দামেস্ক প্রটোকল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দামেস্ক প্রটোকলের প্রতিশ্রুত "আরব রাষ্ট্র" (সবুজ রঙ)। পরবর্তীতে সাইকস-পিকট চুক্তি ও লীগ অব নেশনস এর মেন্ডেটের কারণে এটি বাস্তবায়িত হয়নি।

দামেস্ক প্রটোকল মূলত একটি নথি। ফয়সাল বিন হুসাইন ১৯১৪ সালে কনস্টান্টিনোপলে তুর্কি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনাকালে দামেস্ক আসলে আরব গোপন সংগঠন আল-ফাতাতআল-আহাদ এটি তাকে হস্তান্তর করে[১]। এই গোপন সংগঠনগুলো ঘোষণা করে যে যদি দাবি সম্বলিত নথিটি ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তর করা হয় তবে তারা ফয়সালের পিতা হুসাইন বিন আলীকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সমর্থন দেবে। পশ্চিম এশিয়াকে বেষ্টন করে রাখা মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্বাধীন আরব রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারিত করে তৈরীকৃত এই দাবিগুলো হুসাইন-ম্যাকমোহন চুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠে।[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

সাইয়িদ হুসাইন বিন আলী, মক্কার শরিফ ও আমির, হেজাজের রাজা

বক্তব্য[সম্পাদনা]

আর. জন ও এস. হাডাউয়ির প্যালেস্টাইন ডায়েরী, পৃষ্ঠা ৩০-৩১ মতে দামেস্ক প্রটোকলে উল্লেখ ছিলঃ

"The recognition by Great Britain of the independence of the Arab countries lying within the following frontiers: North: The Line Mersin_Adana to parallel 37N. and thence along the line Birejek-Urga-Mardin-Kidiat-Jazirat (Ibn 'Unear)-Amadia to the Persian frontier; East: The Persian frontier down to the Persian Gulf; South: The Indian Ocean (with the exclusion of Aden, whose status was to be maintained). West: The Red Sea and the Mediterranean Sea back to Mersin. The abolition of all exceptional privileges granted to foreigners under the capitulations. The conclusion of a defensive alliance between Great Britain and the future independent Arab State. The grant of economic preference to Great Britain.".[৩]

কিচনারের সাথে আলোচনা[সম্পাদনা]

১৯১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আবদুল্লাহ মিশরসুদানের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল হার্বার্ট কিচনারের সাথে কায়রোতে সাক্ষাৎ করেন। হেজাজের বিরুদ্ধে তুর্কিদের পদক্ষেপে ব্রিটিশদের উপর হুসাইন বিন আলী নির্ভর করতে পারবেন কিনা তা তিনি জানতে চান। এসময় কিচনার কোনো সম্মতি প্রদান করেননি। কিন্তু দুই মাস পর আবদুল্লাহ কিচনারের প্রাচ্যবিষয়ক সচিব স্যার রোনাল্ড স্টর্সের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় উসমানীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেন আরবদেরকে সাহায্য করবে এই বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।[৪]

আবদুল্লাহ বিন হুসাইন, জর্ডানের রাজা (১৯৪৯ - ১৯৫১)। মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। (তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান সৌদি আরব)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৯১৪ সালের আগস্টে ব্রিটিশরা তুর্কিদের প্রতিরোধের বিষয়ে পূর্বমত থেকে ফিরে আসে। তুর্কিরা যদি জার্মানির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় তবে আরবরা ব্রিটিশদেরকে সমর্থন করবে কিনা তা জানতে চেয়ে কিচনার আবদুল্লাহর কাছে বার্তা পাঠান। কিচনার এসময় যুদ্ধ সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তুর্কিদের বিরুদ্ধে আরবদের সাহায্য করলে আরবরা ব্রিটিশদের সাহায্য করবে এই মর্মে আবদুল্লাহ উত্তর দেন।[৪]

হার্বার্ট কিচনার

অক্টোবরে কিচনারে প্রতিউত্তরের সময় তুর্কিরা জার্মানির সাথে যোগ দেয়।

কিচনার এসময় বলেন যে আমির ও ‘আরব জাতি’ যদি ব্রিটেনকে যুদ্ধে সমর্থন দেয় তবে ব্রিটিশরা একটি স্বাধীন আমিরাত ও আরবদেরকে সমর্থন দেবে এবং বহিঃশক্তির আগ্রাসনের সময় আরবদের সাহায্য করবে। এরপর কিচনার নিজ দায়িত্বে কিছু কথা বলেন যা পরবর্তীতে লন্ডনমধ্যপ্রাচ্যে আসন্ন দিনগুলোতে বিরোধের জন্ম দেয়। তিনি বলেন যে মক্কা অথবা মদীনায় প্রকৃত আরবদের খিলাফতের দায়িত্ব নেওয়া উচিত এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে পারে এমন উত্তম কিছু ঈশ্বর কাছ থেকে আসতে পারে।[৫]

এর উত্তরে হুসাইন খিলাফতের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু তিনি বলেন যে ইসলামে তার অবস্থানের কারণে তুর্কিদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে পারেন।

তুর্কিদের জিহাদ ঘোষণা[সম্পাদনা]

১৯১৪ সালের ১১ নভেম্বর তুর্কিরা ত্রিশক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে এবং আরব নেতা হুসাইন বিন আলীকে নিজের বাহিনী নিয়ে সাহায্য করার জন্য সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানায়।[৫]

এই ঘোষণার পর আরব গোপন সংগঠন আল-ফাতাত ও আল-আহাদের প্রতিনিধিরা হুসাইন বিন আলীর সাথে সাক্ষাতের জন্য ১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে মক্কায় আসেন। উসমানীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব গ্রহণ করার জন্য তারা তাকে প্রভাবিত করে। এসময় তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আলী বিন হুসাইন তার স্থলে শরিফি পরিবারের মোতালিব শাখার প্রধান আলি হায়দারকে[৫] মক্কার শরিফ হিসেবে বসানোর তুর্কি পরিকল্পনা জানতে পারেন।[৬] হুসাইন তার পুত্র ফয়সালকে কনস্টান্টিনোপলে গিয়ে গ্র্যান্ড ভিজিয়েরের সাথে সাক্ষাৎ করতে আদেশ দেন। সেই সাথে দামেস্কে গোপন সংগঠনের নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বিদ্রোহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বলেন। ২৬ মার্চ তিনি তাদের সাথে মিলিত হন। মাসব্যপী আলোচনার পর ফয়সাল বিদ্রোহের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন এবং বৃহৎ কোনো শক্তির সাহায্য ছাড়া বিদ্রোহ সফল হবে না বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এপ্রিলে কনস্টান্টিনোপল পৌছান। তিনি দেখেন যে তুর্কিরা আরবদের কর্তৃক জিহাদ ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে তখন ফয়সাল হেজাজে তার পরিবারের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন।[৫]

ফিরতি পথে ফয়সাল আল-ফাতাত ও আল-আহাদের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য দামেস্ক আসেন। এ ভ্রমণের সময় ফয়সালকে ‘দামেস্ক প্রটোকল’ বলে পরিচিতি প্রাপ্ত নথিটি হস্তান্তর করা হয়। এতে ঘোষণা করা হয় যে তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্তে ৩৭তম উত্তর অক্ষরেখা থেকে শুরু করে পূর্বে পারস্যপারস্য উপসাগর, পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণে আরব সাগর দ্বারা আবদ্ধ একটি স্বাধীন আরব রাষ্ট্রের ব্যাপারে ব্রিটেন সম্মত হলে আরবরা ব্রিটিশদের মিত্রতায় বিদ্রোহ করবে।[৭]

তাইফের আলোচনা[সম্পাদনা]

১৯১৫ সালের জুনে হুসাইন ও তার পুত্রদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফয়সাল সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন, আলী বিদ্রোহের বিরোধীতা করেন এবং আবদুল্লাহ কাজে নেমে পড়ার পক্ষে মত দেন। শরিফ হুসাইন বিদ্রোহ শুরুর জন্য ১৯১৬ সালের জুন মাসকে সাময়িক তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট করেন। তিনি মিশরে ব্রিটিশ হাই কমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমাহনের সাথে হুসাইন-ম্যাকমাহন চুক্তির মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Fromkin, David (1990). A Peace To End All Peace. Avon Books, New York. ISBN 0-8050-6884-8
  • Herzog, Jacob David (1975). A People That Dwells Alone: Speeches and Writings of Yaacov Herzog. Weidenfeld and Nicolson.
  • Ismael, Tareq Y. (1991). Politics and Government in the Middle East and North Africa. University of Florida Press. ISBN 0-8130-1043-8
  • Paris, Timothy J. (2003). Britain, the Hashemites and Arab Rule, 1920-1925: The Sherifian Solution. London: Routledge. ISBN 0-7146-5451-5