হাবিবুর রহমান (সাতক্ষীরার রাজনীতিবিদ)
মোঃ হাবিবুর রহমান | |
|---|---|
| সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ৩ মার্চ ১৯৮৮ – ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ | |
| পূর্বসূরী | কাজী শামসুর রহমান |
| উত্তরসূরী | কাজী শামসুর রহমান |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | মোঃ হাবিবুর রহমান হবি ১৩ অক্টোবর ১৯৪৩ সাতক্ষীরা |
| মৃত্যু | ৪ জুন ২০১১ (বয়স ৬৭) স্কয়ার হাস্পাতাল, ঢাকা |
| রাজনৈতিক দল | জাতীয় পার্টি |
হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রাজনীতিবিদ যিনি সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।[১]
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]হাবিবুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
১। নাম: মোঃ হাবিবুর রহমান (হবি) ২। পিতার নাম: মৃত মো: ইছহাক আলী সরদার ৩। স্থায়ী ঠিকানা:গ্রাম ও পোষ্ট : ভাড়ুখালী, থানা + জেলা: সাতক্ষীরা। ৪। বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: পলাশপোল, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা। ৫। জন্ম তারিখ: ১৩-১০-১৯৪৩ ইং ৬। শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি,এ পাশ।
সংক্ষিপ্ত জীবনী: মোঃ হাবিবুর রহমান ১৯৪৩ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের ভাড়ুখালি গ্রামের একটি উচ্চবিত্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব জীবন থেকেই তিনি ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী, ডানপিঠে, খেলাধুলা প্রবন ও সরল প্রকৃতির মানুষ। তার পিতা মৃত ইসহাক সরদার ছিলেন সন্মানীয় ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক। তিনি তার ৯ম এবং ছোট সন্তান। তার বড় ভাই মো: আজিজুল হক ভাড়–খালী ডাকঘরের পোষ্টমাষ্টার হিসাবে সুনামের সহিত অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন। তার মেঝ ভাই ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান ইংল্যান্ড থেকে উচ্চতর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করে বাংলাদেশের সরকার নিয়ন্ত্রীত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান হবি ২০১১ সালে ৪টা জুন রাত আনুষ্ঠানিক ১০টার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্কায়ার হাস্পাতালের চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী ও ৩(তিন) সন্তান রেখে যান। প্রথম সন্তান মো: মাহবুবুর রহমান সুমন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে অর্নাস পাশ করে ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন। মেঝ সন্তান মো: মশিউর রহমান হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রী পাশ করে ব্যাবসা এবং রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স ডাইরেক্টর, সাতক্ষীরা রাইচ মিল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এবং সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও সমন্বয় কমিটির সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন। ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে জয়ি হয়ে বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। হাবিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র মো: মিজানুর রহমান রিগ্যান এমবিএ পাশ করে দীর্ঘদিন বিভিন্ন বহুজাতিক তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানীতে চাকরি করেছেন এবং বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি বিগ এম কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর এবং এম আর ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস নামক ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছেন।
জনাব মো: হাবিবুর রহমান (হবি) শৈশবের শুরুটা হয়েছিল ভাড়–খালী প্রাইমারি স্কুল থেকেই। প্রাইমারি পাশ করে এরপর তিনি ঘোনা হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন এবং উচ্চ শিক্ষার লক্ষে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হন এবং ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে পরবর্তীতে খুলনা ল কলেজ থেকে লেখা পড়া শেষ করেন। প্রাইমারি অধ্যয়নরত অবস্থায় ফুটবল খেলার প্রতি তার অত্যান্ত অগ্রহ ছিল। সেসময় সাতক্ষীরাসহো বিভিন্ন অঞ্চলে গোলকিপার হিসাবে তার সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। মুলত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়াশোনা সময় সাধারণত ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি আদায়ের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং সেই থেকে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]১৯৬০ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবী আদায়ের লক্ষে জনাব হাবিবুর রহমান রাজনীতিকে পদার্পণ করেন। ১৯৬৪ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করে ১৯৬৮ সালে খুলনা ‘ল’ কলেজে ভর্তি হন এবং ছাত্র সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা মহাকুমা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ফ্রেন্ডস ড্রামেটিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্লাবের সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও সাতক্ষীরা পানি নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৪ সালে ১৮ দফা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, ১৯৮৫ সালে জেলা জনদলের আহবায়ক, ১৯৮৮ সাল হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন।
সাংসদ সদস্য হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন: ১৯৮৮ সালে পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (দুই) আসন হতে জনগণের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। মাত্র ২ বৎসর ৭ মাসে একজন নতুন সংসদ সদস্য হিসাবে সাতক্ষীরাতে অবহেলিত এলাকায় সামাজিক ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ খুবই দূরহ ব্যাপার। তবুও জনগণের দোওয়ায় ও সহযোগীতায় ঐ সময়ের তার কিছু উন্নয়নমূলক কজের দৃষ্টান্ত আপনাদের সদয় অবগতির জন্য তুলে ধরা হলো
১। দুঃখের সাথে বলতে হয় সাতক্ষীরা পৌরসভার বয়স ১০০ বৎসরের ও বেশী হওয়া সত্তে¡ও পৌরসভা ৩য় শ্রেণীর ধাপে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের এম,পি নির্বাচিত হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে অন্তরভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২। পৌরসভার মধ্যে প্রাণসায়ের খালের উপর ২ টি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ করা এবং কাজ আরম্ভ করেছিলেন। ৩। রেজিষ্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ করা। ৪। সার্কিট হাউজ ও জেলা পরিষদ নির্মাণ। ৫। এন,ডাবলু, ডি চালু করন। ৬। ভোমরা রোডে গাংনিয়া, আলিপুর, কুলপোতা ও পাঁচানী ব্রিজ নির্মাণ। ৭। কাথন্ডা হাটখোলা গ্রোথ সেন্টার স্থান নির্ধারণ, কদমতলা হতে বৈকারী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা। ৮। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে বাঁশদহা, কুশখালি, বৈকারী, ভোমরা ইউনিয়নের কোন বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলনা ১ বছরের মধ্যে ইক্ত ইউনিয়ন গুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা। ৯। নির্বচনী এলাকায় প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, ক্লাবের টিন, চাল, গম ও নগদ টাকা অনুদান প্রদান করেন। ১০। ১৯৯৬ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কর্তৃক সাতক্ষীরা সিটি কলেজ হতে বাঁকাল ব্রিজ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। ১১। কালিগঞ্জ কাকশিয়ালীর নতুন ব্রিজ সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। ১২। কুলিয়া হতে শাখরা বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও শ্রীরামপুরের ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় বহু জনকল্যাণ মূলক কাজের প্রতিনিধিত্ব করে গিয়েছেন এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ মাদ্রাসা,খেলাধুলা বিকাশের জন্য বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠা সহো বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকে সাতক্ষীরা জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতক্ষ্য ও পরক্ষ্য ভাবে সদা নিয়োজিত ছিলেন।
জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান হবি ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১][২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "৪র্থ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ "সাতক্ষীরা-২ আসন, আ'লীগ-বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী"। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৩ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |