বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কালপঞ্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য এই পুরাতন হাইকোর্ট ভবনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ইংরেজি ভাষায়: International Crimes Tribunal) বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যার উদ্দেশ্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহের বিচার করা। এর আওতায় পড়ে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ।[১] বাংলাদেশে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইশতেহার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা। সে নির্বাচনে তারা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বিজয়ী হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগের একজন সাংসদ ২০০৯ সালের ২৯শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব পেশ করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।[২] অবশেষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৩৯ বছর পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইবুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়।[৩]

এই নিবন্ধে বাংলাদেশের এই ট্রাইবুনালের দিনলিপি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

২০০৯[সম্পাদনা]

জানুয়ারি[সম্পাদনা]

  1. সিলেট-৩ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র সাংসদরা প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানালে স্পিকার তা অনুমোদন দেওয়া হবে কিনা এই প্রশ্ন ভোট নেন। মৌখিক ভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।[৪]

মার্চ[সম্পাদনা]

  1. সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী অভিযুক্তদের তদন্ত এবং বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।[৫]

মে[সম্পাদনা]

  1. সরকার বিশেষজ্ঞদের মতামত চেয়ে ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টটি আইন কমিশনে পাঠায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আইন কমিশন দেশের বিশেষজ্ঞ আইনজীবী, বিচারপতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আরও কয়েকজন আইনজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে ১৯৭৩ সালে প্রণীত ট্রাইব্যুনালের কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে সংশোধন আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেয়।[৬]

জুলাই[সম্পাদনা]

  1. আইন কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা করে ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইনকে যুগোপযোগী করার জন্য ট্রাইব্যুনালের কিছু সংশোধনী জাতীয় সংসদে মৌখিক ভোটে পাশ করা হয়।[৭]

২০১০[সম্পাদনা]

মার্চ[সম্পাদনা]

  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং অপরাধ তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়

জুলাই[সম্পাদনা]

  1. ট্রাইব্যুনালের প্রথম শুনানির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও বিচারক এ কে এম জহির আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন।[৮][৯][১০] শুনানি শেষে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা— মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানআব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়।[১১][১২]
  2. ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে ২রা আগস্ট সোমবার ট্রাইব্যুনালের সামনে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দেন।[১৩][১৪][১৫]

আগস্ট[সম্পাদনা]

  1. অভিযুক্ত নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও মোল্লাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করা হয়। আদালত অভিযুক্তদের হাজিরা গ্রহণ শেষে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আটক রাখার আদেশ দেয়।[১৬][১৭]
  2. শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আদালতের কাছে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেফতার করে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। এরপর আদালতকে জানানো হয় অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য একটি মামলায় কারাগারে আছেন। এই অবস্থায় আদালত অভিযুক্তকে ১০ই আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করে।[১৮][১৯]
  3. সাঈদীর পক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে জানান অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ট্রাইব্যুনাল ২৪শে আগস্ট সাঈদীকে হাজির করার পরিবর্তিত নির্দেশ জারি করে।[২০]
  4. কারাবন্দী জামায়াতের দুই নেতা আব্দুল কাদের মোল্লামুহাম্মদ কামারুজ্জামান বাদী হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংবলিত সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। এই রিটে তারা ১৯৭৩ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সাতটি ধারা ও উপ-ধারা সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণার দাবি করেন জামায়াতের চার নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করেন। আবেদনে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হককে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ১৭ই আগস্ট ২০১০ তারিখে রিট আবেদনটির শুনানির দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়।[২১]
  5. হাইকোর্ট বেঞ্চে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের ওপর শুনানি শুরু হয়।[২২][২৩]
  6. শুনানি গ্রহণ শেষে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞা আদালতকে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান যে তিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের প্রতিটি ধারা ও উপধারা নীরিক্ষা করেছেন এবং 'অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ মামলা চলাকালে আপিল বিভাগে যেতে পারবেন না বরং দোষী সাব্যস্ত হলেই তা পারবেন', এটুকু বাদে তাঁর কাছে ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের কোনো সমস্যা প্রতীয়মান হচ্ছে না এবং তিনি এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমকে ২৩শে আগস্ট এ বিষয়টির সমাধানে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।
  7. সকালে বিচারকাজের শুরুতে এবং সরকারপক্ষ থেকে কোনোরকম শুনানি আদালতে উপস্থাপন করার পূর্বেই বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ১৬ই আগস্ট করা রিট আবেদন প্রত্যাহার করেন। এর প্রেক্ষিতে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। লক্ষ্যণীয়, রিট আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত (rejected) হয়নি বরং উপস্থাপিত হয়নি (not pressed) মর্মে খারিজ হয়েছে। ফলে ভিন্ন আদালতে এই রিট পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়ে যায়। শুনানিতে পূর্বের দিন করা আব্দুল ওয়াহাব মিঞার অনুরোধটি উত্থাপন করা হয়নি।[২৪]
    সকালে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল। তারা ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপপরিদর্শক শিরু মিয়া ও তার ছেলে হত্যার দায়ে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত করেছেন। তদন্তের প্রথম দিন দলটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুরাতন এবং নতুন জেলখানা, কুরুলিয়া ব্রিজের কাছে অবস্থিত গণকবর, পইরতলা বধ্যভূমি পরিদর্শন করে। তদন্ত দল ঐদিন বিকেলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেন।[২৫][২৬]
  8. জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় ২১শে সেপ্টেম্বর হাজির করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিনে অর্থাৎ ২১শে সেপ্টেম্বর জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার রিট আবেদনসমূহেরও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলা হয়।[২৭]

সেপ্টেম্বর[সম্পাদনা]

  1. সাঈদীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নিজামুল হক, এটিএম ফজলে কবির ও একেএম জহির আহমেদ এর নেতৃত্বে শুনানির কাজ শুরু হয়। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী না করে তাকে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠায়। ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনের ওপর সাঈদীর উপস্থিতিতে ২২শে সেপ্টেম্বর তারিখকে ফের শুনানির দিন ধার্য করে।[২৮][২৯] একই দিনে আদালত এরইমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত জামায়াতের আমীর নিজামীসহ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার আইনজীবীদের দায়ের করা চারটি আবেদন শুনানি শেষে খারিজ করে দেয়। আবেদনগুলো হলো- কারাবন্দীদের বিরুদ্ধে জারী করা গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহার, তাদের কারামুক্তি, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং মামলার সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করা না পর্যন্ত পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করা। এ ছাড়াও দুইটি আবেদন জামায়াত নেতাদের আইনজীবীরা প্রত্যাহার করে নেন।[৩০] এই দিন আদালতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।[২৮]
  2. সাঈদী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২২শে সেপ্টেম্বরে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হবে না বলে ২১শে সেপ্টেম্বর বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত করে।[২৮][৩১]
    সাঈদীর অনুপস্থিতিতে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১২ই অক্টোবর শুনানির পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর সাঈদী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২২শে সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়। আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী সাঈদীর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পক্ষে ২১শে সেপ্টেম্বর তারিখে দেওয়া আবেদনের সঙ্গে একটি সম্পূরক আবেদন পেশ করেন।[৩২]

অক্টোবর[সম্পাদনা]

  1. সাঈদীকে পূর্বনির্ধারিত ১২ই অক্টোবর তারিখে অসুস্থ থাকায় ট্রাইবুনালে হাজির করা হয়নি। তার অনুপস্থিতিতে শুনানিকালে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২রা নভেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত সাঈদীকে অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে উপস্থাপন বিলম্বিত করা হয়। ২রা নভেম্বর সাঈদীকে প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সে করে হলেও দরকারি কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়।[৩৩][৩৪]

নভেম্বর[সম্পাদনা]

  1. বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ২৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আটক রাখার আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনাল একই সাথে ২৩শে ডিসেম্বরের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন অথবা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখার আবেদন করে আদালতকে জানান যে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে বিধায় তাকে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার রাখা প্রয়োজন। সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম এ আবেদনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত উপরিউক্ত আদেশ দেয়।[৩৫]

ডিসেম্বর[সম্পাদনা]

  1. যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ই ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্যানেল এই আবেদনটি করেছিলেন। শুনানি শেষে নিজামুল হকের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০শে ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়।[৩৬]

২০১১[সম্পাদনা]

জানুয়ারি[সম্পাদনা]

  1. আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ১৯শে এপ্রিল পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের কার্যক্রম চলার সময় চৌধুরীর পক্ষে দায়ের করা চারটি আবেদনের মধ্যে তিনটি খারিজ এবং একটি নিষ্পত্তি হয়। ট্রাইব্যুনাল যত দ্রুত সম্ভব চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত দলকে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট আদালতকে সরবরাহ করার নির্দেশনাও দেয়।[৩৭][৩৮]

ফেব্রুয়ারি[সম্পাদনা]

  1. ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার এবং একই তারিখে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। সেই সাথে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থাকে ১৫ই মার্চে সাঈদীর বিরুদ্ধে ‘কেস ডায়েরি’ উপস্থাপন করার নির্দেশও প্রদান করে।[৩৯]

মার্চ[সম্পাদনা]

  1. সাঈদীর জামিন নামঞ্জুর করা হয়। সাঈদীসহ একই অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান এবং কাদের মোল্লাকে পরবর্তী ২০শে এপ্রিল পুনরায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও তদন্ত সংস্থাকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।[৪০][৪১]

অক্টোবর[সম্পাদনা]

  1. ট্রাইব্যুনাল দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় সহযোগিতার ২০টি অভিযোগ গঠন (charge framing) করে।[৪২]

২০১২[সম্পাদনা]

মার্চ[সম্পাদনা]

  1. বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে সরকার নতুন একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ট্রাইব্যুনাল-২ বা ICT-2) গঠন করে।[৪৩]
  2. ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রাক্তন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।[৪৩]

এপ্রিল[সম্পাদনা]

  1. ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতের প্রাক্তন রুকন আবুল কালাম আযাদকে গ্রেফতার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থিত করার আদেশ দেয়। কিন্তু সেদিন ভোরেই তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি।[৪৪]
  2. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগ (charge framing বা indictment) গঠন করে।[৪৫][৪৬][৪৭]
  3. ট্রাইব্যুনাল-২ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কিছু বিধিমালা সংশোধন করে নিজস্ব কার্যপ্রণালি বিধিমালা প্রণয়ন করে। নতুন বিধি অনুসারে ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন একবারের বেশি করা যাবে না।[৪৩][৪৮]
  4. সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দেন। উল্লেখ্য এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।[৪৯]

মে[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু।[৫০]

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Anbarasan Ethirajan, "Bangladesh finally confronts war crimes 40 years on", BBC, ২০শে নভেম্বর, ২০১১
  2. "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাব সংসদে পাস", প্রথম আলো, ৩০শে জানুয়ারি ২০০৯
  3. "Justice and Parliamentary Affairs issued S.R.O No. 87-AvBb/2010-wePvi-4/5wm-2/2010/506"http://www.bgpress.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৯  |কর্ম= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  4. "JS passes proposal to try war criminals", The Daily Star, ৩০ জানুয়ারি ২০০৯
  5. "৭৩ এর আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]", বিডিনিউজ২৪, ২৫শে মার্চ ২০০৯
  6. "Opinion of the Law Commission on the technical aspects of the International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৯ 
  7. "যুদ্ধাপরাধ বিচারে সংসদে বিল পাস মানবাধিকার কমিশন বিলও পাস"দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা, বাংলাদেশ। ১০ জুলাই ২০০৯। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  8. "নিজামী মুজাহিদ কামারুজ্জামান কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট"দৈনিক ইত্তেফাক। ঢাকা, বাংলাদেশ। ২৭ জুলাই ২০১০, মঙ্গলবার।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  9. "Int'l crimes tribunal starts proceedings today", The Daily Star, ২৬শে জুলাই ২০১০
  10. "Bangladesh's war crimes tribunal issues first warrants[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]", The Statesman, ২৬শে জুলাই ২০১০
  11. "নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ", প্রথম আলো, ২৬শে জুলাই ২০১০
  12. "Warrants issued for Bangladeshi Islamic party leaders on charges of crimes against humanity[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]", Fox News, ২৬শে জুলাই ২০১০
  13. "Four Jamaat leaders asked to appear"The Daily Star। ৩০ জুলাই ২০১০। 
  14. "জামায়াতের চার শীর্ষ নেতাকে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে সোমবার"দৈনিক ইত্তেফাক। ৩০ জুলাই ২০১০। 
  15. "Bangladesh: Bringing a Forgotten Genocide to Justice"Time World। ৩ আগস্ট ২০১০। 
  16. "4 Jamaat leaders in war trial dock"The Daily Star। আগস্ট ৩, ২০১০। 
  17. "Bangladesh Jamaat leaders to be kept in jail indefinitely) (Arab News"Arab News। আগস্ট ২, ২০১০। ১১ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১০ 
  18. "সাঈদীকে ১০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ", দৈনিক প্রথম আলো, ৫ আগস্ট ২০১০
  19. "Tribunal hears war crimes of Sayedee", The Daily Star, ৫ আগস্ট ২০১০
  20. "সাঈদীকে ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ", দৈনিক প্রথম আলো, ১১ই আগস্ট ২০১০
  21. "Provisions of law challenged"The Daily Star। আগস্ট ১৭, ২০১০। 
  22. "জামায়াতের দুই নেতার রিটের শুনানি শুরু"দৈনিক প্রথম আলো। ১৮-০৮-২০১০।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  23. "Next hearing on August 22"The Daily Star। আগস্ট ১৮, ২০১০। 
  24. "যুদ্ধাপরাধ আইন বাতিলের আবেদন খারিজ[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]", বিডিনিউজ২৪, ২৩ আগস্ট ২০১০
  25. "গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু"বিডিনিউজ২৪। ২৩ আগস্ট ২০১০। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  26. "War crime probe against Ghulam Azam begins"The Daily Star। Tuesday, August 24, 2010।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  27. "২১শে সেপ্টেম্বর সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ,"দৈনিক প্রথম আলো। ২৪-০৮-২০১০।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  28. "সাঈদীকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা হয়নি, কাল আবার শুনানি,"। ২১-০৯-২০১০।  অজানা প্যারামিটার |newspapre= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  29. "যুদ্ধাপরাধ বিচারের কাঠগড়ায় সাঈদী"বিডিনিউজ২৪। Tue, Sep 21st, 2010।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  30. "6 pleas of Jamaat leaders rejected"The Daily Star। Tuesday, September 21, 2010।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  31. "সাঈদীকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে না,"বিডিনিউজ২৪। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  32. "সাঈদীকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে ১২ অক্টোবর শুনানি"দৈনিক প্রথম আলো। বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  33. "সাঈদীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাজির করার নির্দেশ"বিডিনিউজ২৪। ১২ অক্টোবর ২০১০। ১৪ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১০ 
  34. "প্রয়োজনে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে ২ নভেম্বর সাঈদীকে হাজির করার নির্দেশ"দৈনিক সমকাল। মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০১০। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১২  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  35. "সাঈদীকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ"দৈনিক প্রথম আলো। ০৩-১১-২০১০।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  36. "Bangladesh grinds axe on war criminals, SQ Chowdhury arrested"The Times of India। ১৬ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১০ 
  37. "Keep SQ Chy detained until 19 Apr: ICT"The Daily Sun। ১৮ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১১ 
  38. "সাকা চৌধুরীকে ১৯শে এপ্রিল পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ"মানবজমিন। ১৮ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১১ 
  39. "Sayedee to be produced in tribunal on Mar 15"The Daily Star। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  40. "Sayedee to remain in jail"bdnews24। ১৫ মার্চ ২০১১। ১৭ মার্চ ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১১ 
  41. "সাঈদীর জামিন নামঞ্জুর, পরবর্তী শুনানি ২০ এপ্রিল"প্রথম আলো। ১৫ মার্চ ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১১ 
  42. "Deposition against Sayedee underway ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে", বাংলা নিউজ ২৪, এপ্রিল ৮, ২০১২
  43. "ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যপ্রণালি বিধিমালা: আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে একবার", দৈনিক প্রথম আলো, ৬ এপ্রিল ২০১২
  44. "পরোয়ানা নিয়ে আযাদকে খুঁজে পায়নি পুলিশ", প্রথম আলো, ৪ এপ্রিল ২০১২
  45. Mizan Rahman, "Opposition lawmaker indicted for war crimes ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে", Gulf Times, ৫ এপ্রিল ২০১২
  46. "অপরাধ ২৩-হত্যা ধর্ষণ অপহরণ নির্যাতন ধর্মান্তর ॥ অভিযুক্ত সাকা", দৈনিক জনকণ্ঠ, ৫ এপ্রিল ২০১২
  47. "THE 23 CHARGES", The Daily Star, ৫ এপ্রিল ২০১২
  48. "ICT-2 promulgates its own RP ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৪-০২-২২ তারিখে", New Age, ৬ এপ্রিল ২০১২
  49. "সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে", বাংলা নিউজ ২৪, ৮ এপ্রিল ২০১২
  50. "গোলাম আযমের বিচার শুরু ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ মে ২০১২ তারিখে", বিডিনিউজ২৪, ১৩ মে ২০১২

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]