প্রফুল্ল রায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রফুল্ল রায়
জন্ম১৯৩৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশালেখক
ভাষাবাংলা
বাসস্থানকলকাতা, ভারত
উল্লেখযোগ্য রচনা
  • কেয়া পাতার নৌকা
  • মন্দ মেয়ের উপাখ্যান

প্রফুল্ল রায় (১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪) পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান সমসাময়িক লেখক, যিনি ১৯৩৪ সালে প্রাক্তন পূর্ব বাংলার ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। [১] ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে তিনি ভারতে আসেন। একটি নতুন ভূমিতে পা রাখার জন্য তাকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সংগ্রামরত মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি সারা দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। আর এই উদ্দেশ্যই তিনি বেশ কিছুকাল নাগাল্যান্ডের আদিবাসীদের মধ্যে বাস করেছিলেন, যারা ছিলো বিহারের অস্পৃশ্য এবং আন্দামানের মূল ভূখণ্ডের শিকড়হীন মানুষ। যাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে তাঁর লেখায় নিশ্ছিদ্রভাবে আবির্ভূত হয়।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রফুল্ল রায় অবিভক্ত ভারত, অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলায়, বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে ১১ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন, স্বাধীনতার পর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার বাসিন্দা।[২]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

প্রফুল্ল রায়ের রচনাগুলি শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় অবস্থাতেই শক্তিশালী এবং সত্যিকারের বিদ্যমান বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে যা পাঠককে বহুমাত্রিক সামাজিক গোলকধাঁধা আবিষ্কার করতে সাহায্য করে। তিনি উপন্যাস এবং ছোটগল্প সহ প্রায় দেড় শতাধিক বই লিখেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল "পূর্ব পার্বতী", যা নাগাল্যান্ডে রচিত হয়েছিল এবং ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তার উদ্বাস্তু জীবনকেন্দ্রিক যে সমস্ত উপন্যাস রচিত আছে সেগুলি হলো ‘কেয়া পাতার নৌকো’ (২০০৩), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (২০০৮), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (২০১৪), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (বাং ১৩৬৬) ইত্যাদি। ‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ আকারে এবং নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি ত্রয়ী উপন্যাস।[৩]

১৯৬৮-৬৯ সালে মনীন্দ্র রায়ের উদ্যোগে অমৃত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিলো ‘কেয়াপাতার নৌকো।[২]

রূপান্তর[সম্পাদনা]

তার গল্প উপন্যাস অবলম্বনে ৪৫টির মতো টেলিফিল্ম, টেলি-ধারাবাহিক, ফিচার-ফিল্ম নির্মিত হয়েছে। তার মধ্যে এখানে পিঞ্জর (১৯৭১), বাঘবন্দী খেলা (১৯৭৫), 'মোহনার দিকে' (১৯৮৪), 'আদমি আউর আউরত' (১৯৮৪), 'একান্ত আপন'(১৯৮৭), 'চরাচর'(১৯৯৪), 'টার্গেট' (১৯৯৭), 'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান' (২০০৩), 'ক্রান্তিকাল' (২০০৫) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও তার 'কেয়া পাতার নৌকা' উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মান করে ভারত, যেটি ভারতীয় চ্যানেল জি বাংলায় প্রচারিত হয়।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

উপন্যাস রচনার জন্য প্রফুল্ল রায় সারা জীবন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। 'ক্রান্তিকাল' এর জন্য ২০০৩ এ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।[৪] 'সিন্ধু পারের পাখি'র জন্য ১৯৮৫ তে 'বঙ্কিম পুরস্কার', এছাড়াও 'রামকুমার ভুয়ালকা', পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ড এর 'লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট', 'শরৎস্মৃতি', 'বি কে জে এ' ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

গ্রন্থ তালিকা[সম্পাদনা]

  • পূর্ব পার্বতী
  • প্রতিধ্বনি
  • সসাগরা
  • আগুনের কাছাকাছি
  • জগৎ সংসার
  • মধ্যবর্তিনী
  • কিন্নরী
  • ভাতের গন্ধ
  • সীমারেখা মুছে যায়
  • মানুষের যুদ্ধ
  • স্বর্গের এক বাসিন্দা
  • কেয়াপাতার নৌকো
  • শতধারায় বয়ে যায়
  • উত্তাল সময়ের ইতিকথা
  • সিন্ধুপারের পাখি
  • প্রস্তুতি পর্ব
  • আবিষ্কার
  • পিতৃভূমি
  • আঁধারে ধূপের গন্ধ
  • জলের রেখা
  • শতবর্ষের যুদ্ধ
  • অদ্বিতীয়া
  • রণসজ্জা
  • দায়দায়িত্ব
  • রথযাত্রা
  • ইচ্ছাপূরন

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Prafulla Roy"Beebooks (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-২১ 
  2. "প্রফুল্ল রায় ও কেয়াপাতার নৌকো | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৪-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১ 
  3. "সহজ করে কঠিন কথা বলেন প্রফুল্ল রায়"NTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১২-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১ 
  4. "..:: SAHITYA : Akademi Awards ::.."sahitya-akademi.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২১