ফাইয়াজ হোসেন খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফাইয়াজ হোসেন খান
ফাইয়াজ হোসেন খান.jpeg
জন্ম(১৯২৪-০২-১০)১০ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪
মৃত্যু৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯১(1991-09-03) (বয়স ৬৭)
পেশাভূতত্ত্ববিদ
পুরস্কাররয়েল ভূতাত্ত্বিক সমিতির ফেলোশিপ

ফাইয়াজ হোসেন খান (১৯২৪-১৯৯১)  ছিলেন একজন বাংলাদেশি ভূতত্ত্ববিদ। তিনি এফ এইচ খান নামেই অধিক পরিচিত। [১][২][৩]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

এফ এইচ খান ১৯২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিলেন। মাদ্রাসায় পড়ালেখা শেষ করার পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।[৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সালে এফ এইচ খান ভারতের ভৌগোলিক জরিপ অধিদপ্তরে একজন ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রীয় বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার্থে তিনি যুক্তরাজ্য গমন করেন। গাঠনিক এবং বহিরাঙ্গণ ভূতত্ত্ব (স্ট্রাকচারাল অ্যান্ড ফিল্ড জিওলজি) বিষয়ক অভিসন্দর্ভের মাধ্যমে ১৯৪৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে একজন জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে যোগদান করেন।

তার পিএইচডি থিসিসে আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কেরির প্রাচীন লাল বেলেপাথর বা রেড স্যান্ডস্টোনের গঠন সম্পর্কিত গবেষণা কাজের একটি উজ্জ্বল অংশ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং তা উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনে নিযুক্ত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশ খনিজ অন্বেষণ ও উন্নয়ন কর্পোরেশনের (মিনারেল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) সভাপতি করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর-এর সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এসব পদে কর্মরত থাকাকালে এফ এইচ খান তার বৈচিত্র্যপূর্ণ সৃষ্টিকর্মগুলো সফলভাবে সম্পাদন করেছিলেন। এফ এইচ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতির (জিওলজিক্যাল সোসাইটি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি লন্ডনের ভূতাত্ত্বিক সমিতিতে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।[৪]

সৃষ্টিকর্ম[সম্পাদনা]

গবেষণা[সম্পাদনা]

এফ এইচ খানের অধিকাংশ গবেষণাকর্মই ছিল বাংলাদেশ সম্পর্কিত। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মৌলিক ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র প্রণয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) অঞ্চলের বর্তমান কালের জ্ঞাত অধিকাংশ খনিজ সম্পদের অবস্থান, তাদের মূল্যায়ন এবং আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রভৃতি প্রস্তুত করেছিলেন যা ইংরেজ আমলে সম্পূর্ণ অবহেলিত ছিল। তিনি বাংলাদেশের ভূগোল নিয়েও বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র ও বই রচনা করেছিলেন।

গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ে এফ এইচ খান বহু সংখ্যক প্রতিবেদন, প্রবন্ধ এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইংরেজি ভাষায় লিখিত ‘জিওলজি অব বাংলাদেশ’ বা "বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব" তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ। এই বইটিতে তিনি দেশের ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদসহ ভূতত্ত্ব এবং খনিজ সম্পদের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেছেন।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

তিনি লন্ডনের রয়েল ভূগোল সমিতির (রয়েল জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন) ফেলোশিপ অর্জন করেছিলেন।

কালানুক্রম[সম্পাদনা]

  • ১৯২৪— ১০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ
  • ১৯৪৬— ভারতের ভৌগোলিক জরিপ অধিদপ্তরে ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে যোগদান
  • ১৯৪৯— লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন
  • ১৯৫০— পাকিস্তানের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে যোগদান
  • ১৯৭৫— সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ
  • ১৯৭৬-১৯৭৭— বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন
  • ১৯৯১— ৩ সেপ্টেম্বরে কর্মময় জীবনের অবসান[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lollino, Giorgio; Giordan, Daniele (২০১৪)। Engineering Geology for Society and Territory - Volume 8: Preservation of Cultural Heritage (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃষ্ঠা 222। আইএসবিএন 9783319094083 
  2. Memoirs of the Geological Survey of Pakistan: Palaeontologia Pakistan (ইংরেজি ভাষায়)। Geological Survey of Pakistan.। ১৯৬৬। পৃষ্ঠা 3। 
  3. "References" (PDF)users.physics.harvard.edu। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ 
  4. Chowdhury, Sifatul Quader। "Khan, Fyaz Hussain"en.banglapedia.org (ইংরেজি ভাষায়)। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১৮