কেন্দ্রীন সংশ্লেষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পারমানবিক পদ্ধতিসমূহ
তেজস্ক্রিয় ভাঙন (পদ্ধতিসমূহ)

কেন্দ্রীন সংশ্লেষ

কেন্দ্রীন সংশ্লেষ (Nocleosynthesis) হল নিউক্লিয়নদের (প্রোটন বা নিউট্রন) সংশ্লেষণ। এটি পূর্বতন নিউক্লিয়ন থেকে নতুন পারমানবিক কেন্দ্রীন তৈরির প্রক্রিয়ার নাম। বৃহৎ বিস্ফোরণের পরে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা যখন ১০ মিলিয়ন ডিগ্রীতে নেমে আসে তখন কোয়ার্ক-গ্লুওন প্লাসমা থেকে প্রাথমিক নিউক্লিয়নসমূহ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রথম এই প্রক্রিয়াটিকে বলা যেতে পারে নিউক্লিয়ন সৃষ্টি বা Nucleogenesis। এই কেন্দ্রীন সংশ্লেষের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল কার্বন, অক্সিজেনসহ অন্যান্য সকল মৌলের অস্তিত্ব লাভ। এই মৌলগুলো তারার অভ্যন্তরে কেন্দ্রীন বিভাজন অথবা কেন্দ্রীন সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিলো।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আর্থার স্ট্যানলি এডিংটন সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে বলেন যে তারাসমূহ হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু এই প্রস্তাব তখন গ্রহনযোগ্য হয়নি কারণ তারার একেবারে অভ্যন্তরভাগে সংগঠিত এই বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গাণিতিক সূত্রের অবতারণা তিনি করতে পারেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর আগে হ্যান্স বেথে সর্বপ্রথম এই প্রক্রিয়ার একটি গ্রহণযোগ্য পরিমাণগত ব্যাখ্যা দেন। যুদ্ধের পরের বছরগুলিতে বিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েল কেন্দ্রীন সংশ্লেষের মূল প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বলেন যদিও তার বর্ণনাটি ছিল মূলত তারায় হাইড্রোজেন থেকে কিভাবে আরও ভারী মৌল সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে। বিশ্বতত্ত্বের স্থির অবস্থা তত্ত্ব মেনে নিলেই তার এই প্রক্রিয়া খাটে। হয়েল তার গবেষণা ক্ষেত্রে সফলতা পান যার প্রমাণ তার গবেষণায় উদ্বুদ্ধ বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণা। হয়েলের গবেষণার পরপরই ই. মার্গারেট বারবিজ, জিওফ্রি বারবিজ এবং উইলিয়াম আলফ্রেড ফাওলার কেন্দ্রীন সংশ্লেষের গোড়াপত্তন করেন। তাদের সাথে এলিস্টেয়ার জি. ডব্লিউ ক্যামেরন এবং ডোনাল্ড ডি. ক্লেইটন এর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]