চন্দ্রদ্বীপ
চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল। এটি একসময় বরিশালের প্রাক-মধ্যযুগীয় নাম ছিল।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস পূর্ববঙ্গীয় চন্দ্র রাজবংশের যুগে ফিরে যায়। চন্দ্রদ্বীপ প্রাচীনকালে "বঙ্গাল" নামে পরিচিত ছিল। এই অঞ্চল প্রাচীন বঙ্গ রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ ছিল[১] এবং অঞ্চলটি প্রাচীন বঙ্গ জাতির প্রধান বাসস্থান ছিল।[২]
চন্দ্রদ্বীপ পরপর মৌর্য, গুপ্ত, গৌড় এবং পালদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। খ্রিস্টীয় ১০ শতকের শেষের দিকে, চন্দ্র রাজারা প্রাচীন বঙ্গভূমির এই অংশটি জয় করে "চন্দ্রদ্বীপ" নামে একটি রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছিলেন।
চন্দ্ররা দেববংশের উত্তরাধিকারী হন। সংক্ষিপ্ত সময়ের বিভ্রান্তির পর, দেব রাজবংশ এই অঞ্চল দখল করে এবং অধুনা বাগেরহাট জেলার কচুয়ায় তাদের রাজধানী স্থাপন করে। পরবর্তীতে বরিশালের বঙ্গজ কায়স্থ বসু ও মিত্র মজুমদার রাজপরিবার তাদের অনুসরণ করেছিল।
খ্রিস্টীয় ১৮ শতক পর্যন্ত চন্দ্রদ্বীপের হিন্দু শাসকরা স্বাধীন ছিল। এর পরে এই রাজ্যটি জমিদারিতে পরিণত হয়, অন্যদিকে চন্দ্রদ্বীপের একটি অংশের নাম হয় বাকেরগঞ্জ নামে একজন মুসলিম অভিযাত্রী বাকর খানের নামে।
চন্দ্রদ্বীপ ছিল হিন্দু রাজ্যগুলির মধ্যে একটি যা মুসলিম আক্রমণ ও বিজয় থেকে বেঁচে গিয়েছিল। শক্তিশালী নদী ও খালের উপস্থিতি মুসলমানদের এই অঞ্চল জয় করতে বাধা দেয়। এটি বঙ্গজ কায়স্থ শাসকদের অধীনে তার স্বাধীনতা বজায় রেখেছিল।
কন্দর্পনারায়ণ রায়ের সময়ে এই রাজ্যের সমৃদ্ধি শীর্ষে পৌঁছেছিল। অনেক চীনা এবং ইউরোপীয় পর্যটক বাঙ্গালা অঞ্চল সম্পর্কে আকর্ষণীয় বিবরণ রেখে গেছেন। চীনা বিবরণগুলি এই অঞ্চলটিকে "হিন্দু-বৌদ্ধ-তান্ত্রিক দেবতা তারার উপাসনার জন্য একটি বিখ্যাত স্থান" হিসাবে বর্ণনা করে "তারা মন্দিরটি সমুদ্রতীরের কাছে অবস্থিত ছিল। এটি সমুদ্র থেকে দৃশ্যমান ছিল। ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ চন্দ্রগোমিন এই স্থান থেকে তারার উপর তাঁর স্তোত্র রচনা করেছিলেন। ১০১৫ খ্রিস্টাব্দের একটি পাণ্ডুলিপিতে তারা-মন্দিরের সাথে চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলের উল্লেখ করা হয়েছে। চন্দ্র রাজাদের আমলে সেখানে ছিল।
মুঘল আমলে এই অঞ্চল বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত হয়।[৩] বাকলা নামটি বরিশালের প্রাচীন নাম "বাঙ্গালা"-এর অপভ্রংশ হিসেবে অনুমান করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চন্দ্রদ্বীপের বসু মহারানীকে নিয়ে একটি বিখ্যাত বই বউ ঠাকুরনির হাট লিখেছিলেন যা পরে বউ ঠাকুরনির হাট নামে চিত্রায়িত হয়েছিল।
ভূগোল
[সম্পাদনা]এই অঞ্চলটি "ধান, নদী ও খাল" এর জন্য বিখ্যাত ছিল।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- কীর্তিনারায়ণ বসু, চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চম রাজা এবং কেওড়ার মুসলিম বাকলাই খান্দানের প্রতিষ্ঠাতা
- নেয়ামত খাঁ, চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের একজন উজির
- হায়াত মাহমুদ, চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের একজন সেনাপতি
- ছবি খাঁ, বাকলার মোগল ফৌজদার
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Chakrabarti, Dilip K. (২০০১)। Ancient Bengal: A Study of the Archaeological Sources। Dhaka: University Press Ltd.। পৃ. ২৪।
- ↑ "Background of Barisal Division"। barisaldiv.gov.bd।
- ↑ Aksadul Alam (২০১২)। "চন্দ্রদ্বীপ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (দ্বিতীয় সংস্করণ)। এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ।