হাথিগুম্ফা শিলালিপি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হাতীগুম্ফ শিলালিপি। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংগ্রহ থেকে ১৮৯২ সালে উইলিয়াম হেনরী কর্নিহাতীগুম্ফ শিলালিপিের তোলা ছবি।

হাথিগুম্ফা শিলালিপি ("হাতী গুহা শিলালিপি"), ভারতের ওড়িশা প্রদেশের ভূবনেশ্বর শহরের নিকটবর্তী উদয়গিরি পাহাড়স্থ ১৪ নং গুহা হাথিগুম্ফা হতে প্রাপ্ত একটি প্রাচীন শিলালিপি, যা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকে কলিঙ্গ সম্রাট খারবেল কর্তৃক উত্কৃত।

পাঠোদ্ধারের ইতিহাস[সম্পাদনা]

গুজরাটী পন্ডিত ভগবানলাল ইন্দ্রজী এই শিলালিপির প্রথম পাঠোদ্ধার করেন, কিন্তু তাতে বেশ কিছু সন্দেহের অবকাশ থাকায় ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ এই শিলালিপির পাঠোদ্ধারের জন্য কাশীপ্রসাদ জয়সওয়ালকে অনুরোধ করলে তিনি দুই বছর ধরে এই লিপি পাঠোদ্ধার ও সংস্কার করেন।[১]

লিপির বক্তব্য[সম্পাদনা]

উদয়গিরি পাহাড়ে রাজা খারবেলের হাতীগুম্ফ শিলালিপি

এই লিপি থেকে জানা যায়, যে চেত রাজবংশের কলিঙ্গাধিপতি মহারাজ মহামেঘবাহন খারবেল পনেরো বছর বয়সে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং চব্বিশ বছর বয়সে সিংহাসনলাভ করেন। তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরে তিনি ঝড়ে বিনষ্ট নগর ও প্রাসাদ সংস্কার করেন এবং পঁয়ত্রিশ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রা ব্যয় করে প্রজাদের মঙ্গল সাধন করেছিলেন। দ্বিতীয় বছরে তিনি রাজা সাতকর্ণিকে অগ্রাহ্য করে চতুরঙ্গ সেনা পাঠিয়ে কন্থবেণা নদী পেরিয়ে মুসিকনগর অবরোধ করেন। তৃতীয় বছরে তিনি নৃত্যগীত ও নাট্যাভিনয় প্রভৃতি উপায়ে প্রজাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করেন। চতুর্থ বছরে তিনি ভোজদের পরাস্ত করেন। পঞ্চম বছরে তিনি তিনশ বছর পূর্বে নন্দরাজ কর্তৃক উদ্ঘাটিত পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থাকে তনসুলিয়ের পথে কলিঙ্গ নগরী পর্যন্ত খনন করান। অষ্টম বছরে তিনি গোরথগিরি নামক পাহাড় সহ রাজগৃহ জয় করেছিলেন, যার ফলে মগধরাজ অবরুদ্ধ সেনা পরিত্যাগ করে মথুরায় চলে যান। দশম বছরে তিনি ভারতবর্ষ জয় করতে যাত্রা করেন। একাদশ বছরে তিনি রথযাত্রায় কাঠের তৈরী কেতুভদ্রের মূর্তি বের করেছিলেন। দ্বাদশ বছরে তিনি বৃহস্পতিমিত্র নামক মগধরাজকে পরাজিত করেন। রাজত্বের চতুর্থ বছরের কিছু অংশ, সপ্তম, নবম এবং ত্রয়োদশ হতে সপ্তদশ বছরের বর্ণনা অস্পষ্ট বলে পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবুও কাশীপ্রসাদ জয়সওয়াল কিছু অংশের পাঠোদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর মতে চতুর্দশ বছরে পান্ড্য রাজা, ষোড়শ বছরে মৌর্যকাল বা মৌর্যাব্দ এবং ১৬৪ বছরের উল্লেখ রয়েছে[১], যদিও অধ্যাপক রমাপ্রসাদ চন্দ সহ অনেক ঐতিহাসিক মৌর্যাব্দ এবং ১৬৪ বছরের উল্লেখ সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।[২][৩][৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙ্গালার ইতিহাস, দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা-৭৩, ISBN 978-81-295-0791-4, পৃষ্ঠাঃ ২৮
  2. Journal of the Royal Asiatic Society, 1919, pp. 395-399
  3. Indian Antiquary, Vol. XIVII, 1918, pp.223-224
  4. Indian Antiquary, Vol. XIVIII, 1919, pp.187-191

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

ভূবনেশ্বরের উদয়গিরি পাহাড়ের হাতীগুম্ফ
  • Epigraphia Indica, Vol. XX (1929–30). Delhi: Manager of Publications, 1933.
  • Sadananda Agrawal: Śrī Khāravela, Published by Sri Digambar Jain Samaj, Cuttack, 2000.
  • Kishori Lal Faujdar: Jat Samaj Monthly Magazine, Agra, January/February (2001) page-6.

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]