চারুচন্দ্র চক্রবর্তী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
জন্ম(১৯০২-০৩-২৩)২৩ মার্চ ১৯০২
ব্রাহ্মণডাঙ্গা, ফরিদপুর বাংলাদেশ
মৃত্যু২৫ মে ১৯৮১(1981-05-25) (বয়স ৭৯)
কলকাতা, ভারত
ছদ্মনামজরাসন্ধ
পেশাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারতীয়
ধরনঔপন্যাস
উল্লেখযোগ্য রচনাবলিলৌহকপাট, তামসী, পাড়ি, অপর্ণা
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারশরৎচন্দ্র পুরস্কার

চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (জন্ম: ২৩ মার্চ, ১৯০২ - মৃত্যু: ২৫ মে, ১৯৮১) একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক। তিনি জরাসন্ধ ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। বৃটিশ ভারতবর্ষের পূর্ব বাংলার ফরিদপুর জেলার বর্তমানে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণডাঙ্গায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।[১]

জীবনী[সম্পাদনা]

চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর পিতার নাম অম্বিকাচরণ চক্রবর্তী। প্রাথমিক স্কুলের পাঠ শেষে, ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে সপ্তম স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিক ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এম. এ পাশ করেন । সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দার্জিলিংয়ে ডেপুটি জেলার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর দীর্ঘ তিরিশ বছর নানা জেলে বিভিন্ন পদে সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের সুপারিনটেন্ডন্ট হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

দীর্ঘ কর্মজীবনে জেলের লৌহকপাটের মধ্যে যে মানুষ গুলিকে দেখেছেন তাদের কথা ও কাহিনী তাঁর উপন্যাসে মূর্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১ লা মে 'লৌহকপাট' এর প্রথম পর্ব গ্রন্থের আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে মোট চারটি পর্বে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কুড়ি একুশ খানি উপন্যাসের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল -

  • 'তামসী' (১৯৫৮)
  • 'পাড়ি'
  • 'মসীরেখা'
  • 'ন্যায়দণ্ড'( ১৯৬১)
  • 'পরশমণি'
  • 'উত্তরাধিকার'
  • 'ছায়া' (১৯৭২)
  • 'নিশানা' (১৯৭৭)
  • 'তৃতীয় নয়ন'(১৯৭৯)
  • 'হীরা চুনি পান্না' (১৯৮৩)
  • 'আশ্রয়'
  • একুশ বছর'
  • 'আবরণ'
  • 'এ বাড়ি ও বাড়ি'

তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা হল, দুটি খণ্ডে 'নিঃসঙ্গ পথিক'। প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে। ছোট গল্প সংকলনও আছে ছ-খানা। এছাড়া ছোটদের জন্য কিছু লেখা আছে 'রঙচঙ', 'রবিবার' যমরাজের বিপদ' প্রভৃতি গ্রন্থে। সাহিত্যকীর্তির জন্য তিনি 'শরৎচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার' ও 'মতিলাল পুরস্কার' লাভ করেন। তাঁর বহু রচনা দেশবিদেশের অন্তত ছয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর উপন্যাস 'তামসী' অবলম্বনে হিন্দিতে 'বন্দিনী' নামে চলচ্চিত্রায়িত করেন প্রখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক বিমল রায় এবং সেরা সম্মান লাভ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ২১৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬