রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল
Rajshahi Collegiate School
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের লোগো.jpeg
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এর লোগো
শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সমৃদ্ধি
অবস্থান
সোনাদিঘির মোড়, রাজশাহী
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
প্রতিষ্ঠাকাল ১৮২৮ (১৮২৮)
বিদ্যালয় জেলা রাজশাহী
অধ্যক্ষ ড. নুরজাহান বেগম
ওয়েবসাইট

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (ইংরেজি: Rajshahi Collegiate School) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে। পূর্ব বাংলায় (বাংলাদেশ তখন পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত ছিল) ইংরেজী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে উইলিয়াম বেন্টিংক এর উৎসাহ প্রদানের ফলে বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল নামে এটি সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা লাভ করে।[১] ১৮৭৩ সালে স্কুলটির নতুন নামকরণ করা হয় কলেজিয়েট স্কুল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটিশদের সময় ১৮২৮ সালে "বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল" নামে রাজশাহী শহরে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশরা বাংলায় শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্দক্ষেপ নেয়। তারই ফলস্বরুপ বাংলায় সর্বপ্রথম এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।[৩] স্যার উইলিয়াম এ্যাডাম ১৮৩৫ সালে রাজশাহী বোয়ালিয়া স্কুল (বর্তমান কলেজিয়েট স্কুল) পরিদর্শন করেন ও স্কুলটির দৈন্য দশাতে হতাশ হয়েও উজ্জ্বল সম্ভাবনা সরকারের নিকট তুলে ধরেন। ফলস্বরূপ ১৮৩৬ সালের ২০ জুন এই স্কুলটি সরকারী মর্যাদা লাভ করে" জেলা স্কুল নামে অভিহিত হয়।[৪] সারদা প্রসাদ বসু বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক। ১৮৫৮ সালে এই স্কুলের ছাত্ররা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে প্রথম প্রবেশিকা(এস এস সি সম মান)পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।[৫]

উচ্চমাধ্যমিক এর ছাত্রদের জন্য নতুন কলেজ ভবন

ব্রিটিশ শাসনআমলে তৎকালীন অখন্ড বাংলায় ১৮৩৬ সালে যে তিনটি স্কুল সরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় তার মধ্যে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল একটি, অন্য দু’টি হচ্ছে কলকাতার হেয়ার স্কুল এবং মুর্শিদাবাদ ইংলিশ হাই স্কুল। ১৮৫০ সালে প্রথমবারের মত উঁচু শ্রেণীর মাথাপিছু ১ টাকা হারে বেতন ধার্য করা হয়। ফলে ছাত্র সংখ্যা কিছু কমে যায়। ১৮৪৪১৮৪৫ সালে ১জন করে মোট ২ জন এবং ১৮৪৭ সালে তিন জন ছাত্র জুনিয়র বৃত্তি লাভ করে। ১৮৪৯ সালে স্কুলে একটি প্রশস্ত পাকা ভবন নির্মিত হয়। ১৮৫৭ সালে ছাত্র সংখ্যা হয় ১৪৬ জন। সেই সময় কোন শিক্ষা বোর্ড ছিল না। অভিবক্ত বাংলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রবেশিকা (বর্তমান এস.এস.সি.) পরীক্ষা হত। ১৯৫৮ সালে স্কুলটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে। সেই বছরই মেধাবী ছাত্র মোহিনী মোহন চক্রবর্তী প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০ টাকা মেধা বৃত্তি লাভ করে। এসময় ছাত্র বেতন বৃদ্ধি করা হয় ২ টাকা। সে বছর স্কুলে ছাত্র ছিল ২১৫ জন। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ফলে ভাড়া করা একটি বাড়িতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে থাকে। পুঠিয়ার রাজা যোগেন্দ্র নারায়নরায়ের আর্থিক সহায়তায় ১৮৬২ সালে বিদ্যালয়টির বর্তমান জায়গায় কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়।[৬]

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এর প্রবেশপথ

১৮৭৩ সালে বউলিয়া সরকারি ইংলিশ স্কুলের সঙ্গে মহাবিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণী সংযোজিত হয়। সম্ভবত তখন থেকেই এর নাম করণ হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল। ১৮৭৪ সালে পুঠিয়ার মহারাণী শরৎসুন্দরী দেবীর আর্থিক সহায়তায় স্কুলের অতিরিক্ত দুইটি নতুন ভবন নির্মিত হয়। ১৮৭৫ সালের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাশ করে। তৎকালীন সময়ে এটি স্কুলের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ১৮৮৪ সালে কলেজের শ্রেণী দু’টিকে পৃথক করে বর্তমান রাজশাহী সরকারি কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তখন স্কুলটি কলেজ প্রশাসনের অধীনে চলতে থাকে।[৬]

বাংলার গভর্ণর ফুলার সাহেবের আর্থিক সহায়তায় এবং রাজনীতিবিদ খানবাহাদুর এমাদুদ্দিন সাহেবের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯০৭ সালে ফুলার হোস্টেলটি নির্মিত হয়। ঐ বছরই বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক হিন্দু হোস্টেল নির্মাণ করা হয়। ১৯১২ সালে বাংলার গভর্ণর প্রথমবারের মত স্কুলটি পরিদর্শনে আসেন। সেসময় ছাত্র সংখ্যা ছিল ৫০০ জন। ১৯২৬ সালে হিন্দু হোস্টেলটি রাজা প্রমথনাথ (পি.এন) হোস্টেলে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৩০ সালে বৃটিশ বিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে স্কুলের ছাত্র সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় ৩০০ জনে নেমে আসে। এই বছর স্কুলের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ঘটে বয় স্কাউট দল গঠন, জুনিয়র রেডক্রস সংগঠন এবং প্রথমবারের মত স্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশনা।[৬]

১৯৩৬ সালে স্কুলের ছাত্ররা জ্যাকশন শিল্ডও ১৯৪০ সালে ব্রাবোন শিল্ড জয় করে খেলাধুলাতে ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। ১৯৪০ সালে স্কুলের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ঐ সালেই সায়েন্স গ্যালারী নির্মিত হয় (যা ১৯৯২ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষিত হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়)।[৬] ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত স্কুলটি রাজশাহী শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে এবং ল্যাবরেটরী স্কুল হিসেবে কাজ করে। ১৯৬৯ সালে স্কুলটি পুনরায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পরিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিয়ন্ত্রণাধীনে আসে। ১৯৫৯ সালে প্রদেশের অন্যান্য স্কুল গুলির মধ্যে এই স্কুলটিকে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অধীনে একটি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মর্যাদায় উন্নীত করা হয়। ১৯৬২ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি দোতলা বিজ্ঞান ভবনও একটি ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হয়। ১৯৬৩ সালে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মিত হয় যা কলেজ থেকে স্কুলটি কে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলে।[৬]

একাডেমিক ভবন, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল

১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মত প্রভাতী শাখা খোলা হয়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রভাতী শাখায় ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী এবং দিবা শাখায় ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কর্মসূচী চালু ছিল। ১৯৯১ সালের মে মাস থেকে সরকারি এক আদেশে বিদ্যালয়ে পুরোপুরি ডাবলশিফট কার্যক্রম শুরু হয় এবং তখন থেকেই প্রভাতী শাখায় ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে দু’টি করে এবং দিবাকালীন শাখায়ও ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে দু’টিকরে শাখায় পাঠদান কার্যক্রম চালু আছে।[৬]

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

২০০৮ সালে এ স্কুলে একাদশ শ্রেণী চালু করা হয় এবং এ শ্রেণীতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শাখা খোলা হয়। ২০১০ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বপ্রথম এইচ.এস.সি. পরীক্ষায় ছাত্ররা অংশ গ্রহণ করে। বর্তমান ৩য় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পরিচালিত বিদ্যালয়টি তার অতীত ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা ড. নুরজাহান বেগম।

সহ শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯৩৬ সালে স্কুলের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়। ছাত্র শিক্ষক ও স্থানীয় হিতৈষী জনগণের প্রচেষ্টায় সে আমলের প্রায়লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে পালিত হয়। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসের ২৪ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ১৫০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। এ বর্ষপূর্তি উৎসবে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র (ম্যাট্রিক ১৯৪৬) ফেডারেল ইন্সুলেন্স কোম্পানী, বাংলাদেশ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম এ.এইচ.এম. আব্দুল মতিন প্রদত্ত প্রায় ৮২ হাজার টাকায় (প্রথমে ৫৪ হাজার পরে ২৮ হাজার) “আব্দুল মতিন মেধাবৃত্তি” চালু করা হয়।[৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "180th founding anniversary of The Rajshahi Collegiate School"The Daily Star। UNB। ১৮ জানুয়ারি ২০০৯। 
  2. http://www.erajshahi.gov.bd/city_info/city_info.php রাজশাহী মহানগরীর পরিচয়
  3. http://www.erajshahi.gov.bd/app/cc_service/cc_service.php?cmd=details&id=2642&tempid=1 রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানের বর্ণনা
  4. Ratan, Abu Kalam; Kaioum, Mamun Abdul (৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "Campus Spotlight: Rajshahi Collegiate School"Star Campus (The Daily Star)। 
  5. নূরজাহান বেগম (২০১৩)। স্কুল ম্যাগাজিন - ঐতিহ্য। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল। 
  6. ৬.০ ৬.১ ৬.২ ৬.৩ ৬.৪ ৬.৫ ৬.৬ "দেশের প্রথম ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ইতিহাস"