শীনা বরা হত্যাকাণ্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শীনা বরা
জন্ম১১-০২-১৯৮৭ [১]
মৃত্যু২৪ এপ্রিল ২০১২(2012-04-24) (বয়স ২৫)র সম্ভৱ পাচত
মুম্বই
মৃতদেহ আবিস্কারপেন,[২]
বাসস্থানগুয়াহাটিমুম্বই
জাতীয়তাভারতীয়
নিয়োগকারীMumbai Metro One
Reliance Infrastructure
আদি শহরগুয়াহাটি
পিতা-মাতাউপেন্দ্র কুমর বরা আরু দুর্গা রাণী বরা [১]
আত্মীয়মিখাইল বরা , ইন্দ্রানী মুখার্জী পিটার মুকার্জী, বিধি খান্না ,সঞ্জীব খান্না, সিদ্ধার্থ দাস

শীনা বরা হত্যাকাণ্ড ২০১২ সনে ভারতে সংঘটিত কুখ্যাত হত্যাকাণ্ড, যা শীনা বরা নামক মেয়েকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। শীনা মুম্বইস্থিত মুম্বাই মেট্রোওয়ানে কর্মরত কর্মচারী ছিলেন। ২০১২ সনের এপ্রিল মাসে তিনি রহস্যজনক ভাবে নিরুদ্দ্যেশ হন। মুম্বাই পুলিস তাঁর মা ইন্দ্রাণী মুখার্জী,গাড়ি চালক শ্যামবর পিন্তোরামসঞ্জীব খান্নাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করেন। পুনরায় ২০১৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন্দ্রাণী মুখার্জী ও পিটার মুখার্জীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত থাকায় গ্রেফতার করেন[৩] । শ্যামবর ও পিটার হত্যার অভিযোগ স্বীকার করে যদিও ইন্দ্রাণী মুখার্জীর মতে শীনা এখনও জীবিত ও আমেরিকায় বসবাস করছে।

জন্ম[সম্পাদনা]

অসম সরকারের জন্ম-মৃত্যু পঞ্জীয়নের মুখ্য পঞ্জীয়ক দ্বারা জারি করা জন্মের প্রমাণ পত্র ও অসম মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদে জারি করা হাইস্কুল শিক্ষান্ত পরীক্ষার প্রবেশ পত্র মতে শীনা বরার পিতার নাম উপেন্দ্র কুমার বরা ও মাতার নাম দুর্গারানী বরা। জন্মের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৭।[১] শীনা বরার জন্ম প্রকৃতপক্ষে মেঘালয়ের শিলংয়ে ১৯৮৭ সনে ইন্দ্রাণী মুখার্জীর গর্ভে হয়েছিল বলে সিদ্ধার্থ দাস নামের কলকাতার এক ব্যবসায়ী প্রকাশ করেন ও নিজেকে শীনার জন্মদাতা পিতা হিসেবে দাবী করেন। উপেন্দ্র কুমার বরা ও দুর্গারাণী বরা প্রকৃতপক্ষে ইন্দ্রানী মুখার্জীর পিতৃ-মাতৃ, কিন্তু ইন্দ্রানী, শীনাকে নিজের ভগ্নী রূপেই পরিচয় দিতেন।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা মতে শীনার জন্মের সময় তাঁর বর্তমান পিতা হিসেবে দাবী করা অসমের করিমগঞ্জে বাস করা সিদ্ধার্থ দাস বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে পরে কলকাতায় আত্মগোপন অবস্থায় ছিল। সিদ্ধার্থ কলকাতায় থাকা অবস্থায় পুনর্বিবাহ করেন ও তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সিদ্ধার্থ দাসের মতে ইন্দ্রাণীর সহিত তাঁর সামাজিক বিবাহ হয় নাই। কিন্তু তিনি ইন্দ্রানীর পিতৃ গৃহে বসবাস করে উপেন্দ্র কুমার বরার সহিত ব্যবসা করছিল যা অসফল হয়। সিদ্ধার্থ দাসে শীনা ও মিখাইল তাঁর ও ইন্দ্রানীর সন্তান বলে প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধার্থের পলায়ণ ও আত্মোগোপনের পর ইন্দ্রাণী একপক্ষীয় ভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের আইনী হলফনামা জারি করে ৩ বছরের শীনা ও মিখাইলকে উপ্রেন্দ্র কুমার বরার কাছে দিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতায় গমন করেন। শীনা ও মিখাইল তাঁর প্রকৃত পিতামহ-পিতামহীকে নিজ পিতা-মাতার পরিচয় দিয়ে বড় হয়ে উঠে। শুনা যায় যে ইন্দ্রানী সর্বদা শীনা ও মিখাইলের বাল্যকালের ফটো নিজের সঙ্গেই রাখতেন[৪]

পুনঃমিলন[সম্পাদনা]

কিছুকাল পর ইন্দ্রাণী কলকাতার সঞ্জীব খান্না নামক ব্যক্তির সহিত বিবাহ করেন। ১৯৯৩ সনে তাঁদের বিধি নামক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে সঞ্জীব থেকে ইন্দ্রাণীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে ও পিটার নামক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। পিটার ও ইন্দ্রাণীর থেকে কোনও সন্তান জন্মগ্রহণ করে নাই যদিও পিটারের পূর্ববিবাহের রাহুল ও বরীন নামের পুত্র ছিল। শিনা ও তাঁর ভাই মিখাইল বড় হওয়ার পর মাতৃ ইন্দ্রাণীর সহিত সম্পর্ক স্থাপন করে যদিও ইন্দ্রাণী অজ্ঞাত কারণ অথবা সামাজিক বাধার জন্য দুইজনকে আসল সম্পর্ক গোপন করে ইন্দ্রানীর ভাই-বোন হিসেবে সরকারী স্বীকৃত পরিচয় দেওয়ার জন্য বলেছিল। শীনার জন্য ইন্দ্রাণী মুম্বাইয়ে পড়া-শুনা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। কালক্রমে পিটারের পুত্র রাহুলের সহিত শীনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে যা ইন্দ্রাণী মোটেও পছন্দ করিত না। কারণ এই সম্পর্ক ভারতীয় সামাজিক ও ধর্মীয় পরম্পরায় অবৈধ।

শীনার নিরুদ্দ্যেশ ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

২৪ এপ্রিল ২০১২ তারিখে শীনা কার্যালয় থেকে ছুটির জন্য আবেদন করেন। ছুটি চলাকালীন সময়ে তিনি কার্য্যালয়ে পদত্যাগ পত্র প্রেরণ করেন। উক্তদিনেই তিনি রাহুলের মোবাইলে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে শেষ এস.এম.এস প্রেরণ করেন [৫] । সেই দিন থেকেই শীনার কোনও খবর পাওয়া যায় নাই। সাম্প্রতিক ভাবে তাঁকে কেউ হত্যা করেছে বলে তদন্ত চলছে। গত ১৮-০৯-২০১৫ তারিখে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার এই তদন্তের ভার সি.বি.আই কে অর্পণ করে ঘোষণা করে জানান যে রাজ্য সরকার আরক্ষীর কোন কার্যবাহী কর্মচারী এই তদন্তে জড়িত থাকবেনা[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]