রে মালি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রে মালি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি
অফিসে
২০০৭ – ২০০৮
পূর্বসূরী পার্সি সন
উত্তরসূরী ডেভিড মর্গ্যান
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৩৭-০৪-০৯) ৯ এপ্রিল ১৯৩৭ (বয়স ৮০)
পূর্ব কেপ, দক্ষিণ আফ্রিকা

রেমন্ড রিমেম্বার মালি (ইংরেজি: Ray Mali; জন্ম: ৯ এপ্রিল, ১৯৩৭) পূর্বে কেপে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রীড়াসংগঠক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন রে মালি। ২০০৭ সালে পূর্ববর্তী সভাপতি পার্সি সনের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে শূন্য পদ পূরণকল্পে তাঁকে আইসিসি সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্বে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর ডেভিড মর্গ্যান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ২০০৩ সাল থেকে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। একসময় সিস্কেই হোমল্যান্ডের মন্ত্রী ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

পোর্ট এলিজাবেথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপণ করেন। অ্যালাইসের লাভডেল কলেজে ম্যাট্রিক পরীক্ষা সমাপান্তে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে ডিপ্লোমা লাভ করেন। বিদ্যালয় জীবন থেকেই খেলাধূলার সঙ্গে আজীবন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। লাভডেল কলেজে থাকাকালীন রাগবি ইউনিয়ন ও ক্রিকেট দলের প্রথম একাদশে অধিনায়কত্ব করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রাগবিতে প্রথম পঞ্চদশে আট নম্বর অবস্থানে খেলতেন। ১৯৬০ সালে বর্ডার প্রাদেশিক দলে খেলার জন্য মনোনীত হন। কিন্তু ১৯৬২ সালে কাঁধে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্তি ঘটায় তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নেন। ইস্টার্ন কেপের কামা হাই স্কুল, সিসেকো সেকেন্ডারী স্কুল ও ক্রাডক হাই স্কুলে কাজ করেন। মালি তাঁর প্রশাসনিক কাজ-কর্মে নিজের প্রতিভা মেলে ধরতে সক্ষম হন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পোর্ট এলিজাবেথের ফোর্ট বিউফোর্ট ক্রিকেট ক্লাবের সচিব হিসেবে দায়িত্বভার পালন করেন। ১৯৭০ সালে ইপি আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করলে নিজ দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ব্যাপকভাবে সংযুক্ত থাকেন। ১৯৯৪ সালে জিম্বাবুয়েতে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সফরে ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৯৭ সালে হংকংয়ে সিক্স-এ-সাইড প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নিয়ে সফর করেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ও ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ইস্টার্ন প্রভিন্স ক্রিকেট বোর্ড ও বর্ডার ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০০০ সালে বর্ডার ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মনোনীত হন। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনাইটেড ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য হন। এ সময়ে ট্রান্সফর্মেশন কমিটি ও ডেভেলপম্যান্ট কমিটিরও দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৩ সালে ইউসিবি’র সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২৭ মে নিকটতম বন্ধু ও প্রয়াত পার্সি সনের কাছ থেকে এ দায়িত্বভার পান তিনি।

আইসিসি সভাপতি[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে আইসিসি সভাপতির দায়িত্ব লাভের পর থেকে নিজেকে প্রতিভাবান ও আদর্শ প্রশাসক হিসেবে তুলে ধরার আপ্রাণ প্রয়াস চালান। ক্রিকেট খেলায় নিবেদিত প্রাণ হিসেবে তুলে ধরেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট প্রশাসনে অবস্থানকালীন আধুনিকায়ণের চেষ্টা চালান। ক্রিকেট পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সভার পুণর্গঠনে অগ্রসর হন ও মান্দাতা আমলের প্রাদেশিক অবকাঠামোতে পরিবর্তন এনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ব্যবস্থার প্রচলন ঘটান। টুয়েন্টি২০ ক্রিকেট প্রচলনেও শক্ত ভূমিকা নেন ও দর্শকদেরকে মাঠে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁরই সক্রিয় সমর্থনে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসর ১১-২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাচীন সংস্কারের বাঁধা ডিঙ্গিযে ও সমতায়ণ ঘটিয়ে খেলাকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগতভাবে বিবাহিত রে মালি ‘পেগি’ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। তাঁদের সংসারে সাত সন্তান রয়েছে। মাতৃভাষা জোসা হলেও তিনি ইংরেজি ও আফ্রিকান ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী।

আইসিসির একটি সূত্র জানায়, তাঁকে পিয়ানোর ন্যায় খুব সহজেই বাজানো যেতো। বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে দূর্বল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম সভাপতি তিনি, যা এক খামারীর হাতে পড়েছে। পিটার রোবাক তাঁকে সমঝোতাপূর্ণ ও অবিশ্বস্ত সভাপতি হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
পার্সি সন
আইসিসি সভাপতি
২০০৭-২০০৮
উত্তরসূরী
ডেভিড মর্গ্যান