বিষয়বস্তুতে চলুন

ভেক্টর গ্রাফিক্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভেক্টর গ্রাফিক্স ও র‌্যাস্টার গ্রাফিক্সের পার্থক্য। মূল ভেক্টর-ভিত্তিক ছবিটি বামে আছে। উপরে ডানে ছবিটির ৭ গুণ ভেক্টর বিবর্ধিত রূপ এবং নিচে ডানে একই ৭ গুণ বিবর্ধিত বিটম্যাপ রূপ দেখানো হয়েছে। র‌্যাস্টার ছবি যেহেতু পিক্সেলভিত্তিক, তাই এটিকে বড় করলে পরিষ্কার দেখায় না, কিন্তু ভেক্টর-ভিত্তিক ছবিকে বড় করলে কোন ক্ষতি হয় না।

সংখ্যারাশি চিত্রলিপি বা ভেক্টর গ্রাফিক্স (ইংরেজি: Vector graphics; জ্যামিতিক প্রতিরূপায়ণ বা বস্তু-নির্ভর চিত্রলিপি নামেও পরিচিত) হচ্ছে এমন এক প্রকার কম্পিউটার চিত্রনির্মাণ-পদ্ধতি যেখানে চিত্রটি গঠিত হয় জ্যামিতিক প্রাথমিক আকৃতি—যেমন বিন্দু, রেখা, বক্ররেখা, বহুভুজ ইত্যাদির গাণিতিক সমীকরণ দ্বারা।

এটি র‍্যাস্টার চিত্রলিপি (Raster graphics) থেকে ভিন্ন, যেখানে প্রতিটি ছবি চিত্রকোষ নামের ক্ষুদ্র উপাদানের সমষ্টি হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

সংখ্যারাশি চিত্রলিপি তৈরি হয় অসংখ্য সংখ্যারাশি রেখার সংযোগে, যেগুলোর স্থাননির্ধারণ করা হয় নির্দিষ্ট নিয়ামক বিন্দু (control point) দ্বারা। চিত্রের পটভূমিতে X ও Y অক্ষ-নির্ভর স্থানাঙ্ক (coordinates) অনুসারে প্রতিটি নিয়ামক বিন্দু নির্দিষ্ট হয়।

প্রতিটি বিন্দুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে একটি তথ্যসংযোগ সারণি (data map) যেখানে বিন্দুর অবস্থান, দিকনির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট সংখ্যারাশি রেখার গতিপথ সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

সংখ্যারাশি রেখাগুলোকে অনেক সময় পথরেখা বা আঁচড়রেখাও বলা হয়। সংখ্যারাশির দিকনির্দেশই নির্ধারণ করে পথরেখার গমনপথ। প্রতিটি পথরেখার জন্য রং, রেখাপ্রস্থ, ঘনত্ব ও উপাদান নির্দিষ্ট করা যায়।

সংখ্যারাশি চিত্রের নথির আকার পটভূমির আকারের উপর নির্ভর করে না, কারণ নথিতে কেবল “কীভাবে কোনো আকার প্রদর্শনপর্দায় অঙ্কিত হবে” সেই গাণিতিক নির্দেশই সংরক্ষিত থাকে। ফলে, প্রদর্শনপর্দার আকার পরিবর্তিত হলেও চিত্রের মান অপরিবর্তিত থাকে।

সাধারণ ধারণা

[সম্পাদনা]

কম্পিউটারের পর্দায় প্রদর্শিত যে-কোনো চিত্র মূলত গঠিত হয় অতি ক্ষুদ্র চিত্রকোষ (Pixel, ইংরেজি Picture element) দিয়ে। এই কোষগুলোকে নিয়মিত ছকে সাজিয়ে তৈরি করা হয় একটি ছবি।

চিত্রকোষ যত ক্ষুদ্র ও সংখ্যায় বেশি হয়, চিত্রের বিচ্ছেদমান (resolution) তত উন্নত হয়। তবে অধিক সংখ্যক কোষের তথ্য সংরক্ষণ করতে হলে নথির আকারও তদনুসারে বৃদ্ধি পায়।

আধুনিক তথ্য-সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে গিগাবাইট থেকে টেরাবাইট পর্যন্ত ধারণক্ষমতা থাকায়, বর্তমানে নথি-আকার সীমিত রাখার জন্য ছবির গুণমান কমাতে হয় না।