কোষ প্রাচীর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চিত্রে কোষ প্রাচীরকে সবুজ রঙে দেখানো হয়েছে।
কোষ প্রাচীরের খন্ডাংশের গঠন

কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।কোষ প্রাচীর বলতে কোষের সেই অংশকে বুঝানো হয় যা উদ্ভিদকোষের সর্বাপেক্ষা বাইরের দিকে থাকে। কোষের প্রোটোপ্লাজম যে শক্ত, পুরু, সেলুলোজ নির্মিত নির্জীব আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে কোষ প্রাচীর বলে। উদ্ভিদ ছাড়া শৈবাল, ছত্রাকব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর আছে।ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন,লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছএাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন(এক ধরণের পলিস্যাকারাইড) দিয়ে তৈরি ।

১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রবার্ট হুক অণুবীক্ষণযন্ত্রে যে কোষ দেখেছিলেন তা মূলত কোষ প্রাচীর।[১]

গঠন[সম্পাদনা]

উদ্ভিদকোষের কোষপ্রাচীর তিন স্তর বিশিষ্ট : মধ্যপর্দা,প্রাথমিক প্রাচীর ও গৌণ প্রাচীর, । মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ে মধ্যপর্দার সূচনা ঘটে।সাইটোপ্লাজম থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস মিলিতভাবে মধ্যপর্দা সৃষ্টি করে।প্রাথমিক প্রাচীরের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সেলুলোজ যা গ্লুকোজের পলিমার। প্রাথমিক কোষপ্রাচীরে পেকটিক পদার্থ,হেমিসেলুলোজ,গ্লাইকোপ্রোটিনও থাকে এবং গৌণ প্রাচীরে লিগনিন, সুবেরিন,ওয়াক্স ইত্যাদি থাকে। এ প্রাচীর ৩ স্তর বিশিষ্ট হয়ে থাকে। তাছাড়া কোষ প্রাচীরে হেমিসেলুলোজ, প্রোটিন, লিপিড এবং প্রচুর পানি থাকে।কোনো কোনো ক্ষেত্রে টারশিয়ারি প্রাচীর নামে বিশেষ একধরণের প্রাচীর দেখা যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষপ্রাচীর মধ্যপর্দা দ্বারা সংযুক্ত থাকে। মধ্যপর্দা পেকটিক এসিড, পেকটিন ও প্রোপেকটিন দ্বারা গঠিত। মধ্যপর্দার উপর মাঝে মাঝে সরু নলাকার গর্তের সৃষ্টি হয় যেগুলোকে পিট বা কূপ বলে।

সূক্ষ্ম গঠনঃ-

কোষ প্রাচীর এর প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি পলিস্যাকারাইড যা 6 কার্বন বিশিষ্ট বিটা-ডি গ্লুকোজের অসংখ্য অণু নিয়ে গঠিত।এক হাজার থেকে তিন হাজার সেলুলোজ অণু নিয়ে একটি সেলুলোজ চেইন গঠিত হয়। প্রায় 100 টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি গঠন করে।মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম একক ধরা হয়।প্রায় ২০ টি মাইসেলি নিয়ে একটি মাইক্রোফাইব্রিল গঠন করে এবং 250 টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল গঠন করে। অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি তন্তু গঠন করে।

কাজ[সম্পাদনা]

উদ্ভিদ কোষের বাইরের আবরন হিসেবে কোষপ্রাচীর নিম্নোক্ত কাজ করে থাকে। যথা-

১। কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে।

২। কোষীয় অংগাণুসমূহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৩। পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহনে সহায়তা করে।

৪। পার্শ্ববর্তী কোষের সাথে আন্তঃকোষীয় যোগাযোগ রক্ষা করে।

৫। এক কোষ থেকে অন্য কোষকে পৃথক করে।

৬|বহিঃ ও অন্তঃ উদ্দীপনার পরিবাহকরূপে প্লাসমোডেসমাটা কাজ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Cell wall plant anatomy"Encyclopædia Britannica