মার্কিন সাহিত্য


মার্কিন সাহিত্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর পূর্বসূরী ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে রচিত বা উৎপাদিত সাহিত্য। মার্কিন সাহিত্যিক ঐতিহ্য মূলত ইংরেজি ভাষার সাহিত্যের বৃহত্তর ঐতিহ্যের একটি অংশ, তবে এতে ইংরেজি ব্যতীত অন্যান্য ভাষায় রচিত সাহিত্যও অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন বিপ্লবী যুগ (১৭৭৫–১৭৮৩) বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, অ্যালেনজান্ডার হ্যামিলটন, টমাস পেইন এবং টমাস জেফারসন-এর রাজনৈতিক লেখালিখির জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৭৯১ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম হিল ব্রাউন-এর দ্য পাওয়ার অফ সিম্প্যাথি হলো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাথমিক উপন্যাস। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে লেখক ও সমালোচক জন নীল তার পূর্বসূরী ওয়াশিংটন আরভিং-এর মতো লেখকদের ব্রিটিশ অনুকরণ করার সমালোচনা করে এবং এডগার অ্যালান পো-এর মতো লেখকদের প্রভাবিত করে আমেরিকাকে একটি অনন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন। পো মার্কিন কবিতা এবং ছোটগল্পকে এক নতুন দিশা প্রদান করেন।[১] রাল্ফ ওয়াল্ডো এমারসন প্রভাবশালী অতিন্দ্রিয়বাদ (ট্রানজেন্ডেন্টালিজম) আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ছিলেন; ওয়ালডেন-এর লেখক হেনরি ডেভিড থরো এই আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। দাসপ্রথা বিলোপবাদ সংক্রান্ত সংঘাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর মতো লেখকদের এবং ফ্রেডরিক ডগলাস-এর মতো দাস আখ্যানের লেখকদের অনুপ্রাণিত করেছিল। নাথানিয়েল হথর্ন-এর দ্য স্কারলেট লেটার (১৮৫০) এবং হারমান মেলভিল-এর মোবি-ডিক (১৮৫১) মানুষের স্বভাবের অন্ধকার দিকগুলো অন্বেষণ করেছিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রধান মার্কিন কবিদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ল্ট হুইটম্যান, মেলভিল এবং এমিলি ডিকিনসন। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রধান লেখক ছিলেন মার্ক টোয়েন। অন্যদিকে হেনরি জেমস তার দ্য পোর্ট্রেট অফ আ লেডি (১৮৮১)-এর মতো উপন্যাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আধুনিকতাবাদী সাহিত্য উনবিংশ শতাব্দীর রূপ এবং মূল্যবোধগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। এফ. স্কট ফিটজেরাল্ড ১৯২০-এর দশকের নিশ্চিন্ত মেজাজকে তার লেখায় তুলে ধরেন। তবে জন ডস প্যাসোস এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (যিনি দ্য সান অলসো রাইজেস এবং আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস-এর মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন) ও উইলিয়াম ফকনার পরীক্ষামূলক সাহিত্যরূপ গ্রহণ করেন। মার্কিন আধুনিকতাবাদী কবিদের মধ্যে ওয়ালেস স্টিভেন্স, টি. এস. এলিয়ট, রবার্ট ফ্রস্ট, এজরা পাউন্ড এবং ই. ই. কামিংস-এর মতো বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মহামন্দার যুগের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন জন স্টেইনব্যাক, যিনি দ্য গ্রেপস অফ র্যাথ (১৯৩৯) এবং অফ মাইস অ্যান্ড মেন (১৯৩৭)-এর জন্য বিখ্যাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ নরম্যান মেইলার-এর দ্য নেকেড অ্যান্ড দ্য ডেড (১৯৪৮), জোসেফ হেলার-এর ক্যাচ-২২ (১৯৬১) এবং কার্ট ভনেগাট জুনিয়র-এর স্লটারহাউস-ফাইভ (১৯৬৯)-এর মতো কাজের জন্ম দেয়। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নাট্যকারদের মধ্যে রয়েছেন ইউজিন ও’নিল, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নাট্যজগতে টেনেসি উইলিয়ামস এবং আর্থার মিলার আধিপত্য বিস্তার করেন। পাশাপাশি মিউজিক্যাল থিয়েটারও তখন বেশ জনপ্রিয় ছিল।
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অভিবাসী, জাতিগত এবং এলজিবিটি লেখকদের সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি ভিন্ন অন্য ভাষায় রচিত সাহিত্যের প্রতি জনপ্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে।[২] এই ক্ষেত্রগুলোর অগ্রদূতদের মধ্যে রয়েছেন এলজিবিটি লেখক মাইকেল কানিংহাম, এশীয় মার্কিন লেখক ম্যাক্সিন হং কিংসটন ও ওশেন ভুওং এবং আফ্রিকান মার্কিন লেখক রাল্ফ এলিসন, জেমস বল্ডউইন ও টনি মরিসন। ২০১৬ সালে লোক-রক (folk-rock) গীতিকার বব ডিলান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
নেটিভ আমেরিকান সাহিত্য
[সম্পাদনা]মৌখিক সাহিত্য
[সম্পাদনা]ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমনের আগে থেকেই বিভিন্ন আদিবাসী উপজাতিদের মধ্যে মৌখিক সাহিত্য এবং গল্প বলার প্রচলন ছিল। কিছু উপজাতির ঐতিহ্যগত অঞ্চলগুলো জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে বিস্তৃত ছিল এবং এই সাহিত্যগুলো একক কোনো রূপের নয়, বরং এই জাতিগুলোর বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়।[৩]
প্রকাশিত গ্রন্থ
[সম্পাদনা]১৭৭১ সালে ইংরেজি ভাষায় কোনো নেটিভ আমেরিকান কর্তৃক রচিত প্রথম কাজ হিসেবে মোহেগান উপজাতির স্যামসন ওকম-এর লেখা এ সারমন প্রিচড অ্যাট দ্য এক্সিকিউশন অফ মোজেস পল, অ্যান ইন্ডিয়ান প্রকাশিত হয় এবং এর ১৯টি সংস্করণ বের হয়েছিল। জন রোলিন রিজ (চেরোকি, ১৮২৭-৬৭) রচিত দ্য লাইফ অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চারস অফ জোয়াকিন মুরিয়েটা (১৮৫৪) ছিল কোনো নেটিভ আমেরিকান লেখকের প্রথম উপন্যাস। অন্যদিকে সাইমন পোকাগন (পটাওয়াটোমি, ১৮৩০-৯৯) রচিত ও-গি-ম-কুই মিত-ই-গোয়া-কি (কুইন অফ দ্য উডস) (১৮৯৯) ছিল "নেটিভ আমেরিকানদের জীবনকে উপজীব্য করে লেখা প্রথম নেটিভ আমেরিকান উপন্যাস"।[৪]
ইংরেজি ভাষায় নেটিভ আমেরিকান সাহিত্যের বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ১৯৬৯ সালে, যখন এন. স্কট মোমাডে (কিওওয়া উপজাতি) তার উপন্যাস হাউস মেড অফ ডন (১৯৬৮)-এর জন্য পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন।
ঔপনিবেশিক সাহিত্য
[সম্পাদনা]
তেরোটি উপনিবেশকে প্রায়ই প্রারম্ভিক মার্কিন সাহিত্যের কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে উত্তর আমেরিকায় প্রথম ইউরোপীয় বসতিগুলো আরও অনেক বছর আগে অন্য কোথাও স্থাপিত হয়েছিল।[৫] পেনসিলভেনিয়ায় মুদ্রিত প্রথম বিষয়টি ছিল জার্মান ভাষায় এবং এটি ছিল মার্কিন বিপ্লবের আগে যেকোনো উপনিবেশে মুদ্রিত সবচেয়ে বড় বই।[৫] বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে স্পেনীয় এবং ফরাসিদের দুটি শক্তিশালী ঔপনিবেশিক সাহিত্য ঐতিহ্য ছিল। তাছাড়া, অসংখ্য ভিন্ন নেটিভ আমেরিকান উপজাতিদের মধ্যে এই মহাদেশে প্রচুর পরিমাণে মৌখিক সাহিত্যিক ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। তবে উত্তর আমেরিকায় ইংরেজদের বসতি স্থাপনের সাথে সাথে ইংরেজি ভাষা এখানে নিজের ভিত্তি মজবুত করে, যা এই মহাদেশে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ থেকে বসতি স্থাপনকারীদের নিরন্তর আগমনের সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৬৬৪ সালে ওলন্দাজ উপনিবেশ নিউ আমস্টারডাম ইংরেজদের দখল করা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে ইংরেজরা এর নাম পরিবর্তন করে নিউ ইয়র্ক রাখে এবং প্রশাসনিক ভাষা ওলন্দাজ থেকে ইংরেজিতে পরিবর্তন করে।[৬]
১৬৯৬ থেকে ১৭০০ সাল পর্যন্ত আমেরিকার উপনিবেশগুলোর প্রধান ছাপাখানাগুলো থেকে মাত্র ২৫০টি আলাদা আইটেম প্রকাশিত হয়েছিল। তৎকালীন লন্ডনের মুদ্রণকারীদের উৎপাদনের তুলনায় এই সংখ্যাটি অত্যন্ত নগণ্য। লন্ডনের মুদ্রণকারীরা নিউ ইংল্যান্ডের লেখকদের লেখা উপকরণ প্রকাশ করত, তাই মার্কিন সাহিত্যের কলেবর উত্তর আমেরিকায় প্রকাশিত সাহিত্যের চেয়েও বড় ছিল। তবে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ স্থানে মুদ্রণ অনুমোদিত হওয়ার আগেই আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে মুদ্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইংল্যান্ডে কঠোর আইন দীর্ঘকাল ধরে মুদ্রণকে চারটি স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল যেখানে সরকার কী প্রকাশিত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারত: লন্ডন, ইয়র্ক, অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ। একারণে উপনিবেশগুলো তাদের সমসাময়িক ইংরেজ প্রদেশগুলোর তুলনায় আধুনিক বিশ্বে দ্রুত পা ফেলেছিল।[৫]
তৎকালীন মার্কিন সাহিত্যের একটি অংশ ছিল প্যামফলেট এবং এমন কিছু লেখা যা ইউরোপীয় ও ঔপনিবেশিক দর্শকদের কাছে উপনিবেশগুলোর সুবিধার কথা বর্ণনা করত। ক্যাপ্টেন জন স্মিথ-কে তার লেখা এ ট্রু রিলেশন অফ সাচ অকারেন্সেস অ্যান্ড অ্যাক্সিডেন্টস অফ নোট অ্যাজ হাথ হ্যাপেন্ড ইন ভার্জিনিয়া... (১৬০৮) এবং দ্য জেনারেল হিস্ট্রি অফ ভার্জিনিয়া, নিউ ইংল্যান্ড, অ্যান্ড দ্য সামার আইলস (১৬২৪)-এর মাধ্যমে প্রথম মার্কিন লেখক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই ধারার অন্যান্য লেখকদের মধ্যে ছিলেন ড্যানিয়েল ডেন্টন, টমাস অ্যাশ, উইলিয়াম পেন, জর্জ পার্সি, উইলিয়াম স্ট্রেচি, ড্যানিয়েল কক্স, গ্যাব্রিয়েল টমাস এবং জন লসন।
প্রারম্ভিক গদ্যের বিষয়বস্তু
[সম্পাদনা]
আমেরিকায় বসতি স্থাপনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা ধর্মীয় বিতর্কগুলো প্রারম্ভিক মার্কিন সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। জন উইনথ্রপ রচিত একটি জার্নাল, দ্য হিস্ট্রি অফ নিউ ইংল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস বে কলোনির ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করেছে। মেফ্লাওয়ার জাহাজের আগমনের পরের প্রথম বছরগুলো নিয়ে এডওয়ার্ড উইনস্লো একটি ডায়েরি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ম্যাসাচুসেটসের প্রথম গভর্নর জন উইনথ্রপ ১৬৩০ সালে আরবেলা (উইনথ্রপ ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ) জাহাজে "এ মডেল অফ ক্রিশ্চিয়ান চ্যারিটি" নামক একটি ধর্মোপদেশ (sermon) প্রদান করেন। এই কাজটিতে তিনি এবং অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদীরা (Separatists) যে আদর্শ সমাজ গঠন করতে চেয়েছিলেন তার রূপরেখা তুলে ধরেন, যা ছিল একটি "পিউরিটান ইউটোপিয়া" বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা। অন্যান্য ধর্মীয় লেখকদের মধ্যে ছিলেন ইনক্রিস ম্যাথার এবং উইলিয়াম ব্র্যাডফোর্ড, যিনি হিস্ট্রি অফ প্লাইমাউথ প্ল্যান্টেশন, ১৬২০–৪৭ নামক বিখ্যাত জার্নালটি লিখেছিলেন। অন্যদিকে রজার উইলিয়ামস এবং নাথানিয়েল ওয়ার্ড রাষ্ট্র ও গির্জার পৃথকীকরণের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। আবার টমাস মর্টন-এর মতো লেখকরা গির্জার প্রতি সামান্যই ভ্রুক্ষেপ করতেন; মটর্নের দ্য নিউ ইংলিশ কানান বইটিতে পিউরিটানদের উপহাস করা হয় এবং ঘোষণা করা হয় যে স্থানীয় নেটিভ আমেরিকানরা তাদের চেয়ে অনেক উন্নত মানুষ।[৭]
পরবর্তী সময়ের অন্যান্য লেখায় নেটিভ আমেরিকানদের সাথে সংঘাত ও মিথস্ক্রিয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়, যেমন ড্যানিয়েল গুকিন, আলেকজান্ডার হুইটেকার, জন ম্যাসন, বেঞ্জামিন চার্চ এবং ড্যানিয়েল জে. ট্যান-এর লেখায়। জন এলিয়ট ১৬৬৩ সালে বাইবেলকে অ্যালগনকুইন ভাষায় অনুবাদ করেন, যার নাম ছিল মামুসে উননীতুপানাতামওয়ে আপ-বিবলাম গড।[৮] এটি ছিল পশ্চিম গোলার্ধে মুদ্রিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাইবেল; স্টিফেন ডে মার্কিন উপনিবেশগুলোর প্রথম ছাপাখানায় এর ১,০০০টি কপি মুদ্রণ করেছিলেন।[৯]
নিউ ইংল্যান্ডের বসতি স্থাপনকারীদের দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে কটন ম্যাথার একজন ধর্মতত্ত্ববিদ এবং ইতিহাসবিদ হিসেবে স্বতন্ত্র স্থান দখল করে আছেন। তিনি উপনিবেশগুলোর ইতিহাস লিখেছেন যেখানে তাদের মধ্যে ঈশ্বরের সক্রিয়তা এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের মহান নায়কদের সাথে পিউরিটান নেতাদের সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তার সবচেয়ে পরিচিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনালিয়া ক্রিস্টি আমেরিকানা (১৭০২), ওয়ান্ডার্স অফ দ্য ইনভিজিবল ওয়ার্ল্ড এবং দ্য বিবলিয়া আমেরিকানা।[১০]
জোনাথন এডওয়ার্ডস এবং জর্জ হোয়াইটফিল্ড 'গ্রেট অ্যাওয়াকেনিং' বা মহাজাগরণের প্রতিনিধিত্ব করেন, যা ছিল ১৮শ শতাব্দীর শুরুর দিকে একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলন এবং এটি ক্যালভিনিস্ট চিন্তাধারার ওপর জোর দিয়েছিল। অন্যান্য পিউরিটান ও ধর্মীয় লেখকদের মধ্যে রয়েছেন টমাস হুকার, টমাস শেপার্ড, জন ওয়াইজ এবং স্যামুয়েল উইলার্ড। তুলনামূলক কম কঠোর এবং রসিক লেখকদের মধ্যে ছিলেন স্যামুয়েল সিউয়াল (যার ডায়েরিতে ১৭শ শতাব্দীর শেষভাগের দৈনন্দিন জীবন ফুটে উঠেছে)[৭] এবং সারা কেম্বল নাইট (যিনি একইভাবে একটি ডায়েরি লিখেছিলেন)।[১১]
উপনিবেশগুলোর মধ্যে কেবল নিউ ইংল্যান্ডেই সাহিত্য চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল না; এই সময়ে দক্ষিণী সাহিত্যও বিকশিত হচ্ছিল। বাগান মালিক বা প্লান্টার উইলিয়াম বার্ড দ্বিতীয়-এর ডায়েরি এবং তার দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য ডিভাইডিং লাইন (১৭২৮) বইটিতে ভার্জিনিয়া এবং নর্থ ক্যারোলিনার মধ্যবর্তী জলাভূমি জরিপ করার অভিযানের বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার নেটিভ আমেরিকান এবং শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যকার পার্থক্যের ওপর মন্তব্য করা হয়েছে।[৭] অনুরূপ একটি বই ট্রাভেলস থ্রু নর্থ অ্যান্ড সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট-এ উইলিয়াম বার্ট্রাম দক্ষিণ আমেরিকার ভূপ্রকৃতি এবং তার দেখা নেটিভ আমেরিকান উপজাতিদের বর্ণনা দিয়েছেন; বার্ট্রামের বইটি ইউরোপে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল এবং এটি জার্মান, ফরাসি ও ওলন্দাজ ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।[৭]
উপনিবেশগুলো যখন ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন মার্কিন সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আসে ফরাসি অভিবাসী জে. হেক্টর সেন্ট জন ডি ক্রেভকর-এর কাছ থেকে। তার রচিত লেটারস ফ্রম অ্যান আমেরিকান ফার্মার (১৭৮২) "আমেরিকান কারা?" এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। তিনি নতুন সমাজে বিদ্যমান সুযোগ এবং শান্তির প্রশংসা করার পাশাপাশি এটিও স্বীকার করেছেন যে একজন কৃষকের নিস্তরঙ্গ জীবন একদিকে শহুরে জীবনের দমনমূলক দিক এবং অন্যদিকে সীমান্তের আইনহীন পরিস্থিতির মাঝে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে থাকে, যেখানে সামাজিক কাঠামোর অভাবে সভ্য জীবনযাপন ব্যাহত হয়।[৭]
এই একই সময়ে কবি ফিলিস হুইটলি এবং ওলাউডাহ ইকুইয়ানো-র দাস আখ্যান (slave narrative) দ্য ইন্টারেস্টিং ন্যারেটিভ অফ দ্য লাইফ অফ ওলাউডাহ ইকুইয়ানো (১৭৮৯)-এর মাধ্যমে আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের সূচনা ঘটে। এই সময়েই নেটিভ আমেরিকান সাহিত্যও সমৃদ্ধ হতে শুরু করে। স্যামসন ওকম তার এ সারমন প্রিচড অ্যাট দ্য এক্সিকিউশন অফ মোজেস পল এবং একটি জনপ্রিয় স্তোত্র সংকলন কালেকশন অফ হিমস অ্যান্ড স্পিরিচুয়াল সংস প্রকাশ করেন, যা ছিল "নেটিভ আমেরিকানদের প্রথম বেস্টসেলার"।[১২]
বিপ্লবী যুগ
[সম্পাদনা]
বিপ্লবী যুগে প্রচুর রাজনৈতিক রচনাবলি রচিত হয়েছিল, যার মধ্যে উপনিবেশবাদী স্যামুয়েল অ্যাডামস, জোশিয়াহ কুইন্সি দ্বিতীয়, জন ডিকিনসন এবং জোসেফ গ্যালোওয়ে-র লেখা উল্লেখযোগ্য; শেষোক্ত ব্যক্তি ছিলেন ব্রিটিশ রাজের অনুগত (লয়ালিস্ট)। এই সময়ের দুইজন প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং টমাস পেইন। ফ্র্যাঙ্কলিনের পুওর রিচার্ড'স অ্যালম্যানাক এবং দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন অত্যন্ত সমাদৃত কর্ম, যা তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং নবীন মার্কিন জাতীয় সত্তা গঠনে প্রভাবের জন্য পরিচিত। পেইনের প্যামফলেট কমন সেন্স এবং দ্য আমেরিকান ক্রাইসিস রচনাবলি সেই সময়ের রাজনৈতিক সুর নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করেছিল বলে মনে করা হয়।
মার্কিন বিপ্লবী যুদ্ধের সময় "নাথান হেল"-এর মতো কবিতা ও গানগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। এই সময়ের প্রধান ব্যঙ্গরচয়িতাদের (satirists) মধ্যে ছিলেন জন ট্রাম্বুল এবং ফ্রান্সিস হপকিনসন। ফিলিপ মরিন ফ্রেঁনো যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে কবিতা লিখেছিলেন।
১৮শ শতাব্দীতে মার্কিন সাহিত্য উইনথ্রপ এবং ব্র্যাডফোর্ডের পিউরিটানবাদ থেকে সরে এসে জ্ঞানদীপ্তি যুগের যুক্তিবাদী চিন্তাধারার দিকে ধাবিত হয়। মানবিক এবং প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা কোনো বার্তা—এমন বিশ্বাস আর তৎকালীন উদীয়মান মানুষ-কেন্দ্রিক (anthropocentric) সংস্কৃতির সাথে খাপ খাচ্ছিল না। অনেক বুদ্ধিজীবী বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, আইজ্যাক নিউটন বর্ণিত পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের মাধ্যমে মানুষের মন এই মহাবিশ্বকে বুঝতে সক্ষম। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কটন ম্যাথার। উত্তর আমেরিকায় নিউটন এবং প্রাকৃতিক ধর্মতত্ত্বকে (natural theology) প্রচার করে প্রকাশিত প্রথম বইটি ছিল ম্যাথারের দ্য ক্রিশ্চিয়ান ফিলোসফার (১৭২১)। ১৮শ শতাব্দীর এই বিশাল বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং দার্শনিক পরিবর্তনসমূহ, যা আমেরিকান এনলাইটেনমেন্ট নামে পরিচিত, যাজক এবং ধর্মগ্রন্থের কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক আদর্শের পথ প্রশস্ত করে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনে মতামতের বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল, যা তৎকালীন সাহিত্যে স্পষ্ট। ১৬৭০ সালে উপনিবেশগুলোর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১,১১,০০০। ত্রিশ বছর পর তা ২,৫০,০০০ ছাড়িয়ে যায়। ১৭৬০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১৬,০০,০০০-এ পৌঁছায়।[৫] সমাজ এবং সামাজিক জীবনের এই বিকাশ মানুষকে ব্যক্তির উন্নতি এবং উপনিবেশগুলোতে তাদের অভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। এই নতুন চিন্তাধারা বেনঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের 'অটোবায়োগ্রাফি' বা আত্মজীবনীর জনপ্রিয়তার মাধ্যমে লক্ষ্য করা যায়।
ফ্র্যাঙ্কলিনেরও আগে ছিলেন ক্যাডওয়ালাডার কোল্ডেন (১৬৮৯–১৭৭৬), যার ১৭২৭ সালে প্রকাশিত বই দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য ফাইভ ইন্ডিয়ান নেশনস ছিল ইরোকুয়েস (Iroquois) ইতিহাসের ওপর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থগুলোর একটি।[১৩] কোল্ডেন উদ্ভিদবিজ্ঞানের ওপরও একটি বই লিখেছিলেন যা কার্ল লিনিয়াস-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং ফ্র্যাঙ্কলিনের সাথে তার দীর্ঘকাল চিঠিপত্র আদান-প্রদান চলত।[১৪][১৫]
স্বাধীনতা-উত্তর কাল
[সম্পাদনা]
যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে টমাস জেফারসন স্বাধীনতার ঘোষণা রচনার মাধ্যমে মার্কিন সাহিত্যে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়াও মার্কিন সংবিধানের ওপর তার প্রভাব, তার আত্মজীবনী, তার নোটস অন দ্য স্টেট অফ ভার্জিনিয়া এবং তার অসংখ্য চিঠিপত্র তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। অ্যালেনজান্ডার হ্যামিলটন, জেমস ম্যাডিসন এবং জন জে-র লেখা দ্য ফেডারেলিস্ট প্রবন্ধগুলো মার্কিন সরকার কাঠামো এবং প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি ফিশার এমস, জেমস ওটিস জুনিয়র এবং প্যাট্রিক হেনরি তাদের রাজনৈতিক রচনা ও বাগ্মিতার জন্য সমাদৃত।
প্রারম্ভিক মার্কিন সাহিত্য তৎকালীন প্রচলিত সাহিত্যিক ধারাগুলোর মধ্যে একটি নিজস্ব স্বর খুঁজে পেতে বেশ সংগ্রাম করেছিল, যার প্রতিফলন দেখা যায় সে সময়ের উপন্যাসে। প্রায়শই ইউরোপীয় শৈলীর অনুকরণ করা হতো, কিন্তু সমালোচকরা সাধারণত এই অনুকরণগুলোকে নিম্নমানের বলে মনে করতেন।
প্রথম মার্কিন উপন্যাস
[সম্পাদনা]১৮শ শতাব্দীর শেষ এবং ১৯শ শতাব্দীর শুরুতে প্রথম মার্কিন উপন্যাসগুলো প্রকাশিত হয়। এই কল্পকাহিনীগুলো জনসাধারণের পাঠের জন্য মুদ্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ দীর্ঘ ছিল। প্রকাশকরা এই আশায় ঝুঁকি নিতেন যে এগুলো হয়তো স্থায়ী বিক্রির তালিকায় নাম লেখাবে এবং পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হবে। এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল কারণ সেই সময়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সাক্ষরতার হার বাড়ছিল। প্রথম মার্কিন উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে টমাস অ্যাটউড ডিগস-এর অ্যাডভেঞ্চারস অফ আলোনসো (১৭৭৫ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত) এবং উইলিয়াম হিল ব্রাউন-এর দ্য পাওয়ার অফ সিম্প্যাথি (১৭৮৯)। ব্রাউনের উপন্যাসে এমন দুই ভাইবোনের বিয়োগান্তক প্রেমের গল্প চিত্রিত হয়েছে যারা একে অপরের আত্মীয় হওয়ার কথা না জেনেই প্রেমে পড়েছিল।
পরবর্তী দশকে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখকও উপন্যাস প্রকাশ করেন। সুসানা রাওসন তার শার্লট: এ টেল অফ ট্রুথ (১৭৯১ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত) উপন্যাসের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।[১৭] ১৭৯৪ সালে ফিলাডেলফিয়া থেকে উপন্যাসটি শার্লট টেম্পল শিরোনামে পুনরায় প্রকাশিত হয়। এটি একটি প্রতারণাপূর্ণ প্রেমের কাহিনী (seduction tale), যা তৃতীয় পুরুষে (third person) লেখা হয়েছে এবং এখানে প্রেমের প্ররোচনা না শুনতে এবং প্রতিরোধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি নয়টি উপন্যাস, ছয়টি নাট্যকর্ম, দুটি কাব্যগ্রন্থ এবং অগণিত গান লিখেছিলেন।[১৭] দেড় শতাব্দী ধরে প্রায় ১৫ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছে যাওয়া শার্লট টেম্পল ছিল স্টো-র আঙ্কেল টমস কেবিন-এর আগে ১৯শ শতাব্দীর সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বই।
হানা ওয়েবস্টার ফস্টার-এর দ্য কোকুয়েট: অর, দ্য হিস্ট্রি অফ এলিজা ওয়ার্টন ১৭৯৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে।[১৮] এলিজা হুইটম্যানের বাস্তব জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচিত এই উপন্যাসটি একজন নারী সম্পর্কে যাকে প্রলুব্ধ ও পরিত্যক্ত করা হয়। এলিজা একজন "কোকুয়েট" বা চঞ্চল নারী ছিলেন যাকে দুইজন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির পুরুষ প্রেম নিবেদন করে: একজন পাদ্রী যিনি তাকে আরামদায়ক ঘরোয়া জীবনের প্রস্তাব দেন এবং অন্যজন একজন লম্পট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে না পেরে এলিজা শেষ পর্যন্ত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন যখন উভয় পুরুষই অন্য নারীকে বিয়ে করে ফেলেন। দ্য কোকুয়েট তৎকালীন সময়ের নারীত্ব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ধারণাগুলোর সফল উপস্থাপনার জন্য প্রশংসিত।[১৯]

দ্য কোকুয়েট এবং শার্লট টেম্পল উভয় উপন্যাসেই নতুন গণতান্ত্রিক পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে সমঅধিকার নিয়ে বাঁচার নারীর অধিকারের বিষয়টি উঠে এসেছে। এই উপন্যাসগুলো 'সেন্টিমেন্টাল' বা আবেগপ্রধান ধারার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, ভ্রান্ত আবেগের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী মন শোনার আহ্বান এবং মানুষের সহজাত মহত্ত্বের ওপর ইতিবাচক গুরুত্বারোপের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। মনে করা হয় যে, মানব স্বভাবের কলুষতা সম্পর্কিত ক্যালভিনিস্ট বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই আবেগপ্রবণতাবাদের (Sentimentalism) উদ্ভব হয়েছিল।[২০] তবে অনেক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও সেই সময়ের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো এই লেখকদের কেবল লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেয়নি।[২১]
চার্লস ব্রকডেন ব্রাউন হলেন প্রারম্ভিক সময়ের এমন একজন মার্কিন ঔপন্যাসিক যার কাজগুলো আজও পাঠ করা হয়। তিনি ১৭৯৮ সালে উইল্যান্ড প্রকাশ করেন এবং ১৭৯৯ সালে প্রকাশ করেন অরমন্ড, এডগার হান্টলি এবং আর্থার মারভিন। এই উপন্যাসগুলো গথিক ধারার অন্তর্ভুক্ত।
কেবল তার প্রকাশনার আয় থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে পারা প্রথম লেখক ছিলেন ওয়াশিংটন আরভিং। তিনি ১৮০৯ সালে তার প্রথম প্রধান বই এ হিস্ট্রি অফ নিউ ইয়র্ক ফ্রম দ্য বিগিনিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড টু দ্য এন্ড অফ দ্য ডাচ ডাইনেস্টি সম্পন্ন করেন।[২২]
পিকারেস্ক (picaresque) ধারার মধ্যে হিউ হেনরি ব্র্যাকেনরিজ ১৭৯২-১৮১৫ সালে মডার্ন শিভালরি প্রকাশ করেন; টাবিথা গিলম্যান টেনি ১৮০১ সালে লিখেছিলেন ফিমেল কুইক্সোটিজম।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে রয়েছেন উইলিয়াম গিলমোর সিমস এবং লিডিয়া মারিয়া চাইল্ড। জন নীল ১৮১৭ সালে তার লেখালেখি শুরু করেন এবং ১৮২৮ সালে তার বিখ্যাত উপন্যাস র্যাচেল ডায়ার প্রকাশ করেন (যা সালেম ডাইনি বিচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত প্রথম উপন্যাস[২৩])। ক্যাথরিন মারিয়া সেজউইক এবং জেমস কার্ক পোল্ডিংও এই সময়ে সক্রিয় ছিলেন। ক্যারোলিনায় বসবাসরত একজন মুসলিম দাস ওমর ইবনে সাঈদ ১৮৩১ সালে আরবি ভাষায় তার আত্মজীবনী লেখেন, যা আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের একটি প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।[২৪] জেমস ফেনিমোর কুপার তার ১৮২৬ সালে রচিত উপন্যাস দ্য লাস্ট অফ দ্য মোহিকানস-এর জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। জর্জ টাকার ১৮২৪ সালে দ্য ভ্যালি অফ শেনানডোহ-এর মাধ্যমে ভার্জিনিয়ার ঔপনিবেশিক জীবনের চিত্র তুলে ধরেন এবং ১৮২৭ সালে দেশের প্রথম কল্পবিজ্ঞানগুলোর একটি: এ ভয়েজ টু দ্য মুন প্রকাশ করেন।
উনবিংশ শতাব্দী – অনন্য মার্কিন শৈলী
[সম্পাদনা]
ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ১৮১২-এর যুদ্ধের পর একটি অনন্য মার্কিন সাহিত্য ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। এই লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় ছিলেন ওয়াশিংটন আরভিং, উইলিয়াম কুলেন ব্রায়ান্ট এবং জেমস ফেনিমোর কুপার-এর মতো ব্যক্তিত্বরা। আরভিং সালমাগুন্ডি-তে রসাত্মক রচনা এবং ১৮০৯ সালে এ হিস্ট্রি অফ নিউ ইয়র্ক, বাই ডাইড্রিক নিকারবকার নামক ব্যঙ্গরচনা লেখেন। ব্রায়ান্ট প্রারম্ভিক রোমান্টিক এবং প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত কবিতা লিখেছিলেন যা ইউরোপীয় উৎস থেকে ভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছিল। কুপারের লেদারস্টকিং টেলস (যার অন্তর্ভুক্ত ১৮২৬ সালের উপন্যাস দ্য লাস্ট অফ দ্য মোহিকানস) অনন্য মার্কিন উপাদান নিয়ে রচিত হয়েছিল যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ—উভয় স্থানেই জনপ্রিয় হয়।
জন নীল একজন সমালোচক হিসেবে মার্কিন সাহিত্যিক জাতীয়তাবাদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নীল আরভিং এবং কুপারের সমালোচনা করেন কারণ তারা মার্কিন ঘটনাগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে পুরনো ব্রিটিশ রীতিনীতির ওপর নির্ভর করতেন।[২৫] তিনি যুক্তি দেন যে, "সফল হতে হলে... [মার্কিন লেখককে] কারো অনুকরণ করা চলবে না... [তাকে] তার পূর্বসূরীদের থেকে ভিন্ন হতে হবে" এবং "সাহিত্যের মহান প্রজাতন্ত্রে আরেকটি স্বাধীনতার ঘোষণা" প্রদান করতে হবে।[২৬] নীল "প্রাকৃতিক লিখন" (natural writing)-এর প্রবর্তক ছিলেন এবং তিনি আমেরিকার সাহিত্যে প্রথম লেখক যিনি তার শব্দচয়ন এবং শৈলীতে স্বাভাবিকতা বজায় রেখেছিলেন।[২৭]
এডগার অ্যালান পো বোস্টনে জন্মগ্রহণ করলেও ভার্জিনিয়ায় বেড়ে ওঠেন এবং নিজেকে মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যুক্ত করতেন। ১৮৩২ সালে তিনি "দ্য মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ", "দ্য পিট অ্যান্ড দ্য পেন্ডুলাম" এবং "দ্য ফল অফ দ্য হাউস অফ আশার"-এর মতো ছোটগল্প লেখা শুরু করেন, যা মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরতা অন্বেষণ করে। পো-র "দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ"-কে প্রথম গোয়েন্দা কাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই সময়ে রসাত্মক লেখকরাও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন নিউ ইংল্যান্ডের সেবা স্মিথ এবং বেঞ্জামিন পেনহালো শিলাবার। এছাড়া মার্কিন ফ্রন্টিয়ার বা সীমান্ত অঞ্চলের জীবন নিয়ে লিখেছিলেন ডেভি ক্রকেট, অগাস্টাস বাল্ডউইন লংস্ট্রিট, জনসন জে. হুপার, টমাস ব্যাংস থর্প এবং জর্জ ওয়াশিংটন হ্যারিস।
নিউ ইংল্যান্ডের একদল লেখক যারা বোস্টন ব্রাহ্মণ (Boston Brahmins) নামে পরিচিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জেমস রাসেল লোয়েল এবং পরবর্তীকালে হেনরি ওয়াদসওয়ার্থ লংফেলো ও অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস সিনিয়র।

১৮৩৬ সালে রাল্ফ ওয়াল্ডো এমারসন তার বিখ্যাত প্রবন্ধ নেচার প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেন যে মানুষের উচিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ত্যাগ করে প্রকৃতির সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চতর আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছানো। ১৮৩৭ সালে কেমব্রিজে তার "দ্য আমেরিকান স্কলার" নামক বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি তার প্রভাব আরও বিস্তৃত করেন, যেখানে তিনি আমেরিকানদের একটি অনন্য মার্কিন লিখনশৈলী তৈরির আহ্বান জানান। তিনি মনে করতেন দেশ এবং ব্যক্তি—উভয়েরই স্বাধীনতা ঘোষণা করা উচিত। এমারসনের প্রভাবে অতিন্দ্রিয়বাদ (Transcendentalism) নামক আন্দোলনটি বিকশিত হয়। এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন এমারসনের বন্ধু হেনরি ডেভিড থরো। তিনি মার্কিন বাণিজ্যিক সংস্কৃতির কড়া সমালোচক ছিলেন। একটি বনের পুকুরধারে দুই বছর একা জীবন কাটানোর পর থরো তার বিখ্যাত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ওয়ালডেন (১৮৫৪) রচনা করেন, যেখানে তিনি সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। অন্যান্য অতিন্দ্রিয়বাদীদের মধ্যে ছিলেন অ্যামোস ব্রনসন অলকট, মার্গারেট ফুলার এবং জর্জ রিপলি।[২৮]
এই প্রজন্মের আমেরিকার ওপর লেখা অন্যতম সেরা কাজ ছিল ফরাসি রাজনীতিক আলেক্সিস দ্য তোকভিল-এর দুই খণ্ডের বই ডেমোক্রেসি ইন আমেরিকা (১৮৩৫ এবং ১৮৪০)। এটি তরুণ আমেরিকার মধ্য দিয়ে তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেয় এবং মার্কিন রাজনীতি, ব্যক্তিবাদ এবং সম্প্রদায়ের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে।
দাসপ্রথা বিলোপবাদ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত উইলিয়াম লয়েড গ্যারিসন ও তার পত্রিকা দ্য লিবারেটর, কবি জন গ্রিনলিফ হুইটিয়ার এবং হ্যারিয়েট বিচার স্টো-কে অনুপ্রাণিত করেছিল। হ্যারিয়েট বিচার স্টো-র বিশ্বখ্যাত উপন্যাস আঙ্কেল টমস কেবিন (১৮৫২) এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রচেষ্টাগুলো দাসদের আত্মজীবনীমূলক আখ্যানগুলোর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছিল।

১৮৩৭ সালে তরুণ নাথানিয়েল হথর্ন (১৮০৪–১৮৬৪) তার গল্পের সংকলন টোয়াইস-টোল্ড টেলস প্রকাশ করেন, যা প্রতীকীবাদ ও রহস্যময় ঘটনায় সমৃদ্ধ ছিল। হথর্ন পরবর্তীতে আধা-রূপক উপন্যাস (romances) লেখেন যা অপরাধবোধ, অহংকার এবং মানসিক অবদমনের বিষয়গুলো অন্বেষণ করে। তার শ্রেষ্ঠ কাজ দ্য স্কারলেট লেটার (১৮৫০) পিউরিটান ম্যাসাচুসেটসের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি নাটকীয় কাহিনী।
হারমান মেলভিল (১৮১৯–১৮৯১) তার সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা টাইপি এবং ওমু-র মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৮৫০ সালে হথর্নের বন্ধু হওয়ার পর মেলভিল তার কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। তার কালজয়ী উপন্যাস মোবি-ডিক (১৮৫১) কেবল একটি সাদা তিমি শিকারের গল্প নয়, বরং এটি মানুষের চরম আসক্তি, মন্দের প্রকৃতি এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের এক গভীর বিশ্লেষণ। তবে তার পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মতো এটিও ব্যবসায়িক ও সমালোচনামূলকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৮৯১ সালে মৃত্যুর সময় তিনি বিলি বাড, সেইলর নামক একটি উপন্যাস অসমাপ্ত রেখে যান। মেলভিলের গভীর দার্শনিক বইগুলো সে সময় কম বিক্রি হয়েছিল এবং মৃত্যুর সময় তিনি বিস্মৃত ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে তাকে পুনরায় আবিষ্কার করা হয়।
মেলভিল, হথর্ন এবং পো-র অতিন্দ্রিয়বাদ-বিরোধী কাজগুলো তৎকালীন জনপ্রিয় সাহিত্যের ডার্ক রোমান্টিসিজম (অন্ধকার রোমান্টিকতাবাদ) নামক উপ-ধারার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জাতিগত সংখ্যালঘু লেখক
[সম্পাদনা]এই সময়ের দাস আখ্যানমূলক আত্মজীবনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফ্রেডরিক ডগলাস-এর ন্যারেটিভ অফ দ্য লাইফ অফ ফ্রেডরিক ডগলাস, অ্যান আমেরিকান স্লেভ (১৮৪৫) এবং হ্যারিয়েট জেকবস-এর ইন্সিডেন্টস ইন দ্য লাইফ অফ আ স্লেভ গার্ল (১৮৬১)। এই সময়েই আমেরিকান ইন্ডিয়ান আত্মজীবনী বিকশিত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উইলিয়াম এপেস-এর এ সান অফ দ্য ফরেস্ট (১৮২৯) এবং জর্জ কপওয়ে-এর দ্য লাইফ, হিস্ট্রি অ্যান্ড ট্রাভেলস অফ কাহ-গে-গা-গাহ-বোহ (১৮৪৭)। তদুপরি, সংখ্যালঘু লেখকরা কথাসাহিত্য প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন; যেমন—প্রারম্ভিক আফ্রিকান আমেরিকান উপন্যাস হিসেবে উইলিয়াম ওয়েলস ব্রাউন-এর ক্লোটেল; অর, দ্য প্রেসিডেন্ট'স ডটার (১৮৫৩), ফ্র্যাঙ্ক জে. ওয়েব-এর দ্য গেরিস অ্যান্ড দেয়ার ফ্রেন্ডস (১৮৫৭), মার্টিন ডেলানি-এর ব্ল্যাক; অর, দ্য হাটস অফ আমেরিকা (১৮৫৯–৬২) এবং হ্যারিয়েট ই. উইলসন-এর আওয়ার নিগ: স্কেচেস ফ্রম দ্য লাইফ অফ আ ফ্রি ব্ল্যাক (১৮৫৯)। এছাড়া জন রোলিন রিজ-এর দ্য লাইফ অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চারস অফ জোয়াকিন মুরিয়েটা (১৮৫৪) প্রকাশিত হয়, যা প্রথম আমেরিকান ইন্ডিয়ান উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি একটি প্রারম্ভিক গল্প যা মেক্সিকান-আমেরিকান সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা করে।
১৯শ শতাব্দীর শেষভাগের বাস্তববাদী কথাসাহিত্য
[সম্পাদনা]
মার্ক টোয়েন (স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স, ১৮৩৫–১৯১০-এর ছদ্মনাম) ছিলেন পূর্ব উপকূলের বাইরে—সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মিসৌরিতে—জন্মগ্রহণকারী প্রথম প্রধান মার্কিন লেখকদের একজন। তার আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ লাইফ অন দ্য মিসিসিপি এবং উপন্যাস অ্যাডভেঞ্চারস অফ টম সয়্যার ও অ্যাডভেঞ্চারস অফ হাকলবেরি ফিন (১৮৮৪)। টোয়েনের লিখনশৈলী সাংবাদিকতা দ্বারা প্রভাবিত, আঞ্চলিক কথ্য ভাষার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত, প্রত্যক্ষ ও অলঙ্কারবর্জিত হলেও অত্যন্ত উদ্দীপক এবং রসাত্মক ছিল—যা আমেরিকানদের ভাষা লেখার ধরন বদলে দিয়েছিল। তার চরিত্রগুলো বাস্তব মানুষের মতো কথা বলে এবং স্থানীয় উপভাষা, নতুন উদ্ভাবিত শব্দ ও আঞ্চলিক টানের ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের স্বতন্ত্র মার্কিন বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।
[Image of Mark Twain's literary contributions and the development of American realism]
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং উপভাষা নিয়ে আগ্রহী অন্যান্য লেখকদের মধ্যে ছিলেন জর্জ ডব্লিউ কেবল, টমাস নেলসন পেজ, জোয়েল চ্যান্ডলার হ্যারিস, মেরি নোয়াইলস মারফ্রি, সারাহ অর্ন জুয়েট, মেরি ই. উইলকিনস ফ্রিম্যান এবং উইলিয়াম সিডনি পোর্টার (ও. হেনরি)। সংখ্যালঘু অভিজ্ঞতার ওপর আলোকপাত করা আঞ্চলিকতাবাদের একটি রূপ দেখা যায় চার্লস ডব্লিউ চেসনাট (আফ্রিকান আমেরিকানদের নিয়ে), মারিয়া রুইজ দ্য বার্টন (ইংরেজি ভাষায় মেক্সিকান-আমেরিকান সমস্যার ওপর লেখা অন্যতম প্রারম্ভিক ঔপন্যাসিক) এবং আব্রাহাম কাহান-এর (ইদ্দিশ প্রভাবিত কাজ) লেখায়।
উইলিয়াম ডিন হাওয়েলস তার দ্য রাইজ অফ সাইলাস ল্যাপহাম (১৮৮৫) উপন্যাস এবং দ্য আটলান্টিক মান্থলি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তার কাজের মাধ্যমে বাস্তববাদী ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।
হেনরি জেমস (১৮৪৩–১৯১৬) পুরাতন বিশ্ব এবং নতুন বিশ্ব সংক্রান্ত টানাপোড়েন নিয়ে সরাসরি লিখেছেন। যদিও তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, জেমস তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডে। তার অনেক উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে এমন সব আমেরিকান যারা ইউরোপে বাস করে বা ভ্রমণ করে। আবেগীয় এবং মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতার চুলচেরা বিশ্লেষণ তার লেখার বৈশিষ্ট্য। তার শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন স্কয়ার (১৮৮০), দ্য পোর্ট্রেট অফ আ লেডি (১৮৮১), দ্য বোস্টনিয়ানস (১৮৮৬), দ্য উইংস অফ দ্য ডাভ (১৯০২), দ্য অ্যাম্বাসেডরস (১৯০৩) এবং দ্য গোল্ডেন বোল (১৯০৪)।
স্টিভেন ক্রেন (১৮৭১–১৯০০), যিনি মূলত তার মার্কিন গৃহযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে লেখা উপন্যাস দ্য রেড ব্যাজ অফ কারেজ (১৮৯৫)-এর জন্য পরিচিত, তিনি তার ম্যাগি: এ গার্ল অফ দ্য স্ট্রিটস (১৮৯৩) উপন্যাসে নিউ ইয়র্ক সিটির যৌনকর্মীদের জীবন চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে থিওডর ড্রেজার (১৮৭১–১৯৪৫) তার সিস্টার ক্যারি (১৯০০) উপন্যাসে এক গ্রাম্য তরুণীর কথা তুলে ধরেছেন যে শিকাগোতে চলে আসে এবং একসময় রক্ষিতা হিসেবে জীবনযাপন করতে শুরু করে। ফ্র্যাঙ্ক নরিস (১৮৭০–১৯০২)-এর কথাসাহিত্য মূলত প্রকৃতিবাদী (naturalist) ধারার ছিল। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ম্যাকটিগ: এ স্টোরি অফ সান ফ্রান্সিসকো (১৮৯৯), দ্য অক্টোপাস: এ স্টোরি অফ ক্যালিফোর্নিয়া (১৯০১) এবং দ্য পিট (১৯০৩)। নরিস এবং হ্যামলিন গারল্যান্ড (১৮৬০–১৯৪০) প্রকৃতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মার্কিন কৃষকদের সমস্যা এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যা নিয়ে লিখেছেন। গারল্যান্ড মূলত মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের নিয়ে তার কথাসাহিত্যের জন্য পরিচিত।[২৯]
[Image of key themes and characteristics of American Literary Naturalism]
সামাজিক উপন্যাস
[সম্পাদনা]এডওয়ার্ড বেলামি-র কাল্পনিক বা ইউটোপীয় উপন্যাস লুকিং ব্যাকওয়ার্ড (১৮৮৮) রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রচিত হয়েছিল।
২০শ শতাব্দীর গদ্য
[সম্পাদনা]
২০শ শতাব্দীর শুরুতে মার্কিন ঔপন্যাসিকরা জীবনের আরও বিস্তৃত অভিজ্ঞতাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কথাসাহিত্যের পরিধি প্রসারিত করছিলেন এবং কখনো কখনো এগুলোকে প্রকৃতিবাদী বাস্তববাদের সাথে যুক্ত করেছিলেন। এডিথ ওয়ারটন (১৮৬২–১৯৩৭) তার গল্প ও উপন্যাসে উচ্চবিত্ত পূর্ব-উপকূলীয় সমাজের ব্যবচ্ছেদ করেছেন, যেখানে তিনি নিজে বেড়ে উঠেছিলেন। তার উপন্যাস দ্য এজ অফ ইনোসেন্স (১৯২০) এমন একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত, যিনি একজন আকর্ষণীয় বহিরাগত নারীর পরিবর্তে প্রথাগত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নারীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক সমস্যা এবং কর্পোরেশনগুলোর ক্ষমতা ছিল সেই সময়ের কিছু লেখকের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। আপটন সিনক্লেয়ার (১৮৭৮–১৯৬৮), যিনি মূলত তার দুর্নীতি অনুসন্ধানমূলক উপন্যাস দ্য জঙ্গল (১৯০৬)-এর জন্য বিখ্যাত, তিনি সমাজতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছিলেন। জ্যাক লন্ডন (১৮৭৬–১৯১৬) তার দ্য আয়রন হিল বা দ্য পিপল অফ দ্য অ্যাবিস-এর মতো বইগুলোর মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমাজতন্ত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছিলেন। এই সময়ের অন্যান্য রাজনৈতিক লেখকদের মধ্যে ছিলেন এডউইন মারখাম (১৮৫২–১৯৪০) এবং উইলিয়াম ভন মুডি। আইডা এম. টারবেল এবং লিংকন স্টেফেন্স সহ কিছু সাংবাদিক সমালোচককে 'মাকব্রেকার্স' (The Muckrakers) হিসেবে অভিহিত করা হতো। হেনরি ব্রুকস অ্যাডামস-এর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আত্মজীবনী দ্য এডুকেশন অফ হেনরি অ্যাডামস (১৯০৭) শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক জীবনের এক তীক্ষ্ণ বর্ণনা তুলে ধরে।
সেই সময়ে বর্ণবাদ বা জাতিগত সমস্যাও একটি সাধারণ বিষয় ছিল, যা পলিন হপকিন্স-এর লেখায় দেখা যায়। তিনি ১৯০০ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে পাঁচটি প্রভাবশালী কাজ প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে, সুই সিন ফার চীনা-মার্কিন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন এবং মারিয়া ক্রিস্টিনা মেনা মেক্সিকান-মার্কিন জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন।
মধ্য-পশ্চিম এবং পশ্চিমা মার্কিন লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন উইলা ক্যাথার (১৮৭৩–১৯৪৭) এবং ওয়ালেস স্টেগনার (১৯০৯–১৯৯৩), যাদের উভয়েরই প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো মূলত তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের পটভূমিতে রচিত।
১৯২০-এর দশক
[সম্পাদনা]
লিখনশৈলী এবং কাঠামোর পরীক্ষামূলক নিরীক্ষা শীঘ্রই সাহিত্যের নতুন বিষয়বস্তুগুলোর সাথে যুক্ত হয়। ১৯০৯ সালে গার্ট্রুড স্টেইন (১৮৭৪–১৯৪৬), যিনি তখন প্যারিসে প্রবাসী ছিলেন, তার উদ্ভাবনীমূলক কাজ থ্রি লাইভস প্রকাশ করেন। এই কাজটি কিউবিজম, জ্যাজ এবং সমসাময়িক শিল্প ও সংগীতের অন্যান্য আন্দোলন সম্পর্কে তার জানাশোনার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল। স্টেইন ১৯২০ এবং ১৯৩০-এর দশকে প্যারিসে বসবাসকারী প্রবাসী সাহিত্যিকদের একদলকে "লস্ট জেনারেশন" (বিস্মৃত প্রজন্ম) হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা পরবর্তীতে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে কর্তৃক ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় পরিভাষা হয়ে ওঠে।
১৯২০-এর দশক মার্কিন সাহিত্যে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। অনেক লেখকেরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি অভিজ্ঞতা ছিল এবং তারা তাদের লেখায় সেই অভিজ্ঞতার কাঠামো ব্যবহার করেছিলেন।[৩০] হেনরি জেমস, গার্ট্রুড স্টেইন এবং কবি এজরা পাউন্ড, এইচ.ডি. ও টি. এস. এলিয়ট-এর কাজগুলো মার্কিন সাহিত্যে একটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটায়। আমেরিকান লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণার জন্য ইউরোপীয় মডেলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কিন্তু যেখানে ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সাহিত্যিক অগ্রগতিগুলো এসেছিল স্বতন্ত্র মার্কিন শৈলী এবং বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে, সেখানে এই সময়ের লেখকরা আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে অবদানের পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন—অনুকারক হিসেবে নয়, বরং সমকক্ষ হিসেবে। একই ধরনের ঘটনা তখন খোদ আমেরিকাতেও ঘটছিল, কারণ ইহুদি লেখকরা (যেমন আব্রাহাম কাহান) আন্তর্জাতিক ইহুদি পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তি এবং ঋণ-নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কালটি ছিল এফ. স্কট ফিটজেরাল্ড (১৮৯৬–১৯৪০)-এর অনেক গল্প ও উপন্যাসের পটভূমি। ফিটজেরাল্ডের কাজ ১৯২০-এর দশকের অস্থির, ভোগবাদী এবং বিদ্রোহী মেজাজকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছিল, যা তিনি নিজেই দ্য জ্যাজ এজ হিসেবে নামকরণ করেছিলেন। ফিটজেরাল্ডের স্বকীয় থিম, যা তার শ্রেষ্ঠ কাজ দ্য গ্রেট গেটসবি-তে অত্যন্ত করুণভাবে ফুটে উঠেছে, তা হলো তরুণদের সোনালী স্বপ্নের ব্যর্থতা এবং হতাশায় বিলীন হওয়ার প্রবণতা। ফিটজেরাল্ড দীর্ঘকাল ধরে লালিত মার্কিন আদর্শসমূহ, যেমন—স্বাধীনতা, সামাজিক ঐক্য, সুশাসন এবং শান্তির পতনের দিকেও আলোকপাত করেছেন; যা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের আধুনিক সমাজের চাপে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ছিল।[৩১] সিনক্লেয়ার লুইস এবং শারউড অ্যান্ডারসন-ও মার্কিন জীবনের সমালোচনা করে উপন্যাস লিখেছিলেন। জন ডস প্যাসোস তার বিখ্যাত যুদ্ধবিরোধী উপন্যাস থ্রি সোলজার্স-এ অন্ধ ঘৃণা, মূর্খতা, অপরাধ প্রবণতা এবং সামরিক জীবনের শ্বাসরুদ্ধকর কঠোরতার বর্ণনা দিয়েছেন।[৩২] তিনি তার বিখ্যাত ইউ.এস.এ. ট্রিলজি-তেও যুদ্ধের কথা লিখেছেন যা মহামন্দার সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।[৩৩] কাঠামোগতভাবে পরীক্ষামূলক এই ট্রিলজিতে বিভিন্ন বর্ণনামূলক ধারাকে একত্রিত করা হয়েছে, যেখানে সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদন, লেখকের আত্মজীবনীর অংশ এবং ইউজিন ভি. ডেবস, রবার্ট এম. লা ফলেট ও ইসাদোরা ডানকান-এর মতো জনব্যক্তিত্বদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (১৮৯৯–১৯৬১), যাকে একসময় "আধুনিক মার্কিন যুগের উজ্জ্বলতম প্রতিভা" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল, তিনি তার ছোটগল্প এবং উপন্যাস যেমন—দ্য সান অলসো রাইজেস এবং আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস-এর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের মতো লেখকদের বিপরীতে হেমিংওয়েকে সাহিত্যিক মিনিমালিজম বা স্বল্পবাদ-এর পূর্বসূরী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ছোট এবং প্রত্যক্ষ গদ্যে লিখতে পছন্দ করতেন এবং যতটা সম্ভব বিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার এড়িয়ে চলতেন। হেমিংওয়ের এই সংক্ষিপ্ত বা মিনিমালিস্ট শৈলী গ্রহণের মূলে ছিল ক্যানসাস সিটি স্টার পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।[৩৪] ১৯৫৪ সালে হেমিংওয়ে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হিসেবে সংস্কৃতি ও লিখনশৈলী—উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রভাব আজও অটুট রয়েছে।[৩৫]
উইলিয়াম ফকনার (১৮৯৭–১৯৬২) ১৯৪৯ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ফকনার তার নিজের কল্পিত মিসিসিপির একটি অঞ্চল ইয়োকনাপাটাফা কাউন্টি-র মাধ্যমে মানবতার এক বিশাল ক্যানভাস তুলে ধরেছেন। তিনি তার চরিত্রগুলোর মনের অবস্থা প্রকাশ করতে তাদের আপাত-অসম্পাদিত অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ করেছেন, যা "স্ট্রিম অফ কনশাসনেস" (stream of consciousness) নামক একটি কৌশল। তিনি বর্তমান সময়ে অতীত—বিশেষ করে গভীর দক্ষিণাঞ্চলের দাসপ্রথার যুগ—কীভাবে টিকে থাকে তা দেখানোর জন্য কাহিনীর সময়ের ধারাকে (time sequences) ওলটপালট করে দিতেন। তার শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে আবসালাম, আবসালাম!, অ্যাজ আই লে ডাইং, দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরি এবং লাইট ইন অগাস্ট।[৩৬]
১৯৩০-এর দশক – মহামন্দার যুগ
[সম্পাদনা]
মহামন্দা আমলের সাহিত্যে সমাজব্যবস্থার রূঢ় ও প্রত্যক্ষ সমালোচনা ফুটে উঠেছে। জন স্টেইনব্যাক (১৯০২–১৯৬৮) তার বহু কাহিনীর পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার সালিনাস-কে, যেখানে তার জন্ম হয়েছিল। তার লিখনশৈলী ছিল সরল ও মর্মস্পর্শী, যা তাকে সমালোচকদের কাছে না হলেও পাঠকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তার গল্পের দরিদ্র ও শ্রমজীবী চরিত্রগুলো একটি মার্জিত ও সৎ জীবন যাপনের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করত। তার শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত দ্য গ্রেপস অফ র্যাথ (১৯৩৯) একটি শক্তিশালী সামাজিক উপন্যাস, যা ওকলাহোমার এক দরিদ্র পরিবার 'জোর্ডস' (Joads)-দের ভালো জীবনের সন্ধানে ক্যালিফোর্নিয়া পাড়ি দেওয়ার কাহিনী বর্ণনা করে।
তার অন্যান্য জনপ্রিয় উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে টর্টিলা ফ্ল্যাট, অফ মাইস অ্যান্ড মেন, ক্যানারি রো এবং ইস্ট অফ ইডেন। ১৯৬২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
নাথানায়েল ওয়েস্ট তার সংক্ষিপ্ত জীবনে দুটি ছোট উপন্যাস লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্রুপদী সাহিত্যকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মিস লোনলিহার্টস এমন একজন অনিচ্ছুক পরামর্শদাতার (এক্ষেত্রে একজন পুরুষ) জীবন তুলে ধরে যিনি তার কাছে আসা বিয়োগান্তক চিঠিগুলোর ভার সহ্য করতে পারেন না। দ্য ডে অফ দ্য লোকাস্ট হলিউডের গতানুগতিক চরিত্র এবং সেখানকার জীবনের অন্ধকার বিদ্রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
অ-কল্পকাহিনী বা নন-ফিকশন ধারায় জেমস এজি-র লেট আস নাউ প্রেইজ ফেমাস মেন ১৯৩৬ সালে অ্যালাবামার তিনটি সংগ্রামী বর্গাচাষী পরিবারের জীবন পর্যবেক্ষণ ও চিত্রিত করে। তথ্যনিষ্ঠ প্রতিবেদনের সাথে কাব্যিক সুষমার সমন্বয় ঘটিয়ে এজি তিনি যা দেখেছিলেন তার এক সঠিক ও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতার অনুভূতিও ব্যক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন জনসংখ্যার এক প্রায় অদৃশ্য অংশের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন।
হেনরি মিলারের যৌন অন্বেষণমূলক আধা-আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসগুলো প্যারিসে লেখা ও প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলোকে অশ্লীল হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ১৯৬২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। ততদিনে ট্রপিক অফ ক্যানসার (১৯৩৪) এবং ব্ল্যাক স্প্রিং-এর থিম এবং শৈলীগত উদ্ভাবনগুলো ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার খোলামেলা উপন্যাসের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কথাসাহিত্য
[সম্পাদনা]উপন্যাস
[সম্পাদনা]
এই সময়কালটি মূলত সর্বশেষ কয়েকজন বাস্তববাদী আধুনিকতাবাদী, প্রবলভাবে রোমান্টিক বিটনিক এবং ব্যক্তিগত, জাতিগত ও গোষ্ঠীগত থিমের অন্বেষণ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেশ কয়েকটি প্রধান উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল: নর্মান মেইলার-এর দ্য নেকেড অ্যান্ড দ্য ডেড (১৯৪৮), জোসেফ হেলার-এর ক্যাচ-২২ (১৯৬১) এবং কার্ট ভনেগাট জুনিয়র-এর স্লটারহাউস-ফাইভ (১৯৬৯)। অন্যদিকে, ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী দক্ষিণী লেখক ওয়াকার পার্সি-র দ্য মুভিগোয়ার (১৯৬২) উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য কোরীয় যুদ্ধ ছিল ট্রমার উৎস; যেখানে লেখক "আধুনিক যুগে মানুষের স্থানচ্যুতি" অন্বেষণের চেষ্টা করেছেন।[৩৭]
কানাডায় জন্মগ্রহণ করলেও শিকাগোতে বেড়ে ওঠা সল বেলো অন্যতম প্রভাবশালী মার্কিন লেখক হয়ে ওঠেন। দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ অগি মার্চ (১৯৫৩) এবং হার্জগ (১৯৬৪)-এর মতো কাজের মাধ্যমে বেলো আমেরিকায় ইহুদি জীবনের প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরেন যা পরবর্তী কাজের পথ প্রশস্ত করে দেয়। তিনি ১৯৭৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে জে.ডি. স্যালিঞ্জার-এর দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই (১৯৫১), সিলভিয়া প্লাথ-এর দ্য বেল জার (১৯৬৩) এবং রুশ-মার্কিন লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভ-এর লোলিটা (১৯৫৫)। হার্পার লি-র অত্যন্ত জনপ্রিয় টু কিল আ মকিংবার্ড (১৯৬০) ছিল জাতিগত বৈষম্য এবং শ্বেতাঙ্গদের দায়িত্ববোধ নিয়ে লেখা একটি অপেক্ষাকৃত কম তীব্র ঘরানার উপন্যাস।
১৯৫০-এর দশকে "বিট জেনারেশন"-এর কবিতা ও কথাসাহিত্যের বিকাশ ঘটে, যা প্রাথমিকভাবে নিউ ইয়র্কের একদল বুদ্ধিজীবীর হাত ধরে শুরু হলেও পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রতিষ্ঠিত হয়। 'বিট' (Beat) শব্দটি দিয়ে জ্যাজ সংগীতের প্রতি-সংস্কৃতিমূলক ছন্দ, যুদ্ধ-পরবর্তী রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেতনা এবং মাদক, অ্যালকোহল, দর্শন ও ধর্মের (বিশেষ করে জেন বৌদ্ধধর্ম) মাধ্যমে নতুন ধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহকে বোঝানো হতো। অ্যালেন গিন্সবার্গ তার হুইটম্যানীয় কবিতা হাউল (১৯৫৬)-এর মাধ্যমে এই ধারার সুর নির্ধারণ করে দেন, যা শুরু হয়েছিল এই পঙক্তি দিয়ে: "আমি আমার প্রজন্মের সেরা মস্তিষ্কগুলোকে উন্মাদনায় ধ্বংস হতে দেখেছি"। বিট জেনারেশনের উপন্যাসের কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে জ্যাক কেরুয়াক-এর অন দ্য রোড (১৯৫৭), যা মহাদেশ জুড়ে একটি আত্মসন্ধানী ভ্রমণের ইতিবৃত্ত, এবং উইলিয়াম এস. বারোজ-এর নেকেড লাঞ্চ (১৯৫৯), যা মূলত বর্ণনাকারীর ভ্রমণ এবং কঠিন মাদকের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষার বর্ণনাকারী কতগুলো খণ্ডচিত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরীক্ষামূলক কাজ।


বিপরীতভাবে, জন আপডাইক মার্কিন জীবনকে আরও গভীর কিন্তু সমানভাবে বৈপ্লবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার ১৯৬০ সালের উপন্যাস র্যাবিট, রান ছিল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রধান ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে হ্যারি "র্যাবিট" অ্যাংস্ট্রম-এর উত্থান-পতনের কাহিনীর প্রথম পর্ব। এটি প্রকাশের সময় মার্কিন মধ্যবিত্তের চরিত্রায়ন এবং পরকীয়ার মতো নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। আপডাইকের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভাবনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বর্তমানকালে বর্ণনা (present-tense narration), তার সমৃদ্ধ অলঙ্কৃত ভাষা এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ। তার কাজ খ্রিস্টীয় থিম দ্বারাও গভীরভাবে প্রভাবিত। র্যাবিট সিরিজের শেষ দুটি খণ্ড, র্যাবিট ইজ রিচ (১৯৮১) এবং র্যাবিট অ্যাট রেস্ট (১৯৯০), উভয়ই কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে হেনরি বেক উপন্যাসসমূহ (১৯৭০–৯৮), দ্য উইচেস অফ ইস্টউইক (১৯৮৪) এবং ইন দ্য বিউটি অফ দ্য লিলিজ (১৯৯৬)।
আপডাইকের সাথে প্রায়শই ঔপন্যাসিক ফিলিপ রথ-এর নাম যুক্ত করা হয়। রথ মার্কিন সমাজে, বিশেষ করে যুদ্ধ-পরবর্তী যুগে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইহুদি পরিচয়কে বলিষ্ঠভাবে অন্বেষণ করেছেন। রথের কাজ প্রায়শই নিউ জার্সি-র নিউয়ার্কের পটভূমিতে রচিত এবং এটি অত্যন্ত আত্মজীবনীমূলক বলে পরিচিত। তার অনেক প্রধান চরিত্র, বিশেষ করে ইহুদি ঔপন্যাসিক নাথান জুকারম্যান-কে রথের অল্টার ইগো বা রূপান্তর বলে মনে করা হয়। রথের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে জুকারম্যান উপন্যাসসমূহ, বিতর্কিত পোর্টনয়'স কমপ্লেইন্ট (১৯৬৯) এবং গুডবাই, কলম্বাস (১৯৫৯)। তিনি তার প্রধান উপন্যাস আমেরিকান পাস্টোরাল (১৯৯৭)-এর জন্য পুলিৎজার পুরস্কার সহ প্রায় প্রতিটি প্রধান মার্কিন সাহিত্য পুরস্কার জয় করেছেন।

আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের ক্ষেত্রে, রাল্ফ এলিসন-এর ১৯৫২ সালের উপন্যাস ইনভিজিবল ম্যান যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটি উত্তরাঞ্চলীয় শহরের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির গল্প যা সমাজে বিদ্যমান বর্ণবাদী উত্তেজনাকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি একটি অস্তিত্ববাদী চরিত্র বিশ্লেষণেও সফল হয়েছে। রিচার্ড রাইট তার বহুল পঠিত ছোটগল্প "দ্য ম্যান হু ওয়াজ অলমোস্ট আ ম্যান" (১৯৩৯), বিতর্কিত উপন্যাস নেটিভ সান (১৯৪০) এবং ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত ব্ল্যাক বয়-এর মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। ব্ল্যাক বয়-এ রাইট তার শৈশব এবং বর্ণবাদী দক্ষিণাঞ্চলে তার স্ব-শিক্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।
সম্ভবত যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং চ্যালেঞ্জিং মার্কিন ঔপন্যাসিক ছিলেন উইলিয়াম গ্যাডিস। তার দ্য রিকগনিশনস (১৯৫৫) এবং জে আর (১৯৭৫)-এর মতো বিশাল উপন্যাসগুলো মূলত উদ্ধৃতিহীন সংলাপের মাধ্যমে উপস্থাপিত যা পাঠকদের প্রবল অংশগ্রহণ দাবি করে। গ্যাডিসের প্রধান থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি, পুঁজিবাদ, ধর্মীয় অন্ধত্ব এবং বিচার ব্যবস্থা, যা আধুনিক মার্কিন জীবনের একটি সমালোচনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। গ্যাডিসের কাজ পরবর্তীতে টমাস পিনচন, ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস এবং ডন ডিলিলো-র মতো উচ্চাভিলাষী "উত্তর-আধুনিক" কথাসাহিত্যিকদের প্রভাবিত করেছে। আরেকজন অবহেলিত কিন্তু শক্তিশালী যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন ঔপন্যাসিক ছিলেন জন হকস, যার পরাবাস্তববাদী কথাসাহিত্য সহিংসতা এবং যৌনতার থিম নিয়ে কাজ করে। তার অন্যতম প্রধান কাজ হলো ছোট ভৌতিক উপন্যাস দ্য লাইম টুইগ (১৯৬১)।
স্বল্পদৈর্ঘ্য কথাসাহিত্য
[সম্পাদনা]যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ছোটগল্পের শিল্পকলা আবারও বিকশিত হয়। এর অন্যতম শ্রদ্ধেয় কারিগর ছিলেন ফ্ল্যানারি ও'কনার, যিনি একটি স্বতন্ত্র সাউদার্ন গথিক নন্দনতত্ত্ব তৈরি করেছিলেন যেখানে চরিত্রগুলো এক স্তরে মানুষ হিসেবে এবং অন্য স্তরে প্রতীক হিসেবে কাজ করত। একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসেবে ও'কনার প্রায়শই তার গল্পগুলোতে—যার মধ্যে রয়েছে বহুল পঠিত সংকলন এ গুড ম্যান ইজ হার্ড টু ফাইন্ড অ্যান্ড আদার স্টোরিজ এবং এভরিথিং দ্যাট রাইজেস মাস্ট কনভার্জ—এবং তার দুটি উপন্যাস ওয়াইজ ব্লাড (১৯৫২) ও দ্য ভায়োলেন্ট বিয়ার ইট অ্যাওয়ে (১৯৬০)-তে গভীর ধর্মীয় থিম ফুটিয়ে তুলতেন। তিনি বিশেষ করে পারমাণবিক যুগের পটভূমিতে সত্যের সন্ধান এবং ধর্মীয় সংশয়বাদের ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। এই ধারার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাথরিন অ্যান পোর্টার, ইউডোরা ওয়েল্টি, জন চিভার, রেমন্ড কার্ভার, টোবিয়াস উলফ এবং আরও পরীক্ষামূলক লেখক ডোনাল্ড বার্থেলমি।
সাহিত্যিক অ-কল্পকাহিনী
[সম্পাদনা]বিংশ শতাব্দীর প্রধান মার্কিন প্রাবন্ধিকদের মধ্যে জেমস বল্ডউইন, গোর ভিদাল, সুসান সনট্যাগ, ফ্ল্যানারি ও'কনার[৩৮] এবং জোয়ান ডিডিয়ন-এর মতো লেখকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সমসাময়িক কথাসাহিত্য
[সম্পাদনা]
যদিও এর সঠিক পরিসীমা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য আন্দোলন হলো উত্তর-আধুনিকতাবাদ (postmodernism)। এই ধারার অন্যতম প্রবর্তক টমাস পিনচন তার কাজে আধুনিকতাবাদী বৈশিষ্ট্য যেমন—সময়ের বিকৃতি, অবিশ্বাস্য বর্ণনাকারী এবং অভ্যন্তরীণ একোক্তি (internal monologue) ব্যবহার করেছেন। এর সাথে তিনি যুক্ত করেছেন স্বতন্ত্র উত্তর-আধুনিক কৌশল যেমন—মেটাফিকশন, ভাবলিপিধর্মী চরিত্রায়ন, অবাস্তব নাম (উডিপা মাস, বেনি প্রোফেন ইত্যাদি), কাহিনীর উপাদান ও অতিরঞ্জিত হাস্যরস, ইচ্ছাকৃতভাবে কালানুক্রমিক ভুল (এনাক্রোনিজম) এবং অপ্রচলিত শব্দের (আর্কেইজম) ব্যবহার। এছাড়াও তার লেখায় উত্তর-ঔপনিবেশিক থিমের ওপর গভীর আলোকপাত এবং উচ্চ ও নিম্ন সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক মিশ্রণ দেখা যায়। ১৯৭৩ সালে তিনি এই ধারার একটি অগ্রণী কাজ গ্র্যাভিটি'স রেইনবো প্রকাশ করেন, যা ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড জয় করে এবং সে বছর পুলিৎজার পুরস্কারের জন্য সর্বসম্মতভাবে মনোনীত হয়। তার অন্যান্য প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে তার প্রথম উপন্যাস ভি. (১৯৬৩), দ্য ক্রাইং অফ লট ৪৯ (১৯৬৬), মেসন অ্যান্ড ডিকসন (১৯৯৭) এবং অ্যাগেইনস্ট দ্য ডে (২০০৬)।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী টনি মরিসন একটি স্বতন্ত্র গীতিধর্মী গদ্যশৈলীর জন্য পরিচিত। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তার বিতর্কিত প্রথম উপন্যাস দ্য ব্লুয়েস্ট আই সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। ১৯৬৫ সালের নাগরিক অধিকার আইন (Civil Rights Act) স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই রচিত এই উপন্যাসটি মার্কিন স্কুলগুলোতে ব্যাপকভাবে পড়ানো হয়। এতে নিকটাত্মীয় দ্বারা ধর্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এবং একটি ঐতিহাসিকভাবে বর্ণবাদী সমাজের সৌন্দর্যের ধারণাগুলো অন্বেষণ করা হয়েছে। এখানে শ্বেতাঙ্গদের সৌন্দর্যের খোঁজে একটি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আত্মবিনাশী চিত্র ফুটে উঠেছে। এরপর থেকে মরিসন গীতিধর্মী ফ্যান্টাসি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, যেমন—তার দুটি জনপ্রিয় কাজ সং অফ সলোমন (১৯৭৭) এবং বিলাভড (১৯৮৭)। বিলাভড-এর জন্য তিনি পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। সমালোচক হ্যারল্ড ব্লুম তার লেখাকে ভার্জিনিয়া উলফ-এর সাথে তুলনা করেছেন এবং নোবেল কমিটি তার কাজের মধ্যে উইলিয়াম ফকনার ও লাতিন আমেরিকার জাদু বাস্তববাদী ঐতিহ্যের মিল খুঁজে পেয়েছে। ২০০৬ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক জরিপে বিলাভড গত ২৫ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।

কমা এবং সেমিকোলনের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে একটি গীতিধর্মী ও সাবলীল শৈলীতে লিখতেন কর্মাাক ম্যাকার্থি। তার লিখনশৈলী একইসাথে উইলিয়াম ফকনার এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ে-র কথা মনে করিয়ে দেয়। ম্যাকার্থি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের সাহিত্যিক ঐতিহ্য এবং একাধিক ঘরানাকে তার লেখায় ধারণ করেছেন। তিনি তার ফকনারীয় ধাঁচের প্রথম উপন্যাস দ্য অর্চার্ড কিপার (১৯৬৫) এবং সাট্রি (১৯৭৯)-তে সাউদার্ন গথিক নন্দনতত্ত্ব ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মেলভিলের কথা মনে করিয়ে দেওয়া তার ব্লাড মেরিডিয়ান (১৯৮৫) উপন্যাসে তিনি এপিক ওয়েস্টার্ন ঐতিহ্য ব্যবহার করেছেন। হ্যারল্ড ব্লুম এটিকে ফকনারের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ম্যাকার্থির অন্যান্য বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে তার প্রশংসিত 'বর্ডার ট্রিলজি' (১৯৯২–৯৮) এবং পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী ধ্বংস-পরবর্তী (post-apocalyptic) ঘরানার উপন্যাস দ্য রোড (২০০৭)। তার উপন্যাসগুলো যেমন ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে, তেমনি সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে এবং তার বেশ কিছু কাজের চলচ্চিত্র রূপায়ণ হয়েছে।
ডন ডিলিলো ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তার উপন্যাস হোয়াইট নয়েজ-এর মাধ্যমে সাহিত্য জগতে খ্যাতি অর্জন করেন। মৃত্যু এবং ভোগবাদের (consumerism) বিষয়গুলো নিয়ে রচিত এই উপন্যাসটি একইসাথে একটি রসাত্মক সামাজিক সমালোচনা। ডিলিলো তার লেখক জীবন শুরু করেন ১৯৭১ সালে আমেরিকানা-র মাধ্যমে। হ্যারল্ড ব্লুম তাকে ফিলিপ রথ, করম্যাক ম্যাকার্থি এবং টমাস পিনচনের মতো সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ মার্কিন লেখকদের কাতারে রেখেছেন। তার ১৯৯৭ সালের উপন্যাস আন্ডারওয়ার্ল্ড স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার এবং পরবর্তী মার্কিন জীবনের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করে, যা সাধারণত তার শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে লিব্রা (১৯৮৮), মাও ২ (১৯৯১) এবং ফলিং ম্যান (২০০৭)।

উত্তর-আধুনিক কৌশলের অংশ হিসেবে ডাইগ্রেশন (digression), বর্ণনামূলক খণ্ডন এবং বিস্তারিত প্রতীকিবাদের ব্যবহার করে ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস তার লেখক জীবন শুরু করেন ১৯৮৭ সালে দ্য ব্রুম অফ দ্য সিস্টেম প্রকাশের মাধ্যমে। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ইনফিনিট জেস্ট (১৯৯৬) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে স্বীকৃত। এটি আমেরিকার ভবিষ্যৎ রূপ এবং সেখানকার মিডিয়া-নির্ভর জীবনের এক রসাত্মক সমালোচনা। তার অসমাপ্ত শেষ উপন্যাস দ্য পেইল কিং (২০১১) ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি তিনটি গল্প সংকলনও লিখেছিলেন। ওয়ালেসের বন্ধু ও সমসাময়িক লেখক জোনাথন ফ্রানজেন ২০০১ সালে তার ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী উপন্যাস দ্য কারেকশনস প্রকাশের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেন। এটি ল্যাম্বার্ট পরিবারের ভাঙনের ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি ট্র্যাজিকমেডি। ২০১০ সালে তিনি তার পরবর্তী বহুল প্রশংসিত উপন্যাস ফ্রিডম প্রকাশ করেন।
শতকের শুরুতে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল শেবন, যার পুলিৎজার বিজয়ী উপন্যাস দ্য অ্যামাজিং অ্যাডভেঞ্চারস অফ ক্যাভালিয়ার অ্যান্ড ক্লে (২০০০) কমিকস ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগের গল্প বলে। ডেনিস জনসন তার ২০০৭ সালের উপন্যাস ট্রি অফ স্মোক-এর জন্য ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি ধ্রুপদী সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও লুইস এরড্রিক তার ২০০৮ সালের উপন্যাস দ্য প্লেগ অফ ডোভস-এর মাধ্যমে আদিবাসী বা উপজাতীয় অভিজ্ঞতার এক নিপুণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার ২০১২ সালের উপন্যাস দ্য রাউন্ড হাউস-ও অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে এবং ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে।
অটোফিকশন
[সম্পাদনা]
অটোফিকশন (Autofiction) হলো একটি সাহিত্য আন্দোলন যা একবিংশ শতাব্দী জুড়ে মার্কিন সাহিত্যে বেশ গতি লাভ করেছে। ১৯৭৭ সালে ফরাসি লেখক সার্জ দুব্রোভস্কি এই পরিভাষাটি প্রবর্তন করেন। অটোফিকশন উপ-ধারাটি মূলত আত্মজীবনী এবং কথাসাহিত্যের মিশ্রণ, যা লেখকদের এই দুটি ধারার গঠন ও সারবস্তুর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সুযোগ করে দেয়।[৩৯] ফরাসি সাহিত্য জগতে এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দ হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের উপন্যাসের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মার্কিন সাহিত্য সমালোচনায় এটি নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হয়েছে।[৪০]
অটোফিকশন ধারা সম্পর্কে ইংরেজির অধ্যাপক ব্র্যান নিকোল বলেন:
American autofiction is best regarded less as a form which interrogates the complex workings of memory and their effect on subjectivity and more as evidence of the preoccupation with the conditions of authorship, especially institutional, which has characterized American writing in the late twentieth and twenty-first centuries.[৪১]
মার্কিন অটোফিকশনকে স্মৃতির জটিল প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তি-সত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনো সাহিত্যরূপ হিসেবে দেখার চেয়ে বরং লেখকত্বের (authorship) শর্তাবলি—বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শর্তাবলি—নিয়ে মগ্ন থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখাই শ্রেয়, যা বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং একবিংশ শতাব্দীর মার্কিন লেখালিখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।[৪১]
অটোফিকশন ধারায় লিখেছেন এমন উল্লেখযোগ্য মার্কিন লেখকদের মধ্যে রয়েছেন ব্রেট ইস্টন এলিস, শিলা হেটি, ম্যাগি নেলসন, ক্রিস ক্রস এবং বেন লার্নার।[৪২][৪১]
কবিতা
[সম্পাদনা]

পিউরিটান কবিতা ছিল গভীরভাবে ধর্মীয় এবং ১৬৪০ সালে প্রকাশিত অন্যতম প্রারম্ভিক কাব্যগ্রন্থ ছিল বে সাম বুক (Bay Psalm Book), যা মূলত বাইবেলের সামের (Psalms) অনুবাদের একটি সংকলন। তবে অনুবাদকদের উদ্দেশ্য সাহিত্য সৃষ্টি করা ছিল না, বরং উপাসনায় ব্যবহারের জন্য স্তোত্র (hymns) তৈরি করা ছিল।[৭] গীতি কবিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা হলেন অ্যান ব্র্যাডস্ট্রিট, যিনি তার পরিবার এবং ঘরোয়া জীবন নিয়ে ব্যক্তিগত কবিতা লিখতেন; যাজক এডওয়ার্ড টেলর, যার প্রিপারেটরি মেডিটেশনস কবিতাগুলো উপাসনা পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লেখা হয়েছিল; এবং মাইকেল উইগলসওয়ার্থ, যার সর্বাধিক বিক্রীত কবিতা দ্য ডে অফ ডুম (১৬৬০) বিচার দিবসের বর্ণনা দেয়। এটি সেই বছরেই প্রকাশিত হয়েছিল যখন পিউরিটান-বিরোধী দ্বিতীয় চার্লস ব্রিটিশ সিংহাসনে পুনরুদ্ধার হন। এর দুই বছর পর তিনি গড'স কন্ট্রোভার্সি উইথ নিউ ইংল্যান্ড প্রকাশ করেন। নিকোলাস নয়েস তার লঘু বা নিম্নমানের কবিতার (doggerel) জন্য পরিচিত ছিলেন।
১৮শ শতাব্দী
[সম্পাদনা]১৮শ শতাব্দীতে কবিদের কাছে আমেরিকার নিজস্ব বিষয়বস্তু প্রধান গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এই প্রবণতাটি ফিলিপ ফ্রেঁনো (১৭৫২–১৮৩২)-এর কাজগুলোতে সবচেয়ে স্পষ্ট। তিনি নেটিভ আমেরিকানদের প্রতি তার অস্বাভাবিক সহানুভূতিশীল মনোভাবের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিলেন, যা মার্কিন সংস্কৃতির প্রতি তার সংশয়বাদেরই প্রতিফলন ছিল।[৪৩] তবে এই পরবর্তী ঔপনিবেশিক যুগের কবিতাগুলো সাধারণত ইউরোপের সমসাময়িক কবিতার দ্বারা প্রভাবিত ছিল। রেবেকা হ্যামন্ড লার্ড (১৭৭২–১৮৫৫)-এর কাজগুলো আজও প্রাসঙ্গিক, যিনি পরিবেশ এবং মানব প্রকৃতি উভয় বিষয়েই লিখেছিলেন।[৪৪]
১৯শ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
'ফায়ারসাইড পোয়েটস' (যা স্কুলরুম বা হাউসহোল্ড পোয়েটস নামেও পরিচিত) ছিলেন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আমেরিকার প্রথম দিককার কয়েকজন প্রধান কবি। তাদের কবিতাগুলো মুখস্থ করা খুব সহজ ছিল কারণ তারা সাধারণত কবিতার প্রথাগত কাঠামো (মানসম্মত ছন্দ, নিয়মিত মাত্রা এবং অন্ত্যমিলযুক্ত স্তবক) মেনে চলতেন। এই কবিতাগুলো প্রায়ই বাড়িতে আগুনের পাশে বসে আবৃত্তি করা হতো (তাই এই নাম) এবং স্কুলেও পড়ানো হতো (যেমন—"পল রিভিয়ার'স রাইড")। তারা মূলত অনন্য মার্কিন বিষয়বস্তু এবং দাসপ্রথা বিলোপের মতো রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কাজ করতেন। এই দলে ছিলেন হেনরি ওয়াদসওয়ার্থ লংফেলো, উইলিয়াম কুলেন ব্রায়ান্ট, জন গ্রিনলিফ হুইটিয়ার, জেমস রাসেল লোয়েল এবং অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস সিনিয়র। লংফেলো সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং তাকে প্রায়ই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত মার্কিন কবি হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনিই প্রথম মার্কিন কবি যার আবক্ষ মূর্তি ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবির 'পোয়েটস কর্নার'-এ স্থান পেয়েছে।[৪৫]
ওয়ল্ট হুইটম্যান (১৮১৯–১৮৯২) এবং এমিলি ডিকিনসন (১৮৩০–১৮৮৬)—যাদের ১৯শ শতাব্দীর আমেরিকার শ্রেষ্ঠ দুই কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়—মেজাজ এবং শৈলীর দিক থেকে একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিলেন। ওয়ল্ট হুইটম্যান ছিলেন একজন শ্রমজীবী মানুষ, একজন পরিব্রাজক, মার্কিন গৃহযুদ্ধের (১৮৬১–১৮৬৫) সময়কার একজন স্ব-নিযুক্ত সেবক এবং কবিতার একজন উদ্ভাবক। তার শ্রেষ্ঠ কাজ ছিল লিভস অফ গ্রাস, যেখানে তিনি মার্কিন গণতন্ত্রের সর্বজনীনতাকে ফুটিয়ে তুলতে মুক্তক ছন্দ এবং অসম দৈর্ঘ্যের পঙক্তি ব্যবহার করেছেন। এই থিমটিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে কবি নিজের অহংবোধ ছাড়াই নিজের সাথে মার্কিন অভিজ্ঞতার বিশাল পরিধিকে একীভূত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, লিভস অফ গ্রাস-এর কেন্দ্রীয় দীর্ঘ কবিতা সং অফ মাইসেলফ-এ হুইটম্যান লিখেছেন: "এগুলো আসলে সব যুগে সব দেশের সব মানুষের চিন্তা, এগুলো আমার মৌলিক কোনো চিন্তা নয়।"
হুইটম্যানের ভাষায় তিনি ছিলেন "বৈদ্যুতিক দেহের" (the body electric) কবি। স্টাডিজ ইন ক্লাসিক আমেরিকান লিটারেচার-এ ইংরেজ ঔপন্যাসিক ডি. এইচ. লরেন্স লিখেছেন যে, হুইটম্যানই "প্রথম ব্যক্তি যিনি এই পুরনো নৈতিক ধারণাটিকে চুরমার করে দিয়েছিলেন যে মানুষের আত্মা রক্ত-মাংসের শরীরের চেয়ে 'উচ্চতর' কিছু।"
এর বিপরীতে, এমিলি ডিকিনসন ম্যাসাচুসেটসের ছোট শহর অ্যামহার্স্টে একজন অভিজাত অবিবাহিত নারী হিসেবে নিভৃত জীবনযাপন করতেন। তার কবিতা অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, রসালো এবং তীক্ষ্ণ। তার কাজ সেই সময়ের জন্য প্রথাগত ছিল না এবং তার জীবদ্দশায় খুব সামান্যই প্রকাশিত হয়েছিল। তার অনেক কবিতা মৃত্যুর বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, তবে প্রায়ই তাতে একটি কৌতুকপূর্ণ মোড় থাকত। তার একটি কবিতা "বিকজ আই কুড নট স্টপ ফর ডেথ" (Because I could not stop for Death) শুরু হয়েছে এভাবে—"সে দয়াপরবশ হয়ে আমার জন্য থামল।" ডিকিনসনের আরেকটি কবিতার শুরুটি পুরুষশাসিত সমাজে একজন নারী এবং অস্বীকৃত কবি হিসেবে তার অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করে: "আমি কেউ নই! তুমি কে? / তুমিও কি কেউ নও?"[৪৬]
২০শ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
মার্কিন কবিতা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং মধ্যভাগে সম্ভবত তার শিখরে পৌঁছেছিল। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে ছিলেন ওয়ালেস স্টিভেন্স ও তার হারমোনিয়াম (১৯২৩) ও দ্য অরোরাস অফ অটাম (১৯৫০); টি. এস. এলিয়ট ও তার দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড (১৯২২); রবার্ট ফ্রস্ট ও তার নর্থ অফ বোস্টন (১৯১৪) ও নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৯২৩); হার্ট ক্রেন ও তার হোয়াইট বিল্ডিংস (১৯২৬) ও মহাকাব্যিক চক্র দ্য ব্রিজ (১৯৩০); এবং এজরা পাউন্ড ও তার দ্য ক্যান্টোস (১৯১৭–১৯৬৯)। এছাড়াও ছিলেন উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, মারিয়ান মুর, ই. ই. কামিংস, এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিলেই এবং ল্যাংস্টন হিউজ।
পাউন্ডের কবিতা ছিল জটিল এবং কখনো কখনো অস্পষ্ট, যেখানে শিল্পের অন্যান্য মাধ্যম এবং পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের বিশাল সাহিত্যের উদ্ধৃতি থাকত।[৪৭] তিনি অনেক কবিকে প্রভাবিত করেছিলেন, বিশেষ করে টি. এস. এলিয়টকে (১৮৮৮–১৯৬৫)। এলিয়ট প্রতীকের ঘন বুননে পরিমিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত কবিতা লিখতেন। দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এ তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সমাজের একটি তিক্ত চিত্রকে খণ্ডিত এবং আতঙ্কিত চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। পাউন্ডের মতো এলিয়টের কবিতাও অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ (allusive) হতে পারত এবং দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড-এর কিছু সংস্করণে কবির নিজের দেওয়া পাদটীকাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ১৯৪৮ সালে এলিয়ট সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।[৪৮]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাল
[সম্পাদনা]যুদ্ধোত্তর সবচেয়ে সম্মানিত মার্কিন কবিদের মধ্যে রয়েছেন: জন অ্যাশবেরি, যিনি পরাবাস্তববাদী 'নিউ ইয়র্ক স্কুল অফ পোয়েট্রি'-র অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং তার বিখ্যাত সেলফ-পোর্ট্রেট ইন আ কনভেক্স মিরর (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৭৬) এর জন্য পরিচিত; এলিজাবেথ বিশপ এবং তার নর্থ অ্যান্ড সাউথ (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৫৬) ও "জিওগ্রাফি ৩" (ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, ১৯৭০); রিচার্ড উইলবার এবং তার থিংস অফ দিস ওয়ার্ল্ড, যা ১৯৫৭ সালে পুলিৎজার এবং ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড উভয়ই জয় করে; জন বেরিম্যান এবং তার দ্য ড্রিম সংস (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৬৪; ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, ১৯৬৮); এ.আর. অ্যামন্স, যার কালেক্টেড পোয়েমস ১৯৫১–১৯৭১ ১৯৭৩ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড জয় করে; থিওডর রোটকে এবং তার দ্য ওয়াকিং (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৫৪); জেমস মেরিল এবং তার মৃতদের সাথে যোগাযোগের মহাকাব্যিক কবিতা দ্য চেঞ্জিং লাইট অ্যাট স্যান্ডওভার (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৭৭); লুইজ গ্লিক, যিনি তার দ্য ওয়াইল্ড আইরিস (কবিতায় পুলিৎজার পুরস্কার, ১৯৯৩) এবং ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চুয়াস নাইট (ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪)-এর জন্য পরিচিত। গ্লিক বর্তমানে একমাত্র জীবিত মার্কিন লেখক যিনি মূলত লিখিত কবিতার জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন;[৪৯] ডব্লিউ.এস. মারউইন, মার্ক স্ট্র্যান্ড, রবার্ট হাস এবং রিতা ডোভ।
একই সময়ে 'কনফেশনাল' (Confessional) বা স্বীকারোক্তিমূলক কাব্যধারা—যার সূচনা প্রায়শই ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত রবার্ট লোয়েল-এর লাইফ স্টাডিজ-এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়—এবং 'বিট' (Beat) কাব্যধারা জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য লাভ করে। এই ধারাগুলো থেকে অ্যালেন গিন্সবার্গ, চার্লস বুকোভস্কি, গ্যারি স্নাইডার, অ্যান সেক্সটন এবং সিলভিয়া প্লাথ-এর মতো শক্তিশালী কবিদের উদ্ভব ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে লুইজ গ্লিক, মেরি অলিভার, রবার্ট পিনস্কি প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একবিংশ শতাব্দী
[সম্পাদনা]
শৈলীগত এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য একবিংশ শতাব্দীর মার্কিন কবিতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।[৫১] একবিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে রয়েছেন অ্যামান্ডা গোরম্যান, সল উইলিয়ামস, ওশেন ভুওং, সাঈদ জোন্স, অ্যালেক্স ডিমিট্রভ, আদা লিমন, বেন লার্নার এবং আরও অনেকে।
নাটক
[সম্পাদনা]
যদিও মার্কিন নাট্য ঐতিহ্যের সূচনা ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে লুইস হ্যালাম-এর দলের আগমনের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় এবং ১৯শ শতাব্দীতে মিনস্ট্রেল শো ও আঙ্কেল টমস কেবিন-এর নাট্যরূপের জনপ্রিয়তার কারণে এটি বেশ সক্রিয় ছিল, তবে মার্কিন নাটক আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে মূলত ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে। এই সাফল্যের মূলে ছিলেন ইউজিন ও’নিল, যিনি চারটি পুলিৎজার পুরস্কার এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন।
মার্কিন নাট্য সাহিত্য দীর্ঘকাল ইউরোপীয় মডেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যদিও অনেক নাট্যকার অভিবাসী, পশ্চিমাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ এবং মিতাচারের (temperance) মতো মার্কিন বিষয়বস্তুতে সেই রূপগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন। একই সময়ে মার্কিন নাট্যকাররা বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন চরিত্র-ধরন তৈরি করেছিলেন, বিশেষ করে "ইয়াঙ্কি" (Yankee), "নিগ্রো" এবং "ইন্ডিয়ান"; যা জোনাথন, সাম্বো এবং মেটামোরা চরিত্রের মাধ্যমে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া 'টম শো', 'শোবোট থিয়েটার' এবং 'মিনস্ট্রেল শো'-এর মতো নতুন নাট্যরূপের সৃষ্টি হয়েছিল। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে জেমস নেলসন বার্কারের সুপারস্টিশন, আন্না কোরা মওয়াটের ফ্যাশন, নাথানিয়েল ব্যানিস্টারের পুটনাম এবং কর্নিলিয়াস ম্যাথিউসের উইচক্রাফট।
বাস্তববাদ বা রিয়ালিজম মার্কিন নাটককে প্রভাবিত করতে শুরু করে মূলত হাওয়েলস এবং ইউরোপীয় নাট্যকার যেমন—হেনরিক ইবসেন ও এমিল জোলা-র মাধ্যমে। যদিও বাস্তববাদের প্রভাব সেট ডিজাইন এবং মঞ্চায়নে সবচেয়ে বেশি ছিল—দর্শকরা মেলোড্রামায় ব্যবহৃত বিশেষ ইফেক্টগুলো খুব পছন্দ করত—এটি গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন মনস্তত্ত্বের ওপর সামাজিক অস্থিরতার প্রভাবকেও প্রতিফলিত করেছিল।
নাটকে আধুনিক বাস্তববাদ নিয়ে আসার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা ছিল জেমস হার্ন-এর মার্গারেট ফ্লেমিং (১৮৯০)। এতে বাস্তবসম্মত সংলাপ, মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি এবং প্রতীকীবাদের মাধ্যমে সামাজিক নিয়তিবাদের (social determinism) বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নাটকটি সফল হয়নি; সমালোচক ও দর্শক উভয়েই মনে করেছিলেন যে এটি অত্যন্ত অশোভন বিষয় নিয়ে কাজ করেছে এবং এতে অনুপযুক্ত দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মার্কিন নাটক মূলত টেনেসি উইলিয়ামস এবং আর্থার মিলার-এর কাজের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। পাশাপাশি এই সময়ে মার্কিন মিউজিক্যাল বা সঙ্গীতধর্মী নাটক পূর্ণতা লাভ করে। ওকলাহোমা! এবং ওয়েস্ট সাইড স্টোরি-র মতো কাজগুলোতে পাণ্ডুলিপি, সংগীত এবং নৃত্যের এক চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। পরবর্তীকালের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নাট্যকারদের মধ্যে রয়েছেন এডওয়ার্ড অলবি, স্যাম শেপার্ড, ডেভিড ম্যামেট, অগাস্ট উইলসন এবং টনি কুশনার।
জাতিগত গবেষণা এবং সাহিত্য
[সম্পাদনা]বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের মার্কিন সাহিত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আফ্রিকান আমেরিকান এবং ইহুদি আমেরিকানদের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বারা এবং তাদের সম্পর্কে রচিত সাহিত্যের ব্যাপক প্রসার। এই বিকাশ মূলত নাগরিক অধিকার আন্দোলন (Civil Rights Movement) এবং এর অনুসারী জাতিগত গৌরব আন্দোলনের (ethnic pride movement) হাত ধরে এসেছিল, যা অধিকাংশ প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে **জাতিগত গবেষণা** বা এথনিক স্টাডিজ প্রোগ্রাম তৈরির পথ প্রশস্ত করে। এই প্রোগ্রামগুলো নতুন জাতিগত সাহিত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির মর্যাদা দিতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি নারী সাহিত্য, সমকামী সাহিত্য, শ্রমজীবী শ্রেণির সাহিত্য, উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য এবং নতুন এক সাহিত্যতত্ত্বের উত্থান ঘটে।
জাতিগত সাহিত্য
[সম্পাদনা]বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সল বেলো, নর্মান মেইলার, জোসেফ হেলার, ফিলিপ রথ, চেইম পোটোক এবং বার্নার্ড মালামুড-এর মতো ইহুদি আমেরিকান লেখকদের উত্থান ঘটে। পোটোকের উপন্যাস দ্য চোজেন এবং দ্য প্রমিজ এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এশীয় মার্কিন সাহিত্য বিংশ শতাব্দীর দীর্ঘ সময় কেবল রান্নার বই এবং আত্মজীবনীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ম্যাক্সিন হং কিংসটন-এর কাল্পনিক স্মৃতিকথা দ্য ওম্যান ওয়ারিয়র (১৯৭৬) এবং তার উপন্যাস চায়না মেন ও ট্রিপমাস্টার মাঙ্কি-র মাধ্যমে তা বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। চীনা-মার্কিন লেখক হা জিন ১৯৯৯ সালে তার উপন্যাস ওয়েটিং-এর জন্য **ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড** এবং দুবার **পেন/ফকনার অ্যাওয়ার্ড** জয় করেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য এশীয়-মার্কিন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে রয়েছেন অ্যামি ট্যান (দ্য জয় লাক ক্লাব) এবং কোরীয় মার্কিন লেখক চ্যাং-রে লি। মেরিলিন চিন এবং লি-ইয়ং লি-র মতো কবি এবং নাট্যকার ডেভিড হেনরি হোয়াং-ও এই সময় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

ভারতীয়-মার্কিন লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়ী তার প্রথম গল্প সংকলন ইন্টারপ্রেটার অফ ম্যালাডিজ (১৯৯৯) এর জন্য পুলিৎজার পুরস্কার জয় করেন। তার উপন্যাস দ্য নেমসেক (২০০৩) এবং দ্বিতীয় গল্প সংকলন আনঅ্যাকাস্টমড আর্থ বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক ও সমালোচনামূলক সাফল্য পায়। লাহিড়ীর কাজগুলোতে মূলত অভিবাসীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ফুটে ওঠে।
এই সময়ে হিস্পানিক বা ল্যাটিনো সাহিত্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। টমাস রিভেরা এবং রুডলফো আনায়া-র উপন্যাস এবং লুইস ভালদেজ-এর চিকানো থিয়েটারের মাধ্যমে এই ধারার যাত্রা শুরু হয়। স্যান্ড্রা সিসনেরোস-এর ১৯৮৩ সালের উপন্যাস দ্য হাউস অন ম্যাঙ্গো স্ট্রিট আমেরিকার স্কুলগুলোতে ব্যাপকভাবে পড়ানো হয়। গ্লোরিয়া আনজালদুয়া-র বর্ডারল্যান্ডস/লা ফ্রন্টেরা এই ধারার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ।
ডোমিনিকান-মার্কিন লেখক জুনোট ডিয়াজ তার ২০০৭ সালের উপন্যাস দ্য ব্রিফ ওয়ান্ড্রাস লাইফ অফ অস্কার ওয়াও-এর জন্য পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। আরেকজন ডোমিনিকান লেখিকা জুলিয়া আলভারেজ তার হাউ দ্য গার্সিয়া গার্লস লস্ট দেয়ার অ্যাকসেন্টস-এর জন্য পরিচিত। কিউবান আমেরিকান লেখক অস্কার হিজুয়েলস এবং ক্রিস্টিনা গার্সিয়া-ও এ সময় ব্যাপক সমাদৃত হন।

পুয়ের্তো রিকোর লেখকদের মধ্যে জিয়ানিনা ব্রাস্কি (স্প্যানিশ ও ইংরেজির মিশ্রণ 'স্প্যাংলিশ' বা Spanglish-এ লেখা ইয়ো-ইয়ো বোইং!-এর রচয়িতা) এবং রোজারিও ফেরে উল্লেখযোগ্য। লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডা, একজন বিখ্যাত পুয়ের্তো রিকান কবি ও নাট্যকার, জনপ্রিয় ব্রডওয়ে মিউজিক্যাল হ্যামিল্টন রচনা করেন।[৫২]
এন. স্কট মোমাডে-র পুলিৎজার জয়ী উপন্যাস হাউস মেড অফ ডন-এর সাফল্যের পর নেটিভ আমেরিকান সাহিত্যে এক বিশাল জোয়ার আসে, যা **নেটিভ আমেরিকান রেনেসাঁ** (Native American Renaissance) নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রধান লেখকদের মধ্যে রয়েছেন লেসলি মারমন সিলকো, লুইস এরড্রিক, জেমস ওয়েলচ এবং শারম্যান অ্যালেক্সি।
সাম্প্রতিক সময়ে আরব আমেরিকান সাহিত্য-ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যার অন্যতম অগ্রদূত হলেন ডায়ানা আবু-জাবের। তার অ্যারাবিয়ান জ্যাজ এবং ক্রিসেন্ট উপন্যাসগুলো আরব আমেরিকানদের জীবন ও অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছে।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী (মার্কিন লেখক)
[সম্পাদনা]| আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাস | |||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| By decade | |||||||||
| Early modern by century | |||||||||
| Mid-modern by century | |||||||||
| 20th–21st century | |||||||||
| By region | |||||||||
|
|||||||||
| Related topics | |||||||||
|
| |||||||||
- ১৯৩০: সিনক্লেয়ার লুইস (ঔপন্যাসিক)
- ১৯৩৬: ইউজিন ও’নিল (নাট্যকার)
- ১৯৩৮: পার্ল এস. বাক (জীবনীকার ও ঔপন্যাসিক)
- ১৯৪৮: টি. এস. এলিয়ট (কবি ও নাট্যকার)
- ১৯৪৯: উইলিয়াম ফকনার (ঔপন্যাসিক)
- ১৯৫৪: আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (ঔপন্যাসিক)
- ১৯৬২: জন স্টেইনব্যাক (ঔপন্যাসিক)
- ১৯৭৬: সল বেলো (ঔপন্যাসিক)
- ১৯৭৮: আইজ্যাক বাশেভিস সিঙ্গার (ঔপন্যাসিক, ইদ্দিশ ভাষায় লিখেছেন)
- ১৯৮৭: জোসেফ ব্রডস্কি (কবি ও প্রাবন্ধিক, ইংরেজি ও রুশ ভাষায় লিখেছেন)
- ১৯৯৩: টনি মরিসন (ঔপন্যাসিক)
- ২০১৬: বব ডিলান (গীতিকার)
- ২০২০: লুইজ গ্লিক (কবি)
মার্কিন সাহিত্য পুরস্কারসমূহ
[সম্পাদনা]- আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস
- পুলিৎজার পুরস্কার (কথাসাহিত্য, নাটক ও কবিতা এবং বিভিন্ন অ-কল্পকাহিনী ও সাংবাদিকতা বিভাগ)
- ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড (কথাসাহিত্য, অ-কল্পকাহিনী, কবিতা এবং তরুণ-প্রাপ্তবয়স্ক কথাসাহিত্য)
- আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ডস
- পেন (PEN) সাহিত্য পুরস্কার (একাধিক পুরস্কার)
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোয়েট লরিয়েট
- বলিনজেন পুরস্কার
- পুশকার্ট পুরস্কার
- ও. হেনরি পুরস্কার
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- মার্কিন সাহিত্য (শিক্ষায়তনিক শাখা)
- গ্রেট আমেরিকান নভেল
- মার্কিন সাহিত্য সমালোচকদের তালিকা
- জন্ম সাল অনুযায়ী বিংশ শতাব্দীর মার্কিন লেখকদের তালিকা
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবিতা
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থিয়েটার
মার্কিন সাহিত্যে আঞ্চলিক এবং সংখ্যালঘু গুরুত্ব
[সম্পাদনা]- নিউ ইংল্যান্ডের সাহিত্য
- শিকাগোর সাহিত্য
- দক্ষিণী সাহিত্য
- দক্ষিণীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর সাহিত্য: অ্যালাবামা; আরকানসাস; ফ্লোরিডা; জর্জিয়া; কেনটাকি; লুইজিয়ানা; মেরিল্যান্ড; মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলিনা; সাউথ ক্যারোলিনা; টেনেসি; টেক্সাস; ভার্জিনিয়া; ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া
- হাওয়াইয়ের সাহিত্য
- এলজিবিটি সাহিত্য
- বধির মার্কিন সাহিত্য
- মার্কিন ক্যাথলিক সাহিত্য
- স্পেনীয় ভাষায় মার্কিন সাহিত্য
- জাতিগত সংখ্যালঘু সাহিত্য
Notes and references
[সম্পাদনা]- ↑ Lease, Benjamin (১৯৭২)। That Wild Fellow John Neal and the American Literary Revolution। Chicago, Illinois: University of Chicago Press। পৃ. ৮০। আইএসবিএন ০-২২৬-৪৬৯৬৯-৭।
- ↑ Kellman, Steven G. (২০২০), "Ch. 22: American Literature in Languages Other Than English", Belasco, Susan (সম্পাদক), A Companion to American Literature, Wiley, পৃ. ৩৪৯–৩৬৪, ডিওআই:10.1002/9781119056157.ch84, আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৯-০৫৬১৫-৭, এস২সিআইডি 216443099, ৩১ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২২
- ↑ Gunther, Erna। "Native American Literature"। Britannica। Britannica.com। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ MacKay, K.L.। "Native American Literature"। faculty.weber.edu। Weber State University। ৪ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২১।
- 1 2 3 4 Baym, Nina, ed. The Norton Anthology of American Literature. New York: W.W. Norton & Company, 2007. Print.
- ↑ Henry L. Schoolcraft, "The Capture of New Amsterdam", English Historical Review (1907) 22#88 674–693 in JSTOR ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত আগস্ট ৭, ২০২০ তারিখে
- 1 2 3 4 5 6 Skipp, Francis E. American Literature, Barron's Educational, 1992.
- ↑ A Short History of Boston by Robert J. Allison, p.14
- ↑ the Bay Psalm Book exhibition at the Library of Congress 2015
- ↑ Silverman, Kenneth (১৯৮৪)। The Life and Times of Cotton Mather। New York: HarperCollins।
- ↑ "Sarah Kemble Knight | American diarist | Britannica"। www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৩।
- ↑ Gray, Richard. A History of American Literature. Blackwell, 2004.
- ↑ Colden, Cadwallader, and John G. Shea. The History of the Five Indian Nations Depending on the Province of New-York. New York: T.H. Morrell, 1866.
- ↑ Gitin, Louis L. Cadwallader Colden: As Scientist and Philosopher. Burlington, Vt, 1935.
- ↑ Hoermann, Alfred R. Cadwallader Colden: A Figure of the American Enlightenment. Westport, Conn: Greenwood Press, 2002.
- ↑ Julian P. Boyd, "The Declaration of Independence: The Mystery of the Lost Original" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৫ তারিখে. Pennsylvania Magazine of History and Biography 100, number 4 (October 1976), p. 456.
- 1 2 Parker, Patricia L. "Charlotte Temple by Susanna Rowson". The English Journal. 65.1: (1976) 59–60. JSTOR. Web. 1 March 2010.
- ↑ Schweitzer, Ivy. "Review". Early American Literature. 23.2: (1988) 221–225. JSTOR. Web. 1 March 2010.
- ↑ Hamilton, Kristie. "An Assault on the Will: Republican Virtue and the City in Hannah Webster Foster's 'The Coquette'". Early American Literature. 24.2: (1989) 135–151. JSTOR. Web. 1 March 2010
- ↑ Campbell, Donna M. (১৪ জুলাই ২০০৮)। "The Early American Novel: Introductory Notes"। Literary Movements। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১০।
- ↑ Rutherford, Mildred. American Authors. Atlanta: The Franklin Printing and Publishing Co., 1902.
- ↑ Reynolds, Guy. "The Winning of the West: Washington Irving's 'A Tour on the Prairies'". The Yearbook of English Studies. 34: (2004) 88–99. JSTOR. Web. 1 March 2010.
- ↑ Sears, Donald A. (১৯৭৮)। John Neal। Twayne Publishers। পৃ. ৮২। আইএসবিএন ০৮০-৫-৭৭২৩-০৮।
- ↑ Marfo, Florence (২০০৯)। "African Muslims in African American Literature"। Callaloo। ৩২ (4): ১২১৩–১২২২। ডিওআই:10.1353/cal.0.0567। আইএসএসএন 0161-2492। জেস্টোর 27743138। এস২সিআইডি 161625199। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২০।
- ↑ Lease 1972, pp. 42, 69
- ↑ Sears 1978, p. 80
- ↑ Pattee, Fred Lewis (১৯৩৭)। "Introduction"। Pattee, Fred Lewis (সম্পাদক)। American Writers: A Series of Papers Contributed to Blackwood's Magazine (1824–1825)। Durham, North Carolina: Duke University Press। পৃ. ২২। ১৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২০।
- ↑ Gura, Philip F. American Transcendentalism: A History. 2007: 7–8.
- ↑ "Garland, Hamlin 1860 – 1940"। Dictionary of Wisconsin History। Wisconsin Historical Society। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০০৯।
- ↑ Hazel Hutchison, The War That Used Up Words: American Writers and the First World War (Yale University Press, 2015)
- ↑ Jeffrey Meyers, Scott Fitzgerald: A Biography (HarperCollins, 1994).
- ↑ Dos Passos, John (১৯৩২)। Three Soldiers। United States of America: The Modern Library।
- ↑ Maxwell Geismar, American moderns, from rebellion to conformity (1958)
- ↑ "THE KANSAS CITY STAR." (পিডিএফ)। www.kansascity.com।
- ↑ "Ernest Hemingway's Influence on Modern Writing: Why His Work Still"। ২ জুন ২০২৩।
- ↑ John T. Matthews, William Faulkner: seeing through the South (Wiley, 2011).
- ↑ Kimball, Roger "Existentialism, Semiotics and Iced Tea, Review of Conversations with Walker Percy" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ডিসেম্বর ১৩, ২০০৭ তারিখে. New York Times, August 4, 1985, Accessed September 24, 2006
- ↑ Lopate, Phillip (৬ এপ্রিল ২০২১)। The Golden Age of the American Essay: 1945–1970 (ইংরেজি ভাষায়)। Knopf Doubleday Publishing Group। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২৫-৫৬৭৩৩-২।
- ↑ Saunders, Max (২০২০)। "Autofiction, Autobiografiction, Autofabrication, and Heterony: Differentiating Versions of the Autobiographical"। Biography। ৪৩ (4): ৭৬৩। ডিওআই:10.1353/bio.2020.0078। জেস্টোর 27100087। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
- ↑ Worthington, Marjorie (২০১৮)। The Story of "Me": Contemporary American Autofiction। Lincoln and London: University of Nebraska Press। পৃ. ১–২। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৯৬২০৮৭৫০। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 3 Nicol, Bran (১৫ জুন ২০১৮)। "Eye to I: American Autofiction and Its Contexts from Jerzy Kosinski to Dave Eggers" (পিডিএফ)। Autofiction in English। Palgrave Studies in Life Writing। Palgrave Macmillan। পৃ. ২৫৭। ডিওআই:10.1007/978-3-319-89902-2_14। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৩১৯-৮৯৯০১-৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
- ↑ Clare, Ralph (২০২০)। "Becoming Autotheory"। Arizona Quarterly: A Journal of American Literature, Culture, and Theory। ৭৬ (1): ৮৫–১০৭। ডিওআই:10.1353/arq.2020.0003। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
- ↑ Lubbers, Klaus (১৯৯৪)। Born for the Shade: Stereotypes of the Native American in United States Literature and the Visual Arts, 1776–1894। Rodopi। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৫১৮৩-৬২৮-৮।
- ↑ "Our Land, Our Literature: Literature – Rebecca Lard"। digitalresearch.bsu.edu। ১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২২।
- ↑ "A Brief Guide to the Fireside Poets" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত জানুয়ারি ১৬, ২০১৪ তারিখে at Poets.org ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫ তারিখে. Accessed 10-07-2015
- ↑ "Emily Dickinson Archive"। ২৪ জানুয়ারি ২০১৮। ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ Noel Stock, The Life of Ezra Pound (1970)
- ↑ Hugh Kenner, The invisible poet: TS Eliot (1965).
- ↑ "The Nobel Prize in Literature 2020"। NobelPrize.org (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২১।
- ↑ Hassan, Adeel (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "A Young Poet's Inspiration"। The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ৩০ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ Peterson, Kathleen (১ জানুয়ারি ২০১৩), "Poetry", Rubin, Joan Shelley; Casper, Scott E. (সম্পাদকগণ), The Oxford Encyclopedia of American Cultural and Intellectual History, ডিওআই:10.1093/acref/9780199764358.001.0001, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭৬৪৩৫-৮
- ↑ "Luis A. Miranda, Jr. Doesn't 'Need To Be Liked'"। Remezcla। ৫ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২০।
Bibliography
[সম্পাদনা]For references on specific authors or topics, please see the relevant article.
- Bercovitch, Sacvan, সম্পাদক (১৯৯৪–২০০৫)। The Cambridge History of American Literature। খণ্ড ১–৮। Cambridge: Cambridge University Press।
- Delbanco, Andrew (বসন্ত ২০০৬)। "American Literature: A Vanishing subject?"। Daedalus। ১৩৫ (2): ২২–৩৭। ডিওআই:10.1162/daed.2006.135.2.22। এস২সিআইডি 57567897।
- Gray, Richard (২০১১)। A History of American Literature। Malden, Ma: Wiley-Blackwell।
- Madsen, Deborah L. (২০০০)। Understanding Contemporary Chicana Literature। Columbia, SC: University of South Carolina Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭০০৩-৩৭৯-৭।
- Moore, Michelle E. (2019). Chicago and the Making of American Modernism: Cather, Hemingway, Faulkner, and Fitzgerald in Conflict. New York; London: Bloomsbury Academic.
- Müller, Timo (২০১৭)। Handbook of the American Novel of the Twentieth and Twenty-First Centuries। Boston, Ma: de Gruyter।
- Shell, Marc; Sollors, Werner, সম্পাদকগণ (২০০০)। The Multilingual Anthology of American Literature: A Reader of Original Texts with English Translations। New York: SUNY Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮১৪৭৯৭৫২৫।
- Trent, W. P.; Erskine, J.; Sherman, S. P.; Van Doren, C., সম্পাদকগণ (১৯১৭–১৯২১)। The Cambridge History of American Literature। খণ্ড ১–৪। Cambridge; New York: Cambridge University Press; G. P. Putnam's Sons।
- Woodberry, George Edward (১৯১১)। । চিসাম, হিউ (সম্পাদক)। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ১ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৮৩১–৮৪২।
External links
[সম্পাদনা]- The Cambridge History of English and American Literature: an Encyclopedia in Eighteen Volumes (Online Version of 1907–1921 print) – Bartleby.com এর মাধ্যমে।
- 19th Century American Fiction and Poetry The Ohio State University Libraries Rare Books and Manuscripts Collection
- Audio lectures on American Literature in TheEnglishCollection.com (clickable timeline)
- Electronic Texts in American Studies