কলেরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Cholera থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কলেরা
বিশেষত্বসংক্রামক রোগ, জরুরী চিকিৎসাবিজ্ঞান উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কলেরা ভিব্রিও কলেরা (Vibrio cholerae) নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ[১] [২] এ ব্যাধি উপসর্গবিহীন অথবা মৃদু অথবা মারাত্মক হতে পারে। [২] কলেরার প্রধান উপসর্গ হল ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত পাতলা পায়খানা। এছাড়াও থাকতে পারে পেটব্যথা, জলাভাবে শারীরিক দুর্বলতা এবং চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে শেষপর্যন্ত পানিশূন্যতার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।

কলেরা Vibrio cholerae-র কয়েকটি সেরোটাইপ দিয়ে হতে পারে। এদের মধ্যে কিছু সেরোটাইপ অন্যগুলোর চেয়ে বেশি মারাত্মক রোগ ঘটাতে পারে।[৩] শুধু ও১ (O1) এবং ও১৩৯ (O139) সেরোগ্রুপ কলেরা মহামারী ও অতিমারী ঘটায়। মানব শরীরে সংক্রমণের প্রধান বাহক দূষিত পানি অথবা দূষিত খাদ্য।

রোগের কারণসমূহ[সম্পাদনা]

সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। সাধারত পয়ঃপ্রণালীর সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির মল, খাবার ও পানির সংস্পর্শে এসে খাবার ও পানিকে দূষিত করে। পরবর্তীতে উক্ত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে কলেরার জীবাণু সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে আক্রান্ত করে। সাধারণত যে কোন পরিবেশেই কলেরার জীবাণু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

উপসর্গ-লক্ষণ[সম্পাদনা]

কলেরার সংক্রমণ প্রায়ই মৃদু বা উপসর্গহীন হয়ে থাকে। কিন্তু, কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হতে পারে। ভিব্রিও কলেরা দ্বারা দূষিত খাবার পানি অথবা দূষিত খাদ্য গ্রহণের পর বার ঘন্টা থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কলেরার লক্ষণ প্রকাশ পায়। [৪]

গুরুতরভাবে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে যা দেখা যায়:

  • ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত পাতলা পায়খানা
  • বমি
  • পায়ের শিরটান
  • শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতা ও শক দেখা দিতে পারে।

রোগ প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

ভিব্রিও কলেরা কলেরা টক্সিন নামের এন্টেরোটক্সিন তৈরি করে যার বিষক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরের আবরণী কলা থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরাইড ও জল চোঁয়াতে থাকে যা চাল ধোয়া পানির মত পাতলা পায়খানা গঠন করে। জোরালো সংক্রমণ ও টক্সিনের বিষক্রিয়া হলে কলেরার প্রাণঘাতী ক্রিয়ায় ১ ঘণ্টায় একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যেতে পারে ও ২-৩ ঘণ্টায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ মাঝারি মাপের সংক্রমণে ৪-১২ ঘণ্টায় শক (অর্থাৎ নিম্ন রক্ত চাপ ইত্যাদি কারণে দেহের সমস্ত অংশে রক্ত সরবরাহের অভাব) এবং পরবর্তী দেড় দিন বা কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। [৫]

আক্রমণ সম্ভাবনা[সম্পাদনা]

বিশ্বে কলেরার প্রাদুর্ভাবপূর্ণ এলাকা (লাল রঙে চিহ্নিত)

কলেরা টীকা[সম্পাদনা]

কলেরা টীকা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Cholera" https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/cholera https://www.who.int/ ২৪জুলাই ২০২০
  2. =https://www.cdc.gov/cholera/healthprofessionals.html https://www.cdc.gov/ ২৪জুলাই ২০২০
  3. "Cholera vaccines: WHO position paper" https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/20349546/ https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/ ২৪জুলাই ২০২০
  4. https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/23201968/ https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/ সংগ্রহের-তারিখঃ ২৪জুলাই, ২০২০
  5. McLeod K S "Our sense of Snow: the myth of John Snow in medical geography" Soc Sci Med 50 সংখ্যা নং=7-8 |পাতাসমূহ=923-35 |বছর=2000 |আইডি=PMID 10714917

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]