বাংলা খেঁকশিয়াল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলা খেঁকশিয়াল
Indianfox.jpg
সংরক্ষণ অবস্থা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Mammalia
বর্গ: Carnivora
পরিবার: Canidae
গণ: Vulpes
প্রজাতি: V. bengalensis
দ্বিপদী নাম
Vulpes bengalensis
(Shaw, 1800)
Vulpes-bengalensis-map.png
বিস্তৃতি
প্রতিশব্দ

Canis kokree
Canis rufescens
Canis indicus
Vulpes xanthura

বাংলা খেঁকশিয়াল (বৈজ্ঞানিক নাম: Vulpes bengalensis) (ইংরেজি: Bengal fox) একপ্রজাতির খেঁকশিয়াল। বিগত কয়েক বছরে এদের সংখ্যা কমছে, তবে আশঙ্কাজনক হারে যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[১] বাংলাদেশের ১৯৭৪[২] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-২ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

কেবল আর্দ্র বনাঞ্চল ও চরম শুষ্ক এলাকা ছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এদের দেখা যায়। উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের তেরাই অঞ্চল থেকে ভারতের একেবারে দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকা থেকে পূর্বে বাংলাদেশ পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি সীমাবদ্ধ।[১]

দৈহিক গঠন[সম্পাদনা]

বাংলা খেঁকশিয়ালের করোটি

বাংলা খেঁকশিয়াল একটি মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৪৫-৬০ সেমি এবং লেজ ২৫-৩৫ সেমি। ওজন ১.৮-৩.২ কেজি। মাজল সরু এবং মাজলের উপরের অংশে লোমের ছোট পট্টি চোখে পড়ে।[৪] কান দেহের তুলনায় বড়। মাথা সরু। লেজ দেহের অর্ধেকেরও বেশি লম্বা। আঙুলের উপর ভর করে চলাফেরা করে। সামনের পায়ে আঙুল পাঁচটি ও পিছনে চারটি। ছেদন দন্ত তীক্ষ্নসূঁচালো ও পেষন দন্ত সুগঠিত। দন্ত সংকেত: কর্তন ৩/৩; ছেদন ১/১; অগ্রপেষন ৪/৪; পেষন ২/৩।[২]

বর্ণ[সম্পাদনা]

মৌসুম ও বয়সভেদে বাংলা খেঁকশিয়ালের বর্ণের তারতম্য হয়ে থাকে। পিঠ সাদা ডোরাসহ লালচে-ধূসর। দেহের পাশ পিঠের তুলনায় বেশি ধূসর। দেহতল সাদাটে। বুকের নিচের অংশ ও তলপেট ফ্যাকাশে লালচে-হলুদ কিংবা হালকা পীত-সাদা। অবসারণীর দিকে লালচে ভাব বেশি। এর কাঁধে কোন আড়াআড়ি ফিতার মত দাগ থাকে না। পায়ের বাইরের অংশ উজ্জ্বল লালচে। চোখের সামনে মাজলের পাশে একটি করে কালো চিতি থাকে। কানের বাইরের অংশ ধূসর ও ভিতরের অংশ সাদাটে। ঋতু ও উপপ্রজাতি ভেদে পিঠের পিলেজের রঙে তারতম্য হতে পারে। তবে সাধারণত পিলেজ তামাটে-ধূসর। কানের কালচে-বাদামি পিলেজের প্রান্তদেশ কালো। বাংলা খেঁকশিয়ালের সবচেয়ে চোখে পড়ার মত অঙ্গটি হল এর বড় ঝাঁকড়া লেজ। লেজ ধূসর ও লেজের উপরিভাগ লালচে। লেজের আগা কালো।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ Vulpes bengalensis, The IUCN Red List of Threatened Species এ বাংলা খেঁকশিয়াল বিষয়ক পাতা।
  2. ২.০ ২.১ ২.২ জিয়া উদ্দিন আহমেদ (সম্পা.), বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: স্তন্যপায়ী প্রাণী, খণ্ড: ২৭ (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০০৯), পৃ. ১৪৪।
  3. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৫১৩
  4. Johnsingh, A. and Jhala, Y. 2004. Vulpes bengalensis (Shaw, 1800). In: Canids: Foxes, Wolves, Jackles, and Dogs. Status Survey and Conservation Action Plan, 2004. pp. 219-222.