রামা গোবিন্দরাজন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রামা গোবিন্দরাজন
বাসস্থানবেঙ্গালুরু
নাগরিকত্বভারতীয়
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রতরল গতিবিদ্যা
প্রতিষ্ঠানইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্স
প্রাক্তন ছাত্রভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান দিল্লি
ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়
ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থা
পিএইচডি উপদেষ্টারোদ্দাম নরসিংহ
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শান্তি স্বরূপ ভটনগর পুরস্কার(২০০৭)
স্ত্রী/স্বামীশ্রীরাম রামস্বামী

রামা গোবিন্দরাজন একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী যাঁর গবেষণা ক্ষেত্র হল তরল গতিবিদ্যা। তিনি ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত জওহরলাল নেহরু উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রকৌশল মেকানিক্স বিভাগে [১] এবং ২০১২-২০১৬ পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সেন্টার ফর ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্সের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।[২] বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল সায়েন্সে (আইসিটিএস) অধ্যাপক হিসাবে কাজ করছেন। তিনিই ভারতের প্রথম মহিলা প্রকৌশলী যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার জয় করেন ২০০৭ সালে। গবেষণা এবং অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষত ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার আগ্রহ জন্মাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

রামার জন্ম অন্ধ্রপ্রদেশে। সেখানেই মাতামহী আলামেলু এবং মা শকুন্তলার তত্ত্বাবধানে তাঁর বড় হয়ে ওঠা। তাঁর মা শকুন্তলা দেবী ছিলেন বাস্তবিকভাবে একজন 'একক মা'। তাঁর দিদিমা আলামেলু ছিলেন তৎকালীন দিনের সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা একজন সাহসী মহিলা।[৩] তিনি ১৯৮৪ সালে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠান দিল্লি থেকে রসায়ন প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি (বিটেক) লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেফিলাডেলফিয়ার, ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে ব্যাঙ্গালোরের ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থা থেকে মহাকাশ প্রকৌশলে গবেষণা পত্র লিখে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অ্যারোনটিক্স বিভাগে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। [৪]
তিনি পদার্থবিজ্ঞানী শ্রীরাম রামস্বামীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরে বেঙ্গালুরুতে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্যে চলে যান। বেঙ্গালুরুতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ না থাকায় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তথ্যপ্রযুক্তি তাঁর ভালো লাগবে না ভেবে তিনি প্রতিরক্ষা গবেষণায় তরল গতিবিদ্যার ব্যবহারে আগ্রহী হন।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

রামা বেঙ্গালুরুর জাতীয় মহাকাশ গবেষণাগার বিভাগের গণ্য ও তাত্ত্বিক তরল গতিবিদ্যা বিভাগে বিজ্ঞানী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সেখানে এক দশক ধরে কাজ করেছিলেন। তিনি জওহরলাল নেহরু উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের অনুষদের সদস্য হয়েছিলেন এবং ১৯৯৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এখানে কাজ করেছিলেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি টিআইএফআর কেন্দ্রে আন্তঃশৃঙ্খলা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তরল গতিবিদ্যার ব্যাপারে তাঁর বহু গবেষণাপত্র এবং একাধিক প্রকাশিত বই রয়েছে[৪]। তার প্রধান গবেষণাক্ষেত্রে হল শিয়ার প্রবাহের অস্থিতি এবং অস্থিরতা, আন্তঃফেসিয়াল প্রবাহের পদার্থবিজ্ঞান[৫][৬]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তিনি এ পর্যন্ত বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হ'ল ২০০৭ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার। এছাড়া তিনি ১৯৮৭ সালের তরুন বৈজ্জানিক পুরস্কার এবং ১৯৯৬ সালে জাতীয় মহাকাশ গবেষণাগার দ্বারা প্রদত্ত অসামান্য বিজ্ঞানী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০০৪ সালে ব্যাঙ্গালোরের জেএনসিএএসআর এর সিএনআর রাও ভাষণ পুরস্কার পেয়েছিলেন[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.jncasr.ac.in/rama/
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০২০ 
  3. https://www.ias.ac.in/public/Resources/Initiatives/Women_in_Science/Contributors/ramagovind.pdf
  4. "Rama Govindarajan"। ২২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৪ 
  5. "Noted Women Scientists of India – an attempt at enumeration"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৪ 
  6. "Lilavati's Daughters:Dream Your Dream" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৪ 
  7. "Shanti Swarup Bhatnagar prize for the year 2007 & 2008"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৪ 

বাহ্যিক লিঙ্ক[সম্পাদনা]