তক্ষশীলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
তক্ষশীলা
জুলিয়ানের প্যানরামা - প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, তক্ষশীলা
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
অবস্থান পাকিস্তান উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানদণ্ড iii, vi[১]
তথ্যসূত্র ১৩৯
স্থানাঙ্ক ৩৩°৪৪′৪৫″ উত্তর ৭২°৪৭′১৫″ পূর্ব / ৩৩.৭৪৫৮৩৩৩৩৩৩৩৩° উত্তর ৭২.৭৮৭৫° পূর্ব / 33.745833333333; 72.7875
শিলালিপির ইতিহাস ১৯৮০ (৪র্থ সভা)
তক্ষশীলা পাকিস্তান-এ অবস্থিত
তক্ষশীলা
তক্ষশীলার অবস্থান

তক্ষশীলা (উর্দু: ٹیکسلا‎‎‎, পাঞ্জাবি, সংস্কৃত: तक्षशिला) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

এই শহরের সূচনা সেই গান্ধার যুগে এবং এখানেই রয়েছে প্রাচীন গান্ধারি শহর তক্ষশীলার পুরাতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ। প্রাচীন তক্ষশীলা শহর ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং বর্তমান সময়েও উক্ত ধর্মদুটির ঐতিহ্যে এ স্থানটির একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৮০ সালে বেশকিছু এলাকাসহ তক্ষশীলাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষনা করা হয়।[২] গার্ডিয়ান পত্রিকা ২০০৬ সালে এটিকে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যটন স্থান হিসেবে নির্বাচিত করে।[৩]

বিভিন্ন লেখায় তক্ষশীলা উল্লেখ[সম্পাদনা]

পরবর্তী সময়কার বিভিন্ন লেখায় ছড়ানো ছিটানো সূত্র থেকে জানা যায় যে, তক্ষশীলার সূচনা কম করে হলেও সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে হবে।[৪][৫][৬] বলা হয়ে থাকে, তক্ষশীলার নামকরণ হয়েছে রামের ভাই ভরত ও তার স্ত্রী মান্দভির পুত্র তক্ষের নামানুসারে।[৭] কিংবদন্তিতে রয়েছে, তক্ষ একটি রাজ্য শাসন করতেন যার নাম ছিল তক্ষ খন্ড এবং তিনিই তক্ষশীলা নগরের প্রতিষ্ঠা করেন।[৮] দামোদর ধর্মানন্দ কসামবি প্রবর্তিত অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, তক্ষশীল নামটি তক্ষক শব্দের সাথে সম্পর্কযুক্ত যা ছুতার বা সূত্রধর শব্দের সংস্কৃতরূপ এবং এই শব্দটি প্রাচীন ভারতের নাগা জনগোষ্ঠীর অপর একটি নাম।[৯]

হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে আছে, কুরুর উত্তরাধিকার পরিক্ষিতকে তক্ষশীলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল।[১০] প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী পরিক্ষিতের পুত্র জনমেজয় এর সর্প সত্র যোজনায় ব্যাস কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে তার শিষ্য বৈশম্পায়ন সর্বপ্রথম তক্ষশীলাতেই মহাভারত পাঠ করেন।[১১]

পরবর্তীতে ৫ম শতাব্দীর দিকে শ্রীলংকায় লিখিত জাতক কাহিনীতেও তক্ষশীলার বর্ণনা কিছুটা বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে।[১২] চৈনিক ভিক্ষু ফাক্সিয়েন (যিনি ফা-হিয়েন নামেও পরিচিত) ৪০৫ খ্রিষ্টাব্দের তার তক্ষশীলা ভ্রমণকাহিনীতে তক্ষশীলা রাজ্যের অর্থ 'ছিন্ন মস্তক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এই নামটির উৎপত্তি হয়েছে বুদ্ধের জীবনের একটি ঘটনা থেকে, কেননা এটিই সেই জায়গা 'যেখানে বুদ্ধ তার মাথা একটি লোককে দিয়েছিলেন'।[১৩] আরেকজন চৈনিক ভিক্ষু জুয়ানজ্যাং (যিনি হিউয়েন সাং নামেও পরিচিত) ৬৩০ এবং ৬৪৩ সালে তক্ষশীলায় ভ্রমন করেছিলেন এবং তিনি শহরটির নাম বলেছিলেন তা-চা-শি-লো (Ta-Cha-Shi-Lo)। ধারণা করা হয় যে, সেই সময়েই শহরটি প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। টলেমির ভূগোলে তক্ষশীলাকে বর্ণনা করা হয়েছে 'তক্ষিয়ালা' (Taxiala) হিসেবে।[১৪] হিল্ডেশিম এর জন কর্তৃক ১৩৭৫ সালের দিকে প্রণীত Historia Trium Regum (History of the Three Kings বা তিন রাজার ইতিহাস) গ্রন্থে তক্ষশীলাকে বর্ণনা করা হয়েছে এগ্রিশিলা (Egrisilla) হিসেবে।[১৫]

প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র[সম্পাদনা]

ধ্বংসাবশেষ[সম্পাদনা]

তক্ষশীল বর্তমান সময়ে[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://whc.unesco.org/en/list/139.
  2. UNESCO World Heritage Site, 1980. Taxila: Multiple Locations. Retrieved 13 January 2007.
  3. Windsor, Antonia (১৭ অক্টোবর ২০০৬)। "Out of the rubble"The Guardian (London)। সংগৃহীত ২৪ মে ২০১০ 
  4. UNESCO World Heritage Centre: Taxila
  5. Scharfe, Hartmut (২০০২)। Education in Ancient India। Brill Academic Publishers। পৃ: ১৪১। আইএসবিএন 90-04-12556-6 
  6. "History of Education", Encyclopædia Britannica, 2007.
  7. Needham, Joseph (২০০৪)। Within the Four Seas: The Dialogue of East and West। Routledge। আইএসবিএন 0-415-36166-4 
  8. Invasion of the Genes Genetic Heritage of India, By B. S. Ahloowalia. p81
  9. Kosambi 1975:129
  10. Kosambi, Damodar Dharmanand (১৯৭৫) [১৯৫৬]। An Introduction to the Study of Indian History (Revised Second Edition সংস্করণ)। Bombay: Popular Prakashan। পৃ: 126। 
  11. Britannica Online Encyclopedia, article:Taxila. "The great Indian epic Mahabharata was, according to tradition, first recited at Taxila at the great snake sacrifice of King Janamejaya, one of the heroes of the story."
  12. Marshall 1975:81
  13. A Record of Buddhistic Kingdoms, Being an Account by the Chinese Monk Fa-Hien of his Travels in India and Ceylon in Search of the Buddhist Books of Discipline, Chapter 11
  14. J. W. McCrindle, The Invasion of India by Alexander the Great as Described by Arrian, Q. Curtius, Diodorus, Plutarch and Justin, Westminster, Constable, 1893, pp.343-344.
  15. Frank Schaer, The Three Kings of Cologne, Heidelberg, Winter, 2000, Middle English Texts no.31, p.196.