মক্খলি গোসাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মক্খলি গোসাল (পালি: मक्खलि गोसाल) বা মস্করিন গোশাল (সংস্কৃত: मस्करिन गोशाल) বা জৈন সূত্রানুসারে মঙ্খলিপুত্ত গোসাল (পালি: मङ्खलिपुत्त गोसाल) গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক একজন ভারতীয় অকর্মণ্যতাবাদী দার্শনিক ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

মক্খলি গোসালের জীবন সম্বন্ধে বৌদ্ধ ও জৈন সূত্রগুলিতে উল্লেখ রয়েছে। জৈন ধর্মাবলম্বীদের ভগবতী সূত্র অনুসারে, মঙ্খলিপুত্ত গোসাল বা মঙ্খলির পুত্র গোসাল[১]:৩৫-৩৬ সাবত্থীর নিকটবর্তী সরবণ নামক স্থানে একজন ব্রাহ্মণের গোশালায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার বৃত্তি গ্রহণ করে প্রথম জীবনে গোসাল চিত্রবিক্রেতা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।[১]:৩৬ যদিও সুমঙ্গলবিলাসিনী নামক বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে যে, মক্খলি গোসাল প্রথম জীবনে একজন পরিচারক ছিলেন এবং তার মনিবের একটি তৈলপাত্র ভেঙে ফেলায় শাসনের ভয়ে উলঙ্গ অবস্থায় পলায়ন করেন।[১]:৩৭

ভগবতী সূত্র অনুসারে, তিনি জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে বিরোধ উপস্থিত হয়। তার দর্শনের সঙ্গে মহাবীর সহমত পোষণ না করায় ও জৈন সম্প্রদায়ের বিরাগভাজন হওয়ায় মক্খলি গোসাল সম্প্রদায় থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর তিনি আজীবিক নামক এক নতুন সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন।[১]:৪০-৪৫ বৌদ্ধ সূত্রগুলিতে মক্খলি গোসালকে গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক ছয়জন প্রসিদ্ধ আচার্য্যের একজন বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

মক্খলি শব্দের ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

পালি ভাষায় মক্খলি (= মা খালি) শব্দের অর্থ যার পতন নেই। কিন্তু পাণিনির অষ্ট্যাধ্যায়ী অনুসারে, মক্খলি শব্দটি সংস্কৃত মস্করিন থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[২] যে সমস্ত ব্যক্তিরা বংশদন্ড বহন করতেন, তাদের মস্করিন বলা হত। পাতঞ্জলির মহাভাষ্য অনুসারে মস্করিন বলতে নিয়তিবাদী একদল পরিব্রাজক সম্প্রদায়কে বোঝানো হত।[৩]:১২

দর্শন[সম্পাদনা]

সামঞ্ঞফলসুত্ত অনুসারে, মক্খলি গোসাল অহেতুবাদের প্রচারক ছিলেন। তার মতে, অহেতুক বা অকারণে জীবের সুখ বা দুঃখ ঘটে থাকে। সকল জীব বল-বীর্য ছাড়াই ভবিতব্যতার বশবর্তী হয়ে সুখ বা দুঃখের অনুভব করে। তার মতে সুতোর গোলাকে গড়িয়ে দিলে যেমন ঘুরতে ঘুরতে খোলে, মূর্খ বা পণ্ডিত ঠিক তেমনই সুখের সন্ধান করতে করতে দুঃখের পরিসমাপ্তি করে থাকেন। অহেতুবাদী এই দার্শনিক সম্পূর্ণ রূপে নিয়তিবাদ বা ভাগ্যবাদের প্রচারক ছিলেন।[৪]:৭৬, ৭৭[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Basham, A.L. (২০০২)। History and Doctrines of the Ājīvikas। Delhi, India: Motilal Banarsidass Publishers। আইএসবিএন 81-208-1204-2 
  2. Barua, Benimadhab (1981) A History of Pre-Buddhistic Indian Philosophy, New Delhi
  3. হালদার, মণিকুন্তলা (১৯৯৬) বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, প্রকাশক মহাবোধি বুক এজেন্সী, ৪এ, বঙ্কিম চ্যাটার্জী ষ্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩, ISBN ৯৭৮-৯৩-৮০৩৩৬-৩৩-৬
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন (১৯৮৮) দর্শন দিগদর্শন, দ্বিতীয় খণ্ড অনুবাদক- ছন্দা চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- চিরায়ত প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড, ১২ বঙ্কিম চ্যাটার্জী ষ্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩
  5. Thanissaro Bhikkhu (trans.) Samaññaphala Sutta: The Fruits of the Contemplative Life (1997)

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]