ভাজক কলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর (বাড়ন্ত ডগা) টিউনিকা-কর্পাস মডেল বহিঃস্তরের এপিডার্মাল(L1) এবং সাবএপিডার্মাল (L2) স্তরকে টিউনিকা বলে। ভেতরের L3 স্তরটিকে বলা হয় কর্পাস। L1 ও L2 স্তরের কোষগুলো পার্শ্বীয়ভাবে বিরাজ করে, ফলে স্তরগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে আলাদা করা যায়। তবে L3 স্তর অনির্দিষ্টভাবে বিভাজিত হয়।

ভাজক কলা হচ্ছে উদ্ভিদদেহে বিরাজমান এক ধরনের কলা বা টিস্যু। ভাজক কলায় অপরিবর্তিত কোষ (মেরিস্টেম্যাটিক কোষ) থাকে যেগুলো কোষ বিভাজনে সক্ষম। ভাজক কলার কোষগুলো উদ্ভিদদেহের অন্যান্য যেকোনো টিস্যু বা অঙ্গে রূপান্তরিত হতে পারে। এ কোষগুলো পরিবর্তিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিভাজিত হতে থাকে। তবে পরিবর্তিত হয়ে গেলে এ কোষগুলো বিভাজনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

পরিবর্তিত উদ্ভিদকোষ সাধারণত বিভাজিত হতে পারে না, অথবা অন্য কোনো কোষ সৃষ্টি করতে পারে না। মেরিস্টেম্যাটিক কোষ অপরিবর্তিত কিংবা অসম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত থাকে এবং এ কোষগুলো টটিপটেন্ট ও বিভাজনে সক্ষম। মেরিস্টেম্যাটিক কোষের বিভাজনের ফলে টিস্যুর পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও নতুন অঙ্গ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। ফলে উদ্ভিদদেহ তৈরির মৌলিক কাঠামো গঠিত হয়। এ কোষগুলো আকারে ছোট। এসব কোষে কোষ গহবর থাকে না, অথবা ছোট কোষ গহবর থাকে। প্রোটোপ্লাজম দ্বারা মেরিস্টেম্যাটিক কোষ পূর্ণ থাকে। এসব কোষে প্লাস্টিড (ক্লোরোপ্লাস্ট অথবা ক্রোমোপ্লাস্ট) অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে, তবে প্লাস্টিডগুলো মূলত অপরিপক্ব রূপে (প্রোপ্লাস্টিড) বিরাজ করে। মেরিস্টেম্যাটিক কোষগুলো আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান ছাড়াই খুব ঘন সন্নিবিষ্ট অবস্থায় থাকে। এদের কোষ প্রাচীর মূলত অত্যন্ত পাতলা প্রাথমিক কোষ প্রাচীর।

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য সমূহ:-


কোষগুলো জীবিত অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সমব্যাসীয়,,ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সর্বদাই বিভাজন ক্ষমতা সম্পন্ন ।ভাজক টিস্যু কোষগুলো সাধারণত আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভূজাকার হয়ে থাকে। এই কোষগুলো সাধারণত সেলুলোজ নির্মিত পাতলা কোষ প্রাচীর বিশিষ্ট হয়।এছাড়া এই কোডগুলো বিপাকীয় হার অনেক বেশি এবং সর্বদাই সক্রিয় বিপাকীয় অবস্থায় থাকে।অধিকন্তু এর প্লাস্টিক গুলো প্রোপ্লাস্টিড অবস্থায় থাকে এর কোষগুলো আকারের সাধারণত ছোট এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হয়ে থাকে।

ভাজক টিস্যুর কাজঃ-

শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। পার্শ্বীয়  ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের ব্যাস  বৃদ্ধি পায়। এবং এ ধরণের বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষতস্থান পূরণ হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]