রবার্ট পুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রবার্ট পুর
Robert Poore c1908.jpg
আনুমানিক ১৯০৮ সালে গৃহীত স্থিরচিত্রে রবার্ট পুর
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৮৬৬-০৩-২০)২০ মার্চ ১৮৬৬
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড
মৃত্যু১৪ জুলাই ১৯৩৮(1938-07-14) (বয়স ৭২)
বসকোম্বে, বোর্নমাউথ, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৫
রানের সংখ্যা ৭৬ ৩৪৪১
ব্যাটিং গড় ১২.৬৬ ৩৮.৬৬
১০০/৫০ ০/০ ১১/১২
সর্বোচ্চ রান ২০ ৩০৪
বল করেছে ৪৭০
উইকেট ১৩
বোলিং গড় ৪.০০ ১৯.৩৮
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৪ ২/১০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ৩৮/-
উৎস: ‌ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৭ মার্চ ২০১৯

রবার্ট মন্টাগু পুর, ডিএসও, সিআইই (ইংরেজি: Robert Poore; জন্ম: ২০ মার্চ, ১৮৬৬ - মৃত্যু: ১৪ জুলাই, ১৯৩৮) আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ও ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯৬ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রবার্ট পুর। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেই দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। মেজর পদবী ধারন করা অবস্থাতেই তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীতে ভূষিত হন। এ. এ. থমসন লিখিত ‘অড ম্যান ইন’ শীর্ষক গ্রন্থে লিও কুপার ভূমিকাংশে তাকে খামখেয়ালি স্বভাবে দণ্ডায়মান থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।[১]

সামরিক জীবন[সম্পাদনা]

মেজর রবার্ট পুর ও রিয়ার এডমিরাল আর্মার ললি-করির কন্যা জুলিয়ানা লরি করি দম্পতির সন্তান ছিলেন রবার্ট পুর।

সপ্তম হাসার্সে যোগদান করেন ও ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে রোডেশিয়ায় সংঘটিত দ্বিতীয় মাতাবেলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ১৮৯৯ থেকে ১৯০২ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংঘটিত দ্বিতীয় বোর যুদ্ধ চলাকালীন প্রভোস্ট মার্শাল হিসেবে নিযুক্ত হন। তন্মধ্যে, ১৯০১ সালে ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অর্ডার (ডিএসও) পদকধারী হন।

ব্রেকার মোরেন্ট ও পিটার হ্যান্ডককের বিচারের শুনানি ও ফাঁসি চলাকালীন রবার্টপুর প্রভোস্ট মার্শালের দায়িত্বে ছিলেন। তাদের মামলাবিষয়ক সমসাময়িক ঘটনাবলী তিনি ব্যক্তিগত দিনলিপিতে টুকে রেখেছিলেন সযত্নে।[২]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৯৯ সালে রবার্ট পুর সমগ্র ইংল্যান্ডের মধ্যে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১২ জুন থেকে ১২ আগস্ট সময়কালে ১১৬.৫৮ গড়ে ১৩৯৯ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, সাতটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এ পর্যায়ে সমারসেটের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০৪ রান তুলেন। ষষ্ঠ উইকেটে জুটিতে সতীর্থ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উইনিয়ার্ডের সাথে চারশতাধিক রানের জুটি গড়েন। অদ্যাবধি, কাউন্টি ক্রিকেটে ঐ উইকেটে তা সর্বোচ্চ রানের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।[৩] পুরো মৌসুমে ২১ ইনিংস খেলে ৯১.২৩ গড়ে ১,৫৫১ রান তুলেছিলেন তিনি। এক ইংরেজ মৌসুমে গড়ের ঐ রেকর্ডটি পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে ডন ব্র্যাডম্যান ৯৮.৬৬ গড়ে রান সংগ্রহে করে নিজের করে নেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।[৪]

১৮৯৯ মৌসুমে বোর যুদ্ধ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন। ভাঙ্গা হাত নিয়ে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯০২ সালের অধিকাংশ সময় মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাসত্ত্বেও, হ্যাম্পশায়ারের সদস্যরূপে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে পোতানো উইকেটে হিউ ট্রাম্বলের অগ্নি গোলকসম বোলিং রুখে দিয়ে অপরাজিত ৬২ রান তুলেন।[৫] ১৯০৩ সালেও এ ধারা অব্যাহত রাখাকালে গ্রীষ্মে ভারতে চলে যান। ১৯০৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে হ্যাম্পশায়ারে যোগদান করলেও খেলায় তার ছন্দ ছিল না। কয়েকটি ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে খেললেও নয় খেলায় অংশ নিয়ে বিশের নিচের গড়ে রান তুলেন। কেবলমাত্র একবার অনুপযোগী পিচে সাসেক্সের বিপক্ষে ১৮৯৯ সালের ন্যায় নিজেকে মেলে ধরেন।

১৯০৫ সালেও সবগুলো খেলায় অংশ নিতে পারেননি রবার্ট পুর। তাসত্ত্বেও ১৯০৬ সালে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে দলের অগ্রযাত্রায় সংযুক্ত হন। দুই খেলায় ২৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে সাসেক্সের বিপক্ষে ১২৯ রান তুলেছিলেন। কিন্তু, আরও একবার আঘাতের কবলে পড়লে তার খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানতে হয়।

বেশকিছু সাফল্যের সাথে যুক্ত থাকলেও রবার্ট পুর খেলায় পুরোপুরি নিজেকে মোহাবিষ্ট করতে পারেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট খেলা শিখেননি; সবটুকুই স্বভাবজাত ছিল। একবার ভারতের পশ্চিমাংশে আয়োজিত লন টেনিস প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয় করেছিলেন। সপ্তম হাসার্সের সাথে ভারতে গমনকালে ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সেও ক্লাব ক্রিকেটে বিপজ্জ্বনক ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। ১৯১৩ সালের শেষার্ধ্বেও ভারতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন তিনি। ১৮৯৮ সালে ক্যাপ্টেন চার্লস ডগলাস হ্যামিল্টনের কন্যা ও ত্রয়োদশ হ্যামিল্টন ডিউকের বোন লেডি ফ্লোরা মেরি ইডা ডগলাস হ্যামিল্টনের সাথে পরিণয়সূত্র স্থাপন করেন। এ দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। বিয়ের তিন বছর বাদে রবার্ট পুরের বোন নিনা মেরি বেনিটা পুরের সাথে শ্যালকের বিয়ে হয়।

১৪ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে ইংল্যান্ডের বসকোম্বে ৭২ বছর বয়সে রবার্ট পুরের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cooper introduction to Odd Men In, pp. v–vi.
  2. "Diary sinks reputation of Breaker Morant"The Sydney Morning Herald (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৪-০৮-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৭ 
  3. Somerset v Hampshire 1899. Cricketarchive.com. Retrieved on 3 May 2018.
  4. Major Robert Poore. Espncricinfo.com. Retrieved on 3 May 2018.
  5. Hampshire v Australians 1902. Cricketarchive.com. Retrieved on 3 May 2018.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]