হিজামা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
হিজামা চিকিৎসা

হিজামা (আরবি: حجامة‎‎ অর্থ:"শোষণ")‎‏ হল শিঙ্গা লাগানো নামক প্রচলিত চিকিৎসার আরবি নামকরণ, যেখানে দেহের ত্বকের ব্যথাযুক্ত কোন অংশে সামান্য কর্তন করে সেখানে কাপ আকৃতির বায়ুশূণ্যকারী ছোট পাত্র নিশ্ছিদ্রভাবে এটে দিয়ে তা বায়ুশুন্য করে কর্তনকৃত আকৃতির পা নাম ও[মাথাব্যথা]], শরীরব্যথার মত অসুস্থতা নিরাময়ে এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়। ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) একে সর্বোত্তম চিকিৎসা বলে উল্লেখ করেছেন যা একাধিক বিশুদ্ধ হাদীসে পাওয়া গিয়েছে।[১]

== আরও দেখুন ==হিজামা / কাপিং এর উপকারিতা


হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস রদিয়াল্লহু আনহু থেকে বর্ণিত : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হিজামাকারী কতই উত্তম লোক। সে দূষিত রক্ত বের করে মেরুদন্ড শক্ত করে ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।” সুনানে তিরমিযী, হাদীছ নম্বর : ২০৫৩ . ১। ইহা টিস্যু থেকে বিষ মুক্ত করতে সহায়তা করে। ২। লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম সক্রিয় করে। ৩। বড় রক্তনালী পরিষ্কার করে এবং রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় করে। ৪। লিম্ফ্যাটিক গ্রন্থি ও রক্ত নালী পরিষ্কার করে বিশেষ করে পায়ের পাতার, যাহা পরবর্তীতে সারা দেহে ছড়িয়ে পরে, ইহা দেহে থেকে যাওয়া ঔষধের পরিমাণও দেহ থেকে বের করে দেয়। ৫। দেহের অভ্যন্তর এর প্রতিক্রিয়ার অবস্থা সক্রিয় ও উদ্দীপ্ত করে, ফলে আক্রান্ত অঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মস্তিস্কের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। ৬। দেহের ভিতরে শক্তি চলাচলের পথ পরিষ্কার করে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে-৫০০০ বছর আগে চীন ও জাপানীরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। ৭। চিকিৎসার পরে মানবদেহের ত্বক ও পেশীতে অবশিষ্ট ঔষধ ও বিষ দেহ থেকে শুষে নিতে হিজামা/কাপিং থেরাপি উপকারী। এর ফলে রক্ত থেকে ইউরিক এসিড ও জয়েন্ট থেকে ক্রিস্টাল বের করে দেয়া সহজ হয় ফলে গাউট রোগ ভাল হয়। ৮। দেহের কোন স্থানে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বা কোন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কম হলে তা দূর করতে হিজামা/কাপিং করার দরকার হয়। ৯। দেহের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইম্যুনিটি গ্লান্ডস, বিশেষ করে থাইমাস গ্লান্ড যাহা পিঠে ৪র্থ ভার্টিব্রা বরাবর কাপিং করা হয়। ১০। হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাড়ের ৭ম সার্ভাইকাল ভার্টিব্রা বরাবর কাপিং করা হয়। ১১। মানসিক দিক ব্যবস্থা দেয়া হয় : ঘাড়ের ৭ম ভার্টিব্রা, লাম্বার ৫ম ভার্টিব্রা, গলব্লাডারের নট (লাম্বার ১ম ও থোরাসিক ১২তম) বরাবর কাপিং করলে, ইহা নার্ভাসনেস, রাগ, বিষন্নতা, অবসাদ, প্রতিক্রিয়া, নিষ্ঠুরতা ও বেপরোয়া ভাব নিয়ন্ত্রণ করে, রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। ঔষধের প্রতি দেহের দ্রুত সারা নিশ্চিত করে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী দ্রুত সুস্থ্য হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Al Jauziyah & Abdullah, 2003

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্য[সম্পাদনা]