প্রথম বাংলাদেশ
| "প্রথম বাংলাদেশ" | ||
|---|---|---|
| শাহনাজ রহমতুল্লাহ কর্তৃক সঙ্গীত | ||
| ভাষা | বাংলা | |
| মুক্তিপ্রাপ্ত | ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে | |
| ধারা | দেশাত্মবোধক | |
| লেখক | মনিরুজ্জামান মনির | |
| সুরকার | আলাউদ্দিন আলী | |
| প্রযোজক | বাংলাদেশ টেলিভিশন | |
| সঙ্গীত ভিডিও | ||
| ইউটিউবে "প্রথম বাংলাদেশ" | ||
"প্রথম বাংলাদেশ" শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া একটি দেশাত্মবোধক গান। গানটির কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির ও সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী। গানটি ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্ণালি সঙ্গীতানুষ্ঠানে প্রথম প্রচারিত হয়।[১]
জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে প্রস্তাব
[সম্পাদনা]সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া দাবি করেছেন যে ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৮ সালে যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ একটি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করতে বলেন, তখন তিনি এই বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে একজন হিন্দু রচিত জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" পরিবর্তন করার পরে এটি নিয়ে ভাববেন। সেই সময় তিনি এই গানটি নতুন জাতীয় সঙ্গীত প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন।[২] ১৯৭৯ সালের ৩০ এপ্রিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান একটি গোপন চিঠি পাঠান যেখানে বলা হয় যে দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের নাগরিক নন বরং তিনি একইসাথে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত "জনগণমন"-এর রচয়িতাও। বাংলাদেশের সংস্কৃতির চেতনার সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতটি সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হবে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী এই গানটিকে নতুন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গানটি বেতার, টেলিভিশন ও সব সরকারি অনুষ্ঠানে প্রচারের নির্দেশনা জারি করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি প্রস্তাবিত জাতীয় সঙ্গীতটি গাওয়া শুরু হয়। কিন্তু ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়।[৩]
বিতর্ক
[সম্পাদনা]২০১৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে গানটি জাতীয় সংসদের ২০১৬–২০১৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সম্প্রচারের জন্যে ৬ কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।[৪]
বেবী নাজনীনের মতে গানটি জিয়াউর রহমানের প্রিয় সঙ্গীত ছিল। তার অনুষ্ঠানগুলোর শুরুতে ও সমাপনীতে গানটি গাওয়া হত। বেবী ও অন্যান্য শিল্পীরা যখন গানটি মঞ্চে গাইতেন তখন তাদের সাথে জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও গানটি গাইতেন। আর তাই,[৫] ১৯৮০-এর দিকে গানটি জিয়ার দলের দলীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। দলের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে গানটিকে এর সঙ্গীত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০১৮ সালে কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী দাবি করেছেন যে তাদের অনুমতি ছাড়াই দলটি আনুষ্ঠানিক সংগীত হিসেবে গানটিকে ব্যবহার করছে।[৬]
২০২৫ সালে কিশোরগঞ্জে আয়োজিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানটি গাওয়ার সময় দায়িত্বরত সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা বাধা প্রদান করায় তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।[৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সাদ, সাইমুম (৩০ জুন ২০১৮)। "গানের কোথাও 'বিএনপি' শব্দ আনিনি: মনিরুজ্জামান মনির"। বিডিনিউজ২৪.কম। ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৪।
- ↑ ভুঁইয়া, আজিজুল ইসলাম (২০০৭)। বিএনপি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। শ্রাবণ প্রকাশনী। পৃ. ১৩।
- ↑ "যে ৩ সময়ে 'জাতীয় সংগীত' পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল"। দৈনিক যুগান্তর। ৭ আগস্ট ২০১৯। ১৮ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৪।
- ↑ "'প্রথম বাংলাদেশ' গান বাজিয়ে শাস্তির মুখে ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী"। প্রথম আলো। ৫ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "বিশেষ সাক্ষাৎকার : বেবী নাজনীন প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ গানটি যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২৯ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ সাদ, সাইমুম (২২ জুন ২০১৮)। "'প্রথম বাংলাদেশ' কীভাবে বিএনপির দলীয় সংগীত, প্রশ্ন শিল্পী-সুরকারের"। বিডিনিউজ২৪.কম। ২৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৪।
- ↑ "জিয়াকে নিয়ে গান বন্ধ করলেন কর্মকর্তা"। দেশ রূপান্তর। ১১ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২৫।