আরএনএ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(RNA থেকে পুনর্নির্দেশিত)
বামে আরএনএ ও এর নাইট্রোজেন ভিত্তিসমূহ এবং ডানে ডিএনএ প্রদর্শিত হচ্ছে

রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (অ্যাক্রোনিম বা সংক্ষিপ্তকরণে আরএনএ বা RNA) হল একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণের সাথে জড়িত এবং যার পলিনিউক্লিয়োটাইডের মনোমার এককগুলোতে গাঠনিক উপাদানরূপে রাইবোজ শুগার ও অন্যতম বেস বা ক্ষারক হিসেবে ইউরাসিল থাকে।[১] রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড হল একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লিওটাইড যা নিউক্লিক অ্যাসিডের দীর্ঘ শৃঙ্খলের ন্যায় সমস্ত জীবন্ত কোষে উপস্থিত রয়েছে। সাধারণত ডিএনএ থেকে প্রাপ্ত এই নিউক্লিক অ্যাসিড মানবদেহে নতুন কোষ তৈরির জন্য দায়ী। আরএনএ-কে কোন কোন সময় এনজাইম হিসাবেও উল্লেখ করা হয় কারণ এটি শরীরের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

RNA-এর প্রধান ভূমিকা হল প্রোটিন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিএনএ থেকে নির্দেশাবলী বহনকারী একটি বার্তাবাহক হিসাবে কাজ করা। আরএনএতে শুগার রিবোজ, ফসফেট এবং নাইট্রোজেনাস বেস অ্যাডেনাইন (এ), গুয়ানিন (জি), সাইটোসিন (সি), এবং ইউরাসিল (ইউ) রয়েছে। ডিএনএ এবং আরএনএ নাইট্রোজেনাস বেস এ, জি এবং সি ভাগ করে নেয়, থাইমিন সাধারণত ডিএনএতে উপস্থিত থাকে এবং ইউরাসিল সাধারণত আরএনএতে উপস্থিত থাকে।[২][৩]

মৌলিক কাঠামো[সম্পাদনা]

রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের সমস্ত উপাদান ডিএনএ-এর মতোই থাকে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ২টি প্রধান পার্থক্য রয়েছে। আরএনএ-তে ডিএনএর মতো অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন নামক একই নাইট্রোজেন বেস রয়েছে, তবে থাইমিন যা ইউরাসিল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অ্যাডেনিন এবং ইউরাসিল RNA-এর প্রধান বেস হিসাবে বিবেচিত হয় এবং উভয়ই ২টি হাইড্রোজেন বন্ডের সাহায্যে বেস-জোট গঠন করে।

রাইবোনিউক্লিওটাইডের অংশ:

DNA ও RNA-এর মধ্যে পার্থক্য[সম্পাদনা]

ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) মূলত কোষ জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অণু, যা সমস্ত জীবনের উপর ভিত্তি করে জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য দায়ী। তাদের উভয়ের মধ্যে রৈখিক পলিমার, শর্করা, ফসফেট এবং বেস রয়েছে, তবে কিছু মূল পার্থক্য রয়েছে যা দুটিকে আলাদা করে। এই পার্থক্যগুলি দুটি অণুকে একসাথে কাজ করতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করে। এখানে, আমরা ডিএনএ এবং আরএন-এর মধ্যে কিছু মূল পার্থক্য আলোচনা করলাম:

ডিএনএ এবং আরএনএ উভয়ই হল সমস্ত জীবের জেনেটিক তথ্যের রাসায়নিক বাহক। বেশিরভাগ জীবের মধ্যে, DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) জেনেটিক তথ্য সঞ্চয় করে এবং বংশধরদের কাছে প্রেরণ করে। RNA (রিইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য জেনেটিক কোড ট্রান্সফারের সাথে জড়িত। কিছু ভাইরাস তাদের জেনেটিক উপাদান হিসাবে আরএনএ ব্যবহার করে। ডিএনএ বেশিরভাগ নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় যেখানে আরএনএ কোষের সাইটোপ্লাজমে পাওয়া যায়। DNA এবং RNA-এর মধ্যে মূল পার্থক্য হল যে DNA এর পেন্টোজ শুগার হিসেবে ডিঅক্সিরাইবোজ থাকে এবং RNA এর পেন্টোজ শুগার রাইবোজ থাকে।[৪]

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

প্রোক্যারিওট এবং ইউক্যারিওট উভয় ক্ষেত্রেই তিনটি প্রধান ধরনের আরএনএ বিদ্যমান-

  1. rRNA (রাইবোসোমাল)
  2. tRNA (ট্রান্সফার)
  3. mRNA (বার্তাবহ)

এম-আরএনএ[সম্পাদনা]

mRNA বা বার্তাবাহী আর.এন.এ: যে সব RNA জিনের সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন সংশ্লেষের ছাঁচ হিসেবে কার্যকর হয়ে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড অনুক্রম বাছাই করে তাই mRNA। DNA থেকে ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে mRNA সৃষ্টি হয়। mRNA চেইন এর মত। mRNA নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষণের বার্তা বহন করে। কোষের মোট RNA এর ৫-১০ ভাগ mRNA।

আর-আরএনএ[সম্পাদনা]

রাইবোজোমাল RNA বা rRNA : রাইবোজোম এর প্রধান গাঠনিক উপাদান হলো rRNA.কোষের শতকরা ৮০-৯০ ভাগ হলো rRNA. কোষের রাইবোজোম এদের অবস্থান।

টি-আরএনএ[সম্পাদনা]

যে সব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনো এসিড কে mRNA তে স্থানান্তর করে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে সেগুলোকে tRNA বা ট্রান্সফার RNA বলে। প্রতিটি কোষে প্রায় ৩১-৪২ ধরনের tRNA থাকে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে tRNA এর সৃষ্টি হয়। প্রতিটি tRNA তে মোটামুটি ৯০ টি নিউক্লি্উটাইড থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি tRNA এক সূত্রক এবং লম্বা চেইনের মতো থাকে কিন্তু পরবর্তীতে এটি ভাঁজ হয়ে যায় এবং বভিন্ন বেস-এর মধ্যে জোডার সৃষ্টি হয়ে প্রতিটি tRNA-তে একাধিক ফাঁস সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাঁস হলো অ্যান্টিকোডন ফাঁস যা mRNA-এর কোডন এর সাথে মুখোমুখি বসে যেতে পারে। tRNA-৩ প্রান্ত এক সূত্রক এবং সব সময়ই CCA ধারায় বেস সজ্জিত থাকে। এখানে অ্যামিনো এসিড সংযুক্ত হয়। ফাঁস অবস্থায় সবসময়ই অ্যান্টিকোডন ফাঁস ও অ্যামিনো এসিড সাইট বিপরীত অবস্থানে থাকে। তিনটি বেস নিয়ে অ্যান্টিকোডন সৃষ্টি হয়।

gRNA

বংশগতীয় RNA বা genetic RNA ভাইরাস এর বংশগতি উপাদান হিসেবে DNA থাকে না তাদের RNA কে gRNA বলে।

miRNA

মাইনর RNA বা miRNA সিটোপ্লাজমীয় RNA ও নিউক্লীয় RNA নামের কিছু RNA আছে যা এনজাইম এর কাঠামো দান করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Brosius, Jürgen; Raabe, Carsten A. (২৮ জানুয়ারি ২০১৬)। "What is an RNA? A top layer for RNA classification"RNA Biology১৩ (২): ১৪০–১৪৪। আইএসএসএন 1547-6286ডিওআই:10.1080/15476286.2015.1128064পিএমআইডি 26818079পিএমসি 4829331অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  2. Wang, David; Farhana, Aisha (২০২২)। Biochemistry, RNA Structure। Treasure Island (FL): StatPearls Publishing। 
  3. "Structure and Function of RNA - Microbiology | OpenStax"openstax.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৪ 
  4. Pliatsika, Venetia। "DNA and RNA | Computational Medicine Center at Thomas Jefferson University"| Computational Medicine Center at Thomas Jefferson University (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]