বলবিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বলবিদ্যা (গ্রীক: Μηχανική, ইংরেজি: Mechanics) (অথবা বলবিজ্ঞান) পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা যা কোন বল প্রযুক্ত হওয়ার ফলে ভৌত বস্তুর সরণ বা অন্যান্য আচরণ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে থাকে। এটি গণিত শাস্ত্রেও অধিত হয়। মূলত বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থা নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞানের এই শাখাটির সূচনাকাল বলা যেতে পারে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগকে। সেসময় এরিস্টটল বিভিন্ন বস্তু যেমন পাথর বাতাসে নিক্ষেপ করলে কি ধরণের আচরণ করে তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বলবিদ্যার ভিত্তি স্থাপনে অবদান রেখেছেন গ্যালিলিওইয়োহানেস কেপলার এবং সবশেষে নিউটন বলবিদ্যার মৌলিক তত্ত্বগুলোর অবতারণা করেন। অবশ্য নিউটনের উদ্ভাবিত নীতিগুলোকে নিয়ে নিউটনীয় বলবিদ্যা নামে একটি পৃথক শাখা গড়ে উঠেছে। যিনি বলবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনা এবং গবেষণা করেন তাকে বলবিজ্ঞানী বলা হয়।

তাৎপর্য[সম্পাদনা]

বলবিদ্যা পদার্থবিজ্ঞানের মূল শাখা যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান বৃহৎ জগত নিয়ে আলোচনা করে। সেই হিসেবে প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্বন্ধে এটিই মূল তত্ত্ব প্রণয়নের দাবী করতে পারে। বলবিদ্যা মহাবিশ্বের যেকোন বস্তুর উপর চারটি মৌলিক বলের প্রভাব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। মৌলিক বল চারটি হল: মহাকর্ষ, সবল নিউক্লিয়, দূর্বল নিউক্লিয় এবং তাড়িতচৌম্বক বল

বলবিদ্যা প্রযুক্তির জগতেও একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি ভৌত জ্ঞানসমূহকে মানুষের কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। এজন্য অনেক সময় এই শাখাটিকে প্রকৌশল বা ফলিত বলবিদ্যা নামকরণ করা হয়ে থাকে যদিও অধুনা এ নামে একটি শাখা গড়ে উঠেছে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে বলবিদ্যাই অবয়ব, যন্ত্রের গঠন এবং যন্ত্রসমূহের ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি নির্দেশ করে। যন্ত্র প্রকৌশল, মহাকাশ প্রকৌশল (aerospace), পুর প্রকৌশল, জৈব বলবিদ্যা, structural engineering, materials engineering, biomedical engineering ইত্যাদি অধ্যয়নে এটি সাহায্য কে থাকে।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

চিরায়ত বলবিদ্যা[সম্পাদনা]

নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে চিরায়ত বলবিদ্যার ভিত রচিত হয়:

কোয়ান্টাম বলবিদ্যা[সম্পাদনা]

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অংশ:

চিরায়ত বনাম বলবিদ্যা[সম্পাদনা]

বলবিদ্যার দুটি প্রধান শ্রেণী হচ্ছে চিরায়ত বলবিদ্যা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। এই দুটির মধ্যে মূলনীতিগত বেশ ভালো রকমের পার্থক্য রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেখলে চিরায়ত বলবিদ্যাই প্রথমে এসেছে আর কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে বলা যায় নব্য বলবিদ্যা। চিরায়ত বলবিদ্যার ইতিহাস মানুষের ইতিহাস রচনার ইতিহাসের চেয়েও পুরনো, অন্যথায় কোয়ান্টাম অংশটির অস্তিত্ব ১৯০০ সালের পূর্বেই ছিলনা। তবে এই দুটি বিদ্যা একসাথেই ভৌত প্রকৃতির সমগ্র অংশের ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হয়।

পেশাদার সংগঠনসমূহ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ব্লগসমূহ: