লা ভি অঁ রোজ (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
লা ভি অঁ রোজ
লা ভি অঁ রোজ (চলচ্চিত্র).jpg
La Vie en rose
পরিচালক অলিভিয়ে দাহান
প্রযোজক অ্যালাইন গোল্ডম্যান
রচয়িতা
  • ইসাবেল সোবেলমান
  • অলিভিয়ে দাহান
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকার ক্রিস্টোফার গানিং
চিত্রগ্রাহক তেতসু নাগাতা
সম্পাদক রিচার্ড মারিজি
প্রযোজনা
কোম্পানি
লিজেন্দে
পরিবেশক পিকচারহাউজ (যুক্তরাষ্ট্র)
মুক্তি
  • ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ (২০০৭-০২-০৮) (বার্লিনেল)
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ (২০০৭-০২-১৪) (ফ্রান্স)
  • ৬ জুন ২০০৭ (২০০৭-০৬-০৬) (যুক্তরাষ্ট্র)
দৈর্ঘ্য ১৪০ মিনিট[১]
দেশ ফ্রান্স
যুক্তরাজ্য
চেক প্রজাতন্ত্র[২]
ভাষা ফরাসি
নির্মাণব্যয় $২৫ মিলিয়ন
আয় $৮৬.৩ মিলিয়ন

লা ভি অঁ রোজ[ক] (ফরাসি উচ্চারণ: ​[la vi ɑ̃ ʁoz]; আক্ষরিক অনুবাদ: পাটকিলে জীবন; অন্য নাম: ফরাসি: La Môme[খ]) হল ফরাসি গায়িকা এদিত পিয়াফের জীবনীনির্ভর ফরাসি সঙ্গীতধর্মী নাট্য চলচ্চিত্র। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন অলিভিয়ার দাহান। এতে পিয়াফের ভূমিকায় অভিনয় করেন মারিয়োঁ কোতিয়ার

কোতিয়ার এই চলচ্চিত্রের অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার জয় লাভ করেন, যা ফরাসি ভাষার চলচ্চিত্রের ভূমিকার জন্য প্রদত্ত প্রথম অভিনয়ের পুরস্কার। এছাড়া তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য বাফটা পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, এবং সিজার পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ রূপসজ্জার জন্য একাডেমি পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ রূপসজ্জা, পোশাক পরিকল্পনা এবং সঙ্গীতের জন্য বাফটা পুরস্কার এবং পাঁচটি বিভাগে সিজার পুরস্কার জয় লাভ করে।

কুশীলব[সম্পাদনা]

  • মারিয়োঁ কোতিয়ার - এদিত পিয়াফ
  • জেরার দেপার্দিও - লুই লেপ্‌লি
  • সিলভি তেস্তুদ - মোমোন
  • জঁ-পিয়ের মার্তিন্স - মার্সেল কার্দান
  • এমানুয়েল সেইনার - তিতিন
  • পাসকেল গ্রেগরি - লুই বারিয়ে
  • কাথরিন আলিগ্রেত - লুইস গাসিওন
  • জঁ-পল রোভ - লুই গাসিওন
  • ক্লোতিলদে কোরো - আনেতা গাসিওন
  • মারি-আর্মেল দেগাই - মার্গারিত মনত
  • মার্ক বার্বে - রেমন্দ আসো
  • কারোনিল রেনো - জিনো
  • দেনিস মেনোচেত - অর্লির সাংবাদিক
  • পাভলিনা নেমকোভা - মার্কিন সাংবাদিক
  • হ্যারি হ্যাডেন - ডগ ডেভিস
  • কারোলিন সিহল - মার্লিন দিয়েত্রিচ
  • পলিন বুর্লেত - কিশোরী এদিথ পিয়াফ

নির্মাণ[সম্পাদনা]

পরিচালক অলিভিয়ার দাহান এই চলচ্চিত্রে ফরাসি গায়িকা এদিত পিয়াফের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য কোতিয়ারকে নির্বাচন করেন। কোতিয়ারের সাথে তখনও তার সাক্ষাৎ হয় ন। তিনি পিয়াফ ও কোতিয়ারের চোখের মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পান।[৩] প্রযোজক অ্যালাইন গোল্ডম্যান এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাকে সমর্থন দেন, যদিও পরিবেশক টিএফএম কোতিয়ার লাভজনক অভিনেত্রী ছিল না বলে অর্থ লগ্নি কমিয়ে দেয়।[৪]

সঙ্গীত[সম্পাদনা]

লা ভি অঁ রোজ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ক্রিস্টোফার গানিং

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

বক্স অফিস[সম্পাদনা]

ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী ৮৬,২৭৪,৭৯৩ মার্কিন ডলার আয় করে, যার ১০,৩০১,৭০৬ আসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এবং ৭৫,৯৭৩,০৮৭ আসে অন্যান্য দেশ থেকে।[৫] ফ্রাঙ্কোফোন দেশসমূহে, অর্থাৎ ফ্রান্স, আলজেরিয়া, মোনাকো, মরক্কো ও তিউনেশিয়ায় ছবিটি মোট ৪২,৬৫১,৩৩৪ মার্কিন ডলার আয় করে।[৬]

চলচ্চিত্রটি ১৯৮০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ফরাসি ভাষার চলচ্চিত্র। অ্যামেলি (২০০১) ও লে পাক্তে দে লোপ্স (২০০১) এর পরেই এই ছবির অবস্থান।[৭]

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে। পর্যালোচনা ভিত্তিক ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোস-এ ১৪৯টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ছবিটির রেটিং ৭৪%। কোতিয়ার তার অভিনয়ের জন্য বিপুল প্রশংসা লাভ করেন এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সমালোচক এ. ও. স্কট চলচ্চিত্রটি পছন্দ করেন নি, কিন্তু কোতিয়ারের প্রশংসা করে বলেন, "কোতিয়ার তার চরিত্রের জন্য যে দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠুরতা নিয়ে এসেছেন তার প্রশংসা না করে উপায় নেই।"[৮] লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এর কারিনো চোকানো বলেন, "মারিয়োঁ কোতিয়ার একজন অশান্ত গায়িকা চরিত্রে আশ্চর্য রকমের অভিনয় করেছেন" এবং আরিজোনা রিপাবলিক-এর রিচার্ড নিলসেন আরও একধাপ এগিয়ে ছিলেন এবং বলেন, "ভোটিংয়ের প্রয়োজন নেই। মারিয়োঁ কোতিয়ারকে অস্কার দিয়ে দেন। লা ভি অঁ রোজ এ এদিত পিয়াফ চরিত্রে তার অভিনয় ছিল খুবই বিস্ময়কর, যা আমি কয়েক বছরের মধ্যে দেখি নি।"[৯]

দ্য গার্ডিয়ান-এর সমালোচক মার্ক কেরমোড কম উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং মনে করেন প্রশংসা করার যেমন অনেক কিছু আছে, তেমনি এতে সমালোচনার দিকও রয়েছে। কেরমোড ছবিটির পাণ্ডুলিপিতে বুদ্ধিদীপ্ত অনুপ্রেরণা ছিল এবং কোতিয়ার "কামিকাজ-স্টাইল"-এ তার ভূমিকা পালন করেন বলে একমত হন, কিন্তু ছবিটির কাঠামো ও বর্ণনাশৈলীর দুর্বলতা খুঁজে পান।[১০]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

একাডেমি পুরস্কার
গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার
বাফটা পুরস্কার
বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার
সেজার পুরস্কার
  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী - মারিয়োঁ কোতিয়ার
  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ - তেতসু নাগাতা
  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ নির্মাণ পরিকল্পনা - অলিভিয়ে রায়োঁ
  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিকল্পনা - মারিত আলেন
  • বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রহণ - লরেন্ত জেলিগ, পাসকেল ভিলার, জঁ-পল হুরিয়ে ও মার্ক দোইস্নে
স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. এই নামের ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া:বাংলা ভাষায় ফরাসি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণ-এ ব্যাখ্যাকৃত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
  2. লা মোম হল পিয়াফের ডাকনাম। "লা মোম পিয়াফ" অর্থ হল ছোট চড়ুই।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "LA MOME - LA VIE EN ROSE (12A)"Icon Film Distribution (ইংরেজি ভাষায়)। ব্রিটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন। ২৭ মার্চ ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. "LA MOME - LA VIE EN ROSE" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. "Piaf star Cotillard's career blooms with Oscar nom for 'La Vie En Rose'" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য কানাডিয়ান প্রেস। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  4. Secher, Benjamin (১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Everything's coming up roses" (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন: দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  5. "La Vie en rose (2007)" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস মোজো। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  6. "La Vie en rose (2007) – International Box Office Results" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস মোজো। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  7. "Foreign Language, 1980-Present" (ইংরেজি ভাষায়)। বক্স অফিস মোজো। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  8. Scott, A. O. (৮ জুন ২০০৭)। "La Vie en rose: A French Songbird's Life, in Chronological Disorder"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  9. "La Vie en Rose – Rotten Tomatoes" (ইংরেজি ভাষায়)। রটেন টম্যাটোস। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  10. Kermode, Mark (২৪ জুন ২০০৭)। "La Vie en Rose"দ্য গার্ডিয়ান (ইংরেজি ভাষায়)। লন্ডন। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]