নাজিউর রহমান মঞ্জুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাজিউর রহমান মঞ্জুর
সংসদ সদস্য, ভোলা-১[১]
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মভোলা জেলা, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে- বাংলাদেশ)
মৃত্যু৬ এপ্রিল ২০০৮
ঢাকা
রাজনৈতিক দলজাতীয় পার্টি
জীবিকারাজনীতিবিদ

নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশের ভোলা জেলার একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়ীত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সাবেক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়ক।[২] নাজিউর রহমান মঞ্জুরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দলটি জাতীয় পার্টি (নাজিউর) নামেও পরিচিত।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

নাজিউর রহমান মঞ্জুর ১৯৪৯ সালের ১৯ মার্চ ভোলা জেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মঞ্জুর গ্রামের স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি বরিশালের এ. কে স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। এ সময় তিনি ইউটিসি’র ক্যাডেট ছিলেন এবং ১৯৬৩ সালে জিওসি’র স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি একনাগাড়ে সাত বছর ইউটিসির সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং ক্যাডেটের সর্বোচ্চ পদ ক্যাডেট আন্ডার অফিসার হিসাবে নিযুক্তি লাভ করেন। নাজিউর রহমান ঢাকার কায়েদে আজম (কলেজে বর্তমান সোহরাওয়াদী কলেজ) ভর্তি হয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পাঠরত অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ ছাত্র সংসদের মিলনায়তন সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আই.এস.সি পাশ করে ঢাকা বিম্ববিদ্যালয়ে বি.কম সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে বি. কম সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন। ‘৯৬ সালেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭০ সালে সহ-সভাপতি নির্বচিত হন। এ বছরই তিনি এম. কম ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

জনাব মঞ্জুর বাংলাদেশ বাণিজ্য সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমার্স ফ্যাক্যাল্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯নং সেক্টরে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ভোলাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নাজিউর রহমান ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জনাব নাজির রহমান মঞ্জুর ব্যক্তিগত জীবনে একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তিনি ব্যবসায়ী কাজে ২৬টিরও অধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি এরশাদের ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের ৫ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং খুলনা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হন, যে কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। অসীম সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী নাজিউর রহমান বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি জনদলেরও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন।

মঞ্জুর ১৯৮৬ সালে ভোলা-১ আসন থেকে জাতয়ি পার্টির মনোনয়নে বিপুল ভোটাধিক্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সদস্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে পুণরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী নাজিউর রহমান নিজের উদ্যোগে ভোলাতে ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৪টি হাই স্কুল, ৮টি মাদ্রাসা এবং ১টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

৬ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।[২]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "পঞ্চম জাতীয় সংসদ ১৯৯১-১৯৯৬"parliament.gov.bd। বাংলাদেশ সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৮ 
  2. চৌধুরী, আমীরুল হক (৬ এপ্রিল ২০১৪)। "নাজিউর রহমান মঞ্জু স্মরণে"দৈনিক ইত্তেফাক। ১৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮