বড় লোকের বিটি লো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"বড় লোকের বিটি লো"
বড়লোকের বিটি লো অ্যালবাম থেকে
রতন কাহার(সঙ্গীত পরিচালক) ও স্বপ্না চক্রবর্তী(গায়িকা) কর্তৃক পল্লী গীতি
ভাষাবাংলা
রচিত১৯৭২
মুক্তিপ্রাপ্ত১৯৭৬
বিন্যাসআর পি এম ডিস্ক
রেকর্ডকৃত১৯৭৬
ধারালোকসঙ্গীত
দৈর্ঘ্য০৩:০৩
লেবেলঅশোকা রেকর্ড কোম্পানি
গান লেখকরতন কাহার
সুরকাররতন কাহার
প্রযোজকরতন কাহার

বড় লোকের বিটি লো, লম্বা লম্বা চুল অথবা বড়লোকের বেটি লো, লম্বা লম্বা চুল[১] একটি জনপ্রিয় ভারতীয় বাংলা পল্লীগীতি। ১৯৭২ সালে রতন কাহার কর্তৃক রচিত ও ঝুমুর তালে সুরারোপিত এই গীতি বা গানটি প্রাথমিকভাবে রতন কাহারের কন্ঠে আকাশবানীতে প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে স্বপ্না চক্রবর্তীর কন্ঠে ১৯৭৬ সালে নতুন করে প্রকাশিত হয় এবং লোকসঙ্গীত হিসেবে জনপ্রিয় হয়।[২][৩][৪] গানটি কালোত্তীর্ণ ও আলোচিত। মূল সুর ঠিক রেখে চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে গানটির পুনরুৎপাদন করা হয়েছে।[৫] জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক বাদশাহ তার 'গেন্দাফুল' শিরোনামের একক হিন্দি সঙ্গীতে পায়েল দেবের কন্ঠে এই গানের প্রথম দুই পঙক্তি ব্যবহার করায় গানটি ভারতের অন্যান্য ভাষার সঙ্গীত শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করে, তবে রতন কাহারের অনুমতি ছাড়া গানটি ব্যবহারের জন্য বাদশাহ সমালোচিত হন।[৬][৭][৮]

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে সিউড়িতে একজন পতিতা মা ও তার কন্যা শিশুর করুণ জীবন কাহিনী হতে অনুপ্রাণিত হয়ে রতন কাহার এই গীত রচনা করেছিলেন। ঐ কুমারী মা তার ছোট মেয়ের চুল লাল ফিতে দিয়ে খোঁপা বাঁধতে বাঁধতে নিজের করুণ জীবনকাহিনী রতন কাহারকে বর্ণনা করেছিলেন। বর্ণনায় কন্যা শিশুটি তার বাবার রূপ পাওয়া এবং মেয়েটির বাবা বিত্তশালী হয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। এই গল্প থেকে গানটির সৃষ্টি হয়।[৯]

সঙ্গীত ধারণ ও জনপ্রিয়তা[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে রচনার পর গানটি রতন কাহার আকাশবাণীতে প্রথম পরিবেশন করেছিলেন। পরে তাঁর মামার গানের দলের হয়ে তিনি গানটি নিয়মিত গাইতেন। এসময় গানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। ১৯৭৬ সালে স্বপ্না চক্রবর্তী তাঁর কাছ থেকে আরো দুইটি গানের সাথে এই গানটি সংগ্রহ করেন।[২] এবং অশোকা রেকর্ড কোম্পানি হতে ''বড়লোকের বিটি লো' এ্যালবামের মাধ্যমে নিজ কন্ঠে ধারণ ও প্রকাশ করেন। নতুন করে প্রকাশের পর গানটি জনপ্রিয় হয়।[৬][৯] জনপ্রিয়তার কারণে এ্যালবামটি 'গোল্ডেন ডিস্ক' পুরষ্কার পায়।[৯]

গীতিকারের স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকবার এই গানের গীতিকার হিসেবে রতন কাহারের নাম অস্বীকার করার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৬ সালে অশোকা রেকর্ডের ব্যানারে গানটি প্রকাশের সময় গীতিকার হিসেবে রতন কাহারের নাম উল্লেখ না করে 'প্রচলিত গান' বলে প্রচার করা হয়।[২] ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সনি মিউজিক ইন্ডিয়ার ব্যানারে ভারতীয় র‍্যাপার বাদশাহ'র গেন্দাফুল শিরোনামে একটি একক সঙ্গীত প্রকাশিত হয়। গেন্দাফুল গানের মুখ্যপঙক্তি হিসেবে তিনি এই গানের প্রথম দুই লাইন ব্যবহার করেন। তবে গীতিকার ও সুরকার হিসেবে নিজের নামের সাথে রতন কাহারের নাম উল্লেখ করেননি।[১০] রতন কাহারের অনুমতি ও তাঁকে কোন ধরনের পারশ্রমিক প্রদান ছাড়া তার গান ব্যবহারের জন্য তার হয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ লেখক অর্ঘ্য বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেন।[৬][১১][১২] তার চিঠি ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম গুলিতে আলোচিত ও বাদশাকে সমালোচিত করে। প্রতিবাদের মুখে রতন কাহার এই গানের গীতিকার হিসেবে স্বীকৃত হন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "লকডাউন না থাকলে আজই রতন কাহারের বাড়ি যেতাম: বাদশা"আনন্দবাজার পত্রিকা। ২০২০-০৪-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  2. "বাদশাকে আমি চিনতামই না: রতন কাহার"প্রথম আলো। ২০২০-০৪-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  3. "নাম কিনেছে অন্যে, বড়লোকের বিটির স্রষ্টা এখন বিস্মৃতই"এই সময়। ২০১৮-০২-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  4. "Jacqueline Fernandez & Badshah's 'Genda Phool' track faces plagiarism allegations"Republic World। ২০২০-০৩-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  5. "এবার ঢাকায় 'বড়লোকের বেটি'"প্রথম আলো। ২০২০-০৬-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-৩০ 
  6. "বিতর্কে বাদশার 'গেঁন্দাফুল'"এই সময়। ২০২০-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  7. "'বড়লোকের বিটি লো'র স্রষ্টাকে ভুলে গেলেন বাদশা"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২০২০-০৩-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  8. "জেনেশুনে আমি এই ভুলটি করিনি:বাদশা"দৈনিক ইত্তেফাক। ২০২০-০৪-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৫ 
  9. "দিনান্তের ভাঙনে নগরীতে বসে আজও গান বাঁধেন রতন কাহার"চ্যানেল আই অনলাইন। ২০২০-০৪-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  10. "বড়লোক হলেন বাদশা, নেপথ্যেই থেকে গেলেন বিটি লো-র আসল স্রষ্টা"হিন্দুস্তান টাইমস। ২০২০-০৩-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-০৯ 
  11. "Badshah's all-glamarous 'Genda Phool' song featuring Jacqueline Fernandez catches plagiarism allegation."Indiablooms.com। ২০২০-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৫ 
  12. "Badshah's New Song 'Genda Phool' Faces Plagiarism Charges; Netizens Ask Why Real Composer Not Credited"News Nation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৫ 
  13. "Badshah Issues A Statement On 'Genda Phool' Plagiarism Allegations"The Live Mirror (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৪-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৫