লি আরভিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লি আরভিন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্রায়ান লি আরভিন
জন্ম৯ মার্চ, ১৯৪৪
ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩৩)
২২ জানুয়ারি ১৯৭০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৫ মার্চ ১৯৭০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৫৭
রানের সংখ্যা ৩৫৩ ৯৯১৯
ব্যাটিং গড় ৫০.৪২ ৪০.৪৮
১০০/৫০ ১/২ ২১/৪৬
সর্বোচ্চ রান ১০২ ১৯৩
বল করেছে ২২৮
উইকেট
বোলিং গড় ১৪২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৩৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ২৪০/৭
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ এপ্রিল ২০২০

ব্রায়ান লি আরভিন (ইংরেজি: Lee Irvine; জন্ম: ৯ মার্চ, ১৯৪৪) ডারবান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল ও ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন লি আরভিন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত লি আরভিনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। নাটালের বেসবল খেলোয়াড়ের সন্তান তিনি। এসেক্সে প্রথম মৌসুমেই ২৬টি ছক্কার মার মেরেছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি তার স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করছিলেন।

আক্রমণধর্মী বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটিসম্যান হিসেবে লি আরভিনের সুনাম ছিল। নিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন ও মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলারের ভূমিকায় তাকে অবতীর্ণ হতে দেখা যেতো। ১৮ বছর বয়সে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্সের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর একটি খেলায় অংশ নেন ও ১৯ বছর বয়সে ঐ খেলাটি সম্পন্ন হয়েছিল।তবে, ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নাটাল দলের পক্ষে খেলার পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাকে নিয়মিতভাবে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

দুই মৌসুমে নিচুমানের ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনের পর ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে বৈপ্লবিক উত্তরণ ঘটান লি আরভিন। নিজস্ব প্রথম দুইটি শতরানের ইনিংসসহ ৫০৪ রান তুলতে সক্ষম হন। ১৯৬৮ সালে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে এসেক্সের পক্ষে চুক্তিবদ্ধকালে তার অপরিসীম গুণাবলীর বিষয়টি অজানা ছিল।[১] প্রথম মৌসুমে বিদেশী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে নিবন্ধিত হবার জন্যে অপেক্ষা করতে হয়।

কাউন্টি ক্রিকেটে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। এসেক্সের পক্ষে প্রথম মৌসুমে ১,৪৩৯ রান সংগ্রহ করেন। তবে, তিনি কোন সেঞ্চুরির সন্ধান পাননি। দ্রুতগতিতে রান তুলে গেছেন ও অনেকগুলো ছক্কা হাঁকিয়েছেন। উইজডেনের ১৯৬৯ সালের সংস্করণে উল্লেখ করা হয় যে, খুব কমই কোন খেলায় কমপক্ষে একটি ছক্কাবিহীন অবস্থায় থেকেছেন। সর্বোপরি, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অন্য যে-কোন বোলারের চেয়ে অধিক ছক্কা মেরেছেন।[২] প্রথম মৌসুমেই তিনি কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন।

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া ক্রিকেটে নাটালের পক্ষে খেলেন। ইংরেজ ক্রিকেটের ন্যায় একই মানের খেলা উপহার দেন তিনি। প্রচুর রান সংগ্রহ করলেও কোন সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ১৯৬৯ সালে এসেক্সে ফিরে যান। ব্যাটিং গড়ের উত্তরণ ঘটতে থাকে। তাসত্ত্বেও, উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যাট হাতে তিনি খামখেয়ালিপনার পরিচয় দিয়েছেন।[৩] অবশেষে মৌসুমের শেষ দিকে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন লি আরভিন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ট্রান্সভালে স্থানান্তরিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যাটিং গড়, রান সংগ্রহ ধারা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও, দলে নিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষণের দিকে অগ্রসর হতেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন লি আরভিন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ২২ জানুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে কেপ টাউনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। বর্ণবৈষম্যবাদের কারণে এ সিরিজটিই দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ ছিল।[১] দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে লি আরভিনকে কেবলমাত্র চারটি টেস্টে অংশ নিতে হয়েছিল। তবে, ২২ বছরের মধ্যে শেষ সিরিজ হিসেবে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমের ঐ চার টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিক দল ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবৈষম্যবাদের পূর্বেকার শেষ টেস্ট খেলাগুলোয় অংশ নেয়। সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে চার টেস্টের সবকটিতেই ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। প্রথম দুই টেস্টে ছয় নম্বরে ও জোহেন্সবার্গের তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের সংগৃহীত ১১৭ রানের মধ্যে তিনি করেন ৭৯। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুতলয়ে ৭৩ রান তুলে স্বাগতিক দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। চূড়ান্ত খেলায় নিজস্ব ২৬তম জন্মদিনে ৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান তুলেন।[১] এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ এগিয়ে যায় ও অস্ট্রেলিয়া খেলার বাইরে চলে যায়। চার খেলার ঐ সিরিজে ৩৫৩ রান তুলেন। টেস্ট গড়ও ৫০-এর অধিক হয়।[৪]

অবসর[সম্পাদনা]

এরপর লি আরভিনকে আর টেস্ট খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। ১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ইংল্যান্ড গমন করার কথা ছিল। কিন্তু ঐ সফরটি বাতিল হয়ে যায়। দলের অন্য খেলোয়াড় - ব্যারি রিচার্ডসমাইক প্রোক্টরকে ইংরেজ কাউন্টি দলে খেলার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে যান। তবে, লি আরভিন আর এসেক্স দলে খেলেননি। পরবর্তী সাত মৌসুম ট্রান্সভালের পক্ষে নিয়মিতভাবে অংশ নিতেন। এ পর্যায়ে অনেক রান তুলেছেন ও প্রথম পাঁচ বছর দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষণের কাজে সম্পৃক্ত থাকতেন।

১৯৭৪-৭৫ ও ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ট্রান্সভাল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sachin 1 Shane 0"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৮ 
  2. "Essex in 1968"। Wisden Cricketers' Almanack (1969 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 366 
  3. "Essex in 1969"। Wisden Cricketers' Almanack (1970 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 374 
  4. "Australians in South Africa, 1970"। Wisden Cricketers' Almanack (1971 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 884–903। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]