তেজস্ক্রিও আইসোটোপসমূহ
- নিউক্লাইড, আইসোটোপ এবং পর্যায় সারণীর ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্ট
The LIVEChart of Nuclides - IAEA with isotope data, in Java or HTML
| এই পদার্থবিজ্ঞান-সম্পর্কিত বিষয়ক নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |