শরীর গঠন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
Lukáš Osladil.jpg

দেহ গঠন বা বডিবিল্ডিং (ইংরেজি: Bodybuilding) মানবদেহের একধরনের পেশী-উন্নয়ন ও পেশী রূপান্তরের অনুশীলন। এ অনুশীলন চর্চায় পূর্ব নির্ধারিত ভারোত্তোলন কর্মকাণ্ড ও নির্দিষ্ট জটিল ধরনের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের ফলে ব্যাপকভাবে মানবদেহের মাংসপেশীতে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।[১] এরফলে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যরক্ষা ও শারীরিক যোগ্যতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালিত হয়। এ ধরনের শারীরিক ব্যায়াম চর্চায় জিমন্যাসটিক্সে ব্যবহৃত বারবেল, ডামবেল ও স্থিরতাসূচক অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরফলে সেরা ফলাফলে প্রভাব পড়ে।

যিনি বডিবিল্ডিং বিষয়ে অনুশীলন করেন বা সংযুক্ত থাকেন, তিনি বডিবিল্ডার নামে পরিচিতি পেয়ে থাকেন। গ্রীক পৌরাণিকিতে বর্ণিত সর্বকালের সেরা বীর হেরাক্লেস পেশীশক্তির প্রতীকিরূপ হয়ে আছেন। আধুনিক বডিবিল্ডারদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণাকারী পূর্ব-পুরুষ হিসেবে পরিচিত। জার্মান বংশোদ্ভূত ইউজেন স্যান্ডোকে 'আধুনিক বডিবিল্ডিংয়ের জনক' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন গ্রিক ও মিশরে পাথর উত্তোলনে পারদর্শীতার মাধ্যমে বডিবিল্ডিংয়ে উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সমাজে এর প্রচলন ও বিস্তার ঘটতে শুরু করে। ১৮৮০ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে পাশ্চাত্যে ভারোত্তোলনের ব্যাপক অনুশীলন শুরু হয়। ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে আধুনিক বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতার প্রচলন ঘটে ইউরোপীয় শক্তিধর ব্যক্তিদের থিয়েটার ও সার্কাসে তাদের বাহুবল প্রদর্শন কলার মাধ্যমে। দর্শকদের সম্মুখে শক্তিশালী ব্যক্তিরা তাদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতেন ও একে-অপরকে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে আহ্বান করতেন। তবে শারীরিক গঠনকলার বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হতো না এবং প্রায়শই তাদের বড় ধরনের পেট ও মেদবহুল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপস্থিতি ছিল।

বডিবিল্ডারগণ তাদের শরীরের যত্ন নেন ও মাংসপেশী ফোলার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেন ও প্রতিযোগিতায় বিভিন্নভাবে দেহের ভাব-ভঙ্গী দর্শকদের সম্মুখে তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে বডিবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে মাংসপেশী স্ফীত হয় ও সৌন্দর্যকলার বিকাশ ঘটায়। বিচারকমণ্ডলী তাদের ক্রীড়াশৈলীকে পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি বডিবিল্ডিংকে তাদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তারা নিজস্ব শক্তি বা ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। কেবলমাত্র তাদের দেহের মাংসপেশী খালি গায়ে প্রদর্শন করেন। সেরা মাংসপেশীর অধিকারী ও দেহভঙ্গীমা প্রদর্শনকারী বডিবিল্ডার প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও জনপ্রিয় বডিবিল্ডারদের মধ্যে রয়েছেন - অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চলচ্চিত্র তারকা ও রাজনীতিবিদ আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, চার্লস এটলাস, জন গ্রিমেক, স্টিভ রিভস প্রমূখ।[২]

প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে ইংল্যান্ডে বডিবিল্ডিংয়ের প্রচলন ঘটতে শুরু করে। আধুনিক বডিবিল্ডিংয়ের জনক ও জার্মান বংশোদ্ভূত ইউজেন স্যান্ডো এ ক্রীড়াবিকাশে প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি দর্শকদেরকে তার শারীরিক গঠন ও পেশী প্রদর্শনে পারদর্শিতার মাধ্যমে দর্শকদেরকে মুগ্ধ করেন। এরপর তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯০১ তারিখে লন্ডনের রয়্যাল আলর্বাট হলে প্রথমবারের মতো বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন যা সেরা প্রতিযোগিতা নামে পরিচিতি পায়। স্যার চার্লস লয়েসস্যার আর্থান কোনান ডোয়েলকে সাথে নিয়ে স্বয়ং বিচারক থেকে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।[৩] ব্যাপক দর্শক সমাগমের ফলে বডিবিল্ডিংয়ে আগ্রহী অনেক ব্যক্তিকে বিমুখচিত্তে ফেরত যেতে হয়।[৪] ফ্রেদেরিক পোমরয় অঙ্কিত ব্রোঞ্জের স্যান্ডোর ভাস্কর্যের ট্রফিটি ইংল্যান্ডের উইলিয়াম এল মুরেকে বিজয়ী হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।

প্রথম আমেরিকান শারীরিক কলার প্রতিযোগিতা বার্নার ম্যাকফাদেনের পরিচালনায় ১৯০৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে শুরু হয়। আল ট্রিলোর ঐ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা সঠিক ও উন্নত মানব হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯২১ ও ১৯২২ সালে ম্যাকফাদেন একই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। উভয় প্রতিযোগিতাতেই চার্লস এটলাস বিজয়ী হন। কিন্তু মিস্টার আমেরিকা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পূর্বে খুবই কমসংখ্যক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন (এএইউ) কর্তৃক মিস্টার আমেরিকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪০-৪১ সালে জন গ্রিমেক ও ১৯৪৭ সালে স্টিভ রিভস মি. আমেরিকা বিজয়ী হলে ঐ যুগের বডিবিল্ডারদের কাছে আদর্শস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান ও নব উদ্দীপনা যোগান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ক্রীড়াটি দ্রুত পরিচিত পায়। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকের সময় থেকে ১৯৬০-এর দশকে অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন কর্তৃক পরিচালিত মি. আমেরিকা প্রতিযোগিতা জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করে।

বর্তমানে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাশীল বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতা হচ্ছে মিস্টার অলিম্পিয়া। এ প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে ১৯৬৮ সাল ব্রোঞ্জের তৈরী স্যান্ডোর আবক্ষ মূর্তির ট্রফি প্রদান করা হয় যা স্যান্ডো প্রথম প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বডিবিল্ডারকে প্রদান করেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]