জাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জাগ দেয়া স্রোতশীল বা বদ্ধ জলাশয়ে মাছ শিকারের এক কৌশলবিশেষ। অঞ্চলভেদে এই কৌশলকে "কাঠা" বা "পাটা" দেয়া বলে। বাংলাদেশের ফরিদপুর-মাদারীপুর অঞ্চলে বলে কাঠা দেয়া। এটি এক ধরনের মাছ আটকানোর ফাঁদ। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে যখন নদী, খাল বা হাওরের পানি শুকিয়ে আসে এবং গ্রীষ্মের তাপদাহ বাড়তে থাকে তখন মাছেরা নিরাপদ আশ্রয় ও শীতলতম স্খান খুঁজে বেড়ায়। তাই লোকজন পাড়ের কাছাকাছি জলাশয়ের খানিকটা জায়গায় কচুরিপানা জড়ো করে মাছদের জন্য সেই শীতলতম আবাস গড়ে তোলে। কচুরিপানা যাতে স্রোতের টানে অন্যত্র চলে না যায় সেজন্য নির্দিষ্ট জায়গাকে লম্বা বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘেরা হয়। খুঁটির সাথে পানিতল বরাবর আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে ঘেরা হয়। এই বেষ্টনীর ভেতরে থাকে কচুরিপানা। কচুরিপানার নিচে পানির ভেতর ডুবানো থাকে গাছের ডালপালা বা ঝোড়। এর মধ্যে মাছ আবদ্ধ থাকে, কচুরিপানার মূলের মধ্যেও থাকে কই মাছের ঝাঁক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর "জাগ" থেকে মাছ ধরা হয়। মাছ ধরার সময় পুরো জাগটিকে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং ভেতরের কচুরিপানা ও ডাল পরিষ্কার করে ভেতর থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। সাধারণত কয়েকজন মিলে এক-একটা "জাগ" পরিচালনা করে। ১০-১৫ দিন পর পর জাগ তোলা হয়। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে যেসব জাগ দেয়া হয় তা থেকে চিতল, বোয়াল, কই, শিং ইত্যাদি মাছ বেশি পাওয়া যায়। ফরিদপুরের জাগ থেকে আইড়, বোয়াল, চিতল, পাঙ্গাশ, শোল, কই, মাগুর ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়। নড়াইলযশোরে বাঁওড়ে ও হাওরে "জাগ" দেয়ার এতিহ্যগত প্রচলন আছে। জাগে ডালপালা থাকায় জাল ফেলে জাগ থেকে মাছ চুরির ভয় কম থাকে। শীত শেষে জাগ দেয়া শুরু হয়, বৈশাখে বর্ষা এলেই জাগ শেষ হয়। এটি বাংলাদেশের গ্রামবাংলার এক মৌসুমী ঐতিহ্য। তবে অনেক নদ-নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় এ কর্মটিও তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

ইফ্‌ফাত আরা, জানার আছে অনেক কিছু, ১৯৯৯, দেশ প্রকাশন, ঢাকা (পৃষ্ঠাঃ ১০৯)।