মুহাম্মদ ইসহাক (ইতিহাসবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুহাম্মদ ইসহাক
জন্ম১৯১০
মৃত্যু২০০৫
যেখানের শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মুহাম্মদ ইসহাক (১৯১০ – ২০০৫) বাংলাদেশের একজন ইতিহাসবিদ ও শিক্ষায়তনিক ব্যক্তি ছিলেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ ইসহাক ১৯১০ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তিনি ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রমেশচন্দ্র মজুমদার, কালিকারঞ্জন কানুনগো, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, মোহিতলাল মজুমদার, চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সংস্পর্শে এসেছিলেন।[১] তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া, তিনি হল সাময়িকীর সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন।[১] ছাত্রজীবনে তিনি নিখিল ভারত ও বার্মা বিতর্ক প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন। তিনি মুসলিম ছাত্র সমাজের শিখা আন্দোলনের শিরোপাও জিতেছিলেন।[১] তার কলেজজীবনের শিক্ষক ছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ। তিনি তার দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন।[১] তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের এক অধিবেশনে আধুনিক বাংলা গীতি-কবিতার ধারা শিরোনামের একটি প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। ঐ অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়[১]

মুহাম্মদ ইসহাক ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরে তিনি বঙ্গীয় শিক্ষা সার্ভিসে যোগদান করেন।[১] তিনি ছয়টি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করতে অবদান রেখেছেন।[১]

মুহাম্মদ ইসহাক সিলেট অঞ্চলের ওপরে গবেষণা করেছেন।[১] তিনি পাকিস্তান হিস্টরিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণা পত্রও উত্থাপন করেছেন। তিনি পাকিস্তান হিস্টরিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন।[১] তার চাকরিজীবনের শেষভাগে তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত জেলা গেজেটিয়ার সম্পাদনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইসহাক ১৯৮৭ সালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইসহাক প্রতিষ্ঠা করেন।[২] এর প্রাথমিক মূলধন ছিল ১,০০,০০০ বাংলাদেশি টাকা। এটি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস বিষয়ক গবেষণার প্রসারে কাজ করে থাকে।[২] এটি প্রতি বছর একজন ঐতিহাসিকের প্রবন্ধ পাঠেরও আয়োজন করে থাকে।

মুহাম্মদ ইসহাক পাঠ্যপুস্তক রচনার সাথেও যুক্ত ছিলেন।[১] তিনি ৪০টি পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছিলেন। এগুলোর অধিকাংশই ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ। তার কয়েকটি গ্রন্থ এদেশের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।[১] ১৯৫২ সালে তার একটি গ্রন্থ লন্ডনে বিশ্বের সেরা শিশুগ্রন্থ প্রদর্শনীতে প্রেরণ করা হয়েছিল।

মুহাম্মদ ইসহাক ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মাহমুদ, ফিরোজ (২০১২)। "ইসহাক, মুহাম্মদ"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীরবাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওসিএলসি 883871743 
  2. "Trust Funds"Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২০