লেখার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অক্ষর ও অন্যান্য চিহ্নের সাহায্যে ভাষাকে প্রকাশ করার পদ্ধতির বিকাশ এবং এই বিকাশের আলোচনা ও বিবরণ লেখার ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত।

বিভিন্ন সভ্যতায় চিহ্নের সাহায্যে ভাষাকে প্রকাশ করার পদ্ধতি কিভাবে বিকশিত হয়েছে তার ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, অধিক বিকশিত লিখনপদ্ধতির পূর্বে প্রোটো-লিখনপদ্ধতির বিকাশ হয়। প্রোটো-লিখনপদ্ধতিতে ছবির সাহায্যে (ধারকলিপি) কিংবা নেমনিকের সাহায্যে ভাষাকে প্রকাশ করা হয়। সত্যিকারের লিখনপদ্ধতির বিকাশ আরো পরে হয়েছিল, যেখানে উচ্চারিত শব্দকে চিহ্নের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, যাতে পাঠক উচ্চারিত শব্দ অনেকখানি পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এটি  প্রোটো-লিখনপদ্ধতি থেকে আলাদা, যাতে সাধারণত ব্যাকরণগত শব্দ এবং প্রত্যয় অনুপস্থিত থাকে। ফলে এথেকে সঠিক অর্থ পুনরুদ্ধার করা কঠিন যদি না কি প্রসঙ্গে  লিখা হয়েছিল সে ব্যাপারে আগে থেকে অনেক জানা না থাকে।একেবারে প্রথম দিককার একটি লিখনপদ্ধতি কীলকাকার লিপি.[১]

লিখনপদ্ধতির উদ্ভাবন [সম্পাদনা]

সুমের, দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার একটি প্রাচীণ সভ্যতা। এখানে ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে প্রথম লিখিত ভাষার উদভব হয়েছিল  বলে বিশ্বাস করা হয়।
চিত্রলিপি সমৃদ্ধ সুমেরীয় সভ্যতার  কিশ ট্যাবলেট। সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীণ লিখন, ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। আশমোলিয়ান যাদুঘর

ভাষার লিখনের বহু পূর্বে সংখ্যার লিখনের সূচনা হয়। কিভাবে সংখ্যার লিখনের সূচনা হয় তার জন্য  সংখ্যা লিখার ইতিহাস  দেখুন।

এই ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে যে ভাষার (শুধু সংখ্যা নয়) সত্যিকারের লিখনপদ্ধতির উদভাবন স্বাধীনভাবে অন্তত দুই জায়গায় ঘটেছিল: মেসোপটেমিয়াতে (প্রাচীণ সুমের) ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে এবং মেসোয়ামেরিকাতে ৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে। বেশ কয়েকটি মেসোয়ামেরিকান লিপি জানা আছে, এর মাঝে সবচেয়ে প্রাচীণ হল মেক্সিকোর ওলমেক অথবা  জাপোতেক । 

প্রাচীণ মিশরে (৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে) এবং চীনে (১২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে) স্বাধীনভাবে লিখনপদ্ধতির উদভব হয়ছিল নাকি সাংস্কৃতিক বিস্তারের মাধ্যমে লিখনপদ্ধতির উদভব হয়েছিল এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। অন্য কথায় লিখনির মাধ্যমে ভাষাকে প্রকাশ করার ধারণা  কি বণিকদের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলে পৌছেছিল নাকি এই ধারণা স্বাধীনভাবে এই অঞ্চলে উদভব হয়েছিল? 

তবে চীনা লিপি  সম্ভবত স্বাধীণভাবে উদভাবিত হয়েছিল, কারণ চীন এবং নিকট প্রাচ্যের (মেসোপটেমিয়া) লিপি ব্যবহারকারী সভ্যতাগুলোর মাঝে যোগাযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না এবং চিত্রলিপির ব্যবহার ও ধ্বনির প্রকাশের ক্ষেত্রে চীনা ও মেসোপটেমিয় পদ্ধতির মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। মিশরীয় চিত্রলিপি  মেসোপটেমীয় কীলকলিপির থেকে ভিন্ন, কিন্তু ধারণাগত সাদৃশ্য প্রাচীণ সাক্ষ্য থেকে অনুমান করা যায় যে লিখনপদ্ধতি মেসোপটেমিয়া থেকে মিশরে এসেছিল। ১৯৯৯ সালে  Archaeology Magazine এ রিপোর্ট করা হয়েছিল যে সর্বপ্রথম মিশরীয় লিপির সময়কাল ৩৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ, এটি "এই সাধারণ বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যে সর্বপ্রথম মেসোপটেমিয়ায় চিত্রলিপি (যেখানে একটি জায়গা, বস্তু অথবা পরিমাণকে একটি চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়) থেকে ধ্বনিলিপির (যেখানে একেকটি ধ্বনিকে একেকটি চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়) বিকাশ সাধন হয়"।[২]

অনুরূপ বিতর্ক ব্রোঞ্জ যুগের সিন্ধু সভ্যতার (প্রাচীন ভারত ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) সিন্ধু লিপিকে ঘিরেও রয়েছে। উপরন্তু, সিন্ধু লিপির পাঠোদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি এবং এটি সত্যিকারের লিখনপদ্ধতি  নাকি প্রোটো-লিখনপদ্ধতি অথবা অ-ভাষাগত চিহ্নপদ্ধতি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

আরেকটি সম্ভাবনা হল ইস্টার দ্বীপের  রোঙ্গোরোঙ্গো স্ক্রিপ্ট । এটি সত্যিকারের লিখনপদ্ধতি কিনা এবং এটি সাংস্কৃতিক বিস্তারের আরেকটি উদাহরণ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এর প্রাচীনতম উদাহরণ পাওয়া যায় ১৮৫১ সালে, ইউরোপীয়দের সাথে তাদের প্রথম যোগাযোগের ১৩৯ বছর পরে। এর এক ব্যাখ্যা এই যে, ১৭৭০ সালে একটি স্পেনিশ অভিযাত্রী দলের দেওয়া একটি লিখিত দখলদারীর ঘোষণা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই লিপির উদভব হয়েছে। [৩]

সাংস্কৃতিক বিস্তারের আরো অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে লিখনপদ্ধতির সাধারণ ধারণা এক সংস্কৃতি থেকে আরেক সংস্কৃতিতে যায় কিন্তু লিখনপদ্ধতির খুটিনাটি স্বাধীনভাবে বিকাশ লাভ করে। এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হল চেরোকি লিপি, যার উদভাবক সেকোয়াহ, এবং পাওয়াহ মং লিখনপদ্ধতি যা মং ভাষা লিখার জন্য ব্যবহৃত হয়।

মন্তব্য[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতির[সম্পাদনা]

  1. Empires of the Plain: Henry Rawlinson and the Lost Languages of Babylon, New York, St. Martin's Press (2003) ISBN 0-312-33002-2
  2. Mitchell, Larkin। "Earliest Egyptian Glyphs"Archaeology। Archaeological Institute of America। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. Jared Diamond, Guns, Germs and Steel, page 231