বাংলাদেশে ইন্টারনেট
বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এর প্রসারে বেশ কিছু বাধা বিদ্যমান। ২০০৯ সালে চালু হওয়া "ডিজিটাল বাংলাদেশ" উদ্যোগটি একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে দেশকে রূপান্তরিত করা সরকারের একটি প্রধান অগ্রাধিকার।[১] দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। ২০১২ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটক প্রথম বাণিজ্যিক থ্রিজি পরিষেবা চালু করে।[২] এরপর ২০১৩ সালে স্পেকট্রাম নিলামের পর অন্যান্য বেসরকারি অপারেটরগুলোও থ্রিজি সেবা চালু করে।[৩] বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ফোরজি নেটওয়ার্ক পরিষেবা চালু করে।[৪] ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে ৫জি চালু হয়।[৫] ২০ মে ২০২৫, বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফাইভ-জির যাত্রা শুরু হয়।[৬][৭] জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত, বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ১০ হাজার।[৫][৮][৯][১০][১১][১২][১৩]
বিবর্তন
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া শুরু হয়। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে দেশে অনলাইন ইন্টারনেট চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়। ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডে অবস্থিত ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ইনফরমেশন সিস্টেম নেটওয়ার্ক (আইএসএন) প্রথম ইন্টারনেট সংযোগ দেয় ৬ জুন। আইএসএনের ডোমেইন নাম বাংলা ডটনেট (bangla.net)। দেশের প্রথম ইন্টারনেট ছিল ডায়াল-আপ প্রযুক্তির। অর্থাৎ টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে হতো। কম্পিউটারে থাকা মডেম (মডিউলেশন-ডিমডিউলেশন) তারের মাধ্যমে টেলিফোন সংযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হতো। এরপর আইএসপির নির্দিষ্ট নম্বরে ডায়াল করে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া যেত। বাংলাদেশ থেকে তখন ইন্টারনেটে যুক্ত হতে কৃত্রিম উপগ্রহনির্ভর ভি-স্যাট (ভেরি স্মল অ্যাপারচার টার্মিনাল) প্রযুক্তি ব্যবহার হতো। দেশে ভি-স্যাট পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড বিটিটিবির (বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএল) হাতে। আইএসএনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ইকবাল প্রথম আলোকে জানান, ‘শুরুতে ৬৪ কেবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পেয়েছিলাম। শুরুর দিকে গ্রাহক প্রান্তে ৬ কেবিপিএস গতি দেওয়া যেত। ৬৪ কেবিপিএসের জন্য ভি-স্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে দিতে হতো ১০ হাজার মার্কিন ডলার।’
আইএসএনের প্রথম ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয় গুলশানের আইটোচু করপোরেশনের কার্যালয়ে। এরপরের চারটি সংযোগ নিয়েছিল যথাক্রমে বারিধি শিপিং লিমিটেড (কারওয়ান বাজার), বিজনেস পয়েন্ট (ইন্দিরা রোড), কন্ট্রা (বিডি) লিমিটেড (নিউ ইস্কাটন রোড) ও এসকোয়ার নিট কমপোজিট লিমিটেড (তেজগাঁও)। তখন ইন্টারনেটের সংযোগ ফি ছিল ১০ হাজার টাকা। আর ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ধরা হতো প্রতি মিনিটের হিসাবে। প্রতি মিনিট ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ছিল ৫ টাকা। ১৯৯৬ সালে অনলাইন ইন্টারনেট চালুর দেড়-দুই বছর আগে দেশে সীমিত আকারে ‘অফলাইন’ ইন্টারনেটের ব্যবহার ছিল। অফলাইনে ই-মেইল সেবা পরিচালনা করেছে অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড, প্রদেষ্টা ও দৃক। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) অভ্যন্তরীণ অফলাইন ইন্টারনেট ছিল। এ পদ্ধতিতে সংযোগদাতারা ই-মেইল সংগ্রহ করে নিজেদের সার্ভার থেকে বিদেশের আপস্ট্রিম সার্ভারে পাঠাত। এরপর সেই সার্ভার থেকে ই-মেইলের উত্তর এলে সেটি গ্রাহককে পৌঁছে দেওয়া হতো। আইএসএনের পর গ্রামীণ-সাইবারনেট, প্রশিকানেটসহ আরও আইএসপির পথ চলা শুরু হয়েছিল।[১৪]
উচ্চগতির ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ফাইবার অপটিক সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়। নেটওয়ার্ক স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ১৪ দেশের ১৬টি টেলিযোগাযোগ সংস্থা দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া–মধ্যপ্রাচ্য–পশ্চিম ইউরোপ (এসই–এমই–ডব্লিউই)–৪ নামের এই কনসোর্টিয়াম গঠন করে। ২০০৪ সালের ২৭ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা চুক্তিপত্রে সই করেন। এসই-এমই-ডব্লিউই-৪ সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ থেকে অংশীদার ছিল বাংলাদেশ টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাম বোর্ড বিটিবিবি (বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড)। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা হয় এ চুক্তিকে।
এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ফ্রান্সের মার্সেই থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সাগরের তলদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেব্ল স্থাপন করা হয় এ প্রকল্পে। বাংলাদেশ কক্সবাজারে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। কেব্ল স্থাপনের দায়িত্ব পায় ফ্রান্সের আলকাটেল সাবমেরিন কেব্ল ও জাপানের ফুজিৎসু লিমিটেড। প্রতি সেকেন্ডে টেরাবিট গতিতে ডেটা আদান–প্রদান করার লক্ষ্য ছিল এই নেটওয়ার্কের। কনসোর্টিয়াম গঠনের দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২১ মে এই সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্ক চালু হয়। এসই-এমই-ডব্লিউই-৪ সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্কে যুক্ত দেশগুলো হলো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স।[১৫] নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পর ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটির কার্যক্রম চালু করা হয়। এই সাবমেরিন কেবল বসাতে ৬৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে সাবমেরিন কেবলটি থেকে প্রতি সেকেন্ডে ২০০ গিগাবিট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে এই গতি প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার ৫০০ গিগাবিটে উন্নীত হবে।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডিল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপের সাথে সি-মি-উই-৫ নামের এই সাবমেরিন কেবলের সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হয়। কুয়াকাটায় এর ল্যান্ডিং স্টেশন।[১৬]
ব্যবহার
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে দেশে এখন ইন্টারনেটের মোট গ্রাহক ১৩ কোটির মতো, যা গত জুনে ছিল প্রায় ১৪ কোটি ২২ লাখ। এ সময় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক কিছু বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখের মতো[১৭] ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৫৪.১২০ মিলিয়ন। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৫১.৪৫৩ মিলিয়ন এবং ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী ছিল ২.৬৬৭ মিলিয়ন সরকার কর্তৃক দেশটিকে ডিজিটালাইজ করার অঙ্গীকার এবং প্রচেষ্টার কারণে গত পাঁচ বছরে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
২০২০ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৮.১৮৮ মিলিয়ন। এই গ্রাহকদের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৯৯.৬১৮ মিলিয়ন এবং ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী ছিল ৮.৫৭১ মিলিয়ন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৯৯.৪২৮ মিলিয়ন, যার মধ্যে ৯৩.৬৮১ মিলিয়ন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৫.৭৪২ মিলিয়ন ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী ছিল।
বিটিআরসি'র তথ্য অনুসারে, একজন 'ইন্টারনেট গ্রাহক' বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যিনি বিগত ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন।[১৮]
সেবার মান
[সম্পাদনা]দেশের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যান্ডউইথের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া
[সম্পাদনা]দেশে প্রতিদিন নানা কাজে ৬ হাজার ৮০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয়। যা বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এবং ৬টি আইটিসি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে আইআইজি অপারেটররা। এরপর আইএসপি হয়ে গ্রাহকের কাছে পৌছায় ইন্টারনেট সেবা।বর্তমানে দৈনিক চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ যোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। বাকি ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ আইটিসি অপারেটরের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি হয়।আইআইজি অপারেটররা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত তাদের ভূখণ্ডে সিডিএন সার্ভার স্থাপন করায় এখন আইটিসি ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুত ট্র্যাফিক সরবরাহ করছে। আবার সাবমেরিন ক্যাবলের প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ কিনতে খরচ যেখানে ২২০ টাকা সেখানে ভারতীয় ব্যান্ডউইথে খরচ ১০০ টাকা। এ কারণে সাবমেরিন ক্যাবলের ৪ হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পড়ে আছে। অথচ ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানিতে বছরে প্রায় চার কোটি ডলার বা বর্তমান রেটে ৪৮৮ কোটি টাকা খরচ করছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় সংশোধিত আইআইজি লাইসেসিং গাইডলাইনে ব্যান্ডউইথ আমদানির সীমা ৫০ শতাংশে বেঁধে দিয়েছে বিটিআরসি। এতে বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি না তুললেও সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথের দাম কমাতে বলছেন আইআইজি অপারেটররা।আইআইজিএবির সভাপতি বলেন, ‘৫০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ সাবমেরিন থেকে নিতে হবে। ফলে আইআইজি লেভেলে প্রত্যেকের খরচ ১০ থেকে ২০ শতাংশ খরচ বাড়বে।’ব্যান্ডউইথ বিক্রি বাড়লে দামও কমানো হবে বলে জানালেন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘১০০ জিবিপিএস কিনলে আমরা ৩০ জিবিপিএস ফ্রি দিচ্ছি। আমাদের বিক্রি বাড়লে ডিসকাউন্ট বাড়ানোর কথাও ভাববো আমরা।’বিটিআরসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে দুটি শীর্ষ আইটিসি অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।[১৯] বর্তমানে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি এর মোট ক্যাপাসিটি ৭.২ টিবিপিএস, যা আগামী বছরে ২০.৪ টিবিপিএস ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে তিনটি বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল মিলিয়ে জাতীয় ক্যাপাসিটিতে আরও ৪৫ টিবিপিএস যুক্ত হবে।[২০]
ইন্টারনেটের গতি ও এর মান
[সম্পাদনা]যদিও বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, তবুও এটি এখনও কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।২০২৫ সালের সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গড় ডাউনলোড গতি প্রায় ৫০.৯৩ এমবিপিএস, যা এটিকে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় নিম্ন র্যাঙ্কিংয়ে রেখেছে (১০০)। মোবাইল ইন্টারনেটের গতির ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ওঠানামা করেছে(বর্তমান ৯০) এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকের রিপোর্টে এটি ১৪৮টি দেশের মধ্যে ১১২তম স্থানে ছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিক পর্যন্ত, বাংলাদেশের মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে অগ্রগতি দেখা গেছে, তবে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং মিশ্র অবস্থায় রয়েছে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স অনুসারে, বাংলালিংক ছিল দেশের দ্রুততম মোবাইল অপারেটর, যার গড় ডাউনলোড গতি ছিল ২৬.৭৪ এমবিপিএস।[২১][২২] যদিও বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি বিশ্বের দ্রুততমগুলোর মধ্যে নাও থাকতে পারে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।[২৩] ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত, নেট ইনডেক্সের হাউসহোল্ড ডাউনলোড ইনডেক্সে বাংলাদেশ ১৯৮টি দেশের মধ্যে ৯০তম স্থানে ছিল।[২৪] বিশেষ করে, বিএসসিসিএল-এর কুয়াকাটা সাবমেরিন কেবল (রিজিওনাল সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশনস প্রজেক্ট, বাংলাদেশ) সম্পন্ন হওয়ায় এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ট্রান্সমিশন ক্ষমতা বাড়িয়েছে (SEA-ME-WE 5 কেবলের মাধ্যমে) এবং PoP থেকে PoP সংযোগের মাধ্যমে রিডান্ডেন্সি ও স্বল্প-লেটেন্সি সরবরাহ করেছে।২০০৬ সালে কক্সবাজার সাবমেরিন কেবল (SEA-ME-WE 4 কেবলের মাধ্যমে) চালু হওয়ার পর থেকে দেশে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০০৮ সালে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) পাইকারি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম প্রতি Mbit/s-এর জন্য ৮০,০০০ টাকা (প্রায় US$ ১,১২৫) থেকে ১৮,০০০ টাকায় (প্রায় US$ ২৫০) নামিয়ে আনে। বিটিআরসি দাম নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে এবং ২০২৫ সালে সরকার সকল সরকারি ও বেসরকারি আইএসপিগুলোর জন্য একটি একক ট্যারিফ নির্ধারণ করে ভোক্তা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ৫ এমবিপিএস সংযোগের দাম ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০ টাকা এবং একটি ২০ এমবিপিএস সংযোগের দাম ১,২০০ টাকার পরিবর্তে ১,১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।[২৫] ২০০৯ সালে, ধীর ও অবিশ্বস্ত সংযোগের জন্য খুচরা মূল্য এখনও অনেক বেশি এই অভিযোগের পর, BTRC ইঙ্গিত দেয় যে খুচরা মূল্য যাতে হ্রাসকৃত পাইকারি মূল্যের প্রতিফলন ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে তারা আইএসপিগুলোর ওপর নজরদারি শুরু করবে। রাজধানী শহরের অভ্যন্তরে, অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে খুচরা মূল্য হ্রাস করা হয়েছে এবং ইন্টারনেটের মান উল্লেখযোগ্যভাবে মানসম্মত হয়েছে। তবে, ঢাকার বাইরের জন্য গ্রহণযোগ্য মান এবং নির্ভরযোগ্যতার সাথে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে (ICTs) আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখে। এটি সরকারের "ডিজিটাল বাংলাদেশ" পরিকল্পনা এবং সেই সাথে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিতে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী আইসিটি র্যাঙ্কিংয়ে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠছে। ২০২৪ সালের গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে (GII) বাংলাদেশ ১৩৩টি অর্থনীতির মধ্যে ১০৬তম স্থানে ছিল। এটি জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সেও (EGDI) তার অবস্থান উন্নত করেছে এবং ২০২৪ সালে ১০০তম স্থানে উঠেছে।[২৬][২৭] তবে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, বাংলাদেশ এখনও তার সমপর্যায়ের অন্যান্য নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও অবকাঠামো উন্নয়নের ঘাটতি উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।[২৮][২৯] আইসিটি নেতারা উদ্বিগ্ন যে বার্ষিক বাজেট সরকারের আইসিটি লক্ষ্যগুলিকে পর্যাপ্তভাবে সমর্থন করে না।[৩০]
ইন্টারনেট পরিষেবা
[সম্পাদনা]ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (NIX) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (IIG)
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে সকল আইএসপি এবং সমতুল্য পরিষেবা প্রদানকারীরা দুটি সিস্টেমের মাধ্যমে ট্র্যাফিক আদান-প্রদান করে: ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (NIX) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (IIG)।[৩১][৩২] আইআইজিগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করে, যেখানে সকল অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমাতে এনআইএক্স-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।[৩৩] এনআইএক্স দুটি এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট নিয়ে গঠিত: ২০০৪ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (BDIX), যা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রাম এবং পিয়ারিং সোসাইটি অফ বাংলাদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়,[৩৪] এবং ২০০৪ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (BSIX)।[৩৫] ২০১২ সালের জুনে বিটিআরসি অতিরিক্ত এনআইএক্স লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করে।[৩৬] বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৪ টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (IIG) আছে।[৩৭]
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি)
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে ২০২৫ সালে লাইসেন্সধারী আইএসপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৪১৫; যদিও লাইসেন্সধারী, লাইসেন্স ছাড়াসহ সব মিলিয়ে দেশে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি[৩৮] ২০০৫ সালে দেশে ১৮০টিরও বেশি আইএসপি কাজ করছিল।আইএসপিগুলো বিটিআরসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ২০১৬ সালে, দেশব্যাপী পরিষেবা প্রদানকারী ১১৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইএসপি ছিল[৩৯] এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে পরিষেবা প্রদানকারী ৬৫টি আইএসপি ছিল।[৪০]
মোবাইল অপারেটর
[সম্পাদনা]যেহেতু ফিক্সড লাইনের প্রবেশাধিকার কম এবং ভবিষ্যতেও কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বেশিরভাগ বাংলাদেশির জন্য ইন্টারনেটের প্রথম অভিজ্ঞতা মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমেই হয়। ২০১০ সালে, বাংলাদেশের আনুমানিক ৯০% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পেয়েছিল।[৪১] চারটি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, এবং বাংলালিংক বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় থ্রিজি, ফোরজি পরিষেবা প্রদান করে, অন্য অপারেটররা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট পরিষেবা এবং বাকি এলাকায় EDGE বা জিপিআরএস GSM ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করে। অপারেটররা সব এলাকায় তাদের থ্রিজি, ফোরজি পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য কাজ করছে। একমাত্র সিডিএমএ অপারেটর সিটিসেল ২০১৬ সালে সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়ার আগে ইভিডিও (EVDO) পরিষেবা দিত। এয়ারটেল বাংলাদেশ রবি এর সাথে একীভূত হয়েছে।[৪২][৪৩]
ব্রডব্যান্ড
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অ্যাক্সেস এবং ই-কমার্স ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে।২০২৫ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ১ কোটি ৪০ লাখ[৪৪]। ২০০৯ সালে ৫০,০০০ ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল।[৪৫] তবে, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে আইএসপি/পিএসটিএন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৩.১১২ মিলিয়ন।[৪৬] বিটিআরসি'র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নভেম্বরে ব্রডব্যান্ড সংযোগ ছিল ৫.৭৩৫ মিলিয়ন।[৪৭] যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সহজলভ্য, অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় উচ্চ গতির সংযোগের জন্য চার্জ বেশি, যদিও এটি এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশে 'ব্রডব্যান্ড' আইনতভাবে ১২৮/১২৮ কেবিপিএস হিসেবে সংজ্ঞায়িত, যা ITU-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অনেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা আন্তর্জাতিকভাবে প্রকৃত ব্রডব্যান্ড হিসাবে বিবেচিত নাও হতে পারে।[৪৮]
ওয়াইম্যাক্স
[সম্পাদনা]২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কোম্পানি—বাংলালায়ন কমিউনিকেশনস লিমিটেড, ব্র্যাক বিডি মেইল নেটওয়ার্ক লিমিটেড, এবং অগার ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড—বাংলাদেশে ওয়াইম্যাক্স পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পায়। তিনটি কোম্পানি নিলামে ২.১৫ বিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা (৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দিয়ে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স কিনেছিল, যা থেকে সরকারের কাছে ২৭.৫০% রাজস্ব প্রদানের চুক্তি ছিল। ব্র্যাক বিডি মেইল পরিষেবা শুরু করতে অস্বীকৃতি জানায়।[৪৯] বাংলালায়ন এবং অগার (কুইবি ব্র্যান্ড নামে) ২০০৯ সালের শেষের দিকে বাণিজ্যিক ওয়াইম্যাক্স পরিষেবা চালু করে।[৫০][৫১] ২০১৩ সালে থ্রিজি মোবাইল ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর ওয়াইম্যাক্সের ব্যবহার কমে যায়। দশকের শেষে, দ্য ডেইলি স্টার ওয়াইম্যাক্সকে "বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে" এবং "শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে" বলে বর্ণনা করে।[৫২][৫৩]
সাইবার ক্যাফে এবং স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী (এলএসপি)
[সম্পাদনা]বাড়িতে ব্যয়বহুল এবং ধীরগতির সংযোগের কারণে উচ্চ ব্যান্ডউইথ সহ সাইবার ক্যাফের চাহিদা তৈরি হয়েছিল। ২০০৯ সালে সাইবার ক্যাফের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৮০০, যা ২০০৫ সাল থেকে অপরিবর্তিত ছিল।[৫৪] ২০০৯ সালে বিটিআরসি প্রথমবারের মতো সাইবার ক্যাফেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ১৫০টিরও কম ক্যাফে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছিল।[৫৫][৫৬]
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এবং নজরদারি
[সম্পাদনা]ওপেননেট ইনিশিয়েটিভ ২০১১ সালে ফিল্টারিংয়ের সামান্য বা কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।[৫৭][৫৮] ২০২০ সাল নাগাদ, গেমিং ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট, জুয়া খেলার ওয়েবসাইট এবং রেডিট, মিডিয়াম, মিডিয়াফায়ার ও চেঞ্জ.ওআরজি-এর মতো সামাজিক ওয়েবসাইট সহ একটি বিশাল তালিকা বাংলাদেশে ব্লক করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রেডিটের মতো কিছু সাইট আনব্লক করা হয়।যদিও বাংলাদেশের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস জাতীয় স্তরের ফিল্টারিং ব্যবস্থা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, তবে রাষ্ট্র ইসলামবিরোধী এবং আপত্তিকর বিবেচিত কন্টেন্ট হোস্ট করার জন্য ওয়েবসাইট ব্লক করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যমান আইনি কাঠামো দ্বারা ইন্টারনেটের কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রিত হয়, যা মানহানিকর বা আপত্তিকর বিবেচিত বিষয়বস্তু এবং আইন-শৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন কন্টেন্টকে সীমিত করে।[৫৮] ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম সচলায়তন অ্যাক্সেসযোগ্য ছিল না বলে রিপোর্ট করা হয় এবং এটিকে একটি নতুন আইপি ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়। যদিও এই ব্লকিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, সম্ভবত সচলায়তন ছিল বাংলাদেশের প্রথম ফিল্টারিংয়ের ঘটনা। "জাতীয় স্বার্থ" রক্ষার জন্য ২০০৯ সালের মার্চে কয়েক দিনের জন্য ইউটিউব ব্লক করা হয়েছিল। বিতর্কিত ভিডিওটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের আংশিক অডিও রেকর্ডিং ছিল, যেখানে সীমান্তরক্ষীদের দ্বারা ঢাকায় একটি বিদ্রোহে সত্তর জনেরও বেশি লোকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পরিচালনার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল।[৫৯] ২৯ মে ২০১০ থেকে শুরু করে ৭ দিনের জন্য বিটিআরসি ফেসবুক ব্লক করে দেয়, কারণ এতে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এবং দেশের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মকর্তার আপত্তিকর চিত্র সহ পর্নোগ্রাফিক সাইটের লিঙ্ক ছিল।[৬০] ফেসবুক আপত্তিকর কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে সম্মত হওয়ার পর ব্লকটি তুলে নেওয়া হয়।[৬১] একই সময়ে, রাজধানী ঢাকায় একজন ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে ফেসবুকে কিছু রাজনৈতিক নেতার ব্যঙ্গাত্মক ছবি আপলোড করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।[৬২] ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল, ইনকর্পোরেশন বিতর্কিত চলচ্চিত্র Innocence of Muslims ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার অনুরোধ উপেক্ষা করার পর বিটিআরসি আবার ইউটিউব অ্যাক্সেস ব্লক করে দেয়।[৬৩] ২০১৩ সালের ১৬ মে বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি প্রতিরোধ করার প্রয়াসে আইএসপিগুলোর আপলোড ব্যান্ডউইথ ৭৫% কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরদের অনুরোধ করে।[৬৪] এমন জল্পনা ছিল যে, ব্যান্ডউইথ কমানোর আসল কারণ হলো সামাজিক মাধ্যমে ‘সমস্যাযুক্ত’ ভিডিও, ছবি, টিভি টক শো ক্লিপ ইত্যাদি আপলোড করা কঠিন করে তোলা।[৬৫] ২০১৫ সালের নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য দুই বিরোধী নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জঙ্গি সহিংসতা এবং বিরোধী দলের অস্থিরতা দমন করার উদ্দেশ্যে সরকার বাইশ দিনের জন্য ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম ব্লক করে দেয়।[৬৬] ২০১৯ সালে,[৬৭][৬৮] এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত,[৬৮] সরকার—"সহিংসতা" এবং "নিরাপত্তা" ইস্যু এবং "শৃঙ্খলা" বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে—কক্সবাজারের চারপাশে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সীমিত বা ব্লক করে দিয়েছে, বিশেষত সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্বারা সংগঠিত প্রতিবাদ এবং বয়কটের পর, যা তাদের সংকট মোকাবেলায় সরকারের পরিচালনার বিরোধিতা করে।[৬৭] এই যোগাযোগ অবরোধ ২০২০ সালেও অব্যাহত ছিল,[৬৮] রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং তাদের বৈশ্বিক ডায়াসপোরা,[৬৭][৬৯] এবং মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর[৬৮][৭০] এবং জাতিসংঘ-এর[৬৮][৭১] আপত্তি সত্ত্বেও, যারা অভিযোগ করেছে যে এই ব্ল্যাকআউট—প্রয়োজনীয় এবং জরুরি যোগাযোগ সীমিত করে—শরণার্থীদের অপরাধের[৬৭] এবং কোভিড-১৯ মহামারীর[৬৮][৭০][৭১] ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।২০২৪ সালে, জুলাই বিপ্লবের সময়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিষেবা সহ ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, রপ্তানিমুখী শিল্প, ফ্রিল্যান্স শিল্প এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর ৫ আগস্ট ইন্টারনেট বিধিনিষেধের অবসান হয়।[৭২]
ইন্টারনেট টপ লেভেল ডোমেইন
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাল প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় এক্সটেনশন বা টপ-লেভেল ডোমেইন হল .bd এবং '.বাংলা'।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Digital Bangladesh: A Story of Transformation"। Daily Sun (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Teletalk's 3G service opens"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladeshi 3G Network Launch to Usher in Internet"। Voice of America (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh enters 4G era on Feb 19"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 "ফাইভ জি যুগ শুরু"। www.kalerkantho.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Hasan, Mahmudul (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "Robi to launch 5G today in Dhaka, Chattogram and Sylhet"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ প্রতিবেদক, নিজস্ব (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "ফাইভ-জি চালু করল গ্রামীণফোন ও রবি"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ হাসান, মাহমুদুল (১৩ অক্টোবর ২০২৩)। "দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ আফরিন, সুহাদা (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। "দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আসলে কত"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ মোহাইমেন, পল্লব (৬ জুন ২০২৩)। "বাংলাদেশে ইন্টারনেট চালু হলো"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "থ্রিজি সেবা চালু, নতুন দিগন্তের সূচনা"। banglanews24.com। ৩ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৭ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০২০।
- ↑ "বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন"। btrc.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "বাংলাদেশে ইন্টারনেট চালু হলো"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "চালু হল দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল"। The daily star বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "মোবাইলে ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে ১.৩২ কোটি"। দৈনিক প্রথম আলো। ১৫ মার্চ ২০২৫। ৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Internet users in Bangladesh double in last five years"। The Financial Express (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "দেশের সাবমেরিন ক্যাবল ব্যান্ডউইথের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া"। Somoy News TV। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "BSCCL capacity to exceed 20.4 Tbps next year"। The Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh's Mobile and Broadband Internet Speeds - Speedtest Global Index"। Speedtest by Ookla। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "List of countries by Internet connection speeds"। Data Pandas। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Internet in Bangladesh"। Country report: Bangladesh। OpenNet Initiative। ৬ আগস্ট ২০১২।
- ↑ "Household Download Index"। Net Index by Ookla। ৮ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ "BTRC lowers minimum broadband bill to Tk400"। The Business Standard। ২২ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh Ranking in the Global Innovation Index 2024"। WIPO। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Bangladesh climbs 11 notches on UN's digital govt services index"। The Business Standard। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ Abdullah Mamun (১২ আগস্ট ২০১২)। "Bangladesh moving slowly up in ICT: Analysts say weak regulatory regimes cast a blight on the sector"। দ্য ডেইলি স্টার।
- ↑ Rizanuzzaman Laskar (২২ জুলাই ২০০৭)। "BTTB fails to reap benefit from submarine cable, Officials say they lack infrastructure to offer public the benefit of this fast and efficient facility"। Daily Star।
- ↑ Jamal Uddin (৪ মে ২০১২)। "Leaders of ICT sector unhappy with budget"। The Financial Express।
- ↑ "International Long Distance Telecommunications Services (ILDTS) Policy-2007" (পিডিএফ)। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১১।
- ↑ "IGW, ICX and IIG"। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)। ৮ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০১২।
- ↑ "Telecoms Infrastructure" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে, Board of Investment, Prime Minister's Office, Bangladesh
- ↑ "Internet Exchange Directory: Bangladesh Internet Exchange", Packet Clearing House, Retrieved 10 September 2012
- ↑ "Bangladesh Society of Internet Exchange", Packet Clearing House, Retrieved 10 September 2012
- ↑ "NIX guideline okayed", Jamal Uddin, Financial Express, 28 June 2012
- ↑ "Number of IIG's in Bangladesh" (পিডিএফ)। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission। ১৮ নভেম্বর ২০২৩। ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএসে গ্রাহক কত গতি পাবেন"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "List of national ISPs" (পিডিএফ)। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)। ১১ এপ্রিল ২০১৬। ২৪ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৬।
- ↑ "List of central zone ISPs" (পিডিএফ)। Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)। ২১ মার্চ ২০১৬। ১১ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৬।
- ↑ Bangladesh Telecoms Sector: Challenges & Opportunities ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে, Ifty Islam, Asian Tiger Capital Research, November 2010
- ↑ Jamal Uddin (২৯ জুলাই ২০১২)। "GP denied chance of 3G test run"। The Financial Express।
- ↑ Jamal Uddin (১২ জুলাই ২০১২)। "Teletalk to enter 3G era in Sept"। The Financial Express।
- ↑ "ইন্টারনেট সেবা উৎকৃষ্ট হবে"। Samakal। ১০ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Fixed broadband Internet subscribers: Bangladesh 2009", World Bank, accessed 27 September 2011
- ↑ "Internet users in Bangladesh cross 60 million, says telecoms regulator"।
- ↑ "BTRC shuts 3G, 4G again"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "Birth of Broadband - Frequently Asked Questions" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ জুলাই ২০১১ তারিখে, International Telecommunication Union, September 2003
- ↑ "BRAC's BDmail Network Declines Wimax Licence in Bangladesh" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে, Inside Bauani's Mind, 16 November 2008
- ↑ "BanglaLion to Start WiMAX Service in Bangladesh from 1st June" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে, WiMAXian, 29 March 2009
- ↑ "Wimax in Bangladesh" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ মার্চ ২০১২ তারিখে, Muhibbul Muktadir Tanim on WiMAX360, 22 December 2009
- ↑ Muhammad Zahidul Islam (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "WiMax on brink of extinction"। দ্য ডেইলি স্টার।
- ↑ Muhammad Zahidul Islam (১০ জুন ২০১৯)। "WiMax on its last legs"। দ্য ডেইলি স্টার।
- ↑ "", Md Hasan, The Daily Star, 9 July 2009
- ↑ "Cyber Cafe" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ আগস্ট ২০১২ তারিখে, Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission, retrieved 10 September 2012
- ↑ "Most of cyber cafes run sans licences", Mehdi Musharraf Bhuiyan, Financial Express, 2 February 2012
- ↑ Open Network Initiative Summarized global Internet filtering data spreadsheet, 8 November 2011
- 1 2 "Bangladesh Country Profile", OpenNet Initiative, 6 August 2012
- ↑ "ONI Regional Overview: Asia", OpenNet Initiative, June 2009
- ↑ "Pakistan Lifts Facebook Ban; Bangladesh Cracks Down", Rebekah Heacock, OpenNet Initiative, 1 June 2010
- ↑ "Bangladesh unblocks Facebook after Muhammad row", BBC News, 6 June 2010
- ↑ "Facebook blocked", Daily Star (Bangladesh), 30 May 2010
- ↑ "YouTube may return in Dec: BTRC" আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে, Shamim Ahamed, bdnews24.com, 3 Nov 2012
- ↑ "BTRC cuts upload bandwidth", bdnews24.com, 17 May 2013
- ↑ "Reduction of internet speed is digital tyranny" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে, Shafquat Rabbee, opinion, bdnews24.com, 18 May 2013
- ↑ "Bangladesh death sentences lead to Facebook ban"। BBC News। ১৮ নভেম্বর ২০১৫।
- 1 2 3 4 "Bangladesh Blocks Internet Services in Rohingya Refugee Camps," 3 September 2019 Reuters News Service / New York Times, retrieved April, 2020; same topic, 10 September 2020, at The Daily Star (Bangladesh) retrieved April, 2020
- 1 2 3 4 5 6 Jackson, Miriam, "UN, Rights Watchdog Want Internet Restored at Rohingya Camps," 28 March 2020, Union Journal, retrieved April 2020
- ↑ Sirazul Islam (Youth Advocate for the British Rohingya Community UK),"A Rohingya Coronavirus Catastrophe Looms if Their Internet Blackout Continues: Leaving the group cut off from the outside world leaves them especially vulnerable to COVID-19," 27 March 2020, The Diplomat (Japan), retrieved April, 2020
- 1 2 "Bangladesh Internet Ban Risks Rohingya Lives," 26 March 2020, Human Rights Watch, retrieved April, 2020
- 1 2 "Press briefing note on Myanmar-Bangladesh, Rohingya," 17 April 2020, Office of the High Commissioner for Human Rights, United Nations, on ReliefWeb.int, retrieved April, 2020
- ↑ "What you need to know about internet crackdown in Bangladesh"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।