ডুম মেটাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডুম মেটাল
শৈলীগত সূত্রপাত হেভি মেটাল (বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের প্রথমদিকে ব্ল্যাক সাবাথ-এর অনুপ্ররণা)
সাংস্কৃতিক সূত্রপাত ১৯৮০-এর দশকের প্রথমদিকে ও মাঝামাঝিতে ইউরোপআমেরিকাতে
সংশ্লিষ্ট বাদ্যযন্ত্র ইলেকট্রিক গিটারবেজ গিটারড্রামসভোকাল
সাফল্যকাল আন্ডারগ্রাউন্ড
উদ্ভূত শাখা গোথিক মেটাল
উপধারা
এপিক ডুমড্রোন ডুমফার্নাল ডুম
সম্মিলিত শাখা
স্টোনার ডুমস্লুডজ ডুমডেথ ডুম
টনি ইয়োম্মির গিটার বাদনের ধরন ডুম মেটালের মাধ্যমে ভীষণ প্রভাবিত

ডুম মেটাল হেভি মেটাল সঙ্গীতের চূড়ান্ত রূপ যা ধীর গতির টেম্পো, নিচু শব্দের গিটার ও অন্যান্য জাতের মেটাল সংগীতে চেয়ে ভারী ও মোটা। সঙ্গীত ও গানের কথায় উঠে আসে এক ধরনের নৈরাশ্য, ভয় ও দোদুল্যমান অনুভূতি। এই গানের ধারাটি ব্ল্যাক সাবাথ ব্যান্ডের প্রাথমিক কাজের মাধ্যমে প্রভাবিত, যামন তাদের গান ‘’ইন টু দ্যা ভয়েড’’ ও ‘’ব্ল্যাক সাবাথ’’। ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে ইংল্যান্ডের পাগান অল্টার, উইচ ফাইন্ডার জেনারেল, আমেরিকার পেন্টাগ্রাম, সেইন্ট ভিটুসট্রাবল এবং সুইডেনের ক্যান্ডেলমাস ডুম মেটালকে একটি আলাদা ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইলেকট্রিক গিটার, বেজ গিটারড্রামস সবচেয়ে সাধারণ বাদ্যযন্ত্র ডুম মেটালে, তবে মাঝেমাঝে কি-বোর্ডও ব্যবহার করা হয়। গিটারিস্ট ও বেজিস্টরা খুবই নিচু লয়ে বাদ্যযন্ত্রকে টিউন করে রাখে ও বেশি মাত্রার ডিস্টোরশন ব্যবহার করে। এটা খুবই ভারী ও মোটা গিটারের শব্দ তৈরি করে যা এই ধারার সংগীতকে সংজ্ঞায়িত করার মতো বৈশিষ্ট্যেগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী ডুম মেটালে পরিষ্কার গলা দরকার যা প্রকাশ করবে এক ধরনের নৈরাশ্য, ব্যথা ও অনুকরন করবে অজি অসবর্ন, ববি লিবলিং ও জেব পার্কেসের উচ্চ শব্দের বিলাপ। এপিক ডুম মেটাল ভোকালরা অপেরাটিক ধাঁচের গান করে। আধুনিক ডুম মেটালে অবশ্য গর্জন ও চিৎকার করা গায়কীই বেশি হয়, অনেকটা স্লুডজ মেটালের মতো। গানের কথা ডুম মেটালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলি নিরাশাবাদী ধরনের হয়ে থাকে যাতে উঠে আসে ভোগান্তি, হতাশা, ভয়, শোক ও রাগ। কিছু ব্যান্ড গান লিখে আত্নদার্শনিক ও ব্যক্তিগত উপায়ে এবং অন্যরা সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতীকের মাধ্যমে। ট্রাবল ব্যান্ড ক্রিস্টান ধর্মকে তাদের গানে নিয়ে আসে। অন্যরা রহস্যময়তা ও পাগান ভাবমূর্তি নিয়ে আসে তাদের গানে। কিছু ব্যান্ড গান লিখে মাদকাসক্তি ও মাদকের ব্যবহার তাদের গানে নিয়ে আসে। ডুম মেটাল হেভি মেটাল ধারার গানের সবচেয়ে প্রাচীন রূপ যার শিকড় আছে ব্ল্যাক সাবাথের প্রাথমিক কাজে। ব্ল্যাক সাবাথের শিকড় আছে ব্লুজ ধারার গানে, কিন্তু টনি ইয়োম্মির গিটার বাদনের ধরন ডুম মেটালের মাধ্যমে ভীষণ প্রভাবিত। ১৯৭০-এর দশকে ব্ল্যাক সাবাথআমেরিকার ব্যান্ড পেন্টাগ্রাম তৈরি ও পরিবেশন করতে থাকে এক ধরনের অন্ধকার ও ভারী সংগীত, যা ডুম মেটালের ভিত্তি রচনা করে দেয়। ১৯৮০-এর দশকে ডুম মেটাল গভীরভাবে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল ও খুব অল্প মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৮০-এর দশকে মেটাল সঙ্গীতের জগতে স্পীড মেটালথ্রাশ মেটাল প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল ও বাণিজ়্যিকভাবে গ্লাম মেটাল জায়গা নিয়েছিল। সে সময়ে ডুম মেটাল ব্যান্ডগুলো কখনোই তেমন মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]