সুশীতল রায়চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সুশীতল রায়চৌধুরী
জন্ম ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩
ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৩ মার্চ ১৯৭১
জাতিসত্তা বাঙালি
আন্দোলন নকশাল আন্দোলন
ধর্ম হিন্দু

সুশীতল রায়চৌধুরী (৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১৩-১৩ মার্চ ১৯৭১) একজন বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও তাত্ত্বিক নকশাল নেতা। তার আদি বাড়ি ছিলো বাংলাদেশের খুলনাতে

শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯২৭ খৃষ্টাব্দে কলকাতার ন্যাশনাল বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। পরের বছর ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে পড়তে যান।

স্বাধীনতা আন্দোলন[সম্পাদনা]

১৯৩০ এ আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদানের অপরাধে কিছুকাল কারাবাস করেন সুশীতল। মুক্তি পেয়ে কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার জন্য হুগলী জেলার বিভিন্ন গ্রামে দুই বছর কাজ করেছেন। ১৯৩২ এ 'স্টেটসম্যান' পত্রিকার সম্পাদক ওয়াটসনকে হত্যা চেষ্টার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং কারাদণ্ড হয়। জেলে থাকার সময় অর্থনীতিতে অনার্স সহ বি.এ পাশ করেন। এই সময়েই মার্কসবাদ অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ১৯৩৮ সালে জেল থেকে বেরিয়ে যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে।

কমিউনিস্ট পার্টিতে[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর শুরুতে আত্মগোপন করে সংগঠন পরিচালনা করতেন। ১৯৪২ এ পার্টির ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠলে হুগলী জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ। সুতাকল শ্রমিকদের সাথে সংগঠন করেছেন। ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৫২ সালে মুক্তি পান। ১৯৫৬ সালে পার্টির দৈনিক 'স্বাধীনতা' পত্রিকার সহ-সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাত্বিক নেতা হিসেবে রাজ্যস্তরে পরিচিতি ছিল তার। বিভিন্ন পত্রিকায় মার্ক্সীয় তত্ত্ব ও দর্শন নিয়ে বহু প্রবন্ধ রচনা করেন। ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের সময় আবার কারারুদ্ধ হন তিনি। পার্টি দ্বিধাবিভক্ত হলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলে যোগদান। ১৯৬৩ সালে জেল থেকে বেরিয়ে 'দেশহিতৈষী' সাপ্তাহিকের সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে পূনরায় জেলবন্দী হন। ৭ম পার্টি কংগ্রেসে সংসদীয় রাজনীতির পথ পরিহার বিপ্লবী সংগ্রামের পথ গ্রহনের প্রস্তাব রেখেছিলেন পার্টি নেতৃত্বের কাছে, তা অগ্রাহ্য হয়।[১][২]

নকশাল আন্দোলন[সম্পাদনা]

১৯৬৭ এর নকশালবাড়ী কৃষক আন্দোলনকে স্বাগত জানান এবং পার্টির সংস্রব ছেড়ে দেশব্রতী পত্রিকার কার্যভার গ্রহন করেন সুশীতল। নকশালবাড়ী কৃষক সংগ্রাম ও তার ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে তুলে ধরেন। কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের নিয়ে সারা ভারত কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক[১] এবং পরে নবগঠিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী -লেনিনবাদী)র অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পার্টির অন্যান্য নেতৃত্বের সাথে খতম রাজনীতির প্রশ্নে তার মতপার্থক্য হয়।[৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

নকশাল আন্দোলনের এক পর্বে আত্মগোপন করা অবস্থায় ১৩ মার্চ ১৯৭১ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সাতচল্লিশ থেকে সত্তর, দ্বিতীয় খন্ড (২০১০)। ভারতজ্যোতি রায়চৌধুরী। কলকাতা: মুক্তমন। পৃ: ১৪২,১৭৬,১৮৪। 
  2. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃ: ৫৯৮। আইএসবিএন 81-85626-65-0 
  3. শঙ্খ ঘোষ, বিশেষণে সবিশেষ (২০১৬)। কবিতার মূহুর্ত। কলকাতা: অনুষ্টুপ।