বিকল্প সংস্কৃতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
একটি পপ কনসার্ট ভ্রমণ চামড়ার পোশাক পরে ও ঘোড়ায় চড়ে

বিকল্প সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের সংস্কৃতি যা মূলধারার সংস্কৃতি বা জনপ্রিয় সংস্কৃতির আওতা থেকে বা প্রভাব থেকে বাইরে থাকে এবং এটি অন্য এক বা একাধিক উপসংস্কৃতির প্রভাবে থাকে। এইসব উপসংস্কৃতির মধ্যে আবার মিল খুব সামান্য, তাদের পারস্পরিক গোপন থাকার প্রবণতা ছাড়া। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিদ্যার এই গোপন থাকার প্রবণতাকে ব্যবহার করা হয় তাদের শ্রেণীবিভাগ করার জন্য যার নাম দেয়া হয়েছে বিকল্প সংস্কৃতি। একে আবার অধিকতর রাজনৈতিক শব্দের সাথে তুলনা করা হয় যা হলো বিপরীত সংস্কৃতি

বিকল্প সংস্কৃতির ধারণা[সম্পাদনা]

৫০-এর দশকে পশ্চিম ইউরোপউত্তর আমেরিকার বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে নতুন ধারণার উন্নতির মাঝে বিকল্প সংস্কৃতির ধারণাটার শিকড়টা অবস্থান করছে। বয়ঃসন্ধিকালকে সাধারণভাবে পিতামাতার মূল্যবোধের প্রতি ও কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখা হয় দ্যা ওয়াইল্ড ওয়ান (১৯৫৩) ও রেবেল উইদাউট আ কজ (১৯৫৫) নামের মার্কিন সিনেমাতে ও টেডি বয় সংস্কৃতির উত্থানের মাঝে পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাতে। ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ধারণা ও মূল্যবোধের প্রতি এই বিরোধের কারণটা ব্যাক্তিগত হলেও যখন তা একটি দলের অংশের উপর প্রয়োগ করে হয় তখন সেটা ব্যাখা করা সহজ হয়।

বিকল্প সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক গতিশীলতা[সম্পাদনা]

একটি ছোট শহর বা অঞ্চলে তরুণ কর্মজীবি মানুষ যখন উপলদ্ধি করে জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি তখনই বিকল্প সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত দেখা যায় মানুষের মাঝে পরিবর্তন তাদের জীবনযাত্রায়, শিল্পে ও সংগীতে। উদাহরণ স্বরূপ ৬০-এর দশকের হিপ্পি সংস্কৃতির কথা বলা যায়। আফ্রিকান আমেরিকানদের হিপহপ সংস্কৃতির কথাও উল্লেখযোগ্য যা তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছিল অনুপ্রবেশ্য আমেরিকান সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিতে। এইসব উপসংস্কৃতির একটা জায়গাতে একই স্থানে অবস্থান করে তা হলো গণমাধ্যমের নেতিবাচক মনোযোগ। এর কারণ হিসেবে বলা যায় এইসব উপসংস্কৃতির আচারের মাঝে আইন অমান্য করার প্রবণতা, যেমন তাদের শারীরিক উপস্থিতি, তাদের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রবণতা, ভোগবাদী প্রবণতার বিরোধিতা ও তাদের অধিকমাত্রায় প্রশয় যৌনতায় ও মাদকদ্রব্য ব্যবহারে। যেমন -হার্ডকোর পাঙ্ক ও স্ট্রেইট এ্যাডজ দলগুলো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]