বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘ
| বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘ | |
|---|---|
| অবস্থান | |
mapframe: JSON সামগ্রীটি বৈধ GeoJSON+simplestyle নয়। নিচের তালিকাটি JSON স্কিমা অনুযায়ী এটি ব্যাখ্যা করার সমস্ত প্রচেষ্টা দেখায়। সবগুলোই ভুল নয়।
| |
ভারত | |
| স্থানাঙ্ক | ২২°২২′৪৪″ উত্তর ৮৮°১৬′১৯″ পূর্ব / ২২.৩৭৮৯° উত্তর ৮৮.২৭২০° পূর্ব |
| তথ্য | |
| বিদ্যালয়ের ধরন | ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান স্কুল |
| নীতিবাক্য | ইংরেজি: Thy Word is Truth (তোমার বাক্যই সত্য) |
| ধর্মীয় অন্তর্ভুক্তি | ইউনিয়ন ক্রিশ্চিয়ান স্কুল |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৫ জানুয়ারি ১৯২৬ |
| কর্তৃপক্ষ | পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| প্রধান শিক্ষক | শরদিন্দু হাঁসদা |
| শিক্ষার্থী সংখ্যা | ১২০০ |
| ভাষা | বাংলা |
| ক্যাম্পাস | গ্রামীণ ৪৫ একর (১৮ হেক্টর) |
| অন্তর্ভুক্তি | পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ এবং পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ |
বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘ (বিএসএস) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুরে অবস্থিত এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। [১] এটি সহ-শিক্ষামূলক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়। বর্তমানে কেবলমাত্র বাংলা ভাষাতেই শিক্ষাদানের ব্যবস্থা আছে সুপ্রাচীন এই বিদ্যালয়টিতে এবং শিক্ষাদানের মান মোটামুটি ভালোই। [২] বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আইএফএ শীল্ড বিজয়ী কলকাতার মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় রেভারেন্ড সুধীরকুমার চট্টোপাধ্যায়। ধর্মপ্রাণ বাঙালি খ্রিস্টান শিক্ষাব্রতী মানুষটি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। [৩] চারিদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ পরিসরের স্কুল ক্যাম্পাসে খেলার মাঠ, 'প্রীতি','শান্তি' ও 'আশা' নামে তিনটি পুষ্করিণী আছে।[৪] বিভিন্ন শিক্ষাক্রম বহির্ভূত বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে থাকে বিদ্যালয়টি। স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, চিকিৎসকসহ বহু ব্যক্তিত্ব এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ছিলেন। বর্তমানে বারোশো' র বেশি ছাত্রছাত্রী আছে বিদ্যালয়ে।
পরিকাঠামো
[সম্পাদনা]সুপ্রাচীন বিদ্যালয় ভবনের পাশাপাশি তিনতলার মূল ভবনে শ্রেণীকক্ষসমূহ প্রশস্ত এবং যথেষ্ট। ষষ্ঠ শ্রেণী হতে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠনের সুব্যবস্থা আছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অনুপাত বর্তমানে ৫৪:১। বিদ্যালয়ের পাঠাগারের পুস্তক সংখ্যা ২৬০০। পড়াশোনার মানের সাথে বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণের হার বর্তমানে ৯৮ শতাংশ এবং তন্মধ্যে প্রথম শ্রেণী প্রাপ্তির হার ৪৪%।
বিদ্যালয় পরিসরে পঞ্চাশ জন প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষা সংঘ গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নামে আলাদা ব্যবস্থাও আছে। [৫]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]শতবর্ষ প্রাচীন বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘের ইতিহাসের সূত্রপাত হয় ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে। শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশনারিরাই (বি এম এস) এর প্রতিষ্ঠাতা। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে মিশনারিরা অখণ্ড চব্বিশ পরগনার অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর থেকে কিছুদূরে বিষ্ণুপুর ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের চক নূরশিকদার গ্রামে প্রথমে মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছরেই তারা লক্ষ্মীকান্তপুর ও মথুরাপুর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের খাড়ি অঞ্চলের মহামায়া গ্রামে আরো দুটি এবং শেষে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বিষ্ণুপুরে ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি সাধারণের শিক্ষাদানের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীকালে স্থানীয় জন সাধারণের ঐকান্তিক আবেদনে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মিডিল ইংলিশ স্কুল উন্নীত হওয়ার পর অল্প সংখ্যক খ্রিস্টান ছাত্রদের আবাসিক রূপে রাখা শুরু হয়। বেশ কয়েক বছর এভাবে চলার পর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর কলেজ সংলগ্ন বিদ্যালয়টি উঠে এসে বিষ্ণুপুর মিডল ইংলিশ স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হয়। তখন বিদ্যালয়টির নাম হয় 'কেরী হাই স্কুল' এবং প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন মি. ডব্লিউ ই ফ্রেঞ্চ। বর্তমানের কেরী ভবন তৎকালীন কেরী হাই স্কুলের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন বহন করে এবং সেই কেরী হাই স্কুলই পরবর্তী কালের শিক্ষা সংঘ যার গঠনের পরিকল্পনার হয় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ব্যাপটিস্ট মিশনারিরী সোসাইটি আর লন্ডন মিশনারিরী সোসাইটি যৌথ উদ্যোগে আর মেল বন্ধনে।
১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের শেষে কলকাতার ভবানীপুরে ৯২ বছরের প্রাচীন 'এল এম এস স্কুল' (লন্ডন মিশনারিরী সোসাইটি স্কুল) বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ঐ সম্প্রদায়ের মিশনারিরা বিষ্ণুপুরের কেরী হাই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। শেষে দুই মিশনের বিদেশী ধর্মপ্রচারকেরা আবাসিক বিদ্যালয়ে ছেলেদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর এক সভায় ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাস হতেই যৌথ বিদ্যালয়ের কাজ আরম্ভের সিদ্ধান্ত নেন এবং স্থির হয় সুধীরকুমার চট্টোপাধ্যায় হবেন যৌথ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আরো স্থির হয়, কেরী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মি. বি ডি রায় সহ এগারো জন শিক্ষক এবং এল এম এস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মি. এ এন ঘোষ সহ দশজন শিক্ষক যৌথ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১ ডিসেম্বরের সভায় যৌথ বিদ্যালয়ের নামকরণ হয় - শিক্ষা সংঘ। বি এম এস এবং এল এম এস দুই মিশনারিদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি "শিক্ষা সংঘ"-এ পঠনপাঠন শুরু হয়। ড.সুধীরকুমার চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ ২৬ বছর (১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ) অধ্যক্ষের পদে আসীন ছিলেন।[৬]
উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন ছাত্র
[সম্পাদনা]- কমলকুমার মজুমদার, বাঙালি কথাসাহিত্যিক
- নীরদ মজুমদার, বাঙালি চিত্রশিল্পী
- এবনে গোলাম সামাদ, বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, এবং কলামিস্ট
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Bishnupur Siksha Sangha UP - Paschim Bishnupur"। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ "Bishnupur Shiksha Sangha (ইংরাজীতে)"। ৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ "The death anniversary of Indian Football's first legend (ইংরাজীতে)"। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘের শততমবর্ষের স্মারক পুস্তিকা, ডিসেম্বর, ২০২৫, পৃষ্ঠা ৮,প্রকাশক অশোককুমার প্রামাণিক, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষক
- ↑ "List of Primary Teachers' Training Institute in West Bengal (ইংরাজীতে)"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘের শততমবর্ষের স্মারক পুস্তিকা, ডিসেম্বর, ২০২৫, পৃষ্ঠা ৫-৮,প্রকাশক অশোককুমার প্রামাণিক, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষক