কনিয়াম ম্যাকুলেটাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কনিয়াম ম্যাকুলেটাম
Conium.jpg
ক্যালিফোর্নিয়ায় কনিয়াম ম্যাকুলেটাম
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Asterids
বর্গ: Apiales
পরিবার: Apiaceae
উপপরিবার: Apioideae
গণ: Conium
প্রজাতি: maculatum
দ্বিপদী নাম
কনিয়াম ম্যাকুলেটাম
(L., 1753)
প্রতিশব্দ[১]

কনিয়াম ম্যাকুলেটাম (হেমলক বা হেমলক বিষ) হল ইউরোপউত্তর আফ্রিকার স্থানীয় গাজর পরিবার এপিয়াসিয়াইয়ের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত বহুবর্ষজীবী লতাপাতার সপুষ্পক উদ্ভিদ[২]

এর রাসায়নিক সংকেত C8H17N. কোনিইন নিউরোটক্সিন জাতীয় বিষ। এটি আক্রান্ত প্রাণীর দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। কোনিইন মূলত প্রাণীদেহের ‘নিউরো-মাসকুলার জাংশন’-কে ব্লক করে দেয়। যে সব তন্তু স্নায়ুর সাথে পেশীর সংযোগ স্থাপন করে সেগুলোকে নিউরো-মাসকুলার জাংশন বলে। নিউরো-মাসকুলার জাংশন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় স্নায়ুর সাথে পেশীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে, পেশীকোষ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে যেসব পেশী যুক্ত সেগুলোও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় আক্রান্ত প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ায় আক্রান্ত প্রাণী দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

বিবরণ[সম্পাদনা]

হেমলক উদ্ভিদ মানুষসহ অন্য যে কোন প্রাণীর জীবনের জন্য হুমকি। বিশেষ করে তৃণভোজী প্রাণী ও বীজ ভক্ষণকারী পাখিরা হেমলকের বিষে আক্রান্ত হয়ে অনেক সময়ই মারা যায়। হেমলকের ছয় থেকে আটটি পাতায় যে পরিমান বিষ আছে তা কোন মানুষের দেহে প্রবেশ করানো হলে মৃত্যু অনিবার্য! হেমলক বিষে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯ সালে। মহান শিক্ষক ও গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসকে প্রহসনের বিচারে দেয়া হয় মৃত্যুদন্ড! রায়ে বলা হয়, মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে হেমলক বিষ পান করিয়ে।

মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার দিন, সক্রেটিসের হাতে তুলে দেয়া হয় এক পেয়ালা হেমলক বিষ। সক্রেটিসকে বলা হয়, পেয়ালার বিষ পুরোটুকু পান করতে হবে। এক ফোঁটা বিষও যাতে পেয়ালার বাইরে না পড়ে। সক্রেটিস ধীরস্থিরভাবে এক চুমুকে সবটুকু বিষ পান করেন। এবার সক্রেটিসকে নির্দেশ দেয়া হল, রুমের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করার জন্য, যাতে করে বিষ সমস্ত শরীরে ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সক্রেটিস কিছুক্ষণ পায়চারি করলেন। তার পা দুটি অবশ হয়ে আসতে লাগলো। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। সারা দেহ অবশ হয়ে কিছু সময়ের মাঝেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। মানুষের মাঝে থেকে পতন হল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের!

মহান সক্রেটিসকে যে হেমলক বিষ পান করানো হয়েছিল সেটি ছিল হেমলক গাছের রস। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম "Conium maculatum". আইরিশরা এই গাছকে ডাকে Devil’s bread নামে, মানে ‘শয়তানের পাউরুটি’। হেমলক দ্বিবর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ। পাঁচ থেকে আট ফুট লম্বা হয়। ছোট ছোট সাদা রঙ্গের ফুল হয়। ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় জন্মে। নালার কাছে, নদীর ধারে এদেরকে বেশী দেখা যায়। ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড-এ হেমলক বেশি জন্মে। হেমলক গাছ পুরোটাই বিষাক্ত। পাতা, ফুল, ফল, কান্ড, শিকড়- সবটা জুড়েই কোনিইন (Coniine) নামক বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে আছে।

হেমলকের রস পান করে মহান দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যু পৃথিবীব্যাপী হেমলক বিষকে পরিচিত করে তুলেছে। শেক্সপিয়ার তার কিং লেয়ার, হ্যামলেট ও ম্যাকবেথ নাটকে হেমলক বিষের কথা উল্লেখ করেছেন। সারা পৃথিবীজুড়ে অনেক টিভি সিরিয়াল ও সিনেমার কাহিনীতে হেমলক বিষ ব্যবহার করা হয়েছে। কলকাতার পরিচালক শ্রীজিৎ ব্যানার্জি ২০১২ সালে ‘হেমলক সোসাইটি’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন। ইংরেজ কবি জন কিটস তার ‘Ode to a Nightingale’ কবিতায় হেমলকের কথা উল্লেখ করেছেন

ব্যবহার এবং প্রভাব[সম্পাদনা]

সক্রেটিস[সম্পাদনা]

প্রাচীন গ্রীসে, হেমলক বিষ দোষী সাব্যস্ত বন্দীদের জন্য ব্যবহৃত হত। হেমলক বিষক্রিয়ায় সবচেয়ে বিখ্যাত শিকার ছিলেন দার্শনিক সক্রেটিস। ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ধর্মদ্রোহিতার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেবার পর, সক্রেটিসকে হেমলক গাছের একটি নিষিক্তরস দেওয়া হয়। প্লেটো তার ফিডো রচনায় সক্রেটিসের মৃত্যুর বর্ণনা করেছেন এভাবে:[৩]

The man...laid his hands on him and after a while examined his feet and legs, then pinched his foot hard and asked if he felt it. He said "No"; then after that, his thighs; and passing upwards in this way he showed us that he was growing cold and rigid. And then again he touched him and said that when it reached his heart, he would be gone. The chill had now reached the region about the groin, and uncovering his face, which had been covered, he said – and these were his last words – "Crito, we owe a cock to Asclepius. Pay it and do not neglect it." "That," said Crito, "shall be done; but see if you have anything else to say." To this question he made no reply, but after a little while he moved; the attendant uncovered him; his eyes were fixed. And Crito when he saw it, closed his mouth and eyes.[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Plant List, Conium maculatum L.
  2. Altervista Flora Italiana, Cicuta maggiore, Conium maculatum L. includes photos and European distribution map
  3. "Plato, Euthyphro, Apology, Crito, Phaedo"। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৭-০৬ 
  4. Plato, Phaedo 117e–118a। trans. Loeb Classical Library (1990 সংস্করণ)। Cambridge, MA: Harvard University Press। পৃষ্ঠা 401–3। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • "Conium"। USDA Agricultural Research Service – Germplasm Resources Information Network। 
  • "Conium"Flora Europaea। Royal Botanic Garden Edinburgh।