ধলাকোমর মুনিয়া
| ধলাকোমর মুনিয়া | |
|---|---|
| একজোড়া মুনিয়া, মহারাষ্ট্র, ভারত | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | কর্ডাটা |
| শ্রেণী: | পক্ষী |
| বর্গ: | Passeriformes |
| পরিবার: | Estrildidae |
| গণ: | Lonchura |
| প্রজাতি: | L. striata |
| দ্বিপদী নাম | |
| Lonchura striata (Linnaeus, 1766) | |
| শুধু মূল আবাস দেখানো হয়েছে উত্তরাঞ্চলের আবাস দেখানো হয় নি | |
| প্রতিশব্দ | |
|
Uroloncha striata | |
ধলাকোমর মুনিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Lonchura striata) Estrildidae (ইস্ট্রিল্ডিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Lonchura (লঙ্কুরা) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির ছোট তৃণচর পাখি।[২][৩] ধলাকোমর মুনিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ডোরাদার সুঁইলেজ (গ্রিক; lonkhe = সূঁচালো, ura = লেজ; লাতিন: striatus = ডোরাযুক্ত)।[৩] পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস, প্রায় ৫৪ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার।[৪] বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা স্থির রয়েছে, তবে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে।[১] বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]
উপপ্রজাতি ও বিস্তৃতি
[সম্পাদনা]এখন পর্যন্ত ধলাকোমর মুনিয়ার সাতটি উপপ্রজাতি শনাক্ত করা গেছে।[৫][৬][৭][৮][৯] উপপ্রজাতিগুলো হল:
- Lonchura striata acuticauda ( Hodgson, 1836) – ১৫০০ মিটার সমু্দ্রসমতলের নিম্নে উত্তর ভারত। মূলত হিমালয়ের পাদদেশে ভুটান, নেপাল,উত্তরাখণ্ড ও বাংলাদেশে (সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনাঞ্চল) দেখা যায়।
- মুখ ও ঘাড় বাদে পিঠ মধ্যম বাদামি, দেহতল হালকা খয়েরি।
- Lonchura (striata) domestica – বাংলা তুতি, গৃহপালিত; জাপানে প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখা যায়।
- এর বর্ণ বিবিধ। হলদে থেকে শুরু করে বাদামি, লালচে, মেটে বা কালোও হতে পারে।
- Lonchura striata fumigata ( Walden, 1873) - আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ।
- Lonchura striata semistriata (Hume 1874) – নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- Lonchura striata squamicollis –চীন ও তার আশেপাশের অঞ্চল।
- Lonchura striata subsquamicollis ( Stuart Baker, 1925) - মায়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দেখা মেলে।
- Lonchura striata striata (Linnaeus, 1766) – দক্ষিণ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
- দেহতল সাদা, পিঠ গাঢ় চকলেট-বাদামি।
- পূর্ণবয়স্ক L. s. acuticauda, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
- Lonchura striata striata উপপ্রজাতি, শ্রীলঙ্কা
- Lonchura (striata) domestica উপপ্রজাতি, জাপান
বিবরণ
[সম্পাদনা]ধলাকোমর মুনিয়া সাদা কোমর ও কালো লেজবিশিষ্ট ছোট আকারের পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ১০ সেমি, ডানা ৫.২ সেমি, ঠোঁট ১.২ সেমি, পা ১.৫ সেমি, লেজ ২.৭ সেমি ও ওজন ১২ গ্রাম।[৩][১০] গায়ের রঙে গাঢ় কালচে বাদামি ও সাদার প্রাধান্য। হঠাৎ দেখলে সাদা-কালোই মনে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পুরো পিঠ কালচে বাদামি, কোমর সাদা। দেহের পেছনে সূক্ষ্ম ফিকে শরযুক্ত লম্বা দাগ রয়েছে। লেজ-উপরি ঢাকনি ও ডানা-ঢাকনি কালো। লেজ সূচালো ও কালো। বুকে সূক্ষ্ম ফিকে আঁশের দাগ রয়েছে। পেট হালকা পিত-সাদা। পেটে কিছু লম্বালম্বি কালচে দাগ রয়েছে। বুক কালচে-বাদামি ও অবসারণী কালচে। এর ঠোঁট দুই রঙের। উপরের ঠোঁট কালো এবং নিচের ঠোঁট স্পষ্ট নীলচে ধূসর। চোখ লালচে বাদামি। পা ও পায়ের পাতা কালচে ধূসর। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারা একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির কোমর হালকা রঙের এবং দেহতলে নানান বাদামি ছোপ থাকে।[৩]
স্বভাব
[সম্পাদনা]ধলাকোমর মুনিয়া মাঝারি ঝোপ, বনের ভেতরের পরিষ্কার জায়গা, তৃণভূমি ও ক্ষুদ্র ঝোপে বিচরণ করে। সচরাচর ১০-১৫টি পাখির ঝাঁকে থাকে। মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বা ঘাসের মধ্যে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ঘাসবীজ ও বাঁশবীজ, তবে ছানারা পোকা খায়। এরা সচরাচর করুণ কণ্ঠে ডাকে ট্রি-ট্রি-ট্রি...প্রিট... অথবা ব্রিট...। মে-আগস্ট প্রজননকাল। ছোট ছোট গাছের উঁচু শাখায় বড় আকারের ঘাস বা বাঁশপাতা দিয়ে ছোট্ট গোল বাসা বানায়। বাসায় ঢোকার পথ সরু নলের মতো। ঘাসফুল দিয়ে পথের ভেতরটা মুড়ে নেয়। বাসার ভেতরেও থাকে ঘাসফুলের গদি। স্ত্রী মুনিয়া তিন থেকে আটটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। ডিমের মাপ ১.৫ × ১.০ সেমি। ডিম ফোটে ১৩-১৪ দিনে। বাবা-মা বাচ্চাদের পোকামাকড় খাইয়ে বড় করে তোলে।[৩][১০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Lonchura striata"। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০০৯।
- ↑ রেজা খান (২০০৮)। বাংলাদেশের পাখি। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃ. ১০৬। আইএসবিএন ৯৮৪০৭৪৬৯০১।
- 1 2 3 4 5 6 জিয়া উদ্দিন আহমেদ (সম্পা.) (২০০৯)। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ: পাখি, খণ্ড: ২৬। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ. ৫৪৮। আইএসবিএন ৯৮৪৩০০০০০২৮৬০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: অবৈধ উপসর্গ পরীক্ষা করুন (সাহায্য);|লেখক=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ "White-rumped Munia Lonchura striata"। BirdLife International। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৩।
- ↑ Bangs, Outram (১৯৩২)। "Birds of western China obtained by the Kelley-Roosevelts expedition"। Fieldiana Zoology। ১৮ (11): ৩৪৩–৩৭৯।
- ↑ Grimmett, Richard; Inskipp, Carol, Inskipp, Tim & Byers, Clive (1999): Birds of India, Pakistan, Nepal, Bangladesh, Bhutan, Sri Lanka, and the Maldives. Princeton University Press, Princeton, N.J., আইএসবিএন ০-৬৯১-০৪৯১০-৬
- ↑ Inskipp, Carol; Inskipp, Tim & Sherub (২০০০)। "The ornithological importance of Thrumshingla National Park, Bhutan" (পিডিএফ)। Forktail। ১৪: ১৪৭–১৬২। ১১ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৩।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Singh, A.P. (২০০২)। "New and significant records from Dehra Dun valley, lower Garhwal Himalayas, India" (পিডিএফ)। Forktail। ১৮: ১৫১–১৫৩। ২৫ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৩।
- ↑ "White-rumped Munia (Lonchura striata)"। The Internet Bird Collection। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৩।
- 1 2 আ ন ম আমিনুর রহমান (০৮-০৪-২০১২)। "সাদায়-কালোয় পাহাড়ি মুনিয়া"। ঢাকা। দৈনিক প্রথম আলো। ২৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুলাই ২০১৩।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Oriental Bird Club Image, আরও আলোকচিত্র।
- আইইউসিএন লাল তালিকার ন্যূনতম উদ্বেগজনক প্রজাতি
- Lonchura
- এশিয়ার পাখি
- বাংলাদেশের পাখি
- ভারতের পাখি
- ভুটানের পাখি
- কম্বোডিয়ার পাখি
- চীনের পাখি
- ইন্দোনেশিয়ার পাখি
- মিয়ানমারের পাখি
- লাওসের পাখি
- মালয়েশিয়ার পাখি
- নেপালের পাখি
- সিঙ্গাপুরের পাখি
- শ্রীলঙ্কার পাখি
- তাইওয়ানের পাখি
- থাইল্যান্ডের পাখি
- ভিয়েতনামের পাখি
- লঙ্কুরা
- দক্ষিণ এশিয়ার পাখি
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাখি
- ১৭৬৬-এ বর্ণিত পাখি
- কার্ল লিনিয়াস কর্তৃক নামকরণকৃত প্রাণীর ট্যাক্সা